আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳

বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা কনস্যুলার সেবা গাইড ২০২৬: ই-পাসপোর্ট, আউটপাস ও এনআইডি

🏛️

প্রবাসীদের জন্য জরুরি একনজরে দূতাবাস তথ্যপঞ্জি

দূতাবাসের অবস্থান ভিলা ২২৩, রোড ১৮০৫, ব্লক ৩১৮, মাহুজ, মানামা
কনস্যুলার অফিস সময় রবি থেকে বৃহস্পতিবার (সকাল ৮টা - বিকেল ৪টা)
ই-পাসপোর্ট সাধারণ ফি ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছর: ১৯.০০০ BHD | ১০ বছর: ২৫.৫০০ BHD
আউটপাস সেবা জরুরি ট্রাভেল পারমিট ফি: ৪.৫০০ BHD
পেমেন্ট পদ্ধতি BBK ব্যাংক ডিপোজিট স্লিপ অথবা ডেবিট কার্ড
২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি হটলাইন +973 1772 1339 / 3337 5155

🏛️ ১. বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা: প্রবাসীদের কূটনীতি, অধিকার ও সেবার অভিভাবক

পারস্য উপসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনে বসবাসরত দুই লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, মানামা (Embassy of the People's Republic of Bangladesh, Manama) একটি সার্বভৌম আশ্রয়ের প্রতীক। জন্মভূমি থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও একজন প্রবাসীর নাগরিক পরিচয়, পাসপোর্টের বৈধতা, আইনি সুরক্ষা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকে এই কূটনৈতিক মিশন। বাহরাইন সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই দূতাবাসের কনস্যুলার উইংয়ের মূল লক্ষ্য।

বর্তমান ২০২৬ সালে বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা তার প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব রূপ দিয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার দিন পেরিয়ে এখন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং প্রবাসী ভোটার আইডি (NID) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আপনি বাহরাইনে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী কর্মী হোন, ব্যবসায়ী হোন কিংবা গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী কর্মী হোন—কনস্যুলার সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় বাংলাদেশ দূতাবাস আপনার পাশে একটি বিশ্বস্ত বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।

মানামা দূতাবাসের ৩টি প্রধান শাখা ও সেবার পরিধি

দূতাবাসের অভ্যন্তরে প্রবাসীদের বহুমুখী প্রয়োজন মেটাতে তিনটি সুনির্দিষ্ট উইং কাজ করে থাকে:

০১

কনস্যুলার ও পাসপোর্ট শাখা (Consular & Passport Wing)

নতুন ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ, পুরানো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন, হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের বিপরীতে ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) ইস্যু, জন্ম নিবন্ধন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আওতায় প্রবাসী এনআইডি নিবন্ধন পরিচালনা করে।

০২

শ্রম কল্যাণ শাখা (Labour Welfare Wing)

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই উইং কর্মীদের বকেয়া বেতন আদায়, মালিকপক্ষের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি, অন্যায়ভাবে পাসপোর্ট আটকে রাখলে উদ্ধার, জেলখানা ও ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা এবং কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ আদায়ে কাজ করে।

০৩

দলিল ও নোটারি সত্যায়ন শাখা (Attestation & Legal Wing)

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আইনি আমমোক্তারনামা সম্পাদন, বাংলাদেশে জমি কেনাবেচা বা মামলার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলে স্বাক্ষর প্রত্যয়ন, শিক্ষাগত প্রশংসাপত্র, বৈবাহিক সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের সরকারি অনুবাদ সত্যায়ন করে থাকে।

📘 ২. বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা ই-পাসপোর্ট আবেদন ও রিনিউয়াল নিয়ম ২০২৬

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) এর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সুরক্ষিত ও আধুনিক ভ্রমণ দলিল হলো বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট (Electronic Passport)। বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পুরানো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে এখন শতভাগ ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একটি কার্যকর পাসপোর্ট ছাড়া বাহরাইনে সিপিআর নবায়ন, ওয়ার্ক পারমিট এক্সটেনশন কিংবা দেশে যাতায়াত কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ থেকে ৮ মাস পূর্বেই নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা উচিত।

ই-পাসপোর্ট আবেদনের সঠিক ৪টি পর্যায়ক্রমিক ধাপ

দূতাবাসে যাওয়ার আগে বাসা থেকেই নিচের ডিজিটাল প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে নেওয়া জরুরি:

০১

অনলাইন পোর্টাল ফর্ম পূরণ (epassport.gov.bd)

বাংলাদেশ সরকারের অফিশিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (www.epassport.gov.bd) প্রবেশ করে 'Apply online for e-Passport' নির্বাচন করুন। বর্তমান দেশ হিসেবে 'Bahrain' এবং মিশন হিসেবে 'Manama' নির্বাচন করে আপনার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন ১৭ ডিজিটের জন্ম সনদের তথ্য অনুযায়ী হুবহু নাম, জন্মতারিখ ও পিতা-মাতার নাম টাইপ করুন।

০২

অ্যাপ্লিকেশন সামারি ও অনলাইন ফর্ম প্রিন্ট

ফর্মটি সাবমিট করার পর কম্পিউটার বা নিকটস্থ সাইবার ক্যাফে থেকে ৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র এবং Application Summary প্রিন্ট করে নিন। সামারির ওপরে একটি বিশেষ বারকোড থাকবে যা দূতাবাস কাউন্টারে স্ক্যান করা হয়।

০৩

ব্যাংক অব বাহরাইন অ্যান্ড কুয়েতে (BBK) ফি প্রদান

দূতাবাসে নগদ দিনার গ্রহণ করা হয় না। তাই পাসপোর্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারিত ফি ব্যাংক অব বাহরাইন অ্যান্ড কুয়েতের যেকোনো শাখায় দূতাবাসের নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে মূল ব্যাংক ডিপোজিট ভাউচার সংগ্রহ করুন।

০৪

দূতাবাসে সশরীরে বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ ও ছবি প্রদান

প্রিন্ট করা ফর্ম, ব্যাংক ডিপোজিট স্লিপ, মূল পুরানো পাসপোর্ট, সিপিআর কার্ড এবং জন্ম সনদ/এনআইডির কপি সাথে নিয়ে মানামা দূতাবাসে হাজির হন। কাউন্টারে আপনার ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের মণি (Iris) এবং ডিজিটাল পাসপোর্ট সাইজ ছবি তোলা হবে। প্রক্রিয়া শেষে একটি Delivery Slip প্রদান করা হবে।

ই-পাসপোর্ট সরকারি ফি তালিকা ২০২৬ (বাহরাইনি দিনার)

পাসপোর্টের ধরন ও মেয়াদ পৃষ্ঠা সংখ্যা সাধারণ প্রবাসীদের জন্য সরকারি ফি প্রস্তুত হতে সম্ভাব্য সময়
৫ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট (সাধারণ) ৪৮ পৃষ্ঠা ১৯.০০০ বাহরাইনি দিনার (BHD) ২৫ থেকে ৩৫ কর্মদিবস
১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট (সাধারণ) ৪৮ পৃষ্ঠা ২৫.৫০০ বাহরাইনি দিনার (BHD) ২৫ থেকে ৩৫ কর্মদিবস
১০ বছর মেয়াদী মেগা পাসপোর্ট ৬৪ পৃষ্ঠা ৩৯.০০০ বাহরাইনি দিনার (BHD) ২৫ থেকে ৩৫ কর্মদিবস
ছাত্র ও শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড়কৃত ফি ৪৮ পৃষ্ঠা (৫ বছর) ১১.৫০০ বাহরাইনি দিনার (শর্তসাপেক্ষ) ২৫ থেকে ৩৫ কর্মদিবস

নির্মাণ ও কারখানার শ্রমিকদের আঙুলের ছাপ ক্ষয় হলে করণীয় প্রটোকল

বাহরাইনের তীব্র তাপদাহে নির্মাণ শিল্প, ওয়েল্ডিং, রাসায়নিক প্ল্যান্ট বা মেকানিকাল গ্যারেজে দীর্ঘদিন কায়িক পরিশ্রম করার কারণে অনেক সাধারণ শ্রমিকের হাতের আঙুলের রেখা ক্ষয় হয়ে যায় বা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। ই-পাসপোর্ট মেশিনে আঙুলের ছাপ ম্যাচ না করলে অনেকেই চরম হতাশায় পড়েন। বাংলাদেশ দূতাবাস মানামায় এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিশেষ 'বায়োমেট্রিক এক্সেপশন প্রটোকল' (Biometric Exception Protocol) রয়েছে। কনস্যুলার অফিসার ম্যানুয়ালি সিস্টেম অনুমোদন করে চোখের আইরিশ স্ক্যান এবং উচ্চ রেজুলিউশনের ডিজিটাল ফেসিয়াল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে আবেদনপত্রটি সফলভাবে গ্রহণ করেন।

পুরানো এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে তথ্য রূপান্তরের নিয়ম

যাঁরা ইতিপূর্বে এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) ব্যবহার করতেন কিন্তু জন্ম সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সাথে পাসপোর্টের সামান্য অমিল রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সর্বশেষ সার্কুলার অনুযায়ী মূল এনআইডি কার্ডের তথ্যকেই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবেদনপত্রের সাথে মূল এনআইডি বা ১৭ ডিজিটের জন্ম সনদের কপি সংযুক্ত করলেই কোনো অতিরিক্ত হলফনামা ছাড়াই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়ে যায়।

🔍 ৩. মানামা বাংলাদেশ দূতাবাস পাসপোর্ট ডেলিভারি স্ট্যাটাস চেক ২০২৬ ও সংগ্রহের ধাপ

ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করার পর পাসপোর্টটি প্রিন্ট হওয়ার জন্য ঢাকা সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে তথ্য পাঠানো হয়। সেখানে পাসপোর্টটি প্রিন্ট এবং মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা শেষ করে কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে বাহরাইন দূতাবাসে প্রেরণ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লেগে যায়। পাসপোর্টটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে তা জানার জন্য বারবার দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; স্মার্টফোন থেকেই কয়েক সেকেন্ডে অনলাইন ডেলিভারি স্ট্যাটাস যাচাই করা সম্ভব।

ই-পাসপোর্ট অনলাইন স্ট্যাটাস চেক করার ৩টি সহজ ধাপ

০১

ই-পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ

যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে সরাসরি যান: www.epassport.gov.bd/authorization/application-status ঠিকানায়।

০২

অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও জন্মতারিখ প্রদান

আপনার দূতাবাস ডেলিভারি স্লিপে থাকা Application ID (যেমন: 4000-XXXXXXXXX) অথবা Online Registration ID (OID) টাইপ করুন। এরপর নিচের বক্সে আপনার সঠিক জন্মতারিখ (দিন/মাস/বছর) নির্বাচন করে ক্যাপচা কোডটি পূরণ করুন।

০৩

স্ট্যাটাস রিডিং ও অর্থ বোঝা

স্ক্রিনে বিভিন্ন স্ট্যাটাস প্রদর্শিত হতে পারে। যেমন:
• 'Pending for Printing': ঢাকায় পাসপোর্টটি প্রিন্টের অপেক্ষায় রয়েছে।
• 'Shipped to Mission': পাসপোর্ট প্রিন্ট সম্পন্ন হয়ে বাহরাইনে পাঠানোর পথে রয়েছে।
• 'Passport Ready for Issuance': পাসপোর্টটি মানামা দূতাবাসে পৌঁছে গেছে এবং আপনি ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে গিয়ে সংগ্রহ করতে পারবেন।

পাসপোর্ট সংগ্রহ কাউন্টারের সময়সূচি ও প্রতিনিধি দ্বারা গ্রহণের নিয়ম

পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৩০টা থেকে বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত ডেলিভারি কাউন্টার খোলা থাকে। সংগ্রহ করতে অবশ্যই মূল পুরানো পাসপোর্ট এবং দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত হলুদ বা সাদা ডেলিভারি রসিদ প্রদর্শন করতে হবে। কোনো কারণে আপনি নিজে উপস্থিত হতে না পারলে কর্মস্থল বা পরিচিত অন্য কোনো বাংলাদেশি প্রবাসীকে দিয়ে পাসপোর্ট উত্তোলন করাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ডেলিভারি স্লিপের পেছনের অংশে আপনার স্বাক্ষরসহ মনোনীত প্রতিনিধির নাম ও সিপিআর নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং প্রতিনিধিকে তাঁর মূল সিপিআর কার্ড সাথে আনতে হবে।

🆘 ৪. বাহরাইনে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস নেওয়ার নিয়ম

প্রবাস জীবনে যেকোনো দুর্ঘটনা বা স্থানান্তরের সময় পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা অত্যন্ত ভীতিকর একটি অভিজ্ঞতা। পাসপোর্ট ছাড়া একজন বিদেশি নাগরিক বাহরাইনে পুরোপুরি পরিচয়হীন হয়ে পড়েন। আবার অনেক প্রবাসী কর্মী অনিয়মিত বা অবৈধ হয়ে পড়ার পর কিংবা সাধারণ ক্ষমার (Amnesty) সুযোগে দেশে ফেরত যেতে চান কিন্তু তাঁদের কাছে মূল পাসপোর্ট থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বিশেষ একমুখী ভ্রমণ অনুমোদনপত্র বা জরুরি ট্রাভেল পারমিট (Travel Permit / Outpass) ইস্যু করে থাকে, যার মাধ্যমে নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করা যায়।

আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের পর্যায়ক্রমিক নিয়মাবলী

জরুরি ট্রাভেল পারমিটের জন্য দূতাবাসে আবেদনের সময় নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

০১

নিকটস্থ থানায় পুলিশ রিপোর্ট (Police Lost Certificate)

যে এলাকায় পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে, সেই এলাকার স্থানীয় বাহরাইন পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে একটি অফিশিয়াল 'Lost Passport Certificate' প্রদান করবে।

০২

বাংলাদেশি নাগরিকত্বের দ্ব্যর্থহীন প্রমাণপত্র

আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক কিনা তা নিশ্চিত করতে পুরানো পাসপোর্টের স্পষ্ট ফটোকপি, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি উপস্থাপন করতে হবে।

০৩

দূতাবাসে ট্রাভেল পারমিট ফর্ম পূরণ ও সরকারি ফি

দূতাবাসের নির্ধারিত এক পৃষ্ঠার ট্রাভেল পারমিট আবেদনপত্র পূরণ করে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ল্যাব প্রিন্ট ছবি সংযুক্ত করতে হবে। ট্রাভেল পারমিটের সরকারি ফি হলো ৪.৫০০ বাহরাইনি দিনার।

০৪

এলএমআরএ ও ইমিগ্রেশন এক্সিট ভিসা অনুমোদন

দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস গ্রহণের পর সরাসরি বাহরাইন জাতীয়তা, পাসপোর্ট ও রেসিডেন্স অধিদপ্তর (NPRA) বা এলএমআরএ অফিসে গিয়ে এক্সিট ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। এরপর নিশ্চিত ওয়ান-ওয়ে বিমান টিকিট কেটে বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরা যায়।

⚠️
আউটপাসের মেয়াদ সতর্কতা: দূতাবাস কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিটের মেয়াদ সাধারণত ইস্যুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ মাস (৯০ দিন) বহাল থাকে। এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে পুনরায় নতুন করে আবেদন ও ফি প্রদান করতে হবে। মনে রাখবেন, আউটপাস দিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশে ফেরা যায়, অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

🪪 ৫. বাহরাইন বসে বাংলাদেশ ভোটার আইডি (NID) সংশোধন ও নতুন নিবন্ধন

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের বহুদিনের একটি প্রাণের দাবি ছিল—দেশে না গিয়ে প্রবাসে বসেই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) নিবন্ধন এবং ভুল সংশোধন করার সুবিধা। অনেক প্রবাসী বহু বছর পূর্বে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বা এনআইডি হওয়ার আগেই বাহরাইনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এর ফলে দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, জমিজমা রেজিস্ট্রেশন, পরিবারের সদস্যদের উত্তরাধিকার বণ্টন কিংবা ই-পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং মানামা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে 'প্রবাসী এনআইডি সেল' (Expat NID Desk) পুরোদমে কার্যকর রয়েছে।

প্রবাসী এনআইডি নিবন্ধনের ধাপে ধাপে নিয়ম

বাহরাইনে বসে নতুন ভোটার হিসেবে এনআইডি পেতে নিচের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন:

০১

অনলাইন নির্বাচন কমিশন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন

নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) যান। সেখানে 'প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন' অপশনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর ও বর্তমান ঠিকানা 'বাহরাইন' নির্বাচন করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

০২

অনলাইন আবেদনপত্র ও তথ্য আপলোড

আবেদনপত্রে নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও গ্রাম) সঠিকভাবে লিখুন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস হিসেবে ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, বর্তমান পাসপোর্টের কপি এবং শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।

০৩

দূতাবাস এনআইডি কাউন্টারে বায়োমেট্রিক প্রদান

অনলাইন ফর্ম প্রিন্ট কপি নিয়ে মানামা দূতাবাসের এনআইডি বুথে উপস্থিত হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দল আপনার ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান এবং লাইভ ডিজিটাল ছবি গ্রহণ করবেন।

০৪

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লাভ ও স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড

আপনার স্থায়ী ঠিকানার উপজেলা নির্বাচন অফিস কর্তৃক নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার নিবন্ধিত মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে ১০ বা ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর পোর্টাল থেকে সরাসরি রঙিন লেমিনেটেড বা স্মার্ট এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে সব কাজে ব্যবহার করা যাবে।

এনআইডি ভুল তথ্য (নাম, বয়স বা পিতা-মাতার নাম) সংশোধনের নিয়ম

যাঁদের ইতিমধ্যে এনআইডি কার্ড রয়েছে কিন্তু পাসপোর্টের তথ্যের সাথে অমিল থাকার কারণে ই-পাসপোর্ট আটকে গেছে, তাঁরা দূতাবাসে 'ক্যাটাগরি-এ' বা 'ক্যাটাগরি-বি' সংশোধন আবেদন করতে পারেন। সংশোধনের সপক্ষে অবশ্যই শিক্ষাগত সনদ (জেএসসি/এসএসসি), বৈধ পাসপোর্ট অথবা পিতা-মাতার সঠিক এনআইডি কার্ড প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করতে হবে।

📍 ৬. বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইন অবস্থান ও গুগল ম্যাপ লোকেশন এবং যাতায়াত রুট

অনেক নতুন প্রবাসী কিংবা দূরবর্তী এলাকা (যেমন: আল-হিদ, আসকার, জাওয়া বা রিফা) থেকে আসা বাংলাদেশিরা মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঠিক অবস্থান খুঁজে পেতে দ্বিধায় পড়েন। পূর্বে বাংলাদেশ দূতাবাস অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত থাকলেও বর্তমানে এটি রাজধানী মানামার অত্যন্ত কেন্দ্রস্থল এবং যোগাযোগবান্ধব মাহুজ (Mahooz) এলাকায় নিজস্ব সুপরিসর ভিলায় কনস্যুলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিচে দূতাবাস ভবনের বিস্তারিত অবস্থান ও যাতায়াতের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো।

দূতাবাসের অফিশিয়াল ঠিকানা ও ভৌগোলিক পরিচিতি

বিবরণ উপাদান অফিশিয়াল তথ্য ও মানদণ্ড
ভবন ও ভিলা নম্বর Villa 223 (ভিলা ২২৩)
সড়ক ও ব্লক নম্বর Road 1805, Block 318 (রোড ১৮০৫, ব্লক ৩১৮)
এলাকা ও শহর মাহুজ / উম্ম আল হাস্সাম সংলগ্ন (Mahooz, Manama, Kingdom of Bahrain)
নিকটবর্তী বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক ক্যালকাটা রেস্তোরাঁ রোড সংলগ্ন, উম্ম আল হাস্সাম স্পোর্টস ক্লাব এবং আল জাজিরা সুপারমার্কেটের কাছাকাছি
গুগল ম্যাপ সার্চ কিওয়ার্ড স্মার্টফোনে Embassy of Bangladesh, Manama, Bahrain লিখে সরাসরি সার্চ করুন

পাবলিক বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের সঠিক দিকনির্দেশনা

০১

পাবলিক বাসে যাতায়াত (BPTC Bus Network)

মানামা সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাল (বাব আল বাহরাইন সংলগ্ন) থেকে বাহরাইন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির বাস লাইন (যেমন: রুট 41, 42 বা 45) ব্যবহার করে উম্ম আল হাস্সাম বা মাহুজ প্রধান সড়কে নামতে হবে। বাস স্টপ থেকে মাত্র ৫-৭ মিনিট হেঁটে সহজেই দূতাবাস গেটে পৌঁছানো যায়।

০২

ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্যাক্সিতে যাতায়াত

কুয়েত এভিনিউ (Kuwait Avenue) বা শেখ ইসা বিন সালমান হাইওয়ে দিয়ে মানামার ভেতরে প্রবেশ করে রোড ১৮০৫-এ প্রবেশ করুন। দূতাবাসের সামনের সড়কে নির্দিষ্ট ভিজিটর পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ভিড় এড়াতে সকাল ৮:০০টা থেকে ৯:০০টার মধ্যে উপস্থিত হওয়াই উত্তম।

💳 ৭. দূতাবাস কনস্যুলার সেবা ফি তালিকা ও ব্যাংক ডিপোজিট নিয়মাবলী ২০২৬

বাংলাদেশ দূতাবাস মানামায় স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কনস্যুলার কাউন্টারে কোনো প্রকার নগদ ক্যাশ অর্থ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রবাসীদের কনস্যুলার ফি পরিশোধের জন্য আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেল চালু রয়েছে। যেকোনো সেবা গ্রহণের পূর্বে সঠিক সরকারি ফি জেনে নিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া অথবা নিজের ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড প্রস্তুত রাখা দরকার, যাতে কাউন্টারে এসে আর্থিক জটিলতায় পড়তে না হয়।

সব কনস্যুলার সেবার অফিশিয়াল ফি চার্ট ২০২৬

কনস্যুলার সেবার বিবরণ সরকারি নির্ধারিত ফি (BHD) প্রয়োজনীয় সময় পেমেন্ট মাধ্যম
ই-পাসপোর্ট সাধারণ (৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর) ১৯.০০০ বাহরাইনি দিনার ২৫ - ৩৫ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
ই-পাসপোর্ট সাধারণ (৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর) ২৫.৫০০ বাহরাইনি দিনার ২৫ - ৩৫ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
ই-পাসপোর্ট জরুরি / এক্সপ্রেস ফি ৩৮.০০০ বাহরাইনি দিনার ১৫ - ২০ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
জরুরি ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) ৪.৫০০ বাহরাইনি দিনার ৩ - ৫ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) ১০.০০০ বাহরাইনি দিনার একই দিনে তাৎক্ষণিক ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
শিক্ষাগত প্রশংসাপত্র ও চারিত্রিক সনদ সত্যায়ন ৪.৫০০ বাহরাইনি দিনার / দলিল ১ - ২ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
বৈবাহিক সনদ (নিকাহনামা) ও জন্ম সনদ সত্যায়ন ৪.৫০০ বাহরাইনি দিনার / কপি ১ - ২ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড
ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বাণিজ্যিক চুক্তি প্রত্যয়ন ১০.০০০ বাহরাইনি দিনার ২ - ৩ কর্মদিবস ব্যাংক স্লিপ / পিওএস কার্ড

ব্যাংক অব বাহরাইন অ্যান্ড কুয়েতে (BBK) ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

দূতাবাসে যাওয়ার আগে বাহরাইনের যেকোনো Bank of Bahrain and Kuwait (BBK) শাখায় গিয়ে ক্যাশিয়ারের কাছে বলতে হবে আপনি বাংলাদেশ দূতাবাস মানামার কনস্যুলার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে চান। ব্যাংকের নির্দিষ্ট ডিপোজিট ফর্মে আপনার নাম, সিপিআর নম্বর এবং জমাকৃত টাকার পরিমাণ স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। ব্যাংক কাউন্টার থেকে সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত যে মূল গ্রাহক কপি (Customer Receipt Copy) দেওয়া হবে, সেটি অবশ্যই সযত্নে সংরক্ষণ করে দূতাবাসের আবেদনপত্রের সাথে মূল কপি জমা দিতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়।

✍️ ৮. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) সম্পাদন ও সার্টিফিকেট সত্যায়ন প্রটোকল

প্রবাসে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে দেশে থাকা পৈতৃক জমিজমা কেনাবেচা, ব্যাংকের ঋণ হিসাব পরিচালনা, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি কিংবা কোনো জটিল দেওয়ানি মামলা পরিচালনার জন্য নিজের পক্ষে একজন বিশ্বস্ত অভিভাবককে আইনি ক্ষমতা অর্পণের প্রয়োজন দেখা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২' এবং আন্তর্জাতিক ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা প্রবাসীদের জন্য আইনগতভাবে বৈধ আমমোক্তারনামা (Power of Attorney) সম্পাদন করে থাকে। দূতাবাসের প্রত্যয়ন ছাড়া বিদেশে স্বাক্ষরিত কোনো দলিল বাংলাদেশে কার্যকর হয় না।

আমমোক্তারনামা সম্পাদনের ৪টি আবশ্যকীয় নিয়ম

০১

বাংলাদেশ থেকে স্ট্যাম্পে খসড়া (Draft) তৈরি

বাংলাদেশে কোনো অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ৩টি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অথবা ডিমাই পেপারে আমমোক্তারনামার পূর্ণাঙ্গ বয়ান টাইপ করিয়ে বাহরাইনে কুরিয়ার বা ইমেইলে আনাতে হবে।

০২

পূর্বে কোনো স্বাক্ষর না করা (সশরীরে উপস্থিতি)

দলিলে আগে থেকে কোনো স্বাক্ষর বা টিপসহি দেওয়া যাবে না। আমমোক্তারদাতা (Principal) কে সশরীরে দূতাবাসের কনস্যুলার অফিসারের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর চোখের সামনে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ প্রদান করতে হবে।

০৩

দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিতি

আমমোক্তারনামা সম্পাদনের সময় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে হবে। তাঁদের কাছে মূল ও বৈধ পাসপোর্ট এবং বাহরাইনি সিপিআর স্মার্টকার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।

০৪

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিসি অফিস কাউন্টার সত্যায়ন

দূতাবাসের প্রথম সচিব বা কনস্যুলার অফিসার দলিলে সিল ও স্বাক্ষর করার পর দলিলটি বাংলাদেশে আপনার মনোনীত ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার উইং এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের (DC Office) ট্রেজারি শাখা থেকে চূড়ান্ত সত্যায়ন করিয়ে নিলেই দলিলটি দেশের যেকোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০০% কার্যকর দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

আমমোক্তারনামায় ব্যাংকিং ও জমি হস্তান্তরের সতর্কতামূলক বিধান

কাউকে আমমোক্তারনামা প্রদানের সময় দলিলে সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা (Specific Power) উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। যেমন: কোন দাগ ও খতিয়ানের জমি বিক্রি বা রক্ষণাবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, অথবা কোন নির্দিষ্ট ব্যাংকের কোন অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকার ঢালাও বা অনির্দিষ্ট ক্ষমতা দিলে ভবিষ্যতে প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। দলিল সম্পাদন সম্পন্ন হলে দূতাবাসের অফিসিয়াল রেজিস্টার বইয়ে এর একটি ক্রমিক নম্বর ও তারিখ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

বৈবাহিক ও শিক্ষাগত সনদের কনস্যুলার সত্যায়ন প্রক্রিয়া

পরিবার বা সন্তানদের বাহরাইনে ফ্যামিলি ভিসায় আনার জন্য নিকাহনামা, জন্ম সনদ ও শিক্ষাগত সনদ সত্যায়ন করতে হয়। যেকোনো বাংলাদেশি সনদ প্রথমে ঢাকার শিক্ষা বোর্ড, আইন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হতে হবে। এরপর মানামা দূতাবাসে নির্ধারিত ৪.৫০০ দিনার ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে একই কর্মদিবসে দূতাবাস তার আনুষ্ঠানিক কনস্যুলার সিলমোহর প্রদান করে।

🕊️ ৯. বাহরাইনে প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে পাঠানোর নিয়ম ও আর্থিক অনুদান

জীবিকার তাগিদে মরুভূমির দেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে গিয়ে কোনো প্রবাসী ভাই বা বোনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটলে তা তাঁর পরিবারের জন্য নেমে আসে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। শোকার্ত পরিবারের পক্ষে হাজার হাজার দিনার খরচ করে সুদূর বাহরাইন থেকে মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners' Welfare Board - WEWB) এবং দূতাবাস প্রশাসন এগিয়ে আসে। বৈধ বা অনিয়মিত যেকোনো বাংলাদেশি কর্মী বাহরাইনে মৃত্যুবরণ করলে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের খরচে মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মরদেহ প্রেরণের ধাপে ধাপে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া

মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং দ্রুততার সাথে নিচের কাজগুলো সম্পন্ন করে:

০১

হাসপাতাল ও পুলিশ ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ

সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্স বা বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী (BDF) হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা সনদ (Medical Cause of Death) এবং নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন থেকে ময়নাতদন্ত বা তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়।

০২

পরিবারের ক্ষমতাপত্র বা সম্মতি গ্রহণ

বাংলাদেশে থাকা মৃতের ওয়ারিশদের (স্ত্রী, পিতা বা নিকটাত্মীয়) কাছ থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কমিশনারের প্রত্যয়নযুক্ত একটি অনাপত্তিপত্র (NOC) বা ক্ষমতাপত্র দূতাবাসে ইমেইলে আনা হয়, যেখানে তাঁরা মরদেহ দেশে ফেরত চান নাকি বাহরাইনেই দাফন করাতে চান তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।

০৩

মরদেহ সংরক্ষণ (Embalming) ও কফিন প্রস্তুতি

বাহরাইন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের উপযোগী করে মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ (Embalming) করা হয় এবং একটি সিলগালা কফিনে স্থাপন করা হয়। দূতাবাস থেকে বিশেষ কনস্যুলার ডেথ সার্টিফিকেট ও ট্রানজিট ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়।

০৪

সরকারি অর্থায়নে বিমান পরিবহন (Gulf Air / Biman)

মৃত ব্যক্তি যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, আইন অনুযায়ী সেই মালিকপক্ষ বিমান ভাড়া বহন করতে বাধ্য। তবে কফিল যদি পালিয়ে যায় বা খরচ দিতে অস্বীকার করে, তবে দূতাবাস ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিশেষ জরুরি তহবিল থেকে বিমানের টিকিট ও কার্গো ভাড়া সরাসরি পরিশোধ করে মরদেহ দেশে পাঠায়।

মৃত প্রবাসীর পরিবারের জন্য সরকারি আর্থিক অনুদানের বিবরণ

আর্থিক সহায়তার ধরন প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রদানের সময় ও মাধ্যম যোগ্যতার মানদণ্ড
দাফন ও তাৎক্ষণিক পরিবহন খরচ ৩৫,০০০ টাকা নগদ হযরত শাহজালাল বা চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় তাৎক্ষণিক চেক সকল বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
এককালীন আর্থিক অনুদান (মৃত্যু সহায়তা) ৩,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা দেশে ফিরে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে আবেদনের পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বৈধ বিএমইটি কার্ডধারী বা বৈধ ভিসায় গমনকারী প্রবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় ইন্স্যুরেন্স ক্ষতিপূরণ বাহরাইন শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বাহরাইনের জেনারেল অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স (GOSI) থেকে আদায়কৃত দিনার কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলে

⚖️ ১০. শ্রম কল্যাণ উইং (Labour Welfare Wing): বকেয়া বেতন আদায় ও কফিল বিরোধ নিষ্পত্তি

বাহরাইনে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী নির্মাণ খাত, ওয়ার্কশপ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ডেলিভারি রাইডার ও হোটেল রেস্তোরাঁয় নিজেদের শ্রম দিয়ে চলেছেন। অনেক সময় অসাধু কোম্পানি বা কফিল মাসের পর মাস বেতন বকেয়া রাখে, অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়ে ওভারটাইম দেয় না, কিংবা আইন বহির্ভূতভাবে শ্রমিকের মূল পাসপোর্ট নিজ জিম্মায় আটকে রাখে। এই ধরনের প্রতিটি শ্রম অসন্তোষ ও অবিচারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনা করার জন্য মানামা দূতাবাসে রয়েছে বিশেষায়িত শ্রম কল্যাণ উইং (Labour Welfare Wing)।

বকেয়া বেতন ও অধিকার আদায়ের কার্যকর পদক্ষেপসমূহ

০১

দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দায়ের

আপনার কফিল বা কোম্পানি যদি ৩ মাস বা ততোধিক সময় বেতন না দেয়, তবে আপনার চুক্তিপত্র (Employment Contract), সিপিআর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টসহ শ্রম কল্যাণ উইংয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন।

০২

শ্রম কাউন্সেলর কর্তৃক মালিকপক্ষকে তলব

অভিযোগ পাওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর সরাসরি বাহরাইনি কফিল বা কোম্পানির এইচআর ম্যানেজারকে সরকারি চিঠির মাধ্যমে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার তলব করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বকেয়া অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়।

০৩

এলএমআরএ ও বাহরাইন লেবার কোর্টে আইনি মামলা দায়ের

মালিকপক্ষ যদি মধ্যস্থতায় না আসে বা অর্থ পরিশোধে অস্বীকার করে, তবে দূতাবাস শ্রমিকের পক্ষে বাহরাইন শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (LMRA) এবং মিনিস্ট্রি অব জাস্টিসের লেবার কোর্টে (Labour Court) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মামলা পরিচালনা করতে আইনি পরামর্শ ও আইনজীবী সহায়তা প্রদান করে।

০৪

জোরপূর্বক আটকে রাখা পাসপোর্ট উদ্ধার

বাহরাইন শ্রম আইনের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী কোনো নিয়োগকর্তা কর্মচারীর পাসপোর্ট আটকে রাখতে পারেন না। কফিল পাসপোর্ট আটকে রাখলে দূতাবাস সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মাধ্যমে আইনি হস্তক্ষেপে তা উদ্ধার করে প্রবাসীর হাতে হস্তান্তর করে।

মিথ্যা হুরুব বা রানওয়ে (Absconding) কেসের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার

অনেক সময় কর্মীর পাওনা বেতন ফাঁকি দিতে বা ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করতে অসাধু নিয়োগকর্তারা এলএমআরএ পোর্টালে মিথ্যা 'পলাতক' বা হুরুব কেস দায়ের করে থাকেন। শ্রম কল্যাণ উইং এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি এলএমআরএ লিগ্যাল ডিরেক্টরেটের সাথে সমন্বয় করে। কর্মী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন বা কফিল অন্যায়ভাবে কেস দিয়েছে, তবে দূতাবাসের হস্তক্ষেপে মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করিয়ে নিয়মিত বৈধ ভিসায় স্থানান্তর করা সম্ভব হয়।

দূতাবাস পরিচালিত সেইফ হাউস ও নারী কর্মীদের জরুরি আশ্রয় সেবা

গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী প্রবাসী কর্মীরা শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে তাঁদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষার জন্য দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সেইফ হাউস (Safe House) পরিচালিত হয়। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত নারী শ্রমিকদের বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, আইনি সহায়তা প্রদান করা হয় এবং পাওনা বেতন আদায় সাপেক্ষে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।

🚐 ১১. মানামার বাইরে মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প কার্যক্রম ও প্রত্যন্ত প্রবাসীদের সেবা

বাহরাইনে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রাজধানী মানামার বাইরে বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকায় (যেমন: মুহাররাক, রিফা, সিত্রা, আসকার কিংবা আলবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা) বসবাস করেন। কর্মস্থলে কঠোর কাজের শিডিউলের কারণে সাধারণ কর্মদিবসে ছুটি নিয়ে মানামার মূল দূতাবাস ভবনে আসা অনেক শ্রমিকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই অসুবিধা নিরসনে বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা নিয়মিত বিরতিতে আয়োজন করে থাকে 'ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার ক্যাম্প' (Mobile Consular Outreach Services)।

ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার ক্যাম্পের ৩টি প্রধান বিশেষত্ব

০১

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সেবা

প্রবাসীদের কাজের কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে ছুটির দিনে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব বা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় অস্থায়ী বায়োমেট্রিক ও আবেদন কাউন্টার স্থাপন করা হয়।

০২

দোরগোড়ায় ই-পাসপোর্ট আবেদন ও ডেলিভারি

যাঁদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁরা সরাসরি ক্যাম্পে গিয়ে বায়োমেট্রিক ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে পারেন এবং পূর্বে প্রস্তুতকৃত পাসপোর্টও ক্যাম্প থেকে গ্রহণ করা যায়।

০৩

সরাসরি শ্রম ও আইনি পরামর্শ

ক্যাম্পে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন, ফলে স্থানীয় কর্মীরা নিজেদের যেকোনো কর্মক্ষেত্রীয় সমস্যা বা ভিসা জটিলতার ব্যাপারে সরাসরি খোলামেলা আলোচনা করে কার্যকর পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

মোবাইল ক্যাম্প শিডিউল জানার উপায়: প্রতিটি মোবাইল ক্যাম্পের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান অন্তত এক সপ্তাহ পূর্বে দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ (Bangladesh Embassy, Bahrain) এবং নোটিশ বোর্ডে জানিয়ে দেওয়া হয়।

📞 ১২. দূতাবাস হটলাইন, হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পডেস্ক ও অফিশিয়াল অফিস সময়সূচি ২০২৬

জরুরি কনস্যুলার জিজ্ঞাসা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা কোনো প্রবাসীর গুরুতর বিপদের সময় দূতাবাস প্রশাসনের সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। মানামা দূতাবাস সাধারণ কর্মদিবসের নিয়মিত গ্রাহক সেবার পাশাপাশি যেকোনো অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক হটলাইন সেবা চালু রেখেছে।

অফিশিয়াল অফিস কর্মঘণ্টা ও সেবা সময়সূচি

সেবার পর্যায় কর্মদিবস (Days) নির্দিষ্ট সময়সূচি (Timings)
কনস্যুলার আবেদন ও কাগজপত্র জমা গ্রহণ রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত
পাসপোর্ট ও সত্যায়িত দলিল ডেলিভারি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৩০টা থেকে বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত
শ্রম উইং ও বিশেষ অভিযোগ শুনানি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:০০টা থেকে দুপুর ২:০০টা পর্যন্ত
সাপ্তাহিক ছুটি (দূতাবাস বন্ধ) শুক্রবার ও শনিবার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ (জরুরি সেবা ব্যতীত)

জরুরি হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ ডিরেক্টরি

ডিপার্টমেন্ট / ডেস্ক যোগাযোগের ফোন নম্বর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ নম্বর ইমেইল ঠিকানা
দূতাবাস সেন্ট্রাল এক্সচেঞ্জ +973 1772 1339 - bdootbah@batelco.com.bh
২৪ ঘণ্টা জরুরি কন্ট্রোল রুম (মরদেহ ও সংকট) +973 3337 5155 +973 3337 5155 mission.manama@mofa.gov.bd
ই-পাসপোর্ট ও কনস্যুলার হেল্পডেস্ক +973 1774 1976 +973 3619 0955 consular.manama@mofa.gov.bd
শ্রম কল্যাণ উইং (অভিযোগ সেল) +973 1772 1339 (Ext: 104) +973 3514 8682 labour.manama@mofa.gov.bd
প্রবাসীদের জরুরি দূতাবাস গাইড

দূতাবাসের সব সেবা ও জরুরি হটলাইন এক স্পর্শে

মানামা দূতাবাসের অফিশিয়াল ঠিকানা, ই-পাসপোর্ট ট্র্যাকিং লিংক, কনস্যুলার ফি চার্ট এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি ফোন নম্বর সবসময় সাথে রাখতে আজই ইনস্টল করুন 'Probashi App'। প্রবাসের প্রতিটি মুহূর্তে আপনার সঠিক তথ্যের ডিজিটাল অভিভাবক।

Probashi App আইকন

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. বাংলাদেশ দূতাবাস মানামায় ই-পাসপোর্ট আবেদনের প্রধান নিয়ম কী?

ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ব্যাংকে সরকারি ফি জমা দিয়ে অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, মূল পুরানো পাসপোর্ট ও অনলাইন ১৭ ডিজিটের জন্ম সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ দূতাবাসে বায়োমেট্রিক প্রদান করতে হবে।

২. মানামা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করা যায়?

ই-পাসপোর্ট অনলাইন ট্র্যাকিং পোর্টালে আপনার ডেলিভারি স্লিপে থাকা অ্যাপ্লিকেশন আইডি (OID বা বারকোড নম্বর) এবং জন্মতারিখ টাইপ করে পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা দেখতে পারেন। পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে মানামায় পৌঁছালে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়।

৩. বাহরাইনে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস কীভাবে পাওয়া যায়?

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমে নিকটস্থ বাহরাইন পুলিশ স্টেশনে গিয়ে জিডি (Police Report) করতে হবে। এরপর পুলিশ রিপোর্টের মূল কপি, পুরানো পাসপোর্টের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে দূতাবাসে আবেদন করলে একমুখী জরুরি ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস ইস্যু করা হয়।

৪. বাহরাইনে বসে কি বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিবন্ধন ও সংশোধন সম্ভব?

হ্যাঁ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও মানামা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রবাসী এনআইডি ডেস্কে গিয়ে নতুন ভোটার নিবন্ধন এবং নাম, বয়স বা পিতা-মাতার নামের ভুল সংশোধন আবেদন সম্পন্ন করা যায়।

৫. বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইন কোন এলাকায় অবস্থিত এবং কীভাবে যাতায়াত করা যায়?

বাংলাদেশ দূতাবাসের বর্তমান ঠিকানা: ভিলা ২২৩, রোড ১৮০৫, ব্লক ৩১৮, মাহুজ (Mahooz), মানামা, বাহরাইন। মানামা সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাল থেকে লোকাল পাবলিক বাসে কিংবা ট্যাক্সি যোগে সরাসরি দূতাবাসে যাওয়া যায়।

৬. বাহরাইনে কোনো প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ দেশে পাঠানোর নিয়ম কী?

প্রবাসীর মৃত্যুতে স্থানীয় হাসপাতাল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করার পর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের খরচে মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। এছাড়া ঢাকায় বিমানবন্দর পৌঁছালে দাফন সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকার নগদ চেক প্রদান করা হয়।

৭. দূতাবাসে কনস্যুলার ফি কীভাবে পরিশোধ করতে হয়?

দূতাবাস কাউন্টারে কোনো নগদ অর্থ লেনদেন করা হয় না। কনস্যুলার ফি নির্ধারিত ব্যাংক অব বাহরাইন অ্যান্ড কুয়েত (BBK) একাউন্টে জমা দিয়ে ব্যাংক স্লিপ উপস্থাপন করতে হয় অথবা দূতাবাসের পিওএস মেশিনে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।

৮. শ্রমিকদের বকেয়া বেতন না দিলে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং কীভাবে সাহায্য করে?

কোম্পানি বা কফিল বেতন বকেয়া রাখলে বা পাসপোর্ট আটকে রাখলে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা যায়। শ্রম কাউন্সেলর মালিকপক্ষকে ডেকে সালিশি বৈঠক করেন এবং প্রয়োজনবোধে এলএমআরএ ও বাহরাইন লেবার কোর্টে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করেন।

তানভীর আহমেদ

তানভীর আহমেদ

মিডল ইস্ট অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কনস্যুলার নীতি গবেষক

তানভীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন, অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি অধিকার এবং রেমিট্যান্স সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণা প্রবাসীদের সরকারি সেবা গ্রহণ সহজতর করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

২০২৬ সালের বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা: ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি, এনআইডি সংশোধন ও কন্স্যুলার ক্যাম্প গাইড

মানামার জিনজ (Zinj) এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইনে বসবাসরত দুই লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির সবচেয়ে বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল। পাসপোর্ট ইস্যু, সত্যায়ন, পারিবারিক ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন এবং প্রবাসী কল্যাণ তহবিলের আওতায় আইনি সহায়তা প্রদানে দূতাবাস নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের আধুনিকায়নে মোবাইল ক্যাম্প ও অনলাইন ট্র্যাকিং সেবা প্রবাসীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

🏛️ দূতাবাস অবস্থান ও সেবা নেওয়ার নিয়মাবলী:

  • দূতাবাস ঠিকানা: Building 2180, Road 2755, Block 327, Zinj, Manama, Kingdom of Bahrain.
  • সেবা গ্রহণ সময়: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮:০০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত নথি জমা এবং দুপুর ২:০০টা থেকে বিকাল ৩:৩০টা পর্যন্ত পাসপোর্ট ও সনদ ডেলিভারি।
  • শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ: বাহরাইনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন দূতাবাস কার্যালয় সাধারণ সেবার জন্য বন্ধ থাকলেও জরুরি কনস্যুলার হেল্পলাইন সার্বক্ষণিক সচল থাকে।
কনস্যুলার সেবা মেয়াদ ও পৃষ্ঠা সংখ্যা সরকারি ফি (BHD) ডেলিভারি সময়কাল
সাধারণ ই-পাসপোর্ট (শ্রমিক) ৫ বছর মেয়াদ (৪৮ পৃষ্ঠা) ১৫.০০০ দিনার ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস
জরুরি ই-পাসপোর্ট ৫ বছর মেয়াদ (৪৮ পৃষ্ঠা) ৩০.০০০ দিনার ১০ থেকে ১৫ কর্মদিবস
জরুরি আউটপাস (Travel Permit) একবার ব্যবহারের ট্রাভেল পাস ৪.০০০ দিনার ৩ থেকে ৫ কর্মদিবস
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন দলিল ও আইনি নথি সত্যায়ন ১০.০০০ দিনার একই দিনে ডেলিভারি

🚌 দূরবর্তী এলাকার জন্য মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প:

মানামার বাইরে রিফফা (Riffa), হামাদ টাউন (Hamad Town) কিংবা মুহাররাকের যেসব প্রবাসী কাজের চাপের কারণে দূতাবাসে আসতে পারেন না, তাদের জন্য দূতাবাস প্রতি মাসে ছুটির দিনে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করে। দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে ক্যাম্পের সময়সূচি অগ্রিম জানিয়ে দেওয়া হয়।

বাহরাইনে কর্মরত প্রবাসীদের জরুরি নিরাপত্তা চেকলিস্ট, লিগ্যাল সাপোর্ট ও অফিসিয়াল হটলাইন ২০২৬

উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে কর্মরত যেকোনো প্রবাসী কর্মীর জন্য দেশটির পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, অ্যাম্বুলেন্স এবং শ্রম নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি নম্বরগুলো মুখস্থ থাকা অথবা স্মার্টফোনে সেভ করে রাখা আবশ্যকীয়। কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ত্রুটি, আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতা কিংবা কোম্পানির সাথে আইনি বিরোধ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সঠিক চ্যানেলে যোগাযোগ প্রবাসীদের অমূল্য জানমাল রক্ষা করে।

🛡️ বাহরাইনে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সরকারি কলিং কোড:

  • জাতীয় জরুরি হটলাইন (পুলিশ, ফায়ার ও অ্যাম্বুলেন্স): ৯৯৯ (999) — যেকোনো দুর্ঘটনা, অপরাধ বা অগ্নিকাণ্ডে সার্বক্ষণিক ফ্রি কল করা যায়।
  • ট্রাফিক পুলিশ ও রোড অ্যাক্সিডেন্ট রিপোর্ট: ১৯৯ (199) — সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে নাজদ (Najm) অ্যাপের পাশাপাশি ট্রাফিক ডিরেক্টরেটের এই নম্বরে সরাসরি রিপোর্ট করুন।
  • লেবার মার্কেট কল সেন্টার (LMRA Call Center): +৯৭৩ ১৭৫৭৪৮৪৮ — ভিসা স্ট্যাটাস, কর্মক্ষেত্র জটিলতা ও স্পনসরশিপ সংক্রান্ত অভিযোগ।
  • মানামা বাংলাদেশ দূতাবাস কন্ট্রোল রুম: +৯৭৩ ১৭৭২১৪২৮ — পাসপোর্ট জটিলতা, মরদেহ প্রেরণ, আউটপাস ও আইনি সহায়তা।
  • মানবাধিকার ও মানবপাচার প্রতিরোধ সেল (National Referral Mechanism): ৯৯৫ (995) — জোরপূর্বক পাসপোর্ট আটকে রাখা বা বেতন না দিয়ে বন্দি রাখার বিরুদ্ধে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ।
জরুরি সেবার ক্ষেত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সেবা গ্রহণের মাধ্যম জরুরি কার্যকারিতা
চিকিৎসা ও ট্রমা কেয়ার সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্স (SMC) জরুরি ইমার্জেন্সি বিভাগ ও ৯৯৯ ২৪ ঘণ্টা সরকারি ট্রমা সার্ভিস
শ্রম ও মজুরি বিবাদ শ্রম মন্ত্রণালয় (Ministry of Labour) ই-কমপ্লেইন্ট পোর্টাল (mlsd.gov.bh) বেতন বকেয়া ও সার্ভিস বেনিফিট আদায়
আবাসন ও পৌর নিরাপত্তা পৌরসভা ও কৃষি মন্ত্রণালয় পৌরসভা হটলাইন ৮০০০৮০২২ ব্যাচেলর মেস ও স্বাস্থ্যবিধি অডিট
কনস্যুলার মোবাইল সাপোর্ট বাংলাদেশ দূতাবাস উইং সরাসরি হটলাইন ও ফেসবুক পেজ আইনি পরামর্শ ও আউটপাস রিলিজ

বাহরাইনে আপনার প্রবাস জীবন সফল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করতে সর্বদা অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মিথ্যা প্রলোভনে না পড়ে সরাসরি সরকারি পোর্টাল এবং দূতাবাসের সহযোগিতা নিন।

বাহরাইন প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান ও অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর ২০২৬

১. প্রবাসীরা কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি আইনি সহায়তা কীভাবে পেতে পারেন?

বাহরাইন শ্রম মন্ত্রণালয় (MLSD) এবং মানামাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের লিগ্যাল সেলে সরাসরি যোগাযোগ করে বিনা খরচে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়া যায়। শ্রম বিরোধের ক্ষেত্রে mlsd.gov.bh পোর্টালে অনলাইন অভিযোগ দায়ের করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

২. বাহরাইনে সরকারি ফি পরিশোধের সবচেয়ে নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যম কোনটি?

বাহরাইন সরকারের অফিশিয়াল bahrain.bh পোর্টাল, সাদাদ (SADAD) সেলফ-সার্ভিস কিয়স্ক এবং BenefitPay মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করা সবচেয়ে নিরাপদ। নগদ টাকা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হাতে দেবেন না।

৩. ছুটি কাটিয়ে দেশে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে কী কী ডকুমেন্টস সাথে রাখা জরুরি?

মূল পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসহ), বৈধ স্মার্ট সিপিআর কার্ড, রিটার্ন বা অন-ওয়ে বিমান টিকিট এবং রি-এন্ট্রি পারমিটের ডিজিটাল কপি সাথে রাখুন। কোনো জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের যোগাযোগের নম্বর সাথে সংরক্ষণ করুন।

৪. প্রবাসে প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার উপায় কী?

আপনার সিপিআর নম্বর, ব্যাংক ওটিপি (OTP) বা বেনিফিটপে পিন নম্বর কাউকে ফোনে বা মেসেজে জানাবেন না। কোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসপোর্ট কপি শেয়ার করবেন না।

বাহরাইন প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান ও অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর ২০২৬

১. প্রবাসীরা কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি আইনি সহায়তা কীভাবে পেতে পারেন?

বাহরাইন শ্রম মন্ত্রণালয় (MLSD) এবং মানামাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের লিগ্যাল সেলে সরাসরি যোগাযোগ করে বিনা খরচে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়া যায়। শ্রম বিরোধের ক্ষেত্রে mlsd.gov.bh পোর্টালে অনলাইন অভিযোগ দায়ের করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

২. বাহরাইনে সরকারি ফি পরিশোধের সবচেয়ে নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যম কোনটি?

বাহরাইন সরকারের অফিশিয়াল bahrain.bh পোর্টাল, সাদাদ (SADAD) সেলফ-সার্ভিস কিয়স্ক এবং BenefitPay মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করা সবচেয়ে নিরাপদ। নগদ টাকা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হাতে দেবেন না।

৩. ছুটি কাটিয়ে দেশে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে কী কী ডকুমেন্টস সাথে রাখা জরুরি?

মূল পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসহ), বৈধ স্মার্ট সিপিআর কার্ড, রিটার্ন বা অন-ওয়ে বিমান টিকিট এবং রি-এন্ট্রি পারমিটের ডিজিটাল কপি সাথে রাখুন। কোনো জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের যোগাযোগের নম্বর সাথে সংরক্ষণ করুন।

৪. প্রবাসে প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার উপায় কী?

আপনার সিপিআর নম্বর, ব্যাংক ওটিপি (OTP) বা বেনিফিটপে পিন নম্বর কাউকে ফোনে বা মেসেজে জানাবেন না। কোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসপোর্ট কপি শেয়ার করবেন না।