পিডিও ট্রেনিং কি? প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন আবেদন ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড
বিদেশে কর্মী হিসেবে পাড়ি জমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক নিয়ম হলো ৩ দিনের প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন (PDO) বা পিডিও ট্রেনিং সম্পন্ন করা। সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে (TTC) অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই বিএমইটি ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয় না। ঘরে বসেই 'আমি প্রবাসী' অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে পিডিও ট্রেনিংয়ের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করবেন, ক্লাসের সময়সূচী ও সিলেবাসে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, সরকারি ফি কত এবং পরীক্ষা শেষে কিউআর কোডসহ আসল সার্টিফিকেট কীভাবে ডাউনলোড করবেন—তার প্রতিটি খুঁটিনাটি ধাপ নিচে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো।
১. কোর্সটির মৌলিক পরিচয়: পিডিও (Pre-Departure Orientation) হলো নতুন অভিবাসী কর্মীদের জন্য ৩ দিনব্যাপী সরকারি পরিচিতিমূলক ক্লাসরুম প্রশিক্ষণ। এটি ছাড়া বিএমইটি বহির্গমন ছাড়পত্র পাওয়া অসম্ভব।
২. ডিজিটাল আবেদন ও ব্যাচ বুকিং: 'আমি প্রবাসী' মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নম্বর ভেরিফাই করে সুবিধাজনক নিকটস্থ টিটিসি (TTC) কেন্দ্র ও ক্লাসের তারিখ পছন্দ করে আবেদন করতে হয়।
৩. সরকারি নামমাত্র ফি: কোর্স ফি ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন মিলিয়ে সর্বমোট খরচ মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে (বিকাশ বা নগদে সরাসরি সরকারি একাউন্টে প্রদেয়)।
৪. ক্লাসে উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক হাজিরা: প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্লাসে সশরীরে উপস্থিতি এবং আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক।
৫. অনলাইন সার্টিফিকেট ডাউনলোড: ৩য় দিনের মূল্যায়ন পরীক্ষা শেষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে 'আমি প্রবাসী' অ্যাপ বা বিএমইটি পোর্টাল থেকে ডিজিটাল কিউআর কোডযুক্ত সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যায়, যার মেয়াদ থাকে ২ বছর।
১. পিডিও ট্রেনিং (PDO) কী ও বিদেশ গমনে এটি কেন শতভাগ বাধ্যতামূলক?
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশে যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক কর্মীর জন্য সরকারিভাবে যে পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক, তাকে সংক্ষেপে পিডিও ট্রেনিং (PDO Training - Pre-Departure Orientation) বা 'বহির্গমন পূর্ব পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ' বলা হয়। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) কর্তৃক পরিচালিত একটি অপরিহার্য জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। আপনি যদি আমাদের বিদেশ যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নির্দেশিকা পড়ে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই জানেন যে পিডিও সার্টিফিকেট ব্যতীত সরকারের সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে কোনোভাবেই বিদেশ গমনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র বা বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয় না।
অতীতে দেখা গেছে, বহু বাংলাদেশি শ্রমিক কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা গন্তব্য দেশের আইন-কানুন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না নিয়েই বিমানে উঠে যেতেন। ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান কিংবা মালয়েশিয়ার মতো ভিন্ন সংস্কৃতির দেশে পা রাখার পর তারা মারাত্মক ভাষাগত জটিলতা, কালচারাল শক এবং কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষাহীনতায় ভুগতেন। সামান্য একটি ট্রাফিক নিয়ম না জানার কারণে হাজার হাজার রিয়াল জরিমানা গুনা, সাইন-বোর্ডের ভাষা না বুঝে নিষিদ্ধ স্থানে প্রবেশ করে গ্রেফতার হওয়া, কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে না পারার মতো মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে প্রবাসী কর্মীদের রক্ষা করতে সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র মানদণ্ড অনুযায়ী ৩ দিনের এই প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন কোর্সটিকে কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক করেছে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী বৈধ ভিসা পাওয়ার পর বিএমইটি ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের ফাইল জমা দেওয়ার সময় অন্যান্য সব নথির সাথে বৈধ পিডিও ট্রেনিং সার্টিফিকেট (pdo training certificate) সংযুক্ত করা আবশ্যক। বিএমইটির সফটওয়্যারটি এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যে, কোনো কর্মীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে যদি সেন্ট্রাল ডাটাবেজে পিডিও কোর্সের ৩ দিনের শতভাগ বায়োমেট্রিক হাজিরা ও সফলতার সনদ রেকর্ড না থাকে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বহির্গমন ছাড়পত্রের আবেদন ব্লক হয়ে যায়। সুতরাং কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা দালাল চাইলেও এই নিয়মকে পাশ কাটিয়ে কোনো কর্মীকে বৈধভাবে বিমানে ওঠাতে পারে না। ভিসা আসল কি না তা নিশ্চিত করার উপায় জানতে পূর্বেই পড়ুন আমাদের ভিসা প্রতারণা ও দালালের ফাঁদ চেনার গাইড।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, পিডিও ট্রেনিং কোনো আনুষ্ঠানিক বা লোকদেখানো প্রশিক্ষণ নয়। এটি একজন নতুন প্রবাসীকে বিদেশের মাটিতে অচেনা প্রতিকূল পরিবেশে নিরাপদে টিকে থাকার, নিজের মৌলিক অধিকার আদায়ের, আইনি সুরক্ষার এবং উপার্জিত কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে দেশে পাঠানোর প্রাথমিক বুনিয়াদ গড়ে দেয়। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে এই ৩ দিনের ট্রেনিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই করতে দেখুন আমাদের বিএমইটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স চেক।
পিডিও ট্রেনিং চালুর প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড:
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর বৈশ্বিক কনভেনশন অনুযায়ী অভিবাসী কর্মীদের গন্তব্য দেশে পাঠানোর পূর্বে কর্মপরিবেশ, মানবাধিকার ও স্থানীয় আইনি বিধান সম্পর্কে মৌলিক পরিচিতি দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। পূর্বে বহু বাংলাদেশি কর্মী পাসপোর্ট ও ভিসা হাতে পেলেই কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া ভিনদেশে পাড়ি জমাতেন। বিমানবন্দরে নেমে আরবি কিংবা ইংরেজি কোনো ভাষা বুঝতে না পেরে লাগেজ হারিয়ে ফেলা, ভুল টার্মিনালে প্রবেশ করে বিভ্রান্ত হওয়া এবং নতুন কর্মক্ষেত্রে গিয়ে সুরক্ষাবিধি না জানার কারণে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতেন।
বাংলাদেশ সরকারের শ্রম পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালের পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও আইনি জটিলতায় আটক হওয়ার হার ছিল উদ্বেগজনক। অভিবাসী কর্মীদের বড় একটি অংশ মরুভূমির তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশনের শিকার হতেন কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার দায়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানা গুনতেন। এই সংকট উত্তরণে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) ৩ দিনের একটি আধুনিক ক্লাসরুম ওরিয়েন্টেশন মডিউল প্রণয়ন করে। এই প্রশিক্ষণে বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রশিক্ষক এবং বিদেশি ভাষা বিশেষজ্ঞরা কর্মীদের সচেতন করেন, যার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে। বিদেশে যাওয়ার পূর্বে ফিটনেস ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম জানতে আমাদের মেডিকেল ফিট ও আনফিট হওয়ার নিয়মাবলী পড়ুন।
বিএমইটির বর্তমান সেন্ট্রাল সার্ভার সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ক্লাউড-ইন্টিগ্রেটেড। রিক্রুটিং এজেন্সি যখন কোনো প্রার্থীর ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স বা বহির্গমন ছাড়পত্রের ফাইল সাবমিট করে, তখন সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিটিসি সেন্টারের বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ডাটাবেজ যাচাই করে। যদি প্রার্থীর নামে ৩ দিনের সম্পূর্ণ উপস্থিতি ও পাসিং রেকর্ড সংরক্ষিত না থাকে, তবে সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে ফাইলটি রিজেক্ট করে দেয়। সুতরাং বৈধভাবে বিমানে ওঠার জন্য পিডিও কোর্সের কোনো বিকল্প নেই।
২. কারা পিডিও ট্রেনিং করবেন এবং কাদের জন্য এই ট্রেনিং বাধ্যতামূলক নয়?
অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে পিডিও ট্রেনিং প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মনে প্রায়শই নানা বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পিডিও ট্রেনিং কাদের জন্য আবশ্যিক এবং কারা এই নিয়মের বাইরে অব্যাহতি পান, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
ক. যাদের জন্য পিডিও ট্রেনিং ১০০% বাধ্যতামূলক
- প্রথমবার বিদেশগামী সাধারণ কর্মী: যেকোনো কাজের ভিসায় জীবনে প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন এমন প্রতিটি বাংলাদেশি কর্মীর জন্য পিডিও ট্রেনিং সম্পন্ন করা শতভাগ আইনগত বাধ্যবাধকতা।
- গৃহকর্মী ও নারী শ্রমিক: নারী গৃহকর্মী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য পিডিও ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত বিশেষ ৩০ দিনের হাউসকিপিং ট্রেনিংও বাধ্যতামূলক।
- ড্রাইভার ও কারিগরি সহকারী: পেশাদার ড্রাইভিং, কনস্ট্রাকশন ও ফ্যাক্টরি কাজের ভিসাপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য ট্রাফিক রুলস ও কর্মক্ষেত্রের সেফটি মডিউল সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
- নতুন কোম্পানিতে নতুন ভিসা প্রাপ্ত কর্মী: অতীতে বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও যদি নতুন কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন দেশে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন কোম্পানিতে নতুন ভিসা নিয়ে যান, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুনরায় ওরিয়েন্টেশন নেওয়া আবশ্যক হয়।
খ. যাদের জন্য পিডিও ট্রেনিং প্রযোজ্য নয় বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত (Exempted)
- ছুটিতে আসা রি-এন্ট্রি কর্মী: যারা পূর্বে বৈধ বিএমইটি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড নিয়ে বিদেশে কর্মরত ছিলেন এবং ছুটির মেয়াদ শেষে পুনরায় নিজ কর্মস্থলে একই কফিল বা কোম্পানিতে ফিরে যাচ্ছেন, তাদের নতুন করে পিডিও ট্রেনিং করতে হয় না।
- উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী (Professional Category): ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যাংকার বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মতো উচ্চ ডিগ্রিধারী প্রফেশনাল কর্মীদের ক্ষেত্রে বিএমইটির বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে পিডিও ছাড় দেওয়া হতে পারে।
- ট্যুরিস্ট, ভিজিট ও ট্রানজিট যাত্রী: যারা নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অথবা পারিবারিক ভিজিট ভিসায় বিদেশে যান, তাদের জন্য এই ট্রেনিং প্রযোজ্য নয় (তবে ভিজিট ভিসায় গিয়ে চাকরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি)।
- বিদেশি স্থায়ী নাগরিক ও রেসিডেন্ট পারমিটধারী: যাদের বিদেশে স্থায়ী নাগরিকত্ব (PR) রয়েছে বা সরকারি স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তারা এই অভিবাসী প্রশিক্ষণ স্কিমের বাইরে থাকেন।
চাকরির অফার লেটার ও চুক্তিপত্রে সই করার আগে আপনার পদবী ও আইনি মর্যাদা যাচাই করতে পড়ুন আমাদের বিদেশে চাকরির চুক্তিপত্র যাচাই গাইড।
দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বিএমইটি অব্যাহতি (Exemption) আবেদনের প্রক্রিয়া:
যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যাংকার বা উচ্চপদস্থ আইটি পরামর্শক হিসেবে আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে চাকরির ভিসা পান, তবে তিনি বিএমইটির মহাপরিচালক (DG) বরাবর লিখিত আবেদন করে পিডিও ক্লাসরুম ট্রেনিং থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করতে পারেন। এজন্য ঢাকায় অবস্থিত বিএমইটির সদর দপ্তর (৮৯/২ কাকরাইল, ঢাকা)-এ গিয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ ও নোটারি করা সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়। বিএমইটির সংশ্লিষ্ট পরিচালক ফাইল যাচাই করে যোগ্য বিবেচিত হলে সেন্ট্রাল সার্ভারে সরাসরি 'Exempted' স্ট্যাটাস অনুমোদন করেন।
তবে সাধারণ ড্রাইভার, ক্লিনার, রাজমিস্ত্রি, পাইপফিটার, ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার ক্যাটাগরির ভিসায় কোনো অবস্থাতেই অব্যাহতি পাওয়ার বিধান নেই। এমনকি কেউ অতীতে দেশে অন্য কোনো টেকনিক্যাল কোর্স করে থাকলেও পিডিও ওরিয়েন্টেশনের ৩ দিনের সেশন তাকে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতেই হবে। সরকারি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভেরিফিকেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের বিএমইটি বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্দেশিকা দেখুন।
৩. 'আমি প্রবাসী' অ্যাপে পিডিও ট্রেনিং অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও আবেদন প্রক্রিয়া
অতীতে পিডিও ট্রেনিংয়ের জন্য কর্মীদের জেলা কর্মসংস্থান অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম পূরণ করতে হতো এবং দালালের হাতে বাড়তি টাকা তুলে দিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটালাইজেশনের সুবাদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা 'আমি প্রবাসী' (Ami Probashi) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো কর্মী ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোন দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে পিডিও ট্রেনিংয়ের জন্য আবেদন এবং পছন্দের টিটিসি সেন্টারে ব্যাচ বুকিং সম্পন্ন করতে পারেন।
ধাপে ধাপে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করার পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি:
ধাপ ১: আমি প্রবাসী অ্যাপ ইনস্টল ও অ্যাকাউন্ট খোলা: গুগল প্লে স্টোর থেকে অফিসিয়াল 'আমি প্রবাসী' অ্যাপ ডাউনলোড করুন। আপনার সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রবেশ করালে একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে। ওটিপি বসিয়ে পিন সেট করে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
ধাপ ২: পাসপোর্ট ও বায়োডাটা ভেরিফিকেশন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে থাকা 'পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন' অপশনে ক্লিক করে আপনার মূল পাসপোর্টের ইনফরমেশন পেজের স্পষ্ট ছবি স্ক্যান করুন অথবা পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও মেয়াদ ম্যানুয়ালি টাইপ করুন। সরকারি সেন্ট্রাল ডাটাবেজের সাথে পাসপোর্ট তথ্য মিলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার প্রোফাইল ভেরিফাইড হয়ে যাবে।
ধাপ ৩: পিডিও সার্ভিস নির্বাচন ও জেলা চয়েস: অ্যাপের প্রধান মেনু থেকে 'পিডিও ওরিয়েন্টেশন' বা 'PDO Training' ট্যাবে ক্লিক করুন। এখানে আপনার নিজ জেলা বা বর্তমান অবস্থানের নিকটবর্তী সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (TTC) তালিকা দেখতে পাবেন।
ধাপ ৪: সুবিধাজনক ব্যাচ ও তারিখ বুকিং: ক্যালেন্ডার থেকে যে তারিখে আপনি ৩ দিন সময় দিতে পারবেন, সেই ব্যাচটি নির্বাচন করুন। প্রতিদিন সকাল ও দুপুরের আলাদা শিফট থাকে।
ধাপ ৫: ডিজিটাল ফি পেমেন্ট: সরকারি নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ, রকেট বা ভিসা/মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করুন। ট্রানজ্যাকশন সম্পন্ন হওয়া মাত্র একটি ডিজিটাল রিসিট ও ট্রানজ্যাকশন আইডি জেনারেট হবে।
ধাপ ৬: ডিজিটাল অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) ডাউনলোড: পেমেন্ট সফল হলে সাথে সাথে অ্যাপের ভেতর আপনার নাম, ছবি, পাসপোর্ট নম্বর, রোল নম্বর এবং টিটিসি সেন্টারের ঠিকানাসহ একটি কালারফুল ডিজিটাল অ্যাডমিট কার্ড তৈরি হবে। এটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করে ২ কপি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন। ক্লাসে যোগদানের প্রথম দিন এই অ্যাডমিট কার্ডটি কেন্দ্রে প্রদর্শন করতে হবে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে ওটিপি ও পেমেন্ট সমস্যার সমাধান:
'আমি প্রবাসী' অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের সময় অনেকেই ওটিপি (OTP) কোড না আসার সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক বা রবির সিম থেকে নম্বর পোর্ট্যাবিলিটি (MNP) করা থাকলে এসএমএস পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে। এই ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ক্যাশ মেমোরি ক্লিয়ার করে অথবা কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে পুনরায় রিকোয়েস্ট পাঠালে সমস্যার সমাধান হয়। এছাড়া স্মার্টফোনে কোনো থার্ড পার্টি কল ব্লকার বা স্প্যাম ফিল্টার সক্রিয় থাকলে তা সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখুন।
পেমেন্ট করার সময় বিকাশ বা নগদের ওটিপি দেওয়ার পর ব্রাউজার বা অ্যাপ বন্ধ করবেন না। ট্রানজেকশন সফল হলে স্ক্রিনে ডিজিটাল মানি রিসিট ও 'Booking Reference ID' প্রদর্শিত হবে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন এবং প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করুন। যদি একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয় কিন্তু অ্যাপে ব্যাচ বুকিং পেন্ডিং দেখায়, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিকনসিলিয়েশন সম্পন্ন করে। অন্যথায় আমি প্রবাসী হেল্পলাইনে ট্রানজেকশন আইডি (TrxID) সহ যোগাযোগ করলে সমাধান পাওয়া যায়।
যদি আপনার পছন্দসই স্থানীয় টিটিসি সেন্টারে চলতি সপ্তাহের সকল ব্যাচের আসন পূর্ণ থাকে, তবে পার্শ্ববর্তী যেকোনো জেলা বা বিভাগীয় টিটিসি কেন্দ্র নির্বাচন করতে পারবেন। কারণ বিএমইটি নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী বাংলাদেশের যেকোনো অনুমোদিত টিটিসি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন, এতে সার্টিফিকেটের কার্যকারিতায় কোনো পার্থক্য হয় না।
৪. সরকারি টিটিসি (TTC) কেন্দ্রের তালিকা, শিডিউল ও ক্লাসের সময়সূচী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)-এর অধীনে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় ৭২টিরও বেশি আধুনিক সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (BIMT) পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (BKTTC), বাংলাদেশ-জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (BGTTC) এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত বিদেশগামী কর্মীকে উচ্চমানের ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হয়।
বিভাগভিত্তিক প্রধান সরকারি টিটিসি সেন্টারসমূহ:
- ঢাকা বিভাগ: মিরপুর বিকেটিটিসি (BKTTC), দারুসসালাম বিজিটিটিসি (BGTTC), কেরানীগঞ্জ টিটিসি, গাজীপুর টিটিসি, নারায়ণগঞ্জ টিটিসি, নরসিংদী টিটিসি, ফরিদপুর টিটিসি এবং টাঙ্গাইল টিটিসি।
- চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম বিআইএমটি (BIMT), নাসিরাবাদ টিটিসি, কুমিল্লা টিটিসি, নোয়াখালী টিটিসি, ফেনী টিটিসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসি এবং কক্সবাজার টিটিসি।
- রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ: রাজশাহী টিটিসি, বগুড়া টিটিসি, পাবনা টিটিসি, রংপুর টিটিসি, দিনাজপুর টিটিসি এবং কুড়িগ্রাম টিটিসি।
- সিলেট বিভাগ: সিলেট টিটিসি, মৌলভীবাজার টিটিসি, সুনামগঞ্জ টিটিসি এবং হবিগঞ্জ টিটিসি।
- খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: খুলনা টিটিসি, যশোর টিটিসি, কুষ্টিয়া টিটিসি, বরিশাল টিটিসি ও পটুয়াখালী টিটিসি।
দৈনিক ক্লাসের সময়সূচী ও কড়াকড়ি হাজিরা নীতি:
পিডিও ট্রেনিং প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা পরিচালিত হয় (মাঝে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকে)। ক্লাসে উপস্থিতির ক্ষেত্রে সরকার জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে:
- ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা: প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর আগে (সকাল ৮:৩০ - ৯:০০) এবং বিকেলে ছুটির পর (বিকাল ৪:০০) কর্মীদের ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়।
- কোনো অনুপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়: ৩ দিনের মধ্যে কোনো ১ দিনও যদি কেউ ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন বা সময়মতো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না দেন, তবে বিএমইটির সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পুরো ব্যাচ বাতিল করে দেয়। তাকে পুনরায় নতুন ফি দিয়ে নতুন ব্যাচে আবেদন করতে হবে।
- পোশাক ও শৃঙ্খলা: ক্লাসে অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই শালীন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতে হয়। টি-শার্ট, শর্টস বা স্যান্ডেল পরে ক্লাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
দূরবর্তী জেলার প্রার্থীদের জন্য টিটিসি হোস্টেল ও ডাইনিং সুবিধা:
গ্রামাঞ্চল বা দূরবর্তী উপজেলা থেকে বিভাগীয় ও জেলা সদরের টিটিসি সেন্টারে এসে ৩ দিন ক্লাস করা অনেক প্রার্থীর জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য হতে পারে। এই সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিকেটিটিসি, রাজশাহী টিটিসি, চট্টগ্রাম টিটিসি ও সিলেট টিটিসিসহ দেশের বেশিরভাগ বড় প্রতিষ্ঠানে পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে সরকারি ছাত্রাবাস বা হোস্টেল সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। হোস্টেলে থাকার জন্য ব্যাচ কনফার্মেশন স্লিপ দেখিয়ে কেন্দ্র ইনচার্জের কাছে আবেদন করতে হয়।
টিটিসি প্রাঙ্গণে পরিষ্কার খাবার পানি, সুলভ মূল্যে দুপুরের খাবার ক্যাফেটেরিয়া এবং নামাজ আদায়ের জন্য সুপ্রশস্ত মসজিদের ব্যবস্থা থাকে। ক্লাসরুমগুলো সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সমৃদ্ধ। প্রশিক্ষণ চলাকালীন কর্মীদের মাঝে বিনামূল্যে বিএমইটি অনুমোদিত ওরিয়েন্টেশন সহায়িকা বই ও জরুরি নোটপ্যাড বিতরণ করা হয়।
টিটিসি সেন্টারে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি ক্লাসে মোবাইল ফোনে উচ্চশব্দে কথা বলেন, ধূমপান করেন কিংবা প্রশিক্ষকের সাথে অশোভন আচরণ করেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে টিটিসি থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। মনে রাখবেন, টিটিসির আচরণ ও রিপোর্ট আপনার বিএমইটি ডাটাবেজে রেকর্ড করা হতে পারে। চাকরির চুক্তিপত্র খতিয়ে দেখার উপায় জানতে পড়ুন আমাদের বিদেশে চাকরির চুক্তিপত্র যাচাই নির্দেশিকা।
৫. ৩ দিনের পিডিও ক্লাসরুমে কী কী শেখানো হয়? সিলেবাস ও প্র্যাকটিক্যাল মডিউল
পিডিও ট্রেনিংয়ের পাঠ্যক্রমটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং বিএমইটির যৌথ উদ্যোগে অত্যন্ত ব্যবহারিক ও প্রবাসীবান্ধব করে সাজানো হয়েছে। তাত্ত্বিক লেকচারের বদলে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে অডিও-ভিজ্যুয়াল ভিডিও, অ্যানিমেশন এবং বাস্তব মহড়ার মাধ্যমে প্রবাস জীবনের প্রতিটি পর্যায় হাতে-কলমে শেখানো হয়।
দিন ১: নিরাপদ অভিবাসন, আইনি অধিকার ও বিমান ভ্রমণ প্রস্তুতি
প্রথম দিনে কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়ার মূল আইনি বিষয়গুলো বোঝানো হয়। যার মধ্যে রয়েছে:
- চাকরির চুক্তিপত্রের গুরুত্ব, বেসিক স্যালারি এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার হিসাব মেলানো।
- পাসপোর্ট, ভিসা, আকামা ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের মূল কপি এবং ডিজিটাল কপি নিরাপদে হেফাজত রাখার নিয়ম।
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বুকিং, নিষিদ্ধ দ্রব্যের তালিকা, বোর্ডিং পাস গ্রহণ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সঠিক ম্যানার। বিমানবন্দর গাইড বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের প্রবাসী ফ্লাইট গাইড।
- বিমানে ভ্রমণের আচরণবিধি—সিট বেল্ট বাঁধা, ফ্লাইটে টয়লেট ব্যবহার এবং ট্রানজিট বিমানবন্দরের টার্মিনাল পরিবর্তন।
দিন ২: গন্তব্য দেশের আইন, ভাষা ও সামাজিক সংস্কৃতি
দ্বিতীয় দিনটি মূলত সাংস্কৃতিক অভিযোজন ও স্থানীয় ভাষার ওপর নিবেদিত থাকে:
- আরবি ও ইংরেজি মৌলিক শব্দভাণ্ডার: মধ্যপ্রাচ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০টি প্রাথমিক আরবি শব্দ (যেমন: দিকনির্দেশনা, খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, জরুরি সাহায্য ও কাজের অর্ডার বোঝা)।
- কঠোর স্থানীয় আইন ও সামাজিক বিধিনিষেধ: মধ্যপ্রাচ্যে মাদকদ্রব্য ও অ্যালকোহল বহন বা সেবনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, নারী-পুরুষের মেলামেশার ধর্মীয় রুলস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি বা ভিডিও পোস্টের কঠোর সাইবার ক্রাইম আইন।
- ট্রাফিক রুলস ও পাবলিক প্লেস নিয়ম: জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পারাপারের ভারী জরিমানা, জনসমক্ষে ধূমপান বা আবর্জনা ফেলার দণ্ড।
দিন ৩: কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও দূতাবাস সাপোর্ট
চূড়ান্ত দিনে কর্মীদের বাস্তব জীবনের টিকে থাকা এবং উপার্জিত অর্থের নিরাপত্তা শেখানো হয়:
- পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (OHS): কনস্ট্রাকশন ও ফ্যাক্টরিতে হেলমেট, সেফটি বুট, হারনেস ব্যবহার এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র চালনা। গরমের দেশে সানস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়ানোর স্বাস্থ্যবিধি।
- স্মার্ট ব্যাংকিং ও হুন্ডি বর্জন: অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ফলে অর্থ হারানো ও মানি লন্ডারিং মামলার ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সরকারি ২.৫% প্রণোদনা পাওয়ার কৌশল। প্রতিদিনের কারেন্সি রেট দেখতে ব্যবহার করুন আমাদের আজকের টাকার রেট ক্যালকুলেটর।
- মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক কাউন্সেলিং: প্রবাসে একাকীত্ব, বিষণ্ণতা এবং পারিবারিক চাপ মোকাবিলার বাস্তবমুখী মানসিক প্রস্তুতি।
- জরুরি দূতাবাস হেল্পলাইন: কোম্পানি বেতন না দিলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ে যোগাযোগ করার উপায়। প্রয়োজনে দেখুন আমাদের জরুরি হেল্পলাইন ও সহায়তা পাতা।
দেশভিত্তিক সুনির্দিষ্ট শ্রম আইন ও বাস্তব জীবনের কঠোর বিধিনিষেধ:
পিডিও ক্লাসের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন প্রধান গন্তব্য দেশের স্থানীয় আইন ও সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত পাঠদান করা হয়। প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় কর্মীদের এই বিষয়গুলো মুখস্থ রাখতে হয়:
🇸🇦 সৌদি আরব গাইডলাইন:
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে স্পনসর বা কফিলকে কর্মীর জন্য ডিজিটাল ইকামা (Iqama) বা রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু করতে হয়। কফিল ইকামা না দিলে কর্মী 'কিওয়া' (Qiwa) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি চাকরি পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। কোনো অবস্থাতেই কফিলের সাথে রাগ করে পালিয়ে যাওয়া (হুরুব বা Huroob) যাবে না; হুরুব ঘোষিত হলে জেল ও স্থায়ী ডিপোর্টেশনের ঝুঁকি থাকে। আকামা ঠিক আছে কি না দেখতে নিয়মিত আমাদের সৌদি আকামা চেক পোর্টাল ব্যবহার করুন।
🇦🇪 সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গাইডলাইন:
দুবাই ও আবুধাবিতে শ্রম মন্ত্রণালয় (MOHRE)-এর আইন অনুযায়ী বেতন ব্যাংক একাউন্ট বা ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম (WPS) কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বাধ্যতামূলক। কোম্পানির বিরুদ্ধে বেতন বকেয়ার অভিযোগ থাকলে MOHRE অ্যাপ বা হেল্পলাইনে সরাসরি ফোন করে কমপ্লেইন ফাইল করা যায়। আমিরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুমতি ছাড়া অন্যের ছবি তোলা বা আপলোড করা কঠোর সাইবার অপরাধ।
🇶🇦 কাতার ও 🇰🇼 কুয়েত গাইডলাইন:
কাতারে গ্রীষ্মকালে খোলা আকাশের নিচে কাজের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মিড-ডে হিট ব্রেক প্রযোজ্য। কুয়েতে পৌঁছানোর ৩০ দিনের মধ্যে সিভিল আইডি কার্ড ইস্যু নিশ্চিত করতে হবে। সিভিল আইডির সর্বশেষ অবস্থা জানতে দেখুন আমাদের কুয়েত সিভিল আইডি স্ট্যাটাস চেক গাইড।
🇲🇾 মালয়েশিয়া গাইডলাইন:
মালয়েশিয়ায় গমনের পর ফোমেমা (FOMEMA) মেডিকেল সেন্টারে দ্বিতীয় দফা রক্ত ও এক্স-রে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। কর্মীকে নিয়োগকর্তার দেওয়া ভিসা পারমিট (PLKS) সবসময় সাথে রাখতে হয় এবং পাসপোর্ট নবায়নের তথ্য নিয়মিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আপডেট করতে হয়।
কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা:
পিডিও ক্লাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাস্থ্যবিধি। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র দাবদাহে নির্মাণ ও আউটডোর সেক্টরে কর্মরত কর্মীদের হিট স্ট্রোক (Heat Stroke) থেকে সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, ওরাল রিহাইড্রেশন স্যালাইন (ORS) গ্রহণ এবং ওআরএস ব্যবহারের সঠিক নিয়ম বিস্তারিত প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া উচ্চতায় কাজের সময় সেফটি হারনেস, বুট ও হেলমেট পরিধানের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিয়মাবলী শেখানো হয়।
একই সাথে প্রতিটি কর্মীকে বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB)-এর সদস্য করা হয়। পিডিও কোর্সে শেখানো হয় যে বৈধ বিএমইটি কার্ডধারী কোনো কর্মী প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান পায়। এছাড়া স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করলে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকার পুনর্বাসন সহায়তা এবং দেশে কফিন প্রেরণে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হয়।
প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য সরকারি বৃত্তি, প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার (১৬১২২) এবং বিমানবন্দরে লাউঞ্জ ব্যবহারের বিশেষ সুবিধাসমূহও পিডিও সেশনে আলোচনা করা হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে সরকারি প্রণোদনা পেতে দেখুন আমাদের আজকের টাকার রেট তালিকা।
৬. পিডিও ট্রেনিং সরকারি ফি চার্ট ও খরচ তালিকা ২০২৬
পিডিও ট্রেনিংয়ের খরচ নিয়ে অনেক অসাধু দালাল ও সাব-এজেন্ট কর্মীদের কাছে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে বলে শোনা যায়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, বাংলাদেশ সরকার এই প্রশিক্ষণটি প্রায় বিনামূল্যে নামমাত্র খরচে সাধারণ কর্মীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ অফিসিয়াল ফি কাঠামো নিচে দেওয়া হলো:
| ফি-এর খাত | সরকারি নির্ধারিত হার (টাকা) | পরিশোধের মাধ্যম | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| পিডিও কোর্স এনরোলমেন্ট ফি | ১০০ ৳ | আমি প্রবাসী অ্যাপ (বিকাশ/নগদ) | সরাসরি বিএমইটি একাউন্টে জমা হয় |
| ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস চার্জ | ১০০ ৳ | অনলাইন গেটওয়ে | পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ও অ্যাডমিট জেনারেশন |
| মোবাইল ব্যাংকিং গেটওয়ে ফি | ৫ - ৮ ৳ | বিকাশ / নগদ চার্জ | অপারেটর ভিত্তিক সাধারণ ফি |
| সর্বমোট প্রদেয় খরচ | ২০৫ - ২০৮ ৳ | এককালীন ডিজিটাল পেমেন্ট | কোনো বাড়তি নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ |
যদি কোনো দালাল বা এজেন্সি বলে, "আমাকে ৫,০০০ টাকা দিলে ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়া লাগবে না, ঘরে বসেই সার্টিফিকেট এনে দেব," তবে জেনে রাখুন এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালিয়াতি। সরকারি টিটিসি সেন্টারে সশরীরে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া ছাড়া কোনো সার্টিফিকেট কেন্দ্রীয় সার্ভারে ভ্যালিড হয় না। বিদেশে যাওয়ার অন্যান্য আনুমানিক খরচ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে আমাদের বিদেশ যাওয়ার খরচ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
সরকারি ফি বনাম এজেন্সির অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের ফাঁদ:
মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, বহু দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী নিরীহ কর্মীদের কাছ থেকে পিডিও ট্রেনিংয়ের নাম করে ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। তারা দাবি করে, এই টাকা দিলে ভালো ব্যাচ পাওয়া যাবে কিংবা পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পাস করিয়ে দেওয়া হবে। অথচ সরকারের স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টিটিসি কেন্দ্রের কোর্স ফি মাত্র ১০০ টাকা এবং আমি প্রবাসী প্ল্যাটফর্মের সার্ভিস ফি ও গেটওয়ে চার্জ মিলিয়ে সর্বমোট ২০৫ থেকে ২০৮ টাকার এক পয়সাও বেশি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
যদি কোনো ব্যক্তি বা অফিস আপনার কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, তবে সাথে সাথে টিটিসির অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করুন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভিজিল্যান্স টাস্কফোর্সকে অবহিত করুন। আপনার মোবাইলে সংরক্ষিত ডিজিটাল পেমেন্ট রিসিটই আপনার সর্বোচ্চ আইনি রক্ষাকবচ।
৭. পরীক্ষা পদ্ধতি, ফলাফল ও অনলাইন পিডিও ট্রেনিং সার্টিফিকেট ডাউনলোড
৩ দিনের ক্লাসরুম সেশন সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করার পর তৃতীয় দিন বিকেলে একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই কেবল বিএমইটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজে কর্মীর প্রোফাইলে 'PDO Passed' স্ট্যাটাস আপডেট হয় এবং অনলাইন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করার সুবিধা উন্মুক্ত হয়।
মূল্যায়ন পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্ন কাঠামো:
পরীক্ষাটি খুব বেশি জটিল নয়। সাধারণ কর্মীদের ভীতি দূর করার জন্য সহজ ভাষায় বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং মৌখিক প্রশ্ন করা হয়:
- লিখিত MCQ পরীক্ষা (২০-২৫ নম্বর): বিমানে কী কী পণ্য বহন নিষিদ্ধ? ওভারটাইম কীসের ওপর নির্ভর করে? গন্তব্য দেশের জরুরি পুলিশের নম্বর কত? এমন সাধারণ বাস্তবমুখী প্রশ্ন থাকে।
- মৌখিক ইন্টারভিউ: প্রশিক্ষক সংক্ষেপে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে কর্মী কোন দেশে যাচ্ছেন, তার কাজের পদবী কী এবং সেখানে কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে তিনি কার সাথে যোগাযোগ করবেন।
- পাশের হার: ক্লাসে মনোযোগী থাকলে প্রায় ৯৯% কর্মীই প্রথমবারে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।
অনলাইনে পিডিও সার্টিফিকেট ডাউনলোড করার ধাপসমূহ:
- আমি প্রবাসী অ্যাপ ওপেন করুন: পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে 'আমি প্রবাসী' অ্যাপে লগইন করুন।
- 'সার্টিফিকেট' মেনুতে যান: অ্যাপের নিচের নেভিগেশন বার থেকে 'সার্টিফিকেট' বা 'PDO Certificate' অপশনে ট্যাপ করুন।
- স্ট্যাটাস চেক করুন: যদি স্ট্যাটাসে 'Approved' বা 'Generated' লেখা থাকে, তবে সেখানে একটি সবুজ বাটন দেখতে পাবেন: "ডাউনলোড সার্টিফিকেট"।
- পিডিএফ সেভ ও প্রিন্ট: বাটনে ক্লিক করলে একটি হাই-রেজোলিউশন কালারফুল পিডিএফ ফাইল আপনার ফোনে সেভ হয়ে যাবে। এটি ভালো মানের ফটো পেপার বা অফসেট পেপারে কালার প্রিন্ট করে নিন।
- কিউআর কোড ভেরিফাই: সার্টিফিকেটের নিচে থাকা সরকারি কিউআর (QR) কোডটি যেকোনো স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলে বিএমইটির অফিসিয়াল পেজ লোড হবে এবং কর্মীর ছবি ও তথ্য প্রদর্শিত হবে। এটিই সার্টিফিকেটের আসল হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ। গামকা মেডিকেল টেস্টের নিয়মাবলী জানতে দেখুন আমাদের গামকা মেডিকেল টেস্ট নির্দেশিকা।
পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে রি-টেস্ট ও করণীয়:
সাধারণত পিডিও কোর্সের প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে ন্যূনতম মনোযোগী যেকোনো কর্মী সহজেই ৫০% নম্বর পেয়ে পাস করতে পারেন। তবে কোনো প্রার্থী যদি অসুস্থতা বা অসাবধানতাবশত লিখিত পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় নম্বর তুলতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিএমইটি নীতি অনুযায়ী একই দিন বিকেলে প্রশিক্ষক তাকে সংক্ষিপ্ত মৌখিক প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পুনরায় সুযোগ (Instant Re-test) প্রদান করেন।
রি-টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তার বায়োমেট্রিক ডাটা পাসিং রেকর্ড হিসেবে সেন্ট্রাল সার্ভারে আপলোড করা হয়। প্রার্থী চাইলে তার সার্টিফিকেট ডাউনলোড হওয়ার পর অনলাইন ভেরিফিকেশন লিংকের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে তথ্য সঠিক আছে কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন।
৮. পিডিও ট্রেনিং সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে, ভুল সংশোধন বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে করণীয়
অনেক কর্মী পিডিও ট্রেনিং সম্পন্ন করার পর ভিসা প্রসেসিং বিলম্বিত হওয়া, পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া কিংবা সার্টিফিকেটে তথ্যের অসঙ্গতি থাকার কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েন। এই জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সরকারি বিধিমোতাবেক করণীয় ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ক. সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে ডুপ্লিকেট কপি পাওয়ার নিয়ম:
যেহেতু পিডিও সার্টিফিকেট সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড এবং বিএমইটির সেন্ট্রাল ক্লাউড সার্ভারে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে, তাই কাগজের প্রিন্ট কপি হারিয়ে গেলেও পুনরায় ট্রেনিং করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি যেকোনো সময় আপনার 'আমি প্রবাসী' অ্যাপে লগইন করে 'ডাউনলোড সার্টিফিকেট' অপশন থেকে যতবার খুশি মূল পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এর জন্য কোনো থানায় জিডি বা নতুন ফি দিতে হয় না।
খ. সার্টিফিকেটে নামের বানান বা পাসপোর্ট নম্বরের ভুল সংশোধন:
যদি পাসপোর্টের সাথে সার্টিফিকেটের নামের বানান, জন্মতারিখ বা পাসপোর্ট নম্বরে কোনো গরমিল থাকে, তবে বিএমইটি ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের সময় তা আটকে যেতে পারে। এটি সংশোধনের জন্য আপনার মূল পাসপোর্ট ও এনআইডি সহ যে টিটিসি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, সেখানে গিয়ে প্রশিক্ষণ সমন্বয়কের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিএমইটির সেন্ট্রাল পোর্টালে সংশোধনের রিকোয়েস্ট পাঠালে সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধিত ডিজিটাল সার্টিফিকেট আপডেট হয়ে যায়। পাসপোর্ট সংক্রান্ত নির্দেশিকা জানতে পড়ুন ই-পাসপোর্ট সেবা ও আবেদন গাইড।
গ. সার্টিফিকেটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে করণীয়:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পিডিও ট্রেনিং সার্টিফিকেটের বৈধ মেয়াদ থাকে ইস্যুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর। কোনো কারণে যদি ২ বছরের মধ্যে কর্মী বিদেশ যেতে না পারেন এবং ভিসা প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়, তবে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্টিফিকেট দিয়ে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড করা যাবে না। সেক্ষেত্রে কর্মীকে পুনরায় 'আমি প্রবাসী' অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ব্যাচে রেজিস্ট্রেশন করে ৩ দিনের রিফ্রেশার ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করে নতুন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
বাস্তব কেস স্টাডি: ভুল সংশোধন ও পাসপোর্ট রিনিউ সমস্যা:
কুমিল্লার প্রবাসী কর্মী শফিকুল ইসলাম 'আমি প্রবাসী' অ্যাপে আবেদন করার সময় ভুলবশত তার পাসপোর্টের একটি ডিজিট ভুল ইনপুট করেছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে যখন সার্টিফিকেট বের হয়, তখন দেখা যায় পাসপোর্টের সাথে সার্টিফিকেটের নম্বর মিলছে না। ফলে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড শাখায় তার আবেদন স্থগিত হয়ে যায়। শফিকুল তাৎক্ষণিকভাবে তার স্থানীয় কুমিল্লা টিটিসিতে মূল পাসপোর্ট ও এনআইডিসহ যোগাযোগ করেন। কেন্দ্রের আইটি ইনচার্জ বিএমইটির ডাটা এডিটিং প্যানেলে প্রবেশ করে আবেদনটি ভেরিফাই করেন এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধিত ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়।
সুতরাং কোনো তথ্য ভুল হলে দালালদের কাছে ছোটাছুটি না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট টিটিসি সেন্টারের প্রশাসনিক শাখায় যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
৯. দালাল প্রতারণা, ভুয়া সার্টিফিকেট চক্র ও সাধারণ ভুলত্রুটি এড়ানোর সুরক্ষামূলক গাইড
অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহজ-সরল কর্মীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু অসাধু দালাল ও কম্পিউটার দোকানের মালিক জাল পিডিও সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসা খুলে বসেছে। তারা ফটোশপ দিয়ে বিএমইটির মনোগ্রাম ও ভুয়া কিউআর কোড বসিয়ে নকল সার্টিফিকেট বানিয়ে দেয়। এই ধরনের মারাত্মক ফাঁদে পা দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
জাল পিডিও সার্টিফিকেট ব্যবহারের আইনি বিপদসমূহ:
- সেন্ট্রাল ডাটাবেজে রেকর্ড শূন্য: দালাল কাগুজে সার্টিফিকেট দিলেও বিএমইটির সার্ভারে যদি কর্মীর ৩ দিনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা না থাকে, তবে স্মার্ট কার্ড ইস্যু আবেদনের মুহূর্তেই ধরা পড়ে যাবে।
- বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার: ভুয়া বিএমইটি বা নকল সার্টিফিকেট নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশের অটোমেটেড বারকোড স্ক্যানারে তৎক্ষণাৎ ধরা পড়ে ফৌজদারি প্রতারণা মামলায় জেলে যেতে হতে পারে।
- ভবিষ্যতে বিদেশ গমনে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: জালিয়াতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীর পাসপোর্ট নম্বর সরকারি ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তিনি আর কখনই কোনো দেশে কর্মসংস্থানের আবেদন করতে পারবেন না।
মনে রাখবেন, মাত্র ৩টি দিন কষ্ট করে সরকারি টিটিসিতে ক্লাস করলে যেখানে মাত্র ২০০ টাকায় সরকার অনুমোদিত আসল সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, সেখানে দালালের হাতে হাজার হাজার টাকা তুলে দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার কোনো যুক্তি নেই। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহের সঠিক নিয়ম জানতে পড়ুন আমাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট গাইড।
বিমানবন্দরের ই-গেট ও সেন্ট্রাল সার্ভার ক্রস-ভেরিফিকেশন:
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে বিশেষ ইমিগ্রেশন সার্ভার সক্রিয় রয়েছে। কোনো কর্মী যখন বোর্ডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশন ডেস্ক বা স্বয়ংক্রিয় ই-গেটে পাসপোর্ট স্ক্যান করেন, তখন সিস্টেম একই সাথে বিএমইটির বহির্গমন ডাটাবেজে প্রবেশ করে। বিএমইটির ডাটাবেজে পিডিও কোর্সের ৩ দিনের সকাল ও বিকেলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট লগ টাইমস্ট্যাম্প সহ সংরক্ষিত থাকে।
দালাল চক্র যে কাগুজে সার্টিফিকেট তৈরি করে দেয়, তা দেখতে হুবহু আসলের মতো হলেও সরকারি ডাটাবেজে তার কোনো ট্র্যাকিং অস্তিত্ব থাকে না। সার্ভারে তথ্য না পাওয়ামাত্র ইমিগ্রেশন গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই কয়েকদিনের সাময়িক অলসতার জন্য নিজের স্বপ্নময় প্রবাস জীবনের পথ কখনই চিরতরে বন্ধ করবেন না।
লাইভ ৫০+ দেশের ব্যাংক টাকার রেট হিসাব, সৌদি আকামা ও কাতার ভিসা চেক, পাসপোর্ট নবায়ন ট্র্যাকিং এবং দূতাবাস হেল্পলাইন সেবা পেতে এখনই ডাউনলোড করুন ১০০% ফ্রি প্রবাসী অ্যাপ।
১০. পিডিও ট্রেনিং সংক্রান্ত বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. পিডিও ট্রেনিং করতে কি কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা আছে?
না। পিডিও ট্রেনিং করার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত সনদের প্রয়োজন নেই। নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত কর্মী থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত যে কেউ পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে এই ওরিয়েন্টেশনে অংশ নিতে পারেন। প্রশিক্ষকরা সহজ ভাষায় অডিও-ভিজ্যুয়াল ভিডিওর মাধ্যমে সবকিছু বুঝিয়ে দেন।
২. ভিসা পাওয়ার আগেই কি পিডিও ট্রেনিং সম্পন্ন করে রাখা যায়?
হ্যাঁ, অবশ্যই। ভিসা আসার আগেই কেবল বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই আপনি 'আমি প্রবাসী' অ্যাপের মাধ্যমে পিডিও ট্রেনিং সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট নিয়ে রাখতে পারেন। এতে ভিসা আসার সাথে সাথে সময় নষ্ট না করে সরাসরি বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা সম্ভব হয়।
৩. পিডিও ট্রেনিংয়ের ক্লাসে কী কী কাগজপত্র সাথে নিয়ে যেতে হবে?
প্রথম দিন ক্লাসে যাওয়ার সময় সাথে রাখতে হবে: (১) আমি প্রবাসী অ্যাপের ডিজিটাল অ্যাডমিট কার্ডের কালার প্রিন্ট ২ কপি, (২) মূল পাসপোর্ট এবং তথ্যের পাতার ২ কপি ফটোকপি, (৩) জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ফটোকপি এবং (৪) পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি।
৪. কোনো কর্মী যদি ৩ দিনের ক্লাসের মধ্যে ১ দিন অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত থাকেন তবে কী হবে?
সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক সফটওয়্যার প্রতিদিনের উপস্থিতি গণনা করে। ১ দিনও অনুপস্থিত থাকলে সার্টিফিকেট জেনারেট হবে না। সেক্ষেত্রে টিটিসি অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যাচের সেই নির্দিষ্ট দিনের ক্লাসে অংশ নিয়ে হাজিরা পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে, অন্যথায় নতুন করে আবেদন করতে হবে।
৫. পিডিও সার্টিফিকেটের কিউআর কোড স্ক্যান করলে কী প্রদর্শিত হওয়া উচিত?
সঠিক কিউআর কোড স্ক্যান করলে সরাসরি বিএমইটির অফিসিয়াল পোর্টাল (bmet.gov.bd) বা আমি প্রবাসী ভেরিফিকেশন পেজ ওপেন হবে। সেখানে কর্মীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ট্রেনিং সেন্টারের নাম, ব্যাচ নম্বর এবং 'Verified' স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
৬. এক দেশের পিডিও সার্টিফিকেট দিয়ে কি অন্য দেশে যাওয়া সম্ভব?
পিডিও সার্টিফিকেট সাধারণত সার্বজনীন বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব, কাতার, আমিরাত ইত্যাদি) বনাম পূর্ব এশিয়া (মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, জাপান)-এর জন্য কিছু বিশেষ কান্ট্রি-স্পেসিফিক মডিউল থাকায় গন্তব্য দেশ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে হালনাগাদ ওরিয়েন্টেশন লাগতে পারে।
৭. নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে পিডিও ট্রেনিংয়ের অতিরিক্ত নিয়ম কী?
নারী গৃহকর্মীদের জন্য ৩ দিনের সাধারণ পিডিওর পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মহিলা টিটিসিগুলোতে ৩০ দিনের বিশেষ হাউসকিপিং, রান্নাবান্না, আরবি ভাষা ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পরিচালনার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
৮. পিডিও পরীক্ষার প্রশ্ন কি বাংলায় হয় নাকি ইংরেজিতে?
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ সহজ ও সাবলীল বাংলায় প্রণয়ন করা হয়। যারা লিখতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক মৌখিকভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে মূল্যায়ন সম্পন্ন করেন।
৯. পিডিও ট্রেনিং শেষ করার পর বিএমইটি স্মার্ট কার্ড পেতে কত দিন সময় লাগে?
পিডিও সার্টিফিকেট ডাউনলোড হওয়ার পর ভিসা, চুক্তিপত্র, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মেডিকেল রিপোর্ট সহ বিএমইটিতে আবেদন জমা দিলে সাধারণত ৩ থেকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ইস্যু হয়ে যায়।
১০. বিএমইটি ডাটাবেজে পিডিও স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?
বিএমইটির অফিসিয়াল পোর্টাল (bmet.gov.bd) অথবা 'আমি প্রবাসী' অ্যাপের প্রোফাইলে প্রবেশ করে আপনার পাসপোর্ট নম্বর দিলে ট্রেনিং স্ট্যাটাসে 'PDO Completed' দেখতে পাবেন।
১১. পিডিও ট্রেনিং চলাকালীন কি কেন্দ্রে দুপুরের খাবার বা নাস্তা দেওয়া হয়?
অধিকাংশ সরকারি টিটিসিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য হালকা চা-নাস্তার ব্যবস্থা থাকে। তবে দুপুরের মূল খাবার কেন্দ্রের নিজস্ব ক্যান্টিন থেকে নামমাত্র মূল্যে গ্রহণ করতে হয় অথবা বাইরে থেকে খেয়ে নিতে হয়।
১২. পিডিও সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সরকারি হেল্পলাইন নম্বর কত?
প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারের টোল-ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ (দেশের ভেতর থেকে) এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬৫৪৫৫৫৫৫৫ নম্বরে কল করে পিডিও ট্রেনিং ও বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ সরাসরি জানানো যায়।