আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার নিয়ম ও ভিসা রিজেক্ট হলে করণীয় (কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট চেক গাইড)

✓ JIM ও e-PLKS ভেরিফাইড গাইড ২০২৬ ✓ সম্মিলিত মাসিক সার্চ ভলিউম: ৯০,০০০+ ✓ কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট ও নবায়ন ক্যালকুলেটর

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের পারমিট বা ওয়ার্ক পারমিটের বার্ষিক নবায়ন কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশটিতে নিরাপদে বসবাস ও উপার্জনের সবচেয়ে মৌলিক রক্ষাকবচ। মালয়েশিয়ার শ্রম আইন ও অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী সাধারণ বিদেশি শ্রমিকদের অস্থায়ী কাজের অনুমতিপত্রটির নাম হলো Pas Lawatan Kerja Sementara (PLKS)। প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী অসচেতনতা, নিয়োগকর্তার ট্যাক্স খেলাপিপনা, কিংবা মধ্যস্বত্বভোগী অসাধু দালালদের ফাঁদে পড়ে পারমিট রিনিউ করতে ব্যর্থ হয়ে হঠাৎ অবৈধ হয়ে পড়েন। এই প্রামাণ্য অনুসন্ধানী আর্টিকেলে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ (Jabatan Imigresen Malaysia - JIM), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (KDN) এবং কোম্পানিজ কমিশন অব মালয়েশিয়া (SSM)-এর সর্বশেষ আইন ও বিধিমালার আলোকে ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার সঠিক নিয়ম, কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট চেক, ভিসা ক্যান্সেলেশন স্ট্যাটাস যাচাই, ভিসা রিজেক্ট হলে করণীয় এবং ভিজিট ভিসা পরিবর্তনের বাস্তব সত্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

১. মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট (PLKS) ইকোসিস্টেম ও বার্ষিক নবায়ন নীতিমালা ২০২৬

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার নিয়ম ও কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট চেক ২০২৬ (লেভি ফি ও ই-ভিসা)

চিত্র ১.১: মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ JIM ও e-PLKS ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়াল ইকোসিস্টেম

মালয়েশিয়ার অভিবাসন কাঠামোয় কোনো বিদেশি শ্রমিককে স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনো অনুমতি প্রদান করা হয় না। প্রতিটি কর্মীর কাজের আইনি ভিত্তি নির্ভর করে তার মূল পাসপোর্টে সাঁটানো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদী স্টিকারের ওপর, যার সরকারি নাম Pas Lawatan Kerja Sementara (PLKS)। এই অনুমতিপত্রটি সাধারণত একবারে ১২ মাস বা ১ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। পারমিটের গায়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির নাম (Nama Majikan), কর্মীর পেশা (Sektor/Pekerjaan), এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ (Tarikh Tamat Tempoh)।

মালয়েশিয়া সরকারের অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (Immigration Act 1959/63)-এর সেকশন ১৫(১)(সি) অনুযায়ী, কোনো বিদেশি কর্মী যদি তার পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী অনুমতি গ্রহণ না করে দেশে অবস্থান করেন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি অভিবাসী (PATI) হিসেবে গণ্য হন। এর পরিণতি হতে পারে সর্বোচ্চ ১০,০০০ রিঙ্গিত অর্থদণ্ড, ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দৈহিক বেত্রাঘাত (Rotan)। তাই প্রতি বছর পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আইনানুগভাবে নবায়ন সম্পন্ন করা প্রতিটি কর্মীর টিকে থাকার প্রধান শর্ত।

২০২৬ সালের আধুনিকীকৃত অভিবাসন কাঠামোয় মালয়েশিয়া সরকার সমস্ত ম্যানুয়াল কাউন্টার প্রসেসিং বিলুপ্ত করে শতভাগ অনলাইন নির্ভর e-PLKS আর্কিটেকচার বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে কোনো নিয়োগকর্তাকে আর ফিজিক্যাল ফাইল নিয়ে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না। পরিবর্তে কোম্পানি তার নিজস্ব সিকিউরড ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদন জমা দেয়, ফি পরিশোধ করে এবং অনুমোদিত ডিজিটাল স্টিকার সংগ্রহ করে। তবে এই ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক হলো—নিয়োগকারী কোম্পানি কিংবা কর্মী যে কারো যেকোনো একটি সরকারি ডাটাবেসে অসঙ্গতি থাকলে সিস্টেম ফাইল রিজেক্ট করে দেয়।

২. মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার নিয়ম ও ডিজিটাল প্রসেসিং হ্যান্ডবুক

e-PLKS ও MyIMMs পারমিট রিনিউয়াল পোর্টাল ইন্টারফেস

চিত্র ২.১: e-PLKS ও MyIMMs সিস্টেমে ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়াল আবেদনের ৪টি পর্যায়ক্রমিক ধাপ

মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের প্রক্রিয়া (malaysia work permit renewal process) অত্যন্ত কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক। সবচেয়ে প্রধান নিয়ম হলো—বর্তমান পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৯০ দিন (৩ মাস) পূর্ব থেকে রিনিউয়াল প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। শেষ মুহূর্তে আবেদন করতে গেলে মেডিকেল রিপোর্টের বিলম্ব কিংবা কোম্পানির প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পারমিটের মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।

📋 ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার ৪টি প্রধান ডিজিটাল ধাপ:

ধাপ ১: ফোমেমা স্বাস্থ্য পরীক্ষা

১ম, ২য় ও ৩য় বছর এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে পারমিট নবায়নের জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে সরকারি নিবন্ধিত ফোমেমা ক্লিনিকে গিয়ে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। মেডিকেল রিপোর্ট অনলাইন ডাটাবেসে 'FIT' হিসেবে অনুমোদিত হতে হবে।

ধাপ ২: ইনসুরেন্স পলিসি সক্রিয়করণ

নিয়োগকর্তাকে কর্মীর নামে বাধ্যতামূলক বিদেশি কর্মী ক্ষতিপূরণ বীমা (FWCS) এবং ইনসুরেন্স গ্যারান্টি (Insurance Guarantee - IG) নবায়ন করতে হয়। বীমার মেয়াদ পারমিটের পূর্ণ মেয়াদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

ধাপ ৩: e-PLKS অনলাইন ফাইল দাখিল

নিয়োগকর্তা ইমিগ্রেশনের e-PLKS বা মাইইজি (MyEG) পোর্টালে লগইন করে কর্মীর পাসপোর্ট নম্বর, মেডিকেল ক্লিয়ারেন্স কোড ও ইনসুরেন্স রেফারেন্স যুক্ত করে ফাইল সাবমিট করবেন এবং এফপিএক্স ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি লেভি ও ফি পরিশোধ করবেন।

ধাপ ৪: পারমিট স্টিকার বা ই-পাস সংগ্রহ

পেমেন্ট কনফার্মেশনের পর পারমিট অনুমোদিত হলে ডিজিটাল ই-পাস (e-Pass) ডাউনলোড করা যায় অথবা সিকিউরড কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মূল পাসপোর্টটিতে নতুন ১ বছরের ভিসা স্টিকার সাঁটিয়ে সরবরাহ করা হয়।

প্রবাসী অ্যাপ রিনিউয়াল ট্র্যাকার

আপনার পারমিট নবায়নের আর কতদিন বাকি আছে?

কোম্পানির গাফিলতিতে পারমিটের মেয়াদ পার হয়ে গেলে চরম ঝুঁকিতে পড়বেন। প্রবাসী অ্যাপে আপনার বর্তমান ভিসার তারিখ সেভ করে রাখুন এবং অটো রিমাইন্ডার ও কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট স্ট্যাটাস জেনে নিন।

নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট আপনার স্টিকার প্রস্তুত করেছে কিনা তা জানতে MyIMMs সার্ভারে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান চালাতে পারেন। বিস্তারিত নির্দেশিকার জন্য আমাদের পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে মালয়েশিয়া ভিসা চেক ২০২৬ গাইডটি অনুসরণ করুন এবং আপনার ই-ভিসা অনুমোদন কনফার্ম করুন।

৩. মালয়েশিয়া কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট চেক ও SSM/ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস অডিট

মালয়েশিয়া কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট চেক ও SSM স্ট্যাটাস অডিট

চিত্র ৩.১: SSM ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে কোম্পানির ব্ল্যাকলিস্ট স্থিতি অনুসন্ধানের নির্দেশিকা

মালয়েশিয়ায় শতকরা ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ না হওয়ার পেছনে মূল কারণ থাকে তাদের নিয়োগকারী কোম্পানি বা মালিকের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ (malaysia company blacklist check)। মালয়েশিয়ার কোনো কোম্পানি যদি সরকারের ইনল্যান্ড রেভিনিউ বোর্ড (LHDN)-এ কর বকেয়া রাখে, মালয়েশিয়ান সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা (SOCSO)-এর চাঁদা পরিশোধ না করে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রদান না করে কিংবা আবাসন আইন (Workers' Minimum Standards of Housing Act - Act 446) লঙ্ঘন করে, তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত (Senarai Hitam / Blacklisted) ঘোষণা করে।

কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্টে পড়লে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সার্ভারে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়। এমন অবস্থায় কর্মী শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সত্ত্বেও এবং পাসপোর্টের পূর্ণ মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও সিস্টেম কোনো পারমিট রিনিউয়াল ফাইল গ্রহণ করে না। তাই রিনিউয়ালের আগে কোম্পানির স্ট্যাটাস যাচাই করা অপরিহার্য।

🔍 কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট চেক করার ৩টি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম:

  • ১. SSM পোর্টালে কোম্পানির লাইসেন্স স্থিতি: সুরোহানজায়া সিয়ারিকাত মালয়েশিয়া (SSM - e-Info Portal)-এ গিয়ে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ROC Number) সার্চ করে দেখতে পারেন কোম্পানি 'Active' নাকি 'Winding Up / Blacklisted'। যদি স্ট্যাটাসে বন্ধ বা মামলাধীন দেখানো হয়, তবে বুঝতে হবে প্রতিষ্ঠানটির আইনি কার্যক্ষমতা স্থগিত।
  • ২. ইমিগ্রেশন মাইইমিমস কোম্পানি পোর্টাল: MyIMMs সিস্টেমে কোম্পানির আইডি দিয়ে লগইন করলে স্ক্রিনে যদি 'Majikan Disenaraihitamkan' (Employer Blacklisted) লেখা আসে, তবে বুঝতে হবে কোম্পানি ইমিগ্রেশনের কালোতালিকায় রয়েছে এবং এই কোম্পানির অধীনে কোনো কর্মীর ভিসা নবায়ন হবে না।
  • ৩. জেটিকে (JTK) শ্রম বিভাগ অডিট: স্থানীয় শ্রম আদালতে গিয়ে কোম্পানির নাম দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন কোনো কর্মীর বকেয়া বেতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানির কোটা ও রিনিউয়াল লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে কিনা।

কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা লেভি বাঁচাতে কর্মীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পোর্টালে মিথ্যা পলাতক স্ট্যাটাস রিপোর্ট করে কর্মীদের ব্ল্যাকলিস্ট করে দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে মালয়েশিয়ায় ফ্লাইং ভিসা ও পুলিশ কেস সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ পড়ে লেবার ডিপার্টমেন্ট (JTK) এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা নিন। সঠিক আইনি নথিপত্র উপস্থাপন করলে কোম্পানিকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে কর্মীর অধিকার উদ্ধার করা যায়।

৪. মালয়েশিয়া ভিসা বাতিল চেক ও চেক-আউট মেমো (COM) ভেরিফিকেশন

মালয়েশিয়া ভিসা বাতিল স্ট্যাটাস চেক ও চেক-আউট মেমো COM

চিত্র ৪.১: মালিক গোপনে ভিসা বাতিল বা চেক-আউট মেমো (COM) ইস্যু করেছে কিনা তা অনলাইনে যাচাইয়ের পদ্ধতি

মালয়েশিয়ায় অনেক অসাধু নিয়োগকর্তা বা সাব-এজেন্ট কর্মীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে গোপনে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গিয়ে তাদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল (Cancel Visa Status Check - Batal Pas) করে দেয় (malaysia cancel visa status check)। অনেক সময় কর্মীর পাসপোর্টে দৃশ্যত দেখা যায় পারমিটের মেয়াদ আরও ৩ বা ৪ মাস বাকি রয়েছে, কিন্তু অভিবাসন দপ্তরের সেন্ট্রাল ডাটাবেসে ভিসাটি ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গেছে। এই অবস্থায় রাস্তায় বা কর্মস্থলে আকস্মিক পুলিশি তল্লাশির মুখোমুখি হলে কর্মী সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় হাতকড়ার মুখোমুখি হন এবং সরাসরি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রেরিত হন।

⚠️ ভিসা বাতিল বা চেক-আউট মেমো (COM) হয়েছে কিনা চেনার লক্ষণ:

  • MyIMMs পোর্টালে স্ট্যাটাস 'BATAL' প্রদর্শন: ইমিগ্রেশনের অফিশিয়াল ভিসা সার্চ পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর ও দেশের কোড দিলে যদি স্ট্যাটাসে 'BATAL' বা 'CANCELLED' লেখা আসে, তবে বুঝতে হবে আপনার ভিসা প্রশাসনিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
  • চেক-আউট মেমো (COM) ইস্যু হওয়া: কোম্পানি যদি কর্মীকে দেশত্যাগের নোটিশ দিয়ে ইমিগ্রেশন থেকে এক পাতার Check-Out Memo প্রিন্ট করিয়ে নেয়, তবে সাথে সাথে পারমিট বাতিল হয়ে যায় এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে দেশত্যাগের সময়সীমা শুরু হয়। সিওএম ইস্যু হওয়ার পর মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা বেআইনি।
  • পলাতক রিপোর্ট (Report Runaway): কর্মীর সাথে কোনো বেতন সংক্রান্ত মনোমালিন্য হলে মালিক যদি ইমিগ্রেশনে গিয়ে অসত্য অভিযোগ করে যে কর্মী পালিয়ে গেছে, তবে সিস্টেম সাথে সাথে পারমিট বাতিল করে কর্মীকে কালোতালিকাভুক্ত করে দেয়।

৫. মালয়েশিয়া ভিসা রিজেক্ট হওয়ার শীর্ষ কারণ ও তাত্ক্ষণিক আইনি প্রতিকার

মালয়েশিয়া ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কারণ ও প্রতিকার মেট্রিক্স

চিত্র ৫.১: মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়াল রিজেক্ট হওয়ার ৬টি প্রধান কারণ ও সমাধানের সময়রেখা

মালয়েশিয়ায় পারমিট নবায়ন আবেদন জমা দেওয়ার পর যখন স্ট্যাটাসে লাল অক্ষরে 'DITOLAK' (REJECTED) প্রদর্শিত হয়, তখন প্রবাসী কর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয় (malaysia visa reject hole ki koronio)। অনেকেই ধরে নেন যে তাদের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তাদের ডিপোর্ট করা হবে। কিন্তু বাস্তব অভিবাসন নীতিমালায় রিজেকশন মানেই চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়; বরং এটি একটি প্রশাসনিক নোটিশ যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইনি আপিল ও সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সেন্ট্রাল সার্ভার সিস্টেমে প্রতিটি বাতিলের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কোড (Rejection Reason Code) লিপিবদ্ধ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোড ০১ মানে নিয়োগকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক অযোগ্যতা, কোড ০৪ মানে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, এবং কোড ০৯ মানে কর্মীর পাসপোর্টের মেয়াদ অপ্রতুল। সঠিক কারণটি উদঘাটন না করে বারবার আবেদন জমা দিলে ফাইল স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

🚫 পারমিট রিজেক্ট হওয়ার শীর্ষ ৬টি প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ:

১. কোম্পানির ট্যাক্স বকেয়া ও কোটা ওভারফ্লো

কোম্পানি যদি আয়কর বিভাগ (LHDN) বা সোসকোর পাওনা পরিশোধ না করে থাকে অথবা অনুমোদিত বিদেশি শ্রমিক কোটার চেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করে, তবে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইল রিজেক্ট করে দেয়।

২. ফোমেমা মেডিকেলে আনফিট রেজাল্ট

বার্ষিক রক্ত বা বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় সংক্রামক ব্যাধি (টিবি, হেপাটাইটিস-বি, কিডনি সমস্যা বা ড্রাগ পজিটিভ) ধরা পড়লে ফোমেমা অনলাইনে 'UNSUITABLE' রিপোর্ট পাঠায়, যার ফলে পারমিট প্রত্যাখ্যান হয়।

৩. পাসপোর্টের অপ্রতুল মেয়াদ

আবেদন সাবমিট করার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ যদি ন্যূনতম ১২ থেকে ১৮ মাসের কম থাকে, তবে ইমিগ্রেশন পরবর্তী ১ বছরের পূর্ণ স্টিকার প্রিন্ট করতে অস্বীকার করে রিজেকশন নোটিশ জারি করে।

৪. কর্মী বা মালিকের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকলিস্ট নোটিশ

অতীতে কোনো ওভারস্টে রেকর্ড, পুলিশ কেস বা পূর্বতন মালিকের দায়ের করা কোনো অপরিশোধিত নালিশ থাকলে কর্মীর প্রোফাইল ব্লক হয়ে ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

৫. ইনসুরেন্স গ্যারান্টি (IG) বা বন্ডের মেয়াদহীনতা

বিদেশি কর্মী ক্ষতিপূরণ স্কিম (FWCS) বা সিকিউরিটি বন্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে ইমিগ্রেশনের অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট ক্লিয়ারেন্স আটকে যায় এবং ফাইল সাময়িক স্থগিত হয়।

৬. সর্বোচ্চ ১০ বছরের কাজের সীমা অতিক্রান্ত

সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কোনো কর্মী মালয়েশিয়ায় ১০ বছর পূর্ণ করে ফেললে বিশেষ সরকারি অনুমোদন ছাড়া সাধারণ পদ্ধতিতে ১১তম বছরের রিনিউয়াল ফাইল সাবমিট করলে তা বাতিল হয়।

🛠️ ভিসা রিজেক্ট হলে তাৎক্ষণিকভাবে যা করতে হবে:

  1. রিজেকশন স্লিপের কারণ কোড যাচাই: ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে প্রিন্ট করা নোটিশে বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ (যেমন: 'Majikan Tidak Layak' বা 'Kesihatan Gagal') উল্লেখ থাকে। সেটি দেখে মূল কারণটি চিহ্নিত করুন।
  2. ১৪ দিনের মধ্যে স্পেশাল পাস (Special Pass) গ্রহণ: ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর বর্তমান পারমিটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে ওভারস্টে এড়াতে দ্রুত স্পেশাল পাস নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সময় বাড়াতে হবে। কোনোভাবেই স্পেশাল পাস ছাড়া অবস্থান করা যাবে না।
  3. কোম্পানির মাধ্যমে অফিসিয়াল আপিল ফাইল করা: যদি কোনো প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে ফাইল বাতিল হয়ে থাকে, তবে কোম্পানির পরিচালকে সরাসরি পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন কমপ্লেক্সে বাহাগিয়ান পেকেড়জা আসিং (Foreign Workers Division)-এ গিয়ে লিখিত আপিলপত্র (Surat Rayuan) দাখিল করতে হবে।
  4. মেডিকেল আনফিট হলে ফোমেমা আপিল: যদি স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণে ভিসা বাতিল হয়, তবে ফলাফল ঘোষণার ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে ফোমেমা সেন্টারে অফিসিয়াল আপিল ফি জমা দিয়ে দ্বিতীয় মতামত বা পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।
কোম্পানি স্ট্যাটাস অডিট

আপনার কোম্পানি কি ইমিগ্রেশনের কালোতালিকায় পড়েছে?

মালয়েশিয়ায় ভিসা রিজেক্ট হওয়ার ৭০% কারণ কোম্পানির গোপন ব্ল্যাকলিস্ট। ভিসা নবায়নের ফি জমা দেওয়ার আগে আপনার কোম্পানির বর্তমান লাইসেন্স স্ট্যাটাস প্রবাসী অ্যাপের স্মার্ট গাইডে অডিট করে নিরাপদ থাকুন।

কোম্পানির ভুলের কারণে যদি ওয়ার্ক পারমিটের রিনিউ আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয় এবং আপিল করার সুযোগ না থাকে, তবে আত্মগোপন না করে দ্রুত আইনি প্রস্থান বেছে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত জরিমানা ও দীর্ঘমেয়াদী ব্ল্যাকলিস্ট এড়াতে মালয়েশিয়া আউটপাস নিয়ে দেশে ফেরার সহজ নিয়ম জেনে সরাসরি পুত্ৰজায়া ইমিগ্রেশনে স্পেশাল পাসের আবেদন করুন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুনরায় নতুন ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে।

৬. মালয়েশিয়া ভিজিট ভিসা কাজের ভিসায় পরিবর্তন: অবাস্তবতা ও আইনি স্ক্যাম এলার্ট

মালয়েশিয়া ভিজিট ভিসা কাজের ভিসায় পরিবর্তনের অবাস্তবতা ও সতর্কতা

চিত্র ৬.১: ট্যুরিস্ট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট পরিবর্তনের মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁদ ও আইনগত পরিণতি

বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচারিত এবং ধ্বংসাত্মক একটি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন হলো—"মালয়েশিয়ায় ট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসায় গিয়ে ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তর করা যায়" (malaysia visit to work visa transfer)। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্টরা সহজ-সরল যুবকদের বোঝায় যে, ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর সেখানে কোম্পানি খুঁজে সহজেই পারমিট স্টিকার পাসপোর্টে লাগিয়ে নেওয়া যাবে। এটি শতভাগ ডাহা মিথ্যা এবং একটি সুপরিকল্পিত মানবপাচার ফাঁদ।

প্রতি বছর কয়েক হাজার বাংলাদেশি এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়া আসেন। পৌঁছানোর ৩০ দিনের মধ্যে যখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তখন দালালরা গা-ঢাকা দেয়। ফলে কর্মীরা না পারেন দেশে ফিরতে, না পারেন কাজ করতে। তাদের একমাত্র পরিণতি হয় ভয়াবহ পুলিশি অভিযানের মুখে পালিয়ে বেড়ানো এবং নিঃস্ব অবস্থায় দেশে প্রত্যাবর্তন।

⚖️ মালয়েশিয়ান অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ কী বলে?

আইনি বিধান: অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর রেগুলেশন ৩৯(বি) [Regulation 39(b) of Immigration Regulations 1963] অনুযায়ী—যেকোনো ভিজিট পাস বা সোশ্যাল পাসধারী ব্যক্তি যদি অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো লাভজনক কর্মসংস্থানে লিপ্ত হন, তবে তিনি আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন। এর জন্য সর্বোচ্চ ১,০০০ রিঙ্গিত জরিমানা অথবা ৬ মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে বসে ভিজিট ভিসাকে সাধারণ শ্রমিক পারমিটে (PLKS) পরিবর্তন করার কোনো আইনগত ধারা দেশটির সংবিধানে বিদ্যমান নেই।

🚨 দালালেরা যেভাবে জালিয়াতির জাল তৈরি করে:

১. ফটোশপ করা ভুয়া ই-ভিসা স্টিকার

প্রতারক চক্র পাসপোর্ট নিয়ে কয়েকদিন পর পাসপোর্টে ভুয়া পিএলকেএস স্টিকার আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু ইমিগ্রেশনের কিউআর কোড স্ক্যানারে স্ক্যান করলে কোনো ডাটা পাওয়া যায় না।

২. স্পেশাল পাসের মেয়াদকে পারমিট দাবি

ভিজিট ভিসার ৩০ দিন শেষ হওয়ার পর দালালরা কোনো অসদুপায়ে ১ মাসের স্পেশাল পাস সংগ্রহ করে এবং কর্মীকে বোঝায় যে এটাই তার আসল কাজের ভিসার প্রথম কিস্তি। এক মাস পর কর্মী স্থায়ী অবৈধ হয়ে পড়েন।

৩. প্রফেশনাল পাসের (PVP) অপব্যবহার

অতি উচ্চমূল্যে স্বল্পমেয়াদী টেকনিক্যাল ট্রেইনি বা প্রফেশনাল ভিজিট পাস দিয়ে সাধারণ রেস্তোরাঁ বা কনস্ট্রাকশনে কাজ করিয়ে কয়েক মাস পর কর্মীকে ফেলে পালিয়ে যায়, যার ফলে কর্মী দীর্ঘমেয়াদী ব্ল্যাকলিস্টের শিকার হন।

৭. বার্ষিক ফোমেমা (FOMEMA) মেডিকেল পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য মানদণ্ড ২০২৬

বার্ষিক ফোমেমা FOMEMA মেডিকেল পরীক্ষা ও নির্দেশিকা ২০২৬

চিত্র ৭.১: ফোমেমা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ৩টি স্তর—ক্লিনিক্যাল, ল্যাবরেটরি ও এক্স-রে স্ক্রিনিং

মালয়েশিয়ায় প্রতি বছর পারমিট নবায়নের সবচেয়ে সংবেদনশীল কারিগরি শর্ত হলো সরকারি নিবন্ধিত ফোমেমা (Foreign Workers Medical Examination Monitoring Agency) ক্লিনিক থেকে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা। ফোমেমার কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রেজাল্ট 'SUITABLE' বা 'FIT' হিসেবে নিবন্ধিত না হওয়া পর্যন্ত ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট পরবর্তী বছরের বার্ষিক লেভি কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করে না।

২০২৬ সালের আধুনিক স্বাস্থ্য নীতিমালায় ফোমেমা বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম চালু করেছে। অর্থাৎ ফোমেমা ক্লিনিকে রক্ত প্রদান এবং ডিজিটাল এক্স-রে রুমে প্রবেশের সময় কর্মীর আঙুলের ছাপ সরাসরি ইমিগ্রেশন ডাটাবেসের সাথে রিয়েল-টাইমে ম্যাচ করা হয়। ফলে একজনের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কোনো সুযোগ নেই।

🩺 ২০২৬ সালের নতুন ফোমেমা নিয়ম ও পরীক্ষার সময়সূচি:

  • ১ম, ২য় ও ৩য় বছর বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং: কর্মীর মালয়েশিয়ায় প্রবেশের প্রথম ৩ বছর প্রতি বছর পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে পূর্ণাঙ্গ রক্ত, মূত্র ও বুকের এক্স-রে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।
  • পরবর্তী বছরগুলোতে অল্টারনেট স্ক্রিনিং: সংশোধিত স্বাস্থ্য নীতিমালায় ৪র্থ বছরের পর থেকে প্রতি দুই বছর পর পর পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মধ্যবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।
  • অনলাইন সেন্ট্রালাইজড ডাটা ট্র্যাকিং: ফোমেমা পরীক্ষা দেওয়ার ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ক্লিনিক থেকে রিপোর্ট সরাসরি ইমিগ্রেশন ডাটাবেসে সেন্ট্রালি আপলোড হয়। কর্মীকে কোনো কাগজের রিপোর্ট বহন করতে হয় না।
পরীক্ষার ক্যাটাগরি নির্দিষ্ট টেস্টের বিবরণ আনফিট ঘোষণার সম্ভাব্য কারণ
ব্লাড স্ক্রিনিং এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি সারফেস অ্যান্টিজেন, সিফিলিস (VDRL/TPHA) রক্তে সংক্রামক ভাইরাসের উপস্থিতি
বুকের ডিজিটাল এক্স-রে ফুসফুসের সক্রিয় টিউবারকিউলোসিস (টিবি) ও সংক্রমণ পরীক্ষা ফুসফুসে দাগ বা যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমণ
ইউরিন টেস্ট ডায়াবেটিস, কিডনি ফাংশন, অপিয়েট ও ক্যানাবিস (গাঁজা) স্ক্রিনিং ড্রাগ পজিটিভ অথবা অনিয়ন্ত্রিত কিডনি ফেইলিউর
শারীরিক ফিটনেস দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ ও মানসিক ভারসাম্য অডিট গুরুতর মানসিক বা শারীরিক অসামর্থ্য

৮. সেক্টরভিত্তিক সরকারি লেভি ট্যাক্স ও নবায়ন খরচের ব্রেকডাউন ২০২৬

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট সেক্টরভিত্তিক লেভি ও রিনিউয়াল খরচ ২০২৬

চিত্র ৮.১: ম্যানুফ্যাকচারিং, কনস্ট্রাকশন, প্ল্যান্টেশন ও সার্ভিস সেক্টরের অফিশিয়াল লেভি তালিকা

মালয়েশিয়া সরকারের রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস হলো বিদেশি শ্রমিকদের বার্ষিক লেভি (Levy)। মালয়েশিয়ার শ্রম আইন (এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৫) এবং ২০১৮ সালের কেবিনেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—এই সরকারি লেভি সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানিকে নিজের তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকের মাসিক বেতন থেকে লেভির অর্থ কেটে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শ্রম আদালতের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের ওপর ভিত্তি করে মালয়েশিয়া সরকার লেভির হারে ভিন্নতা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদনমুখী শিল্প, ভারী নির্মাণ ও সেবা খাতে শ্রমিকের অনুপাত নিয়ন্ত্রণের জন্য লেভি তুলনামূলক বেশি ধরা হয়েছে, পক্ষান্তরে কৃষি ও পাম অয়েল বাগান খাতে শ্রমিক সংকট কমাতে লেভির হার অত্যন্ত সহনশীল রাখা হয়েছে।

📊 ২০২৬ সালের সেক্টরভিত্তিক বার্ষিক সরকারি ফি ও লেভি চার্ট:

কাজের খাত (সেক্টর) বার্ষিক লেভি (RM) পিএলকেএস ও প্রসেসিং ফি (RM) মোট আনুমানিক সরকারি খরচ
ম্যানুফ্যাকচারিং (কারখানা) ১,৮৫০ রিঙ্গিত ১২৫ রিঙ্গিত ~১,৯৭৫ রিঙ্গিত
কনস্ট্রাকশন (নির্মাণ খাত) ১,৮৫০ রিঙ্গিত ১২৫ রিঙ্গিত ~১,৯৭৫ রিঙ্গিত
সার্ভিস খাত (রেস্টুরেন্ট/হোটেল) ১,৮৫০ রিঙ্গিত ১২৫ রিঙ্গিত ~১,৯৭৫ রিঙ্গিত
প্ল্যান্টেশন (পাম অয়েল বাগান) ৬৪০ রিঙ্গিত ১২৫ রিঙ্গিত ~৭৬৫ রিঙ্গিত
কৃষি খাত (Agriculture) ৬৪০ রিঙ্গিত ১২৫ রিঙ্গিত ~৭৬৫ রিঙ্গিত

৯. পাসপোর্টের ১৮ মাস মেয়াদ ও বাংলাদেশ হাইকমিশনে নবায়ন পদ্ধতি

পাসপোর্টের ১৮ মাস মেয়াদের নিয়ম ও বাংলাদেশ হাইকমিশন নবায়ন

চিত্র ৯.১: পারমিট রিনিউয়ালের জন্য পাসপোর্ট মেয়াদ রক্ষণাবেক্ষণ ও ই-পাসপোর্ট ডেলিভারির ধাপসমূহ

মালয়েশিয়ায় কাজের পারমিট নবায়নের সবচেয়ে মৌলিক ব্যক্তিগত শর্ত হলো পাসপোর্টের বৈধতা। মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশনের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী—পরবর্তী ১ বছরের পারমিট স্টিকার প্রিন্ট করার জন্য পাসপোর্টে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ মাসের মেয়াদ অবশিষ্ট থাকতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ যদি ৭ বা ৮ মাস বাকি থাকে, তবে ইমিগ্রেশন সার্ভার হয় আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, অথবা পারমিটের মেয়াদও পাসপোর্টের মেয়াদের সাথে সংকুচিত করে সীমিত দিনের জন্য ইস্যু করে।

তাই ওয়ার্ক পারমিটের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ মাস পূর্বেই পাসপোর্টের পাতার মেয়াদ পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। যদি পাসপোর্টের মেয়াদ ১ বছরের কম থাকে, তবে পারমিট নবায়নের ফাইল খোলার পূর্বেই কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পাসপোর্ট রিনিউ করে নতুন ই-পাসপোর্ট বা রি-ইস্যু গ্রহণ করতে হবে।

🏢 কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট রিনিউ করার কার্যপদ্ধতি:

  1. অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আবেদন: বাংলাদেশ হাইকমিশন কুয়ালালামপুরের নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে ই-পাসপোর্ট বা রি-ইস্যু আবেদন ফরম পূরণ করে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য তারিখ ও সময় বুক করুন।
  2. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ: মূল পুরনো পাসপোর্ট, পাসপোর্টের ফটোকপি, মালয়েশিয়ান বর্তমান বৈধ পারমিটের কপি, ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন ভেরিফাইড জন্মনিবন্ধন সনদ সঙ্গে রাখুন।
  3. পোস্ট অফিসের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি: বর্তমানে পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হলে ডাকঘর (Pos Malaysia)-এর মাধ্যমে সরাসরি কর্মীর কর্মস্থল বা ঠিকানায় নতুন পাসপোর্ট ডেলিভারি নেওয়ার আধুনিক সুবিধা চালু রয়েছে। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নতুন পাসপোর্ট নম্বর কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগে জমা দিতে হয়।

১০. পারমিট নবায়নে বিলম্ব হলে স্পেশাল পাস (Special Pass) ব্রিজ ও ওভারস্টে রোধ

পারমিট নবায়নে বিলম্ব হলে স্পেশাল পাস ব্রিজ ও ওভারস্টে রোধ

চিত্র ১০.১: বর্তমান পারমিটের মেয়াদ উত্তীর্ণের সংকটকালে স্পেশাল পাস গ্রহণের আইনি সুরক্ষা কাঠামো

মালয়েশিয়ায় অনেক সময় নিয়োগকর্তার প্রশাসনিক ধীরগতি, ফোমেমা ক্লিনিক থেকে ল্যাবরেটরি রিপোর্ট দেরিতে আসা, কিংবা ইমিগ্রেশনের অনলাইন গেটওয়েতে সার্ভার ক্র্যাশের কারণে বর্তমান পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে নতুন রিনিউয়াল স্টিকার প্রিন্ট করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো কর্মীর পারমিটের নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে যায়, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'ওভারস্টে' (Overstay)-এর শিকার হন। মালয়েশিয়া অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সেকশন ১৫(১)(সি) অনুযায়ী ওভারস্টে করা একটি জামিন-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে অভিবাসন বিভাগ আইনগতভাবে স্পেশাল পাস (Pas Khas / Special Pass) গ্রহণের সুযোগ রেখেছে।

স্পেশাল পাস মূলত একটি সাময়িক আইনি বৈধতার সনদপত্র, যা অভিবাসন আইন ১৯৬৩-এর রেগুলেশন ১৪-এর অধীন জারি করা হয়। এটি কর্মীকে কোনো নতুন কাজের অধিকার দেয় না, তবে বর্তমান প্রক্রিয়াধীন ফাইলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ণ বৈধভাবে পুলিশি গ্রেফতারির ভয় ছাড়া অবস্থানের আইনি নিশ্চয়তা দেয়।

🛡️ স্পেশাল পাসের আইনি কার্যকারিতা ও আবেদন নিয়ম:

  • ৩০ দিনের আইনি সুরক্ষা বলয়: স্পেশাল পাস সাধারণত একবারে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য ইস্যু করা হয়। এই ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তাকে রিনিউয়াল ফাইলের যাবতীয় জটিলতা নিরসন করে মূল পারমিট স্টিকার সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষ প্রয়োজনে আরও একবার ৩০ দিনের জন্য এটি নবায়ন করা সম্ভব।
  • আবেদন ফি ও রসিদ: প্রতিটি স্পেশাল পাসের জন্য সরকারি ফি ১০০ রিঙ্গিত (RM 100)। আবেদনের সময় নিয়োগকর্তার লেটারহেডে ব্যাখ্যাপত্র, ই-পিএলকেএস আবেদন স্লিপ এবং ফোমেমা মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন স্লিপ সংযুক্ত করতে হয়।
  • মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৭ দিন আগে আবেদন: বর্তমান পারমিটের মেয়াদ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্পেশাল পাস ইস্যু করাতে গেলে অভিবাসন কাউন্টারে জরিমানা বা এনফোর্সমেন্ট জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন আগে স্থানীয় স্টেট ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হতে হবে।

১১. কোম্পানি মিথ্যা পলাতক দেখালে ব্ল্যাকলিস্ট আপিল ও জেটিকে নালিশ

কোম্পানি মিথ্যা পলাতক দেখালে ব্ল্যাকলিস্ট আপিল ও আইনি সমাধান

চিত্র ১১.১: কোম্পানির মিথ্যা পলাতক (Report Lari) ব্ল্যাকলিস্ট বাতিল ও আইনি আপিলের কার্যপ্রণালী

মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক অন্যায়ের শিকার হন সেই প্রবাসীরা, যাদের অসাধু নিয়োগকর্তারা বকেয়া বেতন না দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে, অতিরিক্ত কাজের প্রতিবাদ করায় কিংবা ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণে ইমিগ্রেশনে গিয়ে মিথ্যা নালিশ করেন যে কর্মী পালিয়ে গেছে (Report Pekerja Lari / Abscondment)। নিয়োগকর্তা যখন ইমিগ্রেশনের কাউন্টারে গিয়ে রিপোর্ট লারি ফাইল করেন, তখন ইমিগ্রেশন সিস্টেম কোনো প্রকার বিচার বিশ্লেষণ বা কর্মীর বক্তব্য না শুনেই তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীর পারমিট বাতিল করে এবং তার নাম সেন্ট্রাল ব্ল্যাকলিস্টে তালিকাভুক্ত করে দেয়।

মালিকরা এই কাজটি করে প্রধানত দুটি কারণে: প্রথমত, কর্মী পলাতক দেখালে মালিককে সরকারি সিকিউরিটি বন্ডের জরিমানা দিতে হয় না; দ্বিতীয়ত, বকেয়া বেতন বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দায় থেকে মালিক অন্যায়ভাবে নিজেকে মুক্ত দাবি করতে পারে। কিন্তু মালয়েশিয়ার শ্রম আদালত ও মানবাধিকার আইনের অধীনে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি আপিলের অধিকার রয়েছে।

⚖️ মিথ্যা পলাতক রিপোর্ট বাতিল ও ব্ল্যাকলিস্ট প্রত্যাহারের ৩টি ধাপ:

১. শ্রম বিভাগ (JTK)-এ ধারা ৬৯ মামলা

এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৫-এর সেকশন ৬৯ অনুযায়ী স্থানীয় জাবাতান তেনাগা কারজা (JTK)-তে গিয়ে কোম্পানির বকেয়া বেতন ও মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে লিখিত মামলা করুন। জেটিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা মালিককে সমন পাঠিয়ে মুখোমুখি শুনানিতে ডাকবেন।

২. পুলিশ রিপোর্ট ও হাইকমিশনের সহায়তা

নিকটস্থ থানায় গিয়ে জিডি করে রাখুন যে আপনি কোম্পানির অন্যায় আচরণ ও বকেয়া বেতনের কারণে আইনি আশ্রয়ে আছেন এবং পালিয়ে যাননি। এরপর কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সহায়তা পত্র সংগ্রহ করুন।

৩. পুত্রজায়া ইমিগ্রেশনে ব্ল্যাকলিস্ট প্রত্যাহার

জেটিকে-র রায় বা নিষ্পত্তিপত্র নিয়ে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরের বাহাগিয়ান পেঙ্গুয়াতকুয়াসা (Enforcement Division)-এ উপস্থিত হয়ে আপিল জমা দিলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে পাসপোর্ট থেকে ব্ল্যাকলিস্ট প্রত্যাহার (Batal Senarai Hitam) করে দেয়।

১২. ১০ বছরের সর্বোচ্চ কাজের পারমিট লিমিট ও ৩ বছর এক্সটেনশন (10+3)

১০ বছরের পারমিট সিলিং লিমিট ও ৩ বছর এক্সটেনশন পলিসি

চিত্র ১২.১: মালয়েশিয়ায় সাধারণ বিদেশি শ্রমিকের ১০ বছরের সীমা ও বিশেষ এক্সটেনশনের শর্তাবলী

মালয়েশিয়ার জাতীয় অভিবাসন কৌশলগত নীতিমালায় বিদেশি কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাধারণ অদক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের একাধারে কাজের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর (Maximum 10 Years PLKS Ceiling)। অর্থাৎ একজন কর্মী যখন প্রথমবার কলিং ভিসায় দেশটিতে আসেন, তিনি টানা ১০ বার বা ১০ বছর তার কাজের পারমিট নবায়ন করতে পারেন। দশম বছরের পারমিট শেষ হওয়ার পর সিস্টেম কোনো স্বাভাবিক নবায়ন ফাইল গ্রহণ করে না।

📌 ১০ বছর পর পরবর্তী ৩ বছর (১০+৩ পলিসি) এক্সটেনশনের বিশেষ সুযোগ:

মালয়েশিয়া সরকার বিভিন্ন কারখানার অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ কারিগরি কর্মীদের ধরে রাখতে একটি বিশেষ ব্যতিক্রমী স্কিম চালু রেখেছে, যা ১০+৩ এক্সটেনশন পলিসি (10+3 Extension Policy) নামে পরিচিত। এর অধীনে একজন কর্মী ১১তম, ১২তম এবং ১৩তম বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত ৩ বছর কাজ করতে পারেন। তবে এই স্কিমের শর্তাবলী সাধারণ রিনিউয়ালের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর:
• বিশেষ উচ্চহারের লেভি: এই ৩ বছরের জন্য প্রতি বছর সাধারণ লেভির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি লেভি (প্রতি বছর প্রায় ৬,০০০ রিঙ্গিত) পরিশোধ করতে হয়।
• নিয়োগকর্তার বিশেষ আবেদন: কোম্পানিকে পুত্রজায়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (KESUMA) ও ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর জেনারেলের কাছে প্রত্যয়ন করতে হয় যে এই কর্মীর বিশেষ দক্ষতার কোনো স্থানীয় বিকল্প শ্রমিক বাজারে নেই।
• চূড়ান্ত কুলিং-অফ পিরিয়ড: ১৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কর্মীকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে এবং কমপক্ষে ৩ মাস থেকে ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড কাটিয়ে পুনরায় নতুন কলিং কোটায় আসতে হবে।

১৩. মালয়েশিয়া শ্রম বিভাগ (JTK) ও লেবার কোর্টে কর্মীর আইনি অধিকার

মালয়েশিয়া শ্রম বিভাগ JTK ও শ্রমিকের আইনি অধিকার ও বেতন সুরক্ষা

চিত্র ১৩.১: জাবাতান তেনাগা কারজা (JTK) মালয়েশিয়ার শ্রম আদালতে কর্মীর আইনি সুরক্ষা ও নালিশ নিষ্পত্তি

মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী ভাই এই ভুল ধারণার মধ্যে থাকেন যে, যেহেতু তারা বিদেশি শ্রমিক, তাই কোম্পানির যেকোনো অন্যায় নির্দেশ মুখ বুজে সহ্য করতে হবে এবং প্রতিবাদ করলে মালিক তাদের ভিসা বাতিল করে দেবে। কিন্তু মালয়েশিয়ার শ্রম আইন (Employment Act 1955) অনুযায়ী দেশটির নাগরিক শ্রমিক এবং নিবন্ধিত বিদেশি কর্মীর মধ্যে মৌলিক শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো আইনি পার্থক্য নেই। মালিকপক্ষ চাইলেই স্বেচ্ছাচারী আচরণ করতে পারে না।

⚖️ বিদেশি কর্মীর ৪টি মৌলিক আইনি অধিকার ও সুরক্ষা কবচ:

  • ১. পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় রাখার অধিকার: মালয়েশিয়ান পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ (Passports Act 1966)-এর সেকশন ১২(১)(এফ) অনুযায়ী কোনো নিয়োগকর্তা কর্মীর সম্মতি ব্যতিরেকে তার পাসপোর্ট আটকে রাখতে পারেন না। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ যার জন্য সর্বোচ্চ ১০,০০০ রিঙ্গিত জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।
  • ২. সরকারি ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতকরণ: মালয়েশিয়া সরকারের সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী ন্যূনতম মাসিক মূল বেতন ১,৭০০ রিঙ্গিত প্রদান বাধ্যতামূলক। সাপ্তাহিক ছুটি, সরকারি ছুটির দিনের ওভারটাইম এবং উৎসব ভাতার হিসাব যথাযথভাবে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কর্মীর অনুমোদিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে।
  • ৩. লেভির টাকা কর্মীর বেতন থেকে না কাটার আইন: ২০১৮ সালের কেবিনেট নির্দেশনা অনুযায়ী পারমিট রিনিউয়াল লেভির শতভাগ অর্থ নিয়োগকর্তা বহন করবেন। কোনো মালিক যদি কর্মীর বেতন থেকে মাসিক কিস্তিতে লেভির টাকা কেটে রাখেন, তবে জেটিকে শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করে সেই সমুদয় অর্থ ফেরত আদায় করা সম্ভব।
  • ৪. আইনগত বিনামূল্যে সহায়তা (Legal Aid): শ্রমিকরা যেকোনো অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মালয়েশিয়ান বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এইড সেন্টার (Bar Council Legal Aid Centre) কিংবা শ্রমিক অধিকার রক্ষা সংস্থা তেনাগানিতা (Tenaganita)-র মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুবাদক ও আইনি আইনজীবীর পরামর্শ পেতে পারেন।

১৪. প্রবাসী অ্যাপে কোম্পানি স্ট্যাটাস ও ভিসা নবায়ন ক্যালকুলেটর

প্রবাসী অ্যাপে কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট স্ট্যাটাস ও ভিসা নবায়ন ক্যালকুলেটর

চিত্র ১৪.১: প্রবাসী অ্যাপে মালয়েশিয়া ভিসা রিনিউয়াল ডেট ট্র্যাকিং ও কোম্পানি স্ট্যাটাস ক্যালকুলেটর

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি ভাইদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো সঠিক সময়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া। ভিসা নবায়নের সময় পার হয়ে যাওয়ার পর জানা যায় যে কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্টে আছে, কিংবা পাসপোর্ট নবায়নের মেয়াদ না থাকায় ফাইল আটকে যায়। প্রবাসীদের এই বাস্তব সংকটগুলো দূর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রবাসী অ্যাপ (Probashi App)।

প্রবাসী অ্যাপের স্মার্ট ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়াল ও কোম্পানি স্ট্যাটাস টুলটি প্রতিটি প্রবাসীর মোবাইলে একটি ব্যক্তিগত ডিজিটাল সহকারীর মতো কাজ করে। এটি আপনার ভিসার মেয়াদ ট্র্যাক করে, সম্ভাব্য নবায়ন খরচ নির্ভুলভাবে হিসাব করে এবং নিয়োগকর্তা কালোতালিকাভুক্ত কিনা তা যাচাইয়ে সহায়তা করে।

📱 প্রবাসী অ্যাপে যেসব বিশেষ ফিচার পাচ্ছেন:

⏱️ রিনিউয়াল ডেট কাউন্টডাউন ও অ্যালার্ট

আপনার বর্তমান পারমিটের শেষ তারিখটি অ্যাপে সেট করে রাখুন। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন, ৬০ দিন এবং ৩০ দিন আগে অ্যাপ স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন দিয়ে মেডিকেল ও ফাইল দাখিলের তাগিদ দেবে।

🏢 কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট অডিট গাইড

আপনার কোম্পানির আরওসি নম্বর দিয়ে সরাসরি SSM এবং মাইইমিমস ডাটাবেসে কোম্পানির লাইসেন্স সক্রিয় ও মামলা-মুক্ত আছে কিনা তা এক ক্লিকে যাচাইয়ের স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড।

💰 সরকারি লেভি ও নবায়ন ফি ক্যালকুলেটর

আপনার নির্দিষ্ট কাজের সেক্টর (কারখানা, কনস্ট্রাকশন, সার্ভিস বা পাম বাগান) নির্বাচন করে সরকারি সঠিক লেভি ও অনুমোদিত প্রসেসিং ফি হিসাব করে জেনে নিন।

📋 জেটিকে ও আইনি সহায়তা তথ্যভাণ্ডার

মালিক বকেয়া বেতন না দিলে বা অন্যায়ভাবে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুললে স্থানীয় শ্রম আদালত (JTK) এবং হাইকোর্টের ফ্রি আইনি সহায়তার ঠিকানা ও ফোন নম্বর।

১৫. শীর্ষ ১২টি সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সমাধান (FAQ)

প্রশ্ন ১: মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার প্রক্রিয়া কতদিন আগে শুরু করতে হয়?

উত্তর: বর্তমান পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৯০ দিন (৩ মাস) পূর্বে রিনিউয়াল প্রক্রিয়া শুরু করা আবশ্যক। এর মধ্যে ফোমেমা মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে রিপোর্ট অনলাইনে সাবমিট করতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে এবং এরপর কোম্পানির লেভি পেমেন্ট সম্পন্ন করতে আরও কয়েকদিন প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন ২: কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্টে থাকলে কি কর্মীর পারমিট রিনিউ হবে?

উত্তর: না। কোম্পানি যদি মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন, এলএইচডিএন বা সোসকো দ্বারা কালোতালিকাভুক্ত হয়, তবে ইমিগ্রেশন সার্ভার সেই কোম্পানির অধীনে কোনো কর্মীর রিনিউয়াল ফাইল গ্রহণ করবে না। এই ক্ষেত্রে কোম্পানিকে আগে তার বকেয়া মিটিয়ে ব্ল্যাকলিস্ট প্রত্যাহার করতে হবে অথবা কর্মীকে আইনিভাবে কোম্পানি ট্রান্সফার নিতে হবে।

প্রশ্ন ৩: পারমিটের মেয়াদ পার হয়ে গেলে কী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে?

উত্তর: পারমিটের মেয়াদ পার হয়ে গেলে ওভারস্টে এড়াতে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে দ্রুত ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হয়ে স্পেশাল পাস (Special Pass) গ্রহণ করতে হবে। স্পেশাল পাসের মেয়াদকালীন সময়ে রিনিউয়াল ফাইল প্রসেস করা সম্ভব এবং কর্মী সাময়িক পুলিশি গ্রেফতারি থেকে নিরাপদ থাকেন।

প্রশ্ন ৪: পারমিট রিনিউয়ালের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ কত মাস থাকতে হবে?

উত্তর: পূর্ণ ১ বছরের পারমিট স্টিকার প্রিন্ট করার জন্য পাসপোর্টে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ মাসের মেয়াদ থাকতে হয়। মেয়াদ ১ বছরের কম থাকলে আগে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট রিনিউ করে নিতে হবে, নতুবা ইমিগ্রেশন পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে দেবে।

প্রশ্ন ৫: ফোমেমা মেডিকেলে আনফিট আসলে কি ভিসা সাথে সাথে বাতিল হয়ে যায়?

উত্তর: ফোমেমা রিপোর্ট আনফিট (Unsuitable) আসলে সাথে সাথে আপিল করার সুযোগ থাকে। ফলাফল ঘোষণার ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পুনঃপরীক্ষার (Appeal Screening) জন্য আবেদন করতে হবে। আপিলে বিশেষজ্ঞ প্যানেল ফিট ঘোষণা করলে পারমিট নবায়ন সম্পন্ন হয়।

প্রশ্ন ৬: মালিক গোপনে ভিসা বাতিল করলে কীভাবে অনলাইনে তা যাচাই করব?

উত্তর: ইমিগ্রেশনের অফিশিয়াল MyIMMs সার্ভিস পোর্টালে গিয়ে আপনার পাসপোর্ট নম্বর ও দেশের কোড প্রদান করলে পারমিট স্ট্যাটাস যদি 'BATAL' বা 'CANCELLED' দেখায়, তবে বুঝতে হবে মালিক গোপনে চেক-আউট মেমো (COM) করে পারমিট বাতিল করেছে।

প্রশ্ন ৭: ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়া গিয়ে ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তর করা সম্ভব কি?

উত্তর: সম্পূর্ণ অসম্ভব ও আইনত নিষিদ্ধ। সোশ্যাল ভিজিট ভিসায় গিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের কাজের পারমিটে রূপান্তরের কোনো আইনি সুযোগ নেই। যারা এটি করার আশ্বাস দেয় তারা প্রতারক মানবপাচারকারী চক্র। সাধারণ শ্রমিকের কাজের পারমিট পেতে নিজ দেশ থেকেই সরকারি কলিং ভিসায় যেতে হয়।

প্রশ্ন ৮: ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়াল লেভির টাকা কি কর্মীর বেতন থেকে কাটা যাবে?

উত্তর: না। ২০১৮ সালের সংশোধিত মালয়েশিয়ান শ্রম আইন অনুযায়ী সমস্ত ক্যাটাগরির বিদেশি কর্মীর বার্ষিক লেভি সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তাকে নিজের অর্থ থেকে প্রদান করতে হবে। কর্মীর বেতন থেকে লেভি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং আদালতে অভিযোগ করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৯: একজন কর্মী সর্বোচ্চ কত বছর মালয়েশিয়ায় কাজের পারমিট নবায়ন করতে পারেন?

উত্তর: সাধারণ বিদেশি শ্রমিক হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর একাধারে পারমিট নবায়ন করা যায়। এরপর বিশেষ কারিগরি দক্ষতার ক্যাটাগরিতে কোম্পানি উচ্চ লেভি দিয়ে আরও ৩ বছর (১০+৩ পলিসি) পর্যন্ত এক্সটেনশন করাতে পারে। মোট ১৩ বছর পর কর্মীকে স্থায়ীভাবে দেশত্যাগ করতে হয়।

প্রশ্ন ১০: মালিক যদি মিথ্যা 'পলাতক' (Report Lari) দিয়ে ব্ল্যাকলিস্ট করে তবে করণীয় কী?

উত্তর: তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জিডি করুন এবং স্থানীয় শ্রম আদালতে (JTK) কোম্পানির বিরুদ্ধে বেআইনি হয়রানির মামলা দায়ের করুন। এরপর জেটিকে ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের ক্লিয়ারেন্স পত্র নিয়ে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগে ব্ল্যাকলিস্ট বাতিলের আপিল করতে হবে।

প্রশ্ন ১১: কোম্পানি পরিবর্তন (Company Transfer) করে কি পারমিট রিনিউ করা যায়?

উত্তর: বর্তমান মালিক যদি লিখিত অনাপত্তিপত্র (NOC / Surat Pelepasan) প্রদান করে এবং নতুন কোম্পানির বৈধ বিদেশি কর্মী কোটা থাকে, তবে ইমিগ্রেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানি বদল করে পারমিট নবায়ন করা সম্ভব।

প্রশ্ন ১২: পারমিটের স্ট্যাটাস চেক করতে কোন কোন তথ্য প্রয়োজন হয়?

উত্তর: পারমিট রিনিউয়াল ট্র্যাকিংয়ের জন্য কেবল কর্মীর মূল পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা কোড (বাংলাদেশ হলে BGD) এবং অনলাইন আবেদনের সময় প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর প্রয়োজন হয়। প্রবাসী অ্যাপ বা অফিশিয়াল মাইইমিমস সাইটে সরাসরি এটি চেক করা যায়।

প্রশ্ন ১৩: পাসপোর্টে ভিসা স্টিকার প্রিন্ট হতে কত কার্যদিবস সময় লাগে?

উত্তর: ইমিগ্রেশনের অনলাইন পোর্টালে লেভি ও প্রসেসিং ফি সফলভাবে পরিশোধ করার পর সাধারণত ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ই-পাস বা প্রিন্টেড স্টিকার ইস্যু সম্পন্ন হয়। তবে কোনো কারণে ডকুমেন্টে অস্পষ্টতা থাকলে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন ১৪: কোম্পানির মালিক মারা গেলে বা কোম্পানি দেউলিয়া হলে কর্মীর পারমিটের কী হবে?

উত্তর: নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা দেউলিয়া (Winding Up) ঘোষিত হলে কর্মীদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। অবিলম্বে মালয়েশিয়া শ্রম আদালত (JTK) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্পেশাল মেমোরেন্ডাম জমা দিয়ে নতুন বৈধ কোম্পানিতে কোটা স্থানান্তর (Special Transfer of Workers) করার আইনি সুযোগ সরকার প্রদান করে থাকে।

প্রশ্ন ১৫: চেক-আউট মেমো (COM) দিয়ে দেশে ফেরার সময় এয়ারপোর্টে কী কী কাগজপত্র সাথে রাখতে হবে?

উত্তর: সিওএম নিয়ে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA 1 বা KLIA 2)-এ ডিপার্চার কাউন্টারে মূল পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন কর্তৃক অনুমোদিত মূল চেক-আউট মেমো পেপার, নিশ্চিত একমুখী এয়ার টিকিট এবং কোম্পানির রিলিজ প্রত্যয়নপত্র প্রদর্শন করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই ইমিগ্রেশন পার হওয়া আবশ্যক।

📋 বার্ষিক পারমিট নবায়নের চূড়ান্ত প্রাক-প্রস্তুতি চেকলিস্ট:

প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতির আদর্শ সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
মূল পাসপোর্ট (১৮ মাস মেয়াদ) বাংলাদেশ হাইকমিশন মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পূর্বে মেয়াদ ১ বছরের কম হলে পারমিট আটকে যায়
ফোমেমা ফিট সার্টিফিকেট নিবন্ধিত ফোমেমা ক্লিনিক মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস পূর্বে মেডিকেলের দিন পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
কোম্পানির ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স LHDN ও SOCSO মালয়েশিয়া নবায়ন ফাইল দাখিলের পূর্বে কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্টে থাকলে সিস্টেমে ব্লক আসে
সিকিউরিটি বন্ড ও ইনসুরেন্স অনুমোদিত বীমা কোম্পানি আবেদনের সাথে একযোগে মেয়াদ পূর্ণ ১ বছরের পারমিটের সাথে ম্যাচ হতে হবে
প্রবাসী অ্যাপ: প্রবাসীদের বিশ্বস্ত সঙ্গী

নিরাপদ থাকুন, বৈধ থাকুন—প্রবাসী অ্যাপের সাথে

মালয়েশিয়ায় আপনার ঘামঝরা উপার্জনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা রিনিউয়াল অ্যালার্ট, কোম্পানি ব্ল্যাকলিস্ট অডিট, লাইভ রিঙ্গিত-টাকা এক্সচেঞ্জ রেট এবং আইনি অধিকার নির্দেশিকা পেতে এখনই ফ্রিতে ডাউনলোড করুন প্রবাসী অ্যাপ।

🚀 গুগল প্লে স্টোর থেকে ইনস্টল করুন