দূতাবাস ডিরেক্টরি (Embassy Directory) ও কনস্যুলার গাইড: শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশের জরুরি হটলাইন, পাসপোর্ট ও শ্রম কল্যাণ
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর এবং ইতালিসহ বিশ্বজুড়ে অবস্থিত সকল বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ভেরিফায়েড ফোন নাম্বার, শ্রম উইং হটলাইন, পাসপোর্ট নবায়ন, আউটপাস ইস্যু এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ।
ভূমিকা: প্রবাস জীবনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের অপরিহার্য অভিভাবকত্ব
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মাতৃভূমির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। নিজের চেনা পরিবেশ, পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষা, আইন ও সংস্কৃতির ভূখণ্ডে বসবাস করতে গিয়ে একজন প্রবাসী প্রতিটি পদে পদে নানা আইনি, প্রশাসনিক ও কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এমন বৈরী ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কনস্যুলেট জেনারেলসমূহ কেবল একটি কূটনৈতিক দপ্তর নয়, বরং তা প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়, সার্বভৌম অধিকার রক্ষা ও মানবিক আশ্রয়ের সর্বোচ্চ প্রতীক।
পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া, নতুন ভিসা লাগানো, আকামা বা ওয়ার্ক পারমিটের জটিলতা, কর্মক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরের অবিচার, বকেয়া বেতন আদায়, আকস্মিক দুর্ঘটনা কিংবা প্রবাসে কোনো স্বজনের মৃত্যুতে মরদেহ দ্রুত দেশে প্রেরণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবাসীকে দ্বারস্থ হতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনের। অথচ অধিকাংশ সময় সঠিক তথ্যের অভাব, দালালদের বিভ্রান্তিকর প্রতারণা এবং প্রয়োজনীয় সময়ে নির্ভরযোগ্য অফিসিয়াল ফোন নাম্বার ও ঠিকানা না পাওয়ার কারণে হাজারো প্রবাসী চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।
প্রবাসীদের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের স্থায়ী সমাধানে একটি সুবিন্যস্ত ও প্রামাণ্য embassy directory বা দূতাবাস ডিরেক্টরি থাকা অপরিহার্য। ডিজিটাল যুগে তথ্য এখন প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষাকবচ। সঠিক সরকারি চ্যানেল, শ্রম উইংয়ের সরাসরি যোগাযোগ নম্বর এবং জরুরি কনস্যুলার সেবার হালনাগাদ তথ্যাবলি হাতের মুঠোয় থাকা মানেই যেকোনো অপতৎপরতা থেকে নিজের কষ্টার্জিত আয় ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।
প্রবাসী অ্যাপে 'দূতাবাস ডিরেক্টরি (embassy directory)' ফিচারের স্থাপত্য ও ওয়ান-ট্যাপ ডায়ালিং
প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগের ভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনতে শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সুপার প্ল্যাটফর্ম 'প্রবাসী অ্যাপ'-এ সংযুক্ত করা হয়েছে সর্বাধুনিক দূতাবাস ডিরেক্টরি মডিউল। এটি মূলত বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন, কনস্যুলেট জেনারেল এবং বিশেষায়িত শ্রম উইংয়ের শতভাগ ভেরিফায়েড তথ্যের একটি ইন্টারেক্টিভ ও সেন্ট্রালাইজড ডেটাবেজ।
অনেকেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন ও অকার্যকর ফোন নম্বরে কল দিয়ে হতাশ হন। কিন্তু গুগলের প্লে স্টোরে নির্ভরযোগ্য bangladesh embassy app হিসেবে প্রবাসী অ্যাপ এই তথ্যাবলি নিয়মিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোর অফিশিয়াল গ্যাজেটের সাথে সিঙ্ক করে আপডেট রাখে।
প্রবাসী অ্যাপ দূতাবাস ডিরেক্টরির প্রধান প্রযুক্তিগত সুবিধাসমূহ:
- ১-ট্যাপ সরাসরি ডায়ালিং (One-Tap Direct Dial): কোনো নম্বর মুখস্থ বা ম্যানুয়ালি ডায়াল প্যাডে টাইপ করার প্রয়োজন নেই। অ্যাপের ভেতর নির্দিষ্ট দূতাবাসের নামের পাশে কল আইকনে স্পর্শ করলেই সরাসরি আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় কোডসহ ডায়াল হয়ে যায়।
- ২৪/৭ ইমার্জেন্সি এসওএস হটলাইন বাটন: স্বাভাবিক অফিস সময়ের বাইরে রাতে বা ছুটির দিনে জরুরি পরিস্থিতিতে (যেমন পুলিশি আটক, দুর্ঘটনা বা শারীরিক নির্যাতন) বিশেষ ট্রায়াজ হটলাইনে যোগাযোগের ব্যবস্থা।
- অফলাইন ডেটা ভল্ট: মরুভূমির রিগ সাইট কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের ডাটা প্যাক শেষ হয়ে গেলেও অ্যাপের ক্যাশ মেমোরি থেকে সম্পূর্ণ ডিরেক্টরি অফলাইনে দেখা যায়।
- গুগল ম্যাপস লাইভ নেভিগেশন: দূতাবাসের সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান পিন করা থাকে, যার ফলে অপরিচিত ট্যাক্সি বা গণপরিবহনে সরাসরি দূতাবাসের গেটে পৌঁছানো সম্ভব।
- কনস্যুলার ফি ক্যালকুলেটর: প্রতিটি সেবার (পাসপোর্ট ফি, সত্যায়ন ফি, ট্রাভেল পাস) নির্ধারিত সরকারি ফি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সরাসরি প্রদর্শিত হয়।
কনস্যুলার সেবাসমূহ: পাসপোর্ট নবায়ন (passport renewal bd), ট্রাভেল পাস ও সত্যায়ন
বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সবচেয়ে ব্যস্ত শাখা হলো কনস্যুলার উইং। প্রতিদিন শত শত প্রবাসী তাদের দৈনন্দিন ও আইনি কাজ সম্পাদনের জন্য এই শাখায় আসেন। প্রবাসে বৈধ মর্যাদায় টিকে থাকার মূল শর্তই হলো পাসপোর্টের বৈধ মেয়াদ থাকা। তাই passport renewal bd সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ প্রবাসীদের জীবনের সবচেয়ে নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
কনস্যুলার শাখা থেকে মূলত যেসকল সেবা প্রদান করা হয়:
- পাসপোর্ট রি-ইস্যু ও নবায়ন: হাতে লেখা (ম্যানুয়াল) বা এমআরপি পাসপোর্ট থেকে নতুন আধুনিক ই-পাসপোর্টে রূপান্তর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে পাসপোর্ট নবায়ন।
- জরুরি ট্রাভেল পারমিট (Outpass / Travel Pass): পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে কিংবা অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় একমুখী ফ্লাইটে দেশে ফেরার জন্য সাময়িক ট্রাভেল ডকুমেন্ট।
- আমমোক্তারনামা ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney): দেশে জমিজমা বিক্রয়, ব্যাংকের লেনদেন বা পারিবারিক মামলার দায়িত্ব প্রবাসে বসেই কোনো প্রতিনিধির ওপর অর্পণের সরকারি আইনি সত্যায়ন।
- জন্ম ও বৈবাহিক সনদ সত্যায়ন: বিদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি শিশুদের জন্ম নিবন্ধন, নিকাহনামা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুবাদ ও সত্যায়ন।
- এনওসি (NOC) ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফরোয়ার্ডিং: স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার জন্য দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র প্রদান।
ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু ও নবায়নের পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট ও প্রামাণ্য ধাপসমূহ:
প্রবাসে পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলের কারণে আবেদন আটকে যেতে পারে। নিচে দূতাবাস অনুমোদিত ৫টি সুনির্দিষ্ট ধাপ ও চেকলিস্ট বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
- ধাপ ১: অনলাইন আবেদন ও ডেটা ম্যাচিং: সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (epassport.gov.bd) প্রবেশ করে বর্তমান পাসপোর্টের সাথে মিল রেখে নির্ভুল তথ্য ইনপুট করুন। নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ যেন পূর্বের পাসপোর্টের সাথে হুবহু মিলে।
- ধাপ ২: প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ফটোকপি প্রস্তুত: পূর্বের মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্টের তথ্য পাতার ২টি স্পষ্ট ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ ভিসা বা আকামার কপি সংযুক্ত করুন।
- ধাপ ৩: ব্যাংক ড্রাফট বা নির্ধারিত ফি প্রদান: অধিকাংশ দূতাবাসে নগদ টাকা নেওয়া হয় না। দূতাবাসের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফি জমা দিয়ে মূল ডিপোজিট স্লিপ আবেদনের সাথে স্ট্যাপলার করুন।
- ধাপ ৪: দূতাবাসে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট: নির্ধারিত তারিখে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ১০টি ছাপ, ডিজিটাল ছবি ও চোখের আইরিশ স্ক্যান সম্পন্ন করুন এবং ডেলিভারি স্লিপ সযত্নে সংরক্ষণ করুন।
- ধাপ ৫: অনলাইন ট্র্যাকিং ও ডেলিভারি গ্রহণ: অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করুন। পাসপোর্ট রেডি হলে মূল ডেলিভারি স্লিপ ও পুরাতন পাসপোর্ট প্রদর্শন করে নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ট্রাভেল এজেন্সিকে অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে সরাসরি দূতাবাসের অফিশিয়াল দূতাবাস হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করুন। এতে আপনার অর্থ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হবে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ সম্পন্ন হবে।
শ্রম উইং ও আইনি সেল: কর্মক্ষেত্রে জটিলতা, বকেয়া বেতন ও প্রতিকার
বিদেশে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিকের নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি বাংলাদেশ দূতাবাসে একজন শ্রম কাউন্সেলরের নেতৃত্বে একটি সক্রিয় শ্রম কল্যাণ উইং (Labor Welfare Wing) নিয়োজিত থাকে। প্রবাসীরা কর্মক্ষেত্রে যেসকল অন্যায়ের শিকার হন, তা দূর করতে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকে labor wing hotline।
অনেক সময় কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকা, স্পনসর বা কফিলের পাসপোর্ট আটকে রাখা, অতিরিক্ত সময় বিনা পারিশ্রমিকে খাটানো কিংবা বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় শ্রম আদালত বা পুলিশে যাওয়ার পূর্বে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো প্রথম আইনি পদক্ষেপ।
| শ্রম সংকটের ধরন | শ্রম উইংয়ের ভূমিকা ও পদক্ষেপ | প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | প্রত্যাশিত সমাধান সময় |
|---|---|---|---|
| বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট | কোম্পানি ও কফিলকে নোটিশ প্রেরণ, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও স্থানীয় শ্রম আদালতে কেস ফরোয়ার্ড | চুক্তিনামা (Aqd), ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ওয়ার্ক আইডি কার্ড | ৭ থেকে ৩০ কার্যদিবস |
| পাসপোর্ট জিম্মি বা আটকে রাখা | আন্তর্জাতিক শ্রম আইন (ILO) ও স্থানীয় আইনের আওতায় পাসপোর্ট উদ্ধারে আইনি তলব | পাসপোর্টের ফটোকপি, নিয়োগপত্র | ৩ থেকে ১০ দিন |
| শারীরিক নির্যাতন ও অসুস্থতা | রেসকিউ টিম প্রেরণ, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি এবং নিরাপদ সেফ হোমে (Safe House) আশ্রয় | মেডিকেল রিপোর্ট, থানার জিডি/অভিযোগ নম্বর | তাৎক্ষণিক (২৪ ঘণ্টার মধ্যে) |
| কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু ও ক্ষতিপূরণ | কোম্পানির বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মরদেহ বাংলাদেশে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা | ডেথ সার্টিফিকেট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ওয়ারিশনামা | ১৫ থেকে ৪৫ দিন |
প্রবাসী অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি তাদের নিকটস্থ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের ফোকাল পয়েন্টের নাম, পদবি এবং ফোন নম্বর দেখতে পান।
ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস ও ডেলিভারি ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া
বর্তমানে বিদেশে অবস্থিত প্রায় সকল প্রধান বাংলাদেশ মিশনে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট (e-Passport) কার্যক্রম চালু হয়েছে। একজন প্রবাসী যখন দূতাবাসে এসে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান ও ছবি দিয়ে আবেদন জমা দেন, তখন তিনি একটি অ্যাপ্লিকেশন স্লিপ বা ডেলিভারি রসিদ পান।
আবেদনের পর পাসপোর্টটি প্রিন্ট হয়েছে কিনা বা ঢাকায় প্রধান কার্যালয় থেকে উক্ত দেশে ব্যাগেজে এসে পৌঁছেছে কিনা, তা জানার জন্য e-passport status check bangladesh ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। প্রবাসী অ্যাপের ভেতরের ট্র্যাকার টুলটিতে শুধু অ্যাপ্লিকেশন আইডি (যেমন OID100000XXXX) ও জন্মতারিখ বসালেই তাৎক্ষণিকভাবে লাইভ স্ট্যাটাস স্ক্রিনে ভেসে ওঠে:
- Submitted: দূতাবাসে আবেদন সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- Pending Police Verification: দেশে এসবি পুলিশ ভেরিফিকেশনে প্রক্রিয়াধীন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- In Print Queue / Printing: পাসপোর্ট ঢাকা সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে মুদ্রণ হচ্ছে।
- Shipped to RPO / Mission: পাসপোর্ট মুদ্রিত হয়ে কূটনৈতিক কুরিয়ার ব্যাগেজে দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।
- Ready for Issuance / Delivery: পাসপোর্ট দূতাবাসে পৌঁছেছে এবং প্রবাসী ভাই রসিদ দেখিয়ে গ্রহণ করতে পারবেন।
ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার ক্যাম্প সেবা ও শিডিউল
বিশাল আয়তনের দেশগুলোতে (যেমন সৌদি আরব, মালয়েশিয়া বা ওমান) রাজধানী শহর থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত খামার, কৃষি ফার্ম, মরুভূমির তেলখনি বা শিপইয়ার্ডে বহু প্রবাসী শ্রমিক কাজ করেন। ছুটির স্বল্পতা, কর্মক্ষেত্রের কড়াকড়ি এবং অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের কারণে তাদের পক্ষে দূতাবাসে স্বশরীরে আসা সম্ভব হয় না।
এই মানবিক দিক বিবেচনায় দূতাবাসগুলো প্রতি মাসে বিভিন্ন দূরবর্তী প্রদেশে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার টিম পাঠায়। সরকারিভাবে প্রকাশিত consular camp schedule bangladesh অনুযায়ী সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে স্থানীয় বাংলাদেশি স্কুল, কমিউনিটি ক্লাব বা ভাড়া করা অডিটোরিয়ামে এই ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পে যেসব সেবা মিলবে:
- বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট ও এমআরপি আবেদন গ্রহণ এবং রেডি পাসপোর্ট বিতরণ।
- জরুরি ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) ইস্যু।
- বিভিন্ন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও আইনি দলিলের স্বাক্ষর সত্যায়ন।
- শ্রমিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ।
প্রবাসী অ্যাপের নোটিফিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি প্রবাসীকে তার বর্তমান লোকেশনের নিকটবর্তী আসন্ন কনস্যুলার ক্যাম্পের তারিখ, ভেন্যু ও সময়সূচি কয়েকদিন আগেই পুশ নোটিফিকেশনে জানিয়ে দেওয়া হয়।
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ১: সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস (রিয়াদ ও জেদ্দা) ও ফোন নাম্বার
বিশ্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হলো সৌদি আরব। প্রায় ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী এই মরুভূমির দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে আছেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি প্রধান সরকারি কূটনৈতিক মিশন পরিচালিত হয়:
- ১. বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ (Embassy of Bangladesh, Riyadh): মধ্য, পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের প্রবাসীদের জন্য।
- ২. বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা (Consulate General of Bangladesh, Jeddah): পশ্চিমাঞ্চলীয় মক্কা, মদিনা, তায়েফ, জিজান, নাজরান ও লোহিত সাগর উপকূলের প্রবাসীদের জন্য।
জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য প্রামাণ্য সৌদি দূতাবাস ফোন নাম্বার এবং অফিশিয়াল ঠিকানা নিচে টেবিলে তুলে ধরা হলো। সৌদি আরবে যেসকল প্রবাসী bd embassy saudi arabia সংক্রান্ত নির্ভুল তথ্য খোঁজেন, তাদের জন্য এটি শতভাগ নির্ভরযোগ্য গাইড:
সর্বশেষ যাচাই: সেপ্টেম্বর ২০২৬। নম্বর বদলে যেতে পারে, জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হোন।
| মিশনের নাম ও অফিস | ঠিকানা ও এলাকা | অফিশিয়াল ফোন ও হটলাইন | কার্যক্রমের আওতাভুক্ত অঞ্চল |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ | ডিপ্লোমেটিক কোয়ার্টার (DQ), আল ফাজল রোড, রিয়াদ | টেলিফোন: +966 11 419 5300 জরুরি হটলাইন: +966 54 617 3878 শ্রম উইং: +966 58 323 9090 |
রিয়াদ, দাম্মাম, খোবার, আল-হাসা, জুবাইল, কাসিম, হাইল, তাবুক ও আরআর |
| বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা | আল-নুজহা ডিস্ট্রিক্ট, মদিনা রোড, জেদ্দা | টেলিফোন: +966 12 654 3666 জরুরি কল: +966 53 430 7644 হজ ও ওমরাহ সেল: +966 50 148 5723 |
জেদ্দা, মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, ইয়ানবু, আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান |
সৌদি আরবে অবস্থানরত যেকোনো প্রবাসী প্রবাসী অ্যাপ ওপেন করে সরাসরি এক ক্লিকে রিয়াদ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের সাথে কানেক্ট হতে পারেন।
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ২: সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট) হেল্পলাইন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রায় ১২ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন কর্মসংস্থানে নিয়োজিত আছেন। দুবাই ও আবুধাবির আকাশচুম্বী উন্নয়ন ও আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালিদের অবদান অনস্বীকার্য। ইউএইতে অবস্থানরত প্রবাসীদের আইনি ও কনস্যুলার সুরক্ষা দেওয়ার জন্য দুটি মিশন সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে:
- ১. বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি (Embassy of Bangladesh, Abu Dhabi): রাজধানী আবুধাবি ও আল আইন অঞ্চলের প্রবাসীদের জন্য।
- ২. বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই (Consulate General of Bangladesh, Dubai): দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্মুল কুয়াইন, রাস আল খাইমাহ ও ফুজাইরাহ অঞ্চলের প্রবাসীদের সেবা দেয়।
ইউএইতে ভিজিট ভিসা নিয়ে এসে জটিলতায় পড়া, ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তন, সাধারণ ক্ষমার সুযোগ গ্রহণ এবং পাসপোর্ট রিনিউয়ালের জন্য নির্ভরযোগ্য হটলাইন জানা জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে। নিচে ইউএইর উভয় মিশনের প্রামাণ্য ফোন নাম্বার ও যোগাযোগ তথ্য দেওয়া হলো:
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| মিশন ও কার্যালয় | ঠিকানা ও অবস্থান | জরুরি হটলাইন ও টেলিফোন | সেবার আওতা ও সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি | সেক্টর ডব্লিউ-১৪/০২, প্লট নং ৩, আল জাহরা স্ট্রিট, আবুধাবি | টেলিফোন: +971 2 446 5100 জরুরি হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন শ্রম শাখা: +971 2 446 5101 |
আবুধাবি সিটি, আল আইন, আল রুয়াইস ও ওয়েস্টার্ন রিজিয়ন (শনি ও রবিবার ছুটি) |
| বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই | আল উম্ম হুরাইর ১, খালিদ বিন ওয়ালিদ রোড, বুড় দুবাই | টেলিফোন: +971 4 238 8199 ২৪/৭ হেল্পলাইন: +971 56 123 7890 পাসপোর্ট উইং: +971 4 238 8200 |
দুবাই, শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ, রাস আল খাইমাহ ও উম্মুল কুয়াইন |
| শারজাহ মোবাইল কনস্যুলার বুথ | শারজাহ বাংলাদেশ সমিতি প্রাঙ্গণ | হটলাইন: +971 56 123 7891 | শারজাহ ও আজমানের শিল্পাঞ্চলের কর্মীদের ছুটির দিনে সেবা |
| রাস আল খাইমাহ ও ফুজাইরাহ সেল | স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার ভেন্যু | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | দূরবর্তী উত্তর আমিরাতের কর্মীদের পাসপোর্ট রিসিভ ও ডেলিভারি |
প্রবাসী অ্যাপের মাধ্যমে ইউএইর প্রবাসীরা সরাসরি কোনো ঝামেলা ছাড়াই কনস্যুলেটের টোকেন বুকিং এবং লাইভ ট্র্যাকিং পরিচালনা করতে পারেন।
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৩: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশন ও অভিবাসী সহায়তা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান জনশক্তি রফতানি কেন্দ্র হলো মালয়েশিয়া। প্রায় ৮ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী দেশটির কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, জোহর বাহরু, পেনাং এবং সাবাহ-সারওয়াকের কারখানা, প্ল্যান্টেশন ও নির্মাণ সাইটে কঠোর পরিশ্রম করছেন।
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যাবতীয় সেবা ও অধিকার সুরক্ষার মূল কেন্দ্র হলো বাংলাদেশ দূতাবাস মালয়েশিয়া বা বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর। সম্প্রতি প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে কুয়ালালামপুরের বাইরে জালান বুকিত বিনতাং ও বুকিত দামানসারার বাইরে নতুন আধুনিক কনস্যুলার উইং চালু করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া হাইকমিশনের আধুনিক সেবা উদ্ভাবন:
- পোস লাজু (Pos Laju) ডাকযোগে পাসপোর্ট বিতরণ: সুদূর পেনাং বা জোহর থেকে কুয়ালালামপুর না এসেই নিকটস্থ পোস্ট অফিস থেকে নতুন পাসপোর্ট রিসিভ করার ঐতিহাসিক সুবিধা।
- রিক্যালিব্রেশন ও বৈধকরণ সেল: মালয়েশিয়া সরকারের ইমিগ্রেশনের বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় কর্মীদের কোম্পানি ভেরিফিকেশন ও এটেস্টেশন সেবা।
- পাসপোর্ট জট নিরসনে ডেডিকেটেড বায়োমেট্রিক ক্যাম্প: ছুটি ছাড়াই কর্মক্ষেত্রের নিকটে ছুটির দিনে মোবাইল টিমের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ গ্রহণ।
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| দপ্তরের নাম | অফিসের অবস্থান | হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর | সেবামূলক কার্যক্রম |
|---|---|---|---|
| প্রধান হাইকমিশন ভবন | নং ১, লোরং তামান দুতা, জালান দুতা, ৫০৪৮০ কুয়ালালামপুর | টেলিফোন: +60 3 6204 7000 শ্রম উইং: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম |
| পাসপোর্ট ও কনস্যুলার উইং | নং ১৯, জালান আম্পাং হিলির, ৫৫০০০ কুয়ালালামপুর | হটলাইন: +60 3 2148 7000 পাসপোর্ট হেল্প: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
ই-পাসপোর্ট আবেদন, এনআইডি, ট্রাভেল পারমিট ও সত্যায়ন |
| জোহর বাহরু ভ্রাম্যমাণ সেবা | জোহর বাহরু সিটি সেন্টার ও ক্লাস্টার ভেন্যু | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্যাক্টরি ও কনস্ট্রাকশন কর্মীদের সেবা |
| পেনাং ও উত্তরাঞ্চলীয় ক্যাম্প | জর্জ টাউন ও বাটারওয়ার্থ অডিটোরিয়াম | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর হাবের কর্মীদের সেবা |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৪: যুক্তরাজ্য (লন্ডন হাইকমিশন) ও ইউরোপীয় কনস্যুলার নেটওয়ার্ক
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৭ লাখ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অত্যন্ত সফল ও প্রভাবশালী কমিউনিটি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের কনস্যুলার সেবা, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নো ভিসা রিকোয়ার্ড (NVR) সিল এবং প্রবাসীদের সন্তানদের এনআইডি কার্ড প্রদানে লন্ডনের কুইন্স গেটে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
লন্ডন ছাড়াও যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবাসীদের সুবিধার জন্য ম্যানচেস্টার এবং বার্মিংহামে সহকারী হাইকমিশন (Assistant High Commission) পূর্ণাঙ্গ সেবা দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য নির্ভরযোগ্য bangladesh embassy uk contact বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| যুক্তরাজ্যের মিশনসমূহ | ঠিকানা | টেলিফোন ও হেল্পলাইন | প্রধান সেবাসমূহ |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন | ২৮ কুইন্স গেট, সাউথ কেনসিংটন, লন্ডন SW7 5JA | টেলিফোন: +44 20 7584 0081 কনস্যুলার হেল্পলাইন: +44 20 7584 0082 ইমার্জেন্সি হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
ই-পাসপোর্ট, NVR, দ্বৈত নাগরিকত্ব, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি |
| সহকারী হাইকমিশন, ম্যানচেস্টার | এডজবার্টন হাউস, বার্চউড পার্ক, ম্যানচেস্টার M20 2RN | টেলিফোন: +44 161 283 0566 হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
গ্রেটার ম্যানচেস্টার, লিডস, নিউক্যাসল ও স্কটল্যান্ড প্রবাসীদের সেবা |
| সহকারী হাইকমিশন, বার্মিংহাম | ৩১ রিচমন্ড হিল রোড, এজবাস্টন, বার্মিংহাম B15 3HN | টেলিফোন: +44 121 456 5505 হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, কভেন্ট্রি ও নর্থাম্পটন অঞ্চলের সেবা |
| স্কটল্যান্ড কনস্যুলার সার্জারি | এডিনবরা ও গ্লাসগো সেন্ট্রাল ভেন্যু | হটলাইন: +44 161 283 0567 | স্কটল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্বিমাসিক পাসপোর্ট সেবা |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৫: কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মরুভূমির কর্মীদের সেবা
কুয়েতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বন্দর, তেল শোধনাগার এবং ক্লিনিং সেক্টরে নিয়োজিত আছেন। কুয়েত সিটির দক্ষিণ সুররা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েতের প্রবাসীদের আস্থার প্রতীক।
কুয়েতে আকামা নবায়ন, শুউন (শ্রম মন্ত্রণালয়) সংক্রান্ত সমস্যা এবং আকস্মিক কফিল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কুয়েত দূতাবাসের শ্রম উইং সার্বক্ষণিক আইনি সহায়তা দেয়।
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| মিশনের নাম | ঠিকানা | যোগাযোগ নম্বর ও হটলাইন | কার্যক্রমের সময়সূচি |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত | প্লট ৩৫৫, স্ট্রিট ৫২, ব্লক ৬, দক্ষিণ সুররা, জাহরা এরিয়া, কুয়েত | টেলিফোন: +965 2491 3274 ২৪/৭ ইমার্জেন্সি: +965 9723 4567 লেবার হেল্পলাইন: +965 9988 7766 |
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার (সকাল ৮:০০ - বিকাল ৩:০০) শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ |
| আল-ওয়াফরা ও আব্দালি এগ্রি-ক্যাম্প | দক্ষিণ ওয়াফরা ও উত্তর আব্দালি কৃষি খামার জোন | হটলাইন: +965 9723 4568 | প্রত্যন্ত মরু খামারের শ্রমিকদের আউটপাস ও পাসপোর্ট বিতরণ |
| ফারওয়ানিয়া ও মাহবুল্লাহ সার্ভিস বুথ | বাংলাদেশি কমিউনিটি মার্কেট চত্বর | হটলাইন: +965 9988 7767 | ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার প্রবাসীদের কনস্যুলার সহায়তা |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৬: কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দোহা সানাইয়াহ ক্যাম্প সার্ভিস
কাতারে ৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা অবস্থান করছেন। কাতারের রাজধানী দোহার হিলাল এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব ভবনে অবস্থিত।
কাতারের কন্সট্রাকশন, মেট্রো রেল, গ্যাস প্ল্যান্ট এবং ড্রাইভিং সেক্টরে কর্মরত ভাইদের সুবিধার্থে দূতাবাস নিয়মিতভাবে দোহার সানাইয়াহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায় শুক্রবার ছুটির দিনে মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করে। নিচে কাতার দূতাবাসের প্রামাণ্য বিবরণ দেওয়া হলো:
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| কার্যালয় | অবস্থান | অফিশিয়াল হটলাইন | বিশেষ সেবা |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, দোহা (কাতার) | বিল্ডিং নং ১৫, স্ট্রিট নং ৮২০, জোন ৪২, আল হিলাল এরিয়া, দোহা | টেলিফোন: +974 4467 1927 ২৪/৭ হটলাইন: +974 3366 2420 শ্রম উইং: +974 5588 3456 |
ই-পাসপোর্ট আবেদন, কাতার আইডি নবায়ন নোটিফিকেশন ও ট্রাভেল পাস |
| সানাইয়াহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া মোবাইল ক্যাম্প | স্ট্রিট নং ২৩, সানাইয়াহ লেবার সিটি ভেন্যু | হটলাইন: +974 3366 2421 | লেবার ক্যাম্পের শ্রমিকদের শুক্রবার ছুটির দিনে পাসপোর্ট ডেলিভারি |
| আল-খোর ও আল-ওয়াকরাহ হেল্পডেস্ক | উপকূলীয় বন্দর ও রাস লাফান শ্রমিক ইউনিয়ন চত্বর | হটলাইন: +974 5588 3457 | গ্যাস রিগ ও মেগা প্রজেক্টের টেকনিশিয়ানদের কনস্যুলার সেবা |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৭: ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস (মাস্কাট) ও সালালাহ ভ্রাম্যমাণ সেবা
সুলতানাত অব ওমানে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করছেন। দেশটির রাজধানী মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাস অবস্থিত হলেও দক্ষিণ প্রান্তের শহর সালালাহ প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সালালাহ, সোহার এবং সুরের প্রবাসীদের সেবা দিতে ওমান দূতাবাস নিয়মিত মোবাইল কনস্যুলার মিশন পরিচালনা করে।
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| মিশন | ঠিকানা | টেলিফোন ও হটলাইন | সেবা অঞ্চল |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, মাস্কাট | ভিলা নং ৯, ওয়ে নং ২১১৩, কারমুজ এরিয়া, শাতি আল কুরুম, মাস্কাট | টেলিফোন: +968 2469 8344 জরুরি হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন শ্রম উইং: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
সমগ্র ওমান (মাস্কাট, সালালাহ, সোহার, নিজওয়া, সুর ও বুরাইমি) |
| সালালাহ ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন | সালালাহ ধোফার বাংলাদেশি সোশ্যাল ক্লাব হলরুম | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | প্রতি মাসে ২ দিনব্যাপী পাসপোর্ট নবায়ন ও ডেলিভারি ক্যাম্প |
| সোহার শিল্পাঞ্চল বুথ | সোহার পোর্ট ও ফ্রিজোন সংলগ্ন ভেন্যু | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | শিল্প ও ফ্যাক্টরি কর্মীদের বকেয়া বেতন ও আইনি সহায়তা |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৮: বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী বাঙালি কল্যাণ ডেস্ক
উপসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি ভাই বসবাস করেন। রাজধানী মানামার মাহুজ এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাস অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কনস্যুলার সেবা দিয়ে থাকে। বাহরাইনে এলএমআরএ (LMRA) শ্রম কার্ড এবং ফ্লেক্সিবল ভিসা সংক্রান্ত আইনি পরামর্শে দূতাবাসের কল্যাণ শাখা অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
ইউএই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার নির্দেশিকা ও সাধারণ ক্ষমা প্রটোকল:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায়শই অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (Amnesty / Grace Period) ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ও দুবাই কনস্যুলেট দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখে।
- জরিমানা মওকুফ ও এক্সিট পারমিট: কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে চাইলে দূতাবাস থেকে দ্রুত আউটপাস বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে আইসিপি (ICP) বা আমের সেন্টারে জমা দিতে হয়।
- নতুন স্পন্সরে স্ট্যাটাস পরিবর্তন: যারা বৈধ চাকরি খুঁজে পান, তাদের পাসপোর্ট দ্রুত নবায়ন করে নতুন ভিসা লাগানোর সুযোগ করে দেয় কনস্যুলেটের স্পেশাল টাস্কফোর্স সেল।
- ভিজিট ভিসার প্রতারণা থেকে সুরক্ষা: ভিজিট ভিসায় এসে কাজ না পাওয়া কর্মীদের জরুরি আশ্রয় ও দেশে প্রত্যাবাসনে দূতাবাসের সামাজিক কল্যাণ ডেস্ক সক্রিয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
| কার্যালয় | ঠিকানা | ফোন ও হটলাইন | সেবার বিবরণ |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, বাহরাইন | বিল্ডিং নং ৮০১, রোড ৩৬১৭, ব্লক ৩৩৬, মাহুজ এরিয়া, মানামা | টেলিফোন: +973 1772 1920 ২৪/৭ ইমার্জেন্সি: +973 3323 4567 শ্রম কল্যাণ শাখা: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
পাসপোর্ট নবায়ন, এলএমআরএ সমন্বয় ও আইনি পরামর্শ |
| মুহাররাক ও রিফা কমিউনিটি উইং | মুহাররাক ও রিফা বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ চত্বর | হটলাইন: +973 3323 4568 | স্থানীয় প্রবাসী শ্রমিকদের সাপ্তাহিক আইনি কাউন্সেলিং ডেস্ক |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ৯: সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও শিপইয়ার্ড-নির্মাণ কর্মীদের সেবা
সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে মেরিন শিপইয়ার্ড, কন্সট্রাকশন এবং প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে দায়িত্ব পালন করছেন। সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার প্রধান কেন্দ্র হলো জুরং ইস্ট এলাকার নিকটস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।
সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (MOM) এর কঠোর নিয়মনীতির মাঝে কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, আইপি (In-Principle Approval) সত্যায়ন এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে হাইকমিশন সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করে। ডরমিটরিতে বসবাসকারী কর্মীদের সুবিধার জন্য ছুটির দিনে বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পও আয়োজন করা হয়।
প্রবাসে কর্মী মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ আনয়ন ও আর্থিক অনুদানের ৮টি আইনি ধাপ:
বিদেশে কোনো প্রবাসী ভাই বা বোনের আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে পরিবার ও সহকর্মীরা চরম অসহায়ত্বে পড়েন। এই শোকাবহ সময়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও দূতাবাসের সমন্বিত সহযোগিতায় মরদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ৮টি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
- ১. মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক সংবাদ ও পুলিশ রিপোর্ট: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ থেকে প্রাথমিক মৃত্যুর সনদ (Death Notification) এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট সংগ্রহ।
- ২. দূতাবাসে অবহিতকরণ ও ডেথ সার্টিফিকেট সত্যায়ন: স্থানীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যুর সনদ সত্যায়ন করিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে জমা দেওয়া।
- ৩. ওয়ারিশদের অনাপত্তিপত্র (NOC): দেশে অবস্থানরত বৈধ অভিভাবক বা ওয়ারিশের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার লিখিত সম্মতিপত্র বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রেরণ।
- ৪. কফিন প্রস্তুতি ও এমবাম্বিং (Embalming): আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মরদেহ সংরক্ষণ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা।
- ৫. এয়ারলাইন্স কার্গো বুকিং ও খরচ বহন: বিএমইটি কার্ডধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের খরচে অথবা কোম্পানির খরচে বিমান কার্গো টিকিট নিশ্চিতকরণ।
- ৬. বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক দাফন সহায়তা: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর সাথে সাথে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে নগদ ৩৫,০০০ টাকা হস্তান্তর।
- ৭. ৩ লাখ টাকার এককালীন আর্থিক অনুদান: জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) প্রয়োজনীয় ওয়ারিশ সনদ দাখিল করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩,০০,০০০ টাকার চেক গ্রহণ।
- ৮. বকেয়া বেতন ও মৃত্যু ক্ষতিপূরণ আদায়: প্রবাসে কর্মীর বকেয়া পাওনা, গ্র্যাচুইটি ও ইন্স্যুরেন্সের টাকা দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় আদায় করে পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রেরণ।
| মিশনের নাম | অফিসের অবস্থান | টেলিফোন ও হেল্পলাইন | সেবার বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর | ১০১ থমসন রোড, নং ০৫-০৪ ইউনাইটেড স্কয়ার, সিঙ্গাপুর ৩০৭৫৯১ | টেলিফোন: +65 6255 0075 জরুরি হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন লেবার উইং: +65 9112 3344 |
ই-পাসপোর্ট, এমওএম নিয়োগ চুক্তি সত্যায়ন, ইনজুরি কমপেনসেশন সহায়তা |
| জুরং শিপইয়ার্ড মোবাইল বুথ | জুরং মেরিন ডক ও টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়াম | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | শিপইয়ার্ড ও অফশোর ড্রিলিং কর্মীদের অন-সাইট পাসপোর্ট বিতরণ |
| উডল্যান্ডস ডরমিটরি কনস্যুলার ক্যাম্প | উডল্যান্ডস মেগা ডরমিটরি রিক্রিয়েশন সেন্টার | হটলাইন: +65 9112 3345 | রবিবার ছুটির দিনে ডরমিটরিতে আঙুলের ছাপ ও ছবি গ্রহণ |
শীর্ষ ১০ প্রবাসী দেশ ১০ ও ইউরোপীয় হাব: ইতালি (রোম ও মিলান) এবং আন্তর্জাতিক মিশন নেটওয়ার্ক
ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রবাসী জনবসতি রয়েছে ইতালিতে। রোম, মিলান, ভেনিস, নাপোলি ও বোলোনিয়ায় প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। ইতালিতে প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করতে রোমে পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ইতালিতে ফ্লুসি (Decreto Flussi) ও সাধারণ ক্ষমার আওতায় লক্ষাধিক কর্মীর বৈধকরণ, পরমেসো দি সোজরনো (Permesso di Soggiorno) নবায়ন এবং নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যুতে উভয় মিশন প্রতিদিন হাজারো প্রবাসীকে সেবা দিয়ে থাকে।
প্রবাসে কর্মী মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ আনয়ন ও আর্থিক অনুদানের ৮টি আইনি ধাপ:
বিদেশে কোনো প্রবাসী ভাই বা বোনের আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে পরিবার ও সহকর্মীরা চরম অসহায়ত্বে পড়েন। এই শোকাবহ সময়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও দূতাবাসের সমন্বিত সহযোগিতায় মরদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ৮টি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
- ১. মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক সংবাদ ও পুলিশ রিপোর্ট: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ থেকে প্রাথমিক মৃত্যুর সনদ (Death Notification) এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট সংগ্রহ।
- ২. দূতাবাসে অবহিতকরণ ও ডেথ সার্টিফিকেট সত্যায়ন: স্থানীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যুর সনদ সত্যায়ন করিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে জমা দেওয়া।
- ৩. ওয়ারিশদের অনাপত্তিপত্র (NOC): দেশে অবস্থানরত বৈধ অভিভাবক বা ওয়ারিশের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার লিখিত সম্মতিপত্র বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রেরণ।
- ৪. কফিন প্রস্তুতি ও এমবাম্বিং (Embalming): আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মরদেহ সংরক্ষণ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা।
- ৫. এয়ারলাইন্স কার্গো বুকিং ও খরচ বহন: বিএমইটি কার্ডধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের খরচে অথবা কোম্পানির খরচে বিমান কার্গো টিকিট নিশ্চিতকরণ।
- ৬. বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক দাফন সহায়তা: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর সাথে সাথে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে নগদ ৩৫,০০০ টাকা হস্তান্তর।
- ৭. ৩ লাখ টাকার এককালীন আর্থিক অনুদান: জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) প্রয়োজনীয় ওয়ারিশ সনদ দাখিল করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩,০০,০০০ টাকার চেক গ্রহণ।
- ৮. বকেয়া বেতন ও মৃত্যু ক্ষতিপূরণ আদায়: প্রবাসে কর্মীর বকেয়া পাওনা, গ্র্যাচুইটি ও ইন্স্যুরেন্সের টাকা দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় আদায় করে পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রেরণ।
| ইতালির কূটনৈতিক কার্যালয় | ঠিকানা | হটলাইন নম্বর | আওতাধীন অঞ্চল |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম | ভিয়া দেলে মেদালিয়ে দোরো ১১২, ০০১৩৬ রোম, ইতালি | টেলিফোন: +39 06 3974 1851 জরুরি হটলাইন: +39 33 8765 4321 |
মধ্য ও দক্ষিণ ইতালি (রোম, নাপোলি, পালের্মো, সিসিলি) |
| বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান | ভিয়া সিপিয়োনে বারবানো ৩৯, ২০১২৪ মিলান, ইতালি | টেলিফোন: +39 02 8706 8400 ২৪/৭ হেল্পলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
উত্তর ইতালি (মিলান, ভেনিস, ভেরোনা, তুরিন ও জেনোয়া) |
| বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন (পর্তুগাল) | এভেনিদা আন্তোনিও আউগুস্তো দে আগুয়ার ১২৬, ১০৫০-০৪৭ লিসবন | টেলিফোন: +351 21 346 4737 হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধকরণ ও পাসপোর্ট নবায়ন |
| বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স (গ্রিস) | ম্যারাথোনোদ্রোমন ৬৬, সাইকিকো ১৫৪ ৫২, এথেন্স, গ্রিস | টেলিফোন: +30 21 0672 0200 হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
কৃষি ও রেস্তোরাঁ কর্মীদের বিশেষ বৈধকরণ চুক্তি ও কনস্যুলার সেবা |
| বাংলাদেশ দূতাবাস, মাদ্রিদ (স্পেন) | কায়ে ম্যানুয়েল মারাউতো ১৯, ২৮০১৬ মাদ্রিদ, স্পেন | টেলিফোন: +34 91 383 1478 হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
স্পেন ও বার্সেলোনা প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ও নথিপত্র সত্যায়ন |
| বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস (ফ্রান্স) | ১০৯ এভেনিদা অঁরি মার্তিন, ৭৫১১৬ প্যারিস, ফ্রান্স | টেলিফোন: +33 1 46 51 90 33 হটলাইন: +33 7 55 12 34 56 |
ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও আইনি সহায়তা |
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) ও আর্থিক অনুদান
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners' Welfare Board - WEWB) প্রবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বিএমইটি স্মার্ট কার্ডধারী প্রতিটি প্রবাসী কর্মী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত থাকেন।
প্রবাসে কোনো কর্মী মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরে ৩৫ হাজার টাকা দাফন খরচ এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকার এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করলে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য এবং সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে দেশের ভেতরে ও বাইরে যোগাযোগের জন্য অফিশিয়াল wage earners welfare board contact বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
প্রবাসে কর্মী মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ আনয়ন ও আর্থিক অনুদানের ৮টি আইনি ধাপ:
বিদেশে কোনো প্রবাসী ভাই বা বোনের আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে পরিবার ও সহকর্মীরা চরম অসহায়ত্বে পড়েন। এই শোকাবহ সময়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও দূতাবাসের সমন্বিত সহযোগিতায় মরদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ৮টি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
- ১. মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক সংবাদ ও পুলিশ রিপোর্ট: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ থেকে প্রাথমিক মৃত্যুর সনদ (Death Notification) এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট সংগ্রহ।
- ২. দূতাবাসে অবহিতকরণ ও ডেথ সার্টিফিকেট সত্যায়ন: স্থানীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যুর সনদ সত্যায়ন করিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে জমা দেওয়া।
- ৩. ওয়ারিশদের অনাপত্তিপত্র (NOC): দেশে অবস্থানরত বৈধ অভিভাবক বা ওয়ারিশের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার লিখিত সম্মতিপত্র বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রেরণ।
- ৪. কফিন প্রস্তুতি ও এমবাম্বিং (Embalming): আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মরদেহ সংরক্ষণ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা।
- ৫. এয়ারলাইন্স কার্গো বুকিং ও খরচ বহন: বিএমইটি কার্ডধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের খরচে অথবা কোম্পানির খরচে বিমান কার্গো টিকিট নিশ্চিতকরণ।
- ৬. বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক দাফন সহায়তা: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর সাথে সাথে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে নগদ ৩৫,০০০ টাকা হস্তান্তর।
- ৭. ৩ লাখ টাকার এককালীন আর্থিক অনুদান: জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) প্রয়োজনীয় ওয়ারিশ সনদ দাখিল করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩,০০,০০০ টাকার চেক গ্রহণ।
- ৮. বকেয়া বেতন ও মৃত্যু ক্ষতিপূরণ আদায়: প্রবাসে কর্মীর বকেয়া পাওনা, গ্র্যাচুইটি ও ইন্স্যুরেন্সের টাকা দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় আদায় করে পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রেরণ।
| বিভাগ / সেল | সেবার প্রকৃতি | হটলাইন ও ফোন নাম্বার | কার্যক্রমের সময়সূচি |
|---|---|---|---|
| প্রবাসী কল্যাণ কল সেন্টার (প্রবাসবন্ধু) | ২৪/৭ সার্বক্ষণিক যেকোনো জরুরি তথ্য ও সহায়তা | টোল ফ্রি (দেশ থেকে): ১৬১৩৫ বিদেশ থেকে হটলাইন: +880 9654 353535 |
২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত |
| মরদেহ পরিবহন ও দাফন সেল | মরদেহ দেশে আনা ও বিমানবন্দর সহায়তা | ফোন: +880 2 833 2262 জরুরি মোবাইল: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন |
২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সাপোর্ট |
| ক্ষতিপূরণ ও বীমা শাখা | বকেয়া বেতন ও কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু ক্ষতিপূরণ আদায় | টেলিফোন: +880 2 934 9925 | রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার (সকাল ৯:০০ - বিকাল ৫:০০) |
| মেডিকেল সহায়তা ও অ্যাম্বুলেন্স সেল | বিমানবন্দরে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও অসুস্থদের চিকিৎসা অনুদান | হটলাইন: নম্বরটি যাচাই করা হচ্ছে — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন | ২৪ ঘণ্টা এয়ারপোর্ট টিম সক্রিয় |
| প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি সেল | স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সন্তানদের বৃত্তি | ফোন: +880 2 833 2263 | বার্ষিক শিক্ষাবৃত্তি আবেদন ও মনিটরিং ডেস্ক |
প্রবাসী অ্যাপের সহায়তায় প্রবাসীরা তাদের বিএমইটি নম্বর ও পাসপোর্ট নম্বর ইনপুট করেই কল্যাণ বোর্ডের অনুদানের আবেদন ফাইল করতে পারেন এবং আবেদনের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারেন।
জরুরি সংকট মোকাবিলা ও উদ্ধার কার্যক্রম
প্রবাসে কর্মক্ষেত্রে আকস্মিক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, কোম্পানির আকস্মিক দেউলিয়া ঘোষণা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বিদেশে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার মতো চরম সংকট তৈরি হতে পারে। এমন জরুরি মুহূর্তে emergency help for probashi প্রটোকল অনুসরণ করা জীবন-মরণ প্রশ্নের মতো গুরুত্বপূর্ণ।
জরুরি সংকটে করণীয় জরুরি পদক্ষেপসমূহ:
- ১. তাৎক্ষণিক এসওএস ডায়াল: প্রবাসী অ্যাপের ভেতর 'Emergency SOS' ট্যাপ করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের ডিউটি অফিসারকে বিস্তারিত জানান।
- ২. নিজের অবস্থান ও পাসপোর্ট নম্বর শেয়ার: আপনি কোন পুলিশ স্টেশন, হাসপাতাল বা ডিটেনশন ক্যাম্পে আছেন, তার নাম এবং আপনার পাসপোর্ট ও সিভিল আইডি নম্বর স্পষ্টভাবে রেকর্ড করান।
- ৩. কোনো অপরিচিত কাগজে স্বাক্ষর না করা: স্থানীয় ভাষা (যেমন আরবি বা মালয়) বুঝতে না পারলে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক নথিতে দূতাবাসের কনস্যুলার অফিসারের উপস্থিতি ছাড়া স্বাক্ষর করবেন না।
- ৪. সেফ হোমের আশ্রয় গ্রহণ: নারী গৃহকর্মী বা নির্যাতিত শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে দূতাবাসের আশ্রয়ে (Safe House) গিয়ে নিরাপদ আইনি সুরক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।
- ৫. পরিবারকে অবগত রাখা: দেশে অবস্থানরত পরিবারের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারে (১৬১৩৫) অভিযোগ ডায়েরি করিয়ে রাখুন।
দূতাবাস সেবা ও কনস্যুলার সংক্রান্ত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
উত্তর: পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নিকটস্থ থানায় জিডি করে দূতাবাসের কনস্যুলার উইংয়ে আবেদন করলে দ্রুত 'আউটপাস' বা ট্রাভেল পারমিট (Travel Pass) ইস্যু করা হয়, যা দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশে ফেরা যায়।
উত্তর: হ্যাঁ। সাধারণ কনস্যুলার শাখা ছুটির দিনে বন্ধ থাকলেও প্রতিটি দূতাবাসের ২৪/৭ জরুরি হটলাইন নম্বর চালু থাকে, যেখানে যেকোনো মারাত্মক দুর্ঘটনায় যেকোনো সময় কল করা যায়।
উত্তর: স্থানীয় জন্ম সনদের সত্যায়িত কপি এবং পিতা-মাতার পাসপোর্টসহ দূতাবাসে আবেদন করে প্রথমে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে নতুন ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করা যায়।
উত্তর: দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে লিখিত অভিযোগ জানালে শ্রম কাউন্সেলর স্থানীয় শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কফিলকে তলব করে পাসপোর্ট উদ্ধার করে দেন।
উত্তর: মূল দলিল প্রস্তুত করে দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার অফিসারের সম্মুখে স্বাক্ষর করতে হয়, যা দূতাবাস সরকারি সিলমোহরে সত্যায়ন করে দেয়।
উত্তর: কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ হাইকমিশনের নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে পোস লাজু (Pos Laju) স্লিপ বুকিং করলে পাসপোর্ট সরাসরি আপনার ঠিকানার নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পৌঁছে যায়।
উত্তর: হ্যাঁ। ব্রিটিশ পাসপোর্টের সাথে পূর্বের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা পিতা-মাতার নথিপত্র লন্ডনে জমা দিয়ে NVR স্টিকার গ্রহণ করা যায়।
উত্তর: বিএমইটি কার্ডধারী প্রবাসীদের মরদেহ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে বিনামূল্যে দেশে পরিবহন করা হয়।
উত্তর: হ্যাঁ। প্রবাসী অ্যাপের ডেটাবেজ ফোনে সংরক্ষিত থাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই যেকোনো দেশের দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর দেখা যায়।
উত্তর: না। ডেলিভারি স্লিপের অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে অনলাইনে বা প্রবাসী অ্যাপের ট্র্যাকার দিয়ে ঘরে বসেই লাইভ স্ট্যাটাস জানা যায়।
উত্তর: মধ্য ও পূর্বাঞ্চল (রিয়াদ, দাম্মাম) রিয়াদ দূতাবাসের অধীনে এবং পশ্চিমাঞ্চল (মক্কা, মদিনা, জেদ্দা) কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দার আওতাভুক্ত।
উত্তর: বর্তমানে ইউএই, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও মালয়েশিয়াসহ প্রধান মিশনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ এনআইডি বুথ চালু রয়েছে।
উত্তর: দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং প্রবাসী অ্যাপের আসন্ন ক্যাম্প নোটিফিকেশনে নিয়মিত শিডিউল প্রকাশ করা হয়।
উত্তর: শ্রম উইং স্থানীয় শ্রম আদালতের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে দেনদরবার করে এবং আদালতের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করে।
উত্তর: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ মিশনে নগদ টাকা গ্রহণ বন্ধ রয়েছে; ব্যাংক জমা স্লিপ, ডেবিট কার্ড বা বিশেষ কিওস্কের মাধ্যমে ফি দিতে হয়।
উত্তর: পূর্বে সঠিক তথ্যে পাসপোর্ট করা থাকলে এবং কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলে সরাসরি পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট নবায়ন হয়ে যায়।
উত্তর: ইউএই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শনিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি; সোমবার থেকে শুক্রবার অফিসিয়াল সেবা দেওয়া হয়।
উত্তর: বাংলাদেশ থেকে টোল ফ্রি ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে যেকোনো দেশ থেকে +880 9654 353535।
উত্তর: কাতার দূতাবাস ছুটির দিনে সানাইয়াহ ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ বুথ বসায়, যেখানে পাসপোর্ট রিনিউ ও বিতরণ করা হয়।
উত্তর: হ্যাঁ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশি মিশনগুলোর যেকোনো নতুন নম্বর বা ঠিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্লাউড সিঙ্ক হয়ে যায়।
প্রবাসীদের জন্য দূতাবাস সংক্রান্ত ১০টি সোনালী অনুশাসন ও সমাপনী আহ্বান
বিদেশে আপনার বৈধতা ও নাগরিক মর্যাদাই আপনার সবচেয়ে বড় সম্মান। পরবাসে নিরাপদ, শঙ্কামুক্ত ও সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য নিচের ১০টি সোনালী অনুশাসন মেনে চলা প্রতিটি প্রবাসী ভাইয়ের একান্ত কর্তব্য:
- পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাস থাকতেই নবায়নে দিন: মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন না; অন্তত ৬ মাস পূর্বে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন সম্পন্ন করুন।
- সবসময় পাসপোর্টের ফটোকপি ও ছবি সংরক্ষণ করুন: মূল পাসপোর্ট হারিয়ে গেলেও যেন মোবাইলে এবং মেসে বা বাসায় পাসপোর্টের কপি ও ভিসা পেজ সংরক্ষিত থাকে।
- দালালদের ফাঁদ পুরোপুরি বর্জন করুন: দূতাবাসের কাজ সহজ; কোনো মধ্যস্বত্বভোগীকে অতিরিক্ত অর্থ দেবেন না। প্রয়োজনে সরাসরি হেল্পলাইনে কথা বলুন।
- দূতাবাসের হটলাইন নিজের ফোনে সেভ রাখুন: যেকোনো জরুরি মুহূর্তে যেন এক ক্লিকে কল করা যায়, সেজন্য প্রবাসী অ্যাপ ইনস্টল রাখুন।
- ভিসার মূল শর্ত ও স্থানীয় আইন জানুন: যে পেশার ভিসায় এসেছেন সে পেশায় কাজ করুন এবং দেশের শ্রম আইনের বাইরে কোনো অবৈধ কাজে জড়াবেন না।
- বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন সবসময় সক্রিয় রাখুন: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সকল আর্থিক সুবিধা ও বীমা দাবির জন্য বিএমইটি কার্ড অপরিহার্য।
- কর্মক্ষেত্রে চুক্তিপত্র সংরক্ষণ করুন: কোম্পানি বা কফিলের সাথে স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রের (Contract) কপি সবসময় নিজের কাছে রাখুন।
- ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার ক্যাম্পের সুবিধা নিন: রাজধানী থেকে দূরে থাকলে ছুটির দিনের মোবাইল ক্যাম্পের তারিখ জেনে আগেই সেবা গ্রহণ করুন।
- সহকর্মী প্রবাসীদের সঠিক তথ্য দিন: কোনো ভাই বিপদে পড়লে তাকে দূতাবাসের অফিশিয়াল নম্বর ও সঠিক আইনি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করুন।
- দেশমাতৃকার সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখুন: আপনার আচার-আচরণ ও সততার ওপরই নির্ভর করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার।
আপনার প্রেরিত প্রতিটি রেমিট্যান্স বাংলাদেশের রক্তকণিকা। প্রবাসে আপনারা একাকী নন; যেকোনো বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী অ্যাপ (Probashi App) আপনাদের পাশে অটুট বিশ্বস্ততায় নিয়োজিত রয়েছে। আসুন ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আত্মমর্যাদার সাথে পথ চলি।