আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
🇰🇼 কুয়েত প্রবাসী নির্দেশিকা সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ কুয়েত ভিসা ভেরিফিকেশন গাইড

কুয়েত ভিসা চেক ২০২৬: পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে আসল-নকল যাচাই

কুয়েত ভিসা চেক ২০২৬ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে আসল নকল যাচাই
চিত্র ১: কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI Kuwait) অফিশিয়াল পোর্টাল এবং KuwaiteVisa অ্যাপের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও ভিসা নম্বর দিয়ে কুয়েত ভিসা যাচাই ২০২৬
📌 সারসংক্ষেপ ও মূল দিকনির্দেশনা (Executive Summary)

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের (KWD) দেশ কুয়েতে কাজ করতে যাওয়া প্রতিটি বাংলাদেশি কর্মীর স্বপ্ন। কিন্তু এই উচ্চ চাহিদার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে সক্রিয় অসংখ্য দালাল চক্র ফটোশপ করা জাল তাসরিয়া (ওয়ার্ক পারমিট) বা ভুয়া ইলেকট্রনিক ভিসা দেখিয়ে নিরীহ কর্মীদের কাছ থেকে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ ২০২৬ সালে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা Ministry of Interior (MOI Kuwait) এবং Public Authority for Manpower (PAM) তাদের ভিসা ইস্যু ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করে ফেলেছে। ফলে দালালকে এক টাকাও অগ্রিম দেওয়ার আগে আপনি ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোন দিয়ে মাত্র ২ মিনিটে পরীক্ষা করে নিতে পারেন আপনার কুয়েতের ভিসাটি আসল নাকি নকল।

এই পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্য নির্দেশিকায় আমরা পাসপোর্ট নম্বর ও ভিসা রেফারেন্স নম্বর দিয়ে অনলাইনে কুয়েত ভিসা চেক করার ধাপ, অফিশিয়াল KuwaiteVisa ও Sahel (সাহেল) অ্যাপে কিউআর কোড স্ক্যান করে আসল ভিসা চেনার উপায়, শোন ভিসা (আর্টিকেল ১৮) বনাম খাদাম ভিসা (আর্টিকেল ২০)-এর পার্থক্য, গামকা (Wafid) মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সত্যায়ন, ঢাকায় কুয়েত দূতাবাসে ভিসা স্ট্যাম্পিং এবং বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ক্লিয়ারেন্স পর্যন্ত প্রতিটি আইনি ধাপ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।

কুয়েত ভিসা ব্যবস্থাপনা ২০২৬: MOI, PAM (শোন) ও ডিজিটাল ই-ভিসা কাঠামো

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে বর্তমানে প্রায় তিন লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী সুনামের সাথে বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট, ক্লিনিং কোম্পানি, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সেক্টর, রেস্টুরেন্ট, কৃষি এবং গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত আছেন। কুয়েতের শ্রমবাজার ও বিদেশি কর্মীদের ভিসা অনুমোদন প্রক্রিয়া মূলত তিনটি সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়: প্রথমত, Public Authority for Manpower (PAM) যাকে প্রবাসীরা সংক্ষেপে ‘শোন অফিস’ (Shoon) নামে চেনেন—এরা কোম্পানির কোটা যাচাই করে কাজের অনুমতি বা তাসরিয়া (Work Permit / Tasreeh) ইস্যু করে। দ্বিতীয়ত, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা Ministry of Interior (MOI Kuwait - General Department of Residency Affairs)—যারা চূড়ান্ত প্রবেশ ভিসা (Entry Visa / Noc Visa) ইস্যু করে। তৃতীয়ত, Public Authority for Civil Information (PACI)—যারা কুয়েতে পৌঁছানোর পর কর্মীর রেসিডেন্সি বা সিভিল আইডি কার্ড (Civil ID) প্রদান করে। কুয়েত প্রবাসের সামগ্রিক নিয়মকানুন জানতে আমাদের মূল কুয়েত প্রবাসী গাইড এবং ভিসা চেক সেবা পাতাটি দেখতে পারেন।

২০২৬ সালের আধুনিক কুয়েত অভিবাসন ব্যবস্থায় কাগুজে হলুদ বা সাদা ভিসার পাশাপাশি সম্পূর্ণ কিউআর কোডযুক্ত ইলেকট্রনিক ভিসা (Kuwait e-Visa) চালু করা হয়েছে। কুয়েতের নিয়োগকর্তা (কফিল বা কোম্পানি) যখন আপনার পাসপোর্টের কপি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন এবং ভিসা অনুমোদিত হয়, তখন সাথে সাথে সেটি MOI-এর কেন্দ্রীয় সার্ভারে এবং KuwaiteVisa অ্যাপে নথিভুক্ত হয়ে যায়। ফলে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা মধ্যস্বত্বভোগী দালাল যদি আপনাকে বলে যে "আপনার কুয়েতের ভিসা বের হয়েছে, এখনই ৩ লাখ টাকা জমা দিন", তবে টাকা দেওয়ার আগে অনলাইনে ভিসা নম্বর ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সেটি যাচাই করে নেওয়া আপনার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। তাছাড়া আমাদের গুগল প্লে স্টোরের অফিশিয়াল Visa Check অ্যাপ ব্যবহার করেও আপনি সরাসরি কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফিকেশন পোর্টালে প্রবেশ করতে পারেন।

কুয়েত সরকারি দপ্তরের নাম প্রবাসীদের কাছে পরিচিত নাম প্রধান কাজ ও দায়িত্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইট / অ্যাপ
Ministry of Interior (MOI Kuwait) দাখিলিয়া / জাওয়াজাত এন্ট্রি ভিসা ইস্যু, ভিসা স্ট্যাটাস চেক, আকামা স্ট্যাম্পিং ও ট্রাফিক জরিমানা নিয়ন্ত্রণ। moi.gov.kw / KuwaiteVisa App
Public Authority for Manpower (PAM) শোন অফিস (Shoon) কোম্পানির ফাইল (মলফ) অনুমোদন, ওয়ার্ক পারমিট (তাসরিয়া), বেতন ও শ্রম আইন তদারকি। manpower.gov.kw / Ashal Portal
Public Authority for Civil Information (PACI) প্যাসি / বাতাকা অফিস ১২ সংখ্যার সিভিল আইডি কার্ড (বাতাকা মাদানিয়া) প্রিন্টিং ও ঠিকানা নিবন্ধন। paci.gov.kw / Kuwait Mobile ID
Unified Government App সাহেল অ্যাপ (Sahel) ভিসা, আকামা মেয়াদ, কোম্পানির তথ্য, ট্রাভেল ব্যান ও সকল সরকারি নোটিফিকেশন দেখা। Sahel App (Android & iOS)

কুয়েতের ভিসার ধরন: শোন ভিসা (আর্টিকেল ১৮), খাদাম (২০) ও ফ্যামিলি ভিসা (২২)

কুয়েতের ভিসা চেক করার সময় ভিসা কপির ওপরে আরবি ও ইংরেজিতে লেখা থাকে ভিসাটি কুয়েত রেসিডেন্সি আইনের কোন অনুচ্ছেদ বা আর্টিকেলের (Article / المادة) অধীনে ইস্যু করা হয়েছে। বাংলাদেশে অনেকেই না জেনে দালালের কাছ থেকে বাসাবাড়ির ভিসা (খাদাম ভিসা ২০) নিয়ে কুয়েতে গিয়ে কোম্পানিতে বা দোকানে কাজ করতে চান এবং পরবর্তীতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসেন। তাই ভিসা যাচাইয়ের শুরুতেই নিচের ৪টি ভিসা ক্যাটাগরির আইনি পার্থক্য বুঝে নিন:

কুয়েত শোন ভিসা ১৮ এবং খাদাম ভিসা ২০ এর ক্যাটাগরি ও নিয়মাবলী
চিত্র ২: কুয়েতের শোন ভিসা (আর্টিকেল ১৮ কোম্পানি ভিসা), খাদাম ভিসা (আর্টিকেল ২০ গৃহকর্মী ভিসা) এবং সরকারি প্রজেক্ট ভিসার তুলনামূলক চিত্র
ভিসার ধরন ও আর্টিকেল নম্বর আরবি নাম ও পরিচিতি কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ-সুবিধা আকামা পরিবর্তন (তাহাওউল) করার নিয়ম
আর্টিকেল ১৮ — প্রাইভেট সেক্টর (Article 18 Ahliya) শোন আহলিয়া (عمل أهلي) বেসরকারি কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট, সুপারমার্কেট, কনস্ট্রাকশন ও ফ্যাক্টরিতে কাজ। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে (১ থেকে ৩ বছর) অন্য কোম্পানিতে আকামা ট্রান্সফার করা যায়।
আর্টিকেল ১৮ — সরকারি প্রজেক্ট (Govt Contract / Mashru) শোন মশরু হুকুমি (عقد حكومي) হাসপাতাল, বিমানবন্দর, বলদিয়া (পৌরসভা), স্কুল ও অয়েল সেক্টরের সরকারি ঠিকাদারি কাজ। শুধুমাত্র একই কফিলের অন্য প্রজেক্টে বা সরকারি শর্ত সাপেক্ষে প্রজেক্ট শেষে পরিবর্তনযোগ্য।
আর্টিকেল ২০ — গৃহকর্মী ভিসা (Article 20 Domestic) খাদাম ভিসা (عمالة منزلية) কুয়েতি নাগরিকের বাসায় হাউজ ড্রাইভার (সায়েক খাস), বাবুর্চি (তাব্বাখ) বা গৃহকর্মী (খাদেম)। খাদাম ভিসা (২০) থেকে সাধারণ কোম্পানি ভিসায় (১৮) ট্রান্সফার করা সাধারণত বন্ধ থাকে।
আর্টিকেল ১৭ ও ২২ (Govt & Family Visa) হুকুমি (১৭) ও ইস্তিহাক/ফ্যামিলি (২২) সরকারি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি চাকরি (১৭) এবং স্ত্রী-সন্তানদের ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (২২)। ফ্যামিলি ভিসা পেতে কর্মীর মাসিক বেতন ন্যূনতম ৮০০ দিনার ও উচ্চশিক্ষা সনদ থাকতে হয়।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য জরুরি সতর্কতা: আপনার ভিসা কপিতে যদি Article 20 (Domestic Worker / খাদাম) লেখা থাকে, তবে আপনি শুধুমাত্র আপনার স্পনসর (কফিল) কুয়েতি নাগরিকের বাসায় বা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর কাজ করতে পারবেন। খাদাম ভিসা নিয়ে কোনো মুদি দোকান, বলদিয়া, মাছ বাজার বা কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করা কুয়েতের আইনে সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। বিস্তারিত শ্রম আইন জানতে আমাদের কুয়েত আকামা ও শ্রম আইন নির্দেশিকাটি পড়ুন।

কুয়েত ভিসা কপির আরবি শব্দগুলোর বাংলা অর্থ (ভিসা পড়ার সহজ অভিধান)

কুয়েতের ভিসা কপি বা ই-ভিসার কাগজে অধিকাংশ তথ্য আরবিতে লেখা থাকে। দালাল আপনাকে যে কাজের কথা বলে ভিসা দিচ্ছে, ভিসার কাগজে সত্যিই সেই পেশা ও কোম্পানির নাম লেখা আছে কি না তা নিজে মিলিয়ে দেখার জন্য নিচের আরবি-বাংলা শব্দকোষটি ব্যবহার করুন:

ভিসা কপির আরবি শব্দ বাংলা উচ্চারণ প্রকৃত বাংলা অর্থ ও যাচাইয়ের বিষয়
تأشيرة دخول للعمل তাশিরাত দুখুল লিল-আমল কাজের জন্য প্রবেশ ভিসা (Work Entry Visa — এটি আসল কাজের ভিসা)।
رقم التأشيرة / رقم الطلب রকম আল-তাশিরা / রকম আল-তলব ৯ সংখ্যার ভিসা নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (অনলাইনে চেক করার মূল নম্বর)।
مرجع الداخلية মারজা আদ-দাখিলিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯ সংখ্যার রেফারেন্স নম্বর (KuwaiteVisa অ্যাপে এটি লাগে)।
المهنة (عامل / سائق / طباخ / منظف) আল-মিহনাহ (আমেল / সায়েক / তাব্বাখ / মুনাযযিফ) পেশা: সাধারণ শ্রমিক (আমেল), ড্রাইভার (সায়েক), বাবুর্চি (তাব্বাখ), ক্লিনার (মুনাযযিফ)।
اسم الكفيل / صاحب العمل ইসম আল-কফিল / সাহিব আল-আমল স্পনসর বা নিয়োগকর্তা কোম্পানির নাম (যার অধীনে আপনি কাজ করবেন)।
تاريخ الإصدار / تاريخ الانتهاء তারিখ আল-ইসদার / তারিখ আল-ইনতিহা ভিসা ইস্যুর তারিখ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ (সাধারণত ৯০ দিন)।

অনলাইনে কুয়েত ভিসা চেক করার নিয়ম (MOI পোর্টাল ও অ্যাপ্লিকেশন নম্বর)

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Interior) অফিশিয়াল ই-সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসার বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো:

কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় MOI পোর্টালে অনলাইনে ভিসা চেক করার ধাপ
চিত্র ৩: কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (moi.gov.kw) ই-সার্ভিসে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দিয়ে অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করার ধাপ
  • ধাপ ১: অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://www.moi.gov.kw অথবা সরাসরি ই-ভিসা পোর্টাল https://rnt.moi.gov.kw/esrv/VisaStat.do লিংকে প্রবেশ করুন। পেজটি আরবিতে থাকলে ওপরের কোণা থেকে 'English' ভাষা সিলেক্ট করে নিন।
  • ধাপ ২: ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (Visa Application Number) লিখুন: আপনার ভিসা কপির উপরিভাগে বা বারকোডের নিচে থাকা ৯ থেকে ১২ সংখ্যার Visa Number / Application Number (রকম আল-তলব বা রকম আল-তাশিরা) প্রথম বক্সে নির্ভুলভাবে টাইপ করুন।
  • ধাপ ৩: ক্যাপচা কোড ও সাবমিট: নিচের বক্সে প্রদর্শিত সিকিউরিটি ক্যাপচা কোডটি লিখে 'Submit / استعلام' বাটনে ক্লিক করুন।
  • ধাপ ৪: ফলাফল ও নামের বানান মিলিয়ে দেখুন: আপনার ভিসাটি আসল হলে স্ক্রিনে সাথে সাথে ভিসার স্ট্যাটাস 'Approved / صالحة للاستخدام' দেখাবে এবং সেখানে আপনার পূর্ণ নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, জাতীয়তা (Bangladeshi) এবং কফিল বা কোম্পানির নাম স্পষ্টভাবে ভেসে উঠবে।

অনলাইনে কুয়েত ভিসা চেক করলে কী কী স্ট্যাটাস দেখায় এবং এর অর্থ কী?

অনলাইন স্ট্যাটাস (ইংরেজি ও আরবি) বাংলা অর্থ প্রার্থী হিসেবে আপনার করণীয়
Approved / Valid (صالحة للاستخدام) ভিসাটি অনুমোদিত ও বৈধ আপনার ভিসাটি সম্পূর্ণ আসল। এখন আপনি গামকা মেডিকেল ও ঢাকায় দূতাবাস স্ট্যাম্পিং শুরু করতে পারেন।
Under Process / Pending (قيد الإجراء) প্রক্রিয়াধীন আছে কফিল আবেদন জমা দিয়েছেন কিন্তু এখনো MOI অফিসার চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত টাকা দেবেন না।
Rejected / Refused (مرفوض) আবেদন বাতিল হয়েছে নিরাপত্তা ছাড়পত্র বা কোম্পানির কোটা সমস্যার কারণে ভিসাটি নামঞ্জুর হয়েছে।
Used / Entered Country (مستعملة) ভিসাটি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে সতর্ক হোন! অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত পুরনো ভিসায় আপনার নাম ফটোশপ করে বসানো হয়ে থাকতে পারে।
Expired (منتهية الصلاحية) ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কুয়েত ভিসা ইস্যুর দিন থেকে সাধারণত ৯০ দিন মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হলে এই ভিসায় আর স্ট্যাম্পিং বা ফ্লাইট হবে না।

KuwaiteVisa ও Sahel অ্যাপ দিয়ে পাসপোর্ট ও কিউআর কোড স্ক্যান করে ভিসা যাচাই

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাল ভিসা প্রতিরোধের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে যার নাম KuwaiteVisa। যেকোনো নতুন ই-ভিসা (e-Visa) বা ওয়ার্ক ভিসার কাগজের নিচে একটি বিশেষ এনক্রিপ্টেড QR Code থাকে। সাধারণ ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলে অনেক সময় দালালের তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে যেতে পারে, কিন্তু অফিশিয়াল KuwaiteVisa অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলে কখনোই জালিয়াতি করা সম্ভব নয়।

KuwaiteVisa অ্যাপ দিয়ে কুয়েত ই-ভিসার কিউআর কোড স্ক্যান ও যাচাই
চিত্র ৪: কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল KuwaiteVisa অ্যাপ দিয়ে পাসপোর্ট নম্বর ও কিউআর কোড স্ক্যান করে ভিসার সত্যতা যাচাই

KuwaiteVisa অ্যাপে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা চেক করার ৪টি ধাপ

  • ধাপ ১: গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল 'KuwaiteVisa' অ্যাপটি ডাউনলোড ও ওপেন করুন (অথবা আমাদের Visa Check অ্যাপ থেকে কুয়েত অপশন নির্বাচন করুন)।
  • ধাপ ২: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে দুটি অপশন পাবেন: 'Inquire E-Visa' (ম্যানুয়াল সার্চ) এবং 'Scan QR Code'।
  • ধাপ ৩: 'Inquire E-Visa' অপশনে ক্লিক করলে আপনাকে ৪টি তথ্য দিতে হবে:
    • Visa Number: আপনার ৯ সংখ্যার ভিসা নম্বর।
    • MOI Reference Number: ভিসা কপিতে থাকা ৯ সংখ্যার রেফারেন্স নম্বর (مرجع الداخلية)।
    • Passport Number: আপনার বর্তমান বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট বা এমআরপি পাসপোর্ট নম্বর।
  • ধাপ ৪: তথ্যগুলো দিয়ে সার্চ করলেই যদি ভিসাটি আসল হয়, তবে কুয়েত সরকারের সার্ভার থেকে সরাসরি আপনার ছবিযুক্ত বা নামযুক্ত ডিজিটাল ভিসা প্রোফাইল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে। আর যদি 'Invalid Visa Data' দেখায়, তবে বুঝবেন ভিসা কপিটি জাল।

কুয়েতে অবস্থানরত কফিল বা আত্মীয়ের Sahel (সাহেল) অ্যাপ দিয়ে ভিসা চেক

আপনার যদি কুয়েতে কোনো বিশ্বস্ত আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত প্রবাসী ভাই থাকেন, তবে ভিসা যাচাই করার আরেকটি দুর্দান্ত উপায় হলো কুয়েত সরকারের ইউনিফাইড অ্যাপ Sahel (سهل)। কফিল যখন আপনার নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিসা আবেদন করেন, তখন কফিলের নিজের সাহেল অ্যাপের 'Ministry of Interior -> Residency Services -> Visa Inquiry' মেনুতে আপনার ভিসার ডিজিটাল কপি ও অনুমোদনের স্ট্যাটাস তাৎক্ষণিক দেখা যায়। কফিল সেখান থেকে সরাসরি পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড করে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

আসল বনাম নকল কুয়েত ভিসা ও তাসরিয়া চেনার ৮টি ফরেনসিক কৌশল

বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলের অনেক প্রবাসী ভাই ‘তাসরিয়া’ (Tasreeh / Work Permit) এবং চূড়ান্ত ‘ভিসা’ (Entry Visa)—এই দুটির পার্থক্য জানেন না। দালালরা অনেক সময় শুধুমাত্র প্রাথমিক কাজের অনুমতি বা তাসরিয়ার কাগজ (কখনো কখনো শুধুমাত্র কোম্পানির ডিমান্ড লেটার বা অফার লেটার) হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে "তোমার ভিসা চলে এসেছে, ৫ লাখ টাকা দাও।" নিচের সারণি থেকে আসল ও নকল কুয়েত ভিসা চেনার ৮টি পরীক্ষিত কৌশল জেনে নিন:

কুয়েতের আসল ও নকল ভিসা কপি চেনার উপায় এবং দালাল সতর্কতা
চিত্র ৫: কুয়েতের আসল ই-ভিসা বনাম দালালের ফটোশপকৃত ভুয়া ভিসা ও তাসরিয়া শনাক্ত করার চেকলিস্ট
যাচাইয়ের বিষয় আসল কুয়েত ভিসা (Original Visa) নকল বা ভুয়া ভিসা (Fake / Edited Copy)
১. KuwaiteVisa অ্যাপ ভেরিফিকেশন ভিসা নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর ও MOI রেফারেন্স দিলে সরকারি সার্ভারে নাম ও তথ্য দেখায়। সার্ভারে 'No Record Found' বা অন্য কোনো ব্যক্তির নাম দেখায়।
২. তাসরিয়া বনাম চূড়ান্ত ভিসা চূড়ান্ত ভিসায় কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI - تأشيرة دخول) লোগো ও ৯ সংখ্যার ভিসা নম্বর থাকে। শুধুমাত্র শ্রম দপ্তরের (PAM) তাসরিয়া বা প্রাথমিক লেবার ক্লিয়ারেন্সকে ভিসা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
৩. কিউআর কোড (QR Code) পরীক্ষা KuwaiteVisa অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলে সাথে সাথে ভেরিফাইড সরকারি রেকর্ড ওপেন হয়। কিউআর কোড ঝাপসা থাকে অথবা স্ক্যান করলে কোনো ভুয়া লিংকে বা সাধারণ টেক্সটে নিয়ে যায়।
৪. আরবি ও ইংরেজি নামের বানান পাসপোর্টের নামের সাথে ইংরেজি বানান ও আরবি উচ্চারণ নিখুঁতভাবে মিলে যায়। ফটোশপ করে নাম বসানোর কারণে নামের ফন্ট আলাদা দেখায় এবং আরবি নামের ঘরে অন্য নাম থেকে যায়।
৫. কফিলের সিভিল আইডি ও কোম্পানির নাম কফিল বা কোম্পানির বৈধ নাম এবং ফাইল নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। অস্তিত্বহীন কোম্পানির নাম বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ফাইলের নাম লেখা থাকে।
৬. গামকা (Wafid) সিস্টেমে এন্ট্রি ঢাকায় কুয়েত দূতাবাসের তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারে ভিসা নম্বর গ্রহণ করে। মেডিকেল করার অজুহাতে দালাল নিজের পছন্দের আন-অফিশিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়।

ভিসা বের হওয়ার পর করণীয়: গামকা (Wafid) মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

অনলাইনে আপনার কুয়েত ভিসা আসল বলে প্রমাণিত হওয়ার পর বাংলাদেশে ভিসা স্ট্যাম্পিং করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ হলো: ১. গামকা বা ওয়াফিদ (Wafid) মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ২. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) সংগ্রহ ও সত্যায়ন।

কুয়েত ভিসা প্রসেসিংয়ে গামকা মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ম
চিত্র ৬: কুয়েত ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াফিদ (Wafid) মেডিকেল ফিটনেস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সত্যায়ন
  • ১. ওয়াফিদ (Wafid / GAMCA) মেডিকেল পরীক্ষা: জিসিসি (GCC) দেশগুলোর স্বাস্থ্য পোর্টাল wafid.com থেকে অনলাইনে ১০ ডলার ফি দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ বুক করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, কুয়েত দূতাবাসে ভিসা স্ট্যাম্পিং করার জন্য আপনার মূল ভিসা কপিটি কুয়েত থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর (অথবা ভিসা ইস্যুর তারিখের পর) মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। ভিসা ইস্যুর তারিখের আগের পুরনো মেডিকেল রিপোর্ট কুয়েত দূতাবাস গ্রহণ করে না। বিস্তারিত জানতে আমাদের GAMCA মেডিকেল রিপোর্ট চেক গাইডটি পড়ুন।
  • ২. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (Police Clearance Certificate): বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন পোর্টাল (pcc.police.gov.bd) থেকে কুয়েত গমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করতে হবে। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স ইস্যু হওয়ার পর সেটি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs - MOFA Dhaka) থেকে সত্যায়িত (Attested) হতে হবে।
  • ৩. পাসপোর্টের মেয়াদ: কুয়েত ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের সময় আপনার ই-পাসপোর্ট বা এমআরপি পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১ থেকে ২ বছর থাকা বাঞ্ছনীয়, কারণ কুয়েতে গিয়ে পাসপোর্টের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করেই আকামা নবায়ন করা হয়।

কুয়েত ভিসার জন্য গামকা মেডিকেলে কী কী টেস্ট করা হয় এবং আনফিট হওয়ার কারণ

কুয়েত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রবাসী কর্মীদের শারীরিক সক্ষমতার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। ঢাকায় গামকা মেডিকেল এবং পরবর্তীতে কুয়েতে পৌঁছানোর পর শুয়ুখ মেডিকেলে নিচের পরীক্ষাগুলো নিবিড়ভাবে করা হয়:

  • বুকের ডিজিটাল এক্স-রে (Chest X-Ray): ফুসফুসে যক্ষ্মা (TB) বা পুরনো কোনো দাগ (Scar/Calcification) থাকলে কুয়েত মেডিকেলে আনফিট ঘোষণা করা হয়। তাই গামকা করার আগে ভালো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রি-মেডিকেল চেকআপ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
  • রক্তের সংক্রামক ব্যাধি পরীক্ষা (Infectious Disease Screening): হেপাটাইটিস বি (HBsAg), হেপাটাইটিস সি (Anti-HCV), এইচআইভি (HIV), সিফিলিস (VDRL/TPHA) এবং ম্যালেরিয়া বা ফাইলেরিয়া পরীক্ষা করা হয়।
  • লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা: রক্তে বিলিরুবিন, ক্রিয়েটিনিন এবং ফাস্টিং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি।

ঢাকায় কুয়েত দূতাবাসে ভিসা স্ট্যাম্পিং (Endorsement) করার নিয়ম ও সময়সীমা

অনেক দেশের ই-ভিসা হলে দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিতে হয় না, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে কর্মী হিসেবে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো ঢাকার বারিধারায় অবস্থিত কুয়েত দূতাবাস (Embassy of the State of Kuwait, Dhaka) থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং বা এন্ডোর্সমেন্ট করানো বাধ্যতামূলক। এমনকি ইলেকট্রনিক ভিসা হলেও দূতাবাসে আসল পাসপোর্ট, মেডিকেল ফিট রিপোর্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স সিল নিতে হয়।

ঢাকায় কুয়েত দূতাবাস থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং করার নিয়ম ও সময়
চিত্র ৭: অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ঢাকায় কুয়েত দূতাবাসে পাসপোর্ট, মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিয়ে ভিসা স্ট্যাম্পিং

কুয়েত ভিসা স্ট্যাম্পিং করতে কী কী কাগজ লাগে এবং কত দিন সময় লাগে?

  • অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে জমা: কোনো ব্যক্তি সরাসরি নিজে গিয়ে কুয়েত দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিতে পারেন না। দূতাবাস কর্তৃক তালিকাভুক্ত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির (RL Agency) মাধ্যমে ফাইল জমা দিতে হয়।
  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস চেকলিস্ট: (ক) কুয়েত থেকে পাঠানো মূল ভিসা কপি (অথবা ভেরিফাইড ই-ভিসা প্রিন্ট), (খ) আসল পাসপোর্ট, (গ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত মূল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, (ঘ) গামকা বা ওয়াফিদ 'FIT' মেডিকেল রিপোর্ট, (ঙ) সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং (চ) কর্মীর স্বাক্ষরিত চাকরির চুক্তিপত্র।
  • স্ট্যাম্পিং হতে কত দিন লাগে? এজেন্সি সঠিকভাবে সকল কাগজপত্র কুয়েত দূতাবাসে জমা দিলে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্টে কুয়েত ভিসা স্ট্যাম্পিং সম্পন্ন হয়ে বেরিয়ে আসে।
  • ভিসার ৯০ দিনের মেয়াদের হিসাব: কুয়েত থেকে ভিসা ইস্যু হওয়ার দিন থেকে ঠিক ৯০ দিনের (৩ মাস) মধ্যে আপনাকে ভিসা স্ট্যাম্পিং ও বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স শেষ করে কুয়েতের মাটিতে প্রবেশ করতে হবে। ৯০ দিন পার হয়ে গেলে ভিসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
ভিসা প্রসেসিংয়ের ধাপ গড় প্রয়োজনীয় সময় যে দপ্তরে সম্পন্ন হয় বিশেষ সতর্কতা
১. তাসরিয়া ও চূড়ান্ত ভিসা ইস্যু ৭ থেকে ১৪ দিন PAM ও MOI Kuwait (কুয়েত) KuwaiteVisa অ্যাপে ভিসা নম্বর না আসা পর্যন্ত টাকা দেবেন না।
২. ওয়াফিদ (GAMCA) মেডিকেল ও PCC ৫ থেকে ১০ দিন ওয়াফিদ সেন্টার ও বাংলাদেশ পুলিশ ভিসা ইস্যুর তারিখের পরে মেডিকেল স্লিপ কাটতে হবে।
৩. ঢাকা কুয়েত দূতাবাস স্ট্যাম্পিং ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস কুয়েত দূতাবাস, বারিধারা, ঢাকা পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে নামের বানান অভিন্ন হতে হবে।
৪. পিডিও ট্রেনিং ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ৫ থেকে ৭ দিন টিটিসি ও বিএমইটি (আমি প্রবাসী অ্যাপ) বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হওয়া যায় না।

বিএমইটি (BMET) স্মার্ট কার্ড ও কুয়েত যাওয়ার সরকারি খরচের হিসাব

ঢাকায় কুয়েত দূতাবাস থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং হয়ে পাসপোর্ট বের হওয়ার পর আপনার পরের কাজ হলো ৩ দিনের প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন (পিডিও ট্রেনিং) সম্পন্ন করা, বিএমইটি ডাটাবেজে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র বা বিএমইটি স্মার্ট কার্ড (BMET Smart Card) গ্রহণ করা।

কুয়েত ভিসা চেক শেষে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ও ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ
চিত্র ৮: কুয়েত ফ্লাইটের পূর্বে আমি প্রবাসী অ্যাপ ও বিএমইটি পোর্টাল থেকে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ও বহির্গমন ছাড়পত্র যাচাই

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক কুয়েত গমনের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় হলো ১,০৬,৭৮০ টাকা (এক লক্ষ ছয় হাজার সাতশত আশি টাকা)। আর সরকারি বোয়েসেল (BOESL)-এর মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স বা টেকনিশিয়ান হিসেবে গেলে খরচ হয় আরও অনেক কম। অথচ বাস্তবে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের ৩-৪ হাত বদলের কারণে সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। দালালকে টাকা দেওয়ার সময় অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে দেবেন এবং বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মানি রিসিপ্ট সংরক্ষণ করবেন। এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই করতে আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স চেক গাইডটি দেখুন।

দালালকে ভিসার টাকা পরিশোধ করার নিরাপদ ৩-কিস্তি ফর্মুলা

  • ১ম ধাপ (ভিসা বের হওয়ার আগে): শুধুমাত্র পাসপোর্টের ফটোকপি ও ছবি দিন। অনলাইনে ভিসা বের হওয়ার আগে কোনো নগদ টাকা দেবেন না।
  • ২য় ধাপ (KuwaiteVisa অ্যাপে ভিসা চেক ও মেডিকেল ফিট হওয়ার পর): নিজের ফোনে KuwaiteVisa অ্যাপ দিয়ে ভিসা যাচাই করে এবং গামকা মেডিকেলে 'FIT' রিপোর্ট আসার পর এজেন্সির ব্যাংক একাউন্টে আংশিক টাকা জমা দিন।
  • ৩য় ধাপ (ভিসা স্ট্যাম্পিং, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ও বিমানের টিকিট হাতে পেয়ে): পাসপোর্টে কুয়েত দূতাবাসের স্ট্যাম্প, কিউআর কোডযুক্ত বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স কার্ড এবং কনফার্ম বিমান টিকিট (ঢাকা টু কুয়েত বিমান ভাড়া গাইডে পিএনআর চেকের নিয়ম দেখুন) হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করুন।

কুয়েত পৌঁছানোর পর ৬০ দিনের বাধ্যবাধকতা: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মেডিকেল ও আকামা

অনেক নতুন প্রবাসী মনে করেন ঢাকা থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং করে বিমানে কুয়েত বিমানবন্দরে নামলেই সব কাজ শেষ। কিন্তু কুয়েতের আইন অনুযায়ী আপনার পাসপোর্টে থাকা ভিসাটি শুধুমাত্র একটি প্রবেশ ভিসা (Entry Visa)। আপনি যেদিন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখবেন, সেদিন থেকে ঠিক ৬০ দিনের (২ মাস) মধ্যে আপনার কফিল বা কোম্পানিকে নিচের ৪টি সরকারি ধাপ সম্পন্ন করে আপনার রেসিডেন্সি বা আকামা (Iqama) ও সিভিল আইডি কার্ড করে দিতে হবে:

কুয়েত বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও আগমন পরবর্তী আকামা প্রসেসিং ধাপ
চিত্র ৯: কুয়েতে আগমনের ৬০ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট, সরকারি মেডিকেল পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবীমা ও সিভিল আইডি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা
  • ১. পুনরায় সরকারি মেডিকেল ও এক্স-রে (Kuwait Gamca Re-Medical): কুয়েতে পৌঁছানোর পর শুয়ুখ (Shuwaikh), সাবাহ বা আলি সাবাহ আল-সালেম (উম্মুল হেইমান) সরকারি মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে আবার রক্ত পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে করাতে হয়।
  • ২. বায়োমেট্রিক দশ আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট (Biometric Fingerprint): কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্টারে (যেমন ফরওয়ানিয়া, জাহরা, আহমেদি বা মুবারক আল-কবীর) গিয়ে দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস স্ক্যান দিতে হয়।
  • ৩. স্বাস্থ্যবীমা (Health Insurance / Dhaman) ও আকামা স্ট্যাম্পিং: কফিল আপনার জন্য বার্ষিক ৫০ কুয়েতি দিনার স্বাস্থ্যবীমা ফি এবং রেসিডেন্সি ফি পরিশোধ করে অনলাইনে আপনার আকামা ইস্যু করবেন।
  • ৪. প্যাসি (PACI) সিভিল আইডি কার্ড সংগ্রহ: আকামা ইস্যু হওয়ার পর ৫ দিনার কার্ড ফি জমা দিলে সাউথ সুরা বা নির্ধারিত PACI অফিস থেকে আপনার ১২ সংখ্যার কুয়েত সিভিল আইডি কার্ড বের হবে এবং আপনি ফোনে Kuwait Mobile ID (Hawiyati) অ্যাপ চালু করতে পারবেন।

সতর্কতা: কুয়েতে প্রবেশের পর ৬০ দিনের মধ্যে যদি আকামা না লাগানো হয়, তবে ৬১তম দিন থেকে প্রতিদিন ২ কুয়েতি দিনার (প্রায় ৮০০ টাকা) হারে জরিমানা (Overstay Fine) জমা হতে শুরু করবে, যা সর্বোচ্চ ৬০০ দিনার পর্যন্ত হতে পারে।

কুয়েতের ৬টি গভর্নরেট বা অঞ্চলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাওয়াজাত অফিসের তালিকা

কুয়েতে পৌঁছানোর পর আপনার কোম্পানির ঠিকানা বা কফিলের বসবাসের এলাকা যে গভর্নরেটের (Governorate / محافظة) অধীনে অবস্থিত, ঠিক সেই অঞ্চলের নির্ধারিত বায়োমেট্রিক সেন্টারে গিয়ে আপনাকে আঙুলের ছাপ ও আকামা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে:

গভর্নরেটের নাম (Governorate) প্রবাসী অধ্যুষিত প্রধান এলাকাসমূহ সংশ্লিষ্ট জাওয়াজাত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট অফিস
১. আল আসিমাহ (Capital / Kuwait City) মুরগাব, শরক, সুক আল-মুবারকিয়া, শুয়ুখ ইন্ডাস্ট্রিয়াল, কাইফান শুয়ুখ (Shuwaikh) রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স ও গামকা মেডিকেল কমপ্লেক্স
২. ফরওয়ানিয়া (Farwaniya) জليب আল-শুয়ুখ (হাসাওয়া), খাইতান, আব্বাসিয়া, রাবিয়া, আরদিয়া ফরওয়ানিয়া জাওয়াজাত ও আলী সাবাহ আল-সালেম ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্টার
৩. হাওয়ালি (Hawalli) সালমিয়া, হাওয়ালি, জাবরিয়া, মিশরেফ, সালওয়া, রুমিথিয়া হাওয়ালি রেসিডেন্সি ডিপার্টমেন্ট ও মিশরেফ সরকারি সেবা কেন্দ্র
৪. আল আহমেদি (Al Ahmadi) ফাহাহিল, মাহবুলা, মানগাফ, আবু হালিফা, ওফরা কৃষি অঞ্চল আহমেদি জাওয়াজাত ও উম্মুল হেইমান (আলী সাবাহ আল-সালেম) মেডিকেল সেন্টার
৫. আল জাহরা (Al Jahra) জাহরা সিটি, আবদালি কৃষি খামার অঞ্চল, সুলাইবিয়া জাহরা রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কেন্দ্র
৬. মুবারক আল-কবীর (Mubarak Al-Kabeer) সাবাহ আল-সালেম, আদান, কুরাইন, কুসুর, ফুনাইতিস মুবারক আল-কবীর গভর্নরেট সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট ও প্যাসি শাখা

কুয়েতে ‘ফ্রি ভিসা’ প্রতারণা, PAM তল্লাশি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহায়তা

বাংলাদেশে দালালদের সবচেয়ে বড় প্রতারণার নাম হলো ‘কুয়েত ফ্রি ভিসা’ (Free Visa)। দালালরা আপনাকে বলবে, "কুয়েতে গিয়ে কফিলকে বছরে ২০০ বা ৩০০ দিনার দিলে তুমি যেকোনো জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করে মাসে লাখ টাকা কামাতে পারবে।" কিন্তু বাস্তব সত্য হলো—কুয়েতের আইনে ফ্রি ভিসা বলতে পৃথিবীতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই!

কুয়েতে ফ্রি ভিসা বা অবৈধ কাজের ঝুঁকি এবং শ্রম আইন সতর্কতা
চিত্র ১০: কুয়েতে ফ্রি ভিসার নামে অবৈধ কাজ ও ভুয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে PAM ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ তল্লাশি অভিযান

২০২৬ সালে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOI) এবং শ্রম দপ্তরের (PAM) যৌথ তল্লাশি টিম (লজনা / Tripartite Committee) প্রতিদিন জليب আল-শুয়ুখ (হাসাওয়া), ফরওয়ানিয়া, মাহবুলা, ফাহাহিল ও সুক আল-মুবারকিয়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালাচ্ছে। আপনার সিভিল আইডিতে যে কোম্পানির বা যে কফিলের নাম লেখা আছে, আপনি যদি সেই স্থান ছাড়া অন্য কোনো দোকানে, রেস্টুরেন্টে বা কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করার সময় ধরা পড়েন, তবে শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে আপনাকে কোনো শুনানি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে ফরওয়ানিয়া ডিপোর্টেশন সেন্টারে (সফর জেল) পাঠানো হবে এবং আজীবনের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্লক (বালাগ/ব্ল্যাকলিস্ট) করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

কুয়েত ভিসা প্রতারণা এড়াতে নতুন প্রবাসীদের ১০-দফা চূড়ান্ত সুরক্ষা চেকলিস্ট

  • ১. KuwaiteVisa অ্যাপে কিউআর স্ক্যান: যেকোনো কাগজের ভিসা বা ই-ভিসা হাতে পেলে প্রথমেই কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল KuwaiteVisa অ্যাপে ভিসা নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর ও MOI রেফারেন্স দিয়ে যাচাই করুন।
  • ২. শোন (১৮) বনাম খাদাম (২০) নিশ্চিতকরণ: আপনি যদি কোম্পানিতে কাজ করতে যান, তবে ভিসায় যেন অবশ্যই আর্টিকেল ১৮ (শোন আহলিয়া বা হুকুমি) লেখা থাকে—আর্টিকেল ২০ (খাদাম) নিয়ে কোম্পানিতে কাজ করতে যাবেন না।
  • ৩. বন্ধ কোম্পানি বা ভুয়া মলফ যাচাই: কুয়েতে থাকা কোনো পরিচিত প্রবাসীর মাধ্যমে খোঁজ নিন ভিসা ইস্যুকারী কোম্পানিটি বাস্তবে চালু আছে কি না এবং তাদের শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেওয়া হয় কি না।
  • ৪. মূল বেতন ও থাকা-খাওয়ার চুক্তি: কুয়েতে যাওয়ার আগে চুক্তিপত্রে বেসিক বেতন কত দিনার (যেমন ৮৫ থেকে ১২০ দিনার বা তার বেশি), দৈনিক কর্মঘণ্টা (৮ ঘণ্টা) এবং বাসস্থান ও খাবার কোম্পানির কি না তা স্পষ্টভাবে দেখে নিন।
  • ৫. ভিসা ইস্যুর পরে মেডিকেল: কুয়েত ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য ভিসা ইস্যু হওয়ার তারিখের পরে গামকা (Wafid) মেডিকেল স্লিপ কাটুন এবং সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা দিন।
  • ৬. ব্যাংক চ্যানেলে লেনদেন: কখনোই গ্রামের দালালের হাতে নগদ টাকা দেবেন না; সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির (RL) প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা দিয়ে মানি রিসিপ্ট নিন।
  • ৭. মূল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও নামের বানান যাচাই: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে আপনার নাম, পিতার নাম ও পাসপোর্ট নম্বর যেন এক অক্ষরও ভুল না থাকে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন যেন অনলাইনে কিউআর কোড দিয়ে যাচাইযোগ্য হয়।
  • ৮. বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ছাড়া বিমানবন্দরে না যাওয়া: পাসপোর্টে কুয়েত দূতাবাসের স্ট্যাম্প লাগার পর অবশ্যই আমি প্রবাসী অ্যাপ থেকে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করে নেবেন।
  • ৯. বিমান টিকিটের পিএনআর (PNR) যাচাই: ফ্লাইটের আগে বিমান বাংলাদেশ, কুয়েত এয়ারওয়েজ বা জাজিরা এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইটে ৬ সংখ্যার বুকিং রেফারেন্স দিয়ে টিকিট কনফার্ম কি না চেক করুন।
  • ১০. জরুরি ফোন নম্বর ডায়েরিতে রাখা: ফ্লাইটে ওঠার আগে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নম্বর, কফিলের মোবাইল নম্বর এবং কুয়েত শ্রম দপ্তরের জরুরি নম্বর পকেটে একটি ছোট ডায়েরিতে লিখে রাখুন।
কুয়েত ভিসা সমস্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা
চিত্র ১১: কুয়েতে ভিসা বা আকামা জটিলতায় বাংলাদেশ দূতাবাস (মিশরেফ) ও শ্রম কল্যাণ উইংয়ের আইনি সহায়তা ডেস্ক

আপনি যদি কুয়েতে গিয়ে দেখেন যে কোম্পানি আপনাকে প্রতিশ্রুত কাজ বা আকামা দিচ্ছে না, তবে অবৈধ হয়ে পালিয়ে না গিয়ে দ্রুত কুয়েতের মিশরেফ (Mishref) এলাকায় অবস্থিত কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস-এর শ্রম কল্যাণ উইংয়ে অথবা কুয়েত সরকারের পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (PAM)-এ অভিযোগ জানান। তাছাড়া প্রতিদিনের কুয়েতি দিনারের বিনিময় হার জানতে আমাদের আজকের কুয়েতি দিনার রেট বাংলাদেশ গাইড এবং গুগল প্লে স্টোরের Taka Rate Today অ্যাপ (আজকের টাকার রেট) ব্যবহার করতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

কুয়েত প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসাপ্রত্যাশী ভাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:

কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট হলো moi.gov.kw (Visa Application Status) এবং অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ হলো 'KuwaiteVisa'। এখানে আপনার ৯ সংখ্যার ভিসা নম্বর, MOI রেফারেন্স নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে আসল-নকল ভিসা যাচাই করা যায়।

আর্টিকেল ১৮ বা শোন ভিসা হলো বেসরকারি কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট বা কনস্ট্রাকশন কাজের ভিসা, যা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর অন্য কোম্পানিতে পরিবর্তন (তাহাওউল) করা যায়। অন্যদিকে আর্টিকেল ২০ বা খাদাম ভিসা হলো কুয়েতি নাগরিকের বাসায় গৃহকর্মী বা হাউজ ড্রাইভারের ভিসা, যা দিয়ে বাইরে দোকানে বা কোম্পানিতে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

কুয়েত থেকে এন্ট্রি ভিসা ইস্যু হওয়ার দিন থেকে সাধারণত ৯০ দিন (৩ মাস) মেয়াদ থাকে। এই ৯০ দিনের মধ্যেই আপনাকে গামকা মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ঢাকায় কুয়েত দূতাবাস স্ট্যাম্পিং এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স শেষ করে কুয়েতে প্রবেশ করতে হবে।

না। কুয়েত দূতাবাসের নিয়ম অনুযায়ী আপনার ভিসা ইস্যুর তারিখের পরে করা নতুন ওয়াফিদ (Wafid/GAMCA) মেডিকেল ফিটনেস রিপোর্ট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিতে হবে।

সকল কাগজপত্র (পাসপোর্ট, মূল ভিসা, ফিট মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স) সঠিক থাকলে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভিসা স্ট্যাম্পিং সম্পন্ন হয়।

কুয়েত বিমানবন্দরে প্রবেশের দিন থেকে ৬০ দিনের (২ মাস) মধ্যে কফিলকে আপনার সরকারি মেডিকেল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আকামা সম্পন্ন করতে হবে। ৬০ দিন পার হলে প্রতিদিন ২ দিনার করে জরিমানা গুনতে হয়।

না, কুয়েতের শ্রম ও রেসিডেন্সি আইনে ‘ফ্রি ভিসা’ সম্পূর্ণ অবৈধ। আপনার সিভিল আইডিতে যে কফিল বা কোম্পানির নাম লেখা আছে, তার বাইরে অন্য কোথাও কাজ করলে পুলিশ বা PAM তল্লাশিতে ধরা পড়লে সরাসরি ডিপোর্টেশন করা হয়।

তাসরিয়া হলো কুয়েতের শ্রম দপ্তর (PAM/শোন) থেকে দেওয়া প্রাথমিক কাজের অনুমতিপত্র। তাসরিয়া বের হওয়ার পর কফিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (MOI) আবেদন করলে ৯ সংখ্যার চূড়ান্ত ভিসা বের হয়। শুধুমাত্র তাসরিয়া দেখে কখনোই দালালকে পুরো টাকা দেবেন না।

হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে কর্মী ভিসায় (আর্টিকেল ১৮ বা ২০) কুয়েত যাওয়ার ক্ষেত্রে ই-ভিসা হলেও ঢাকায় কুয়েত দূতাবাসে পাসপোর্ট, মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিয়ে এন্ডোর্সমেন্ট করানো এবং বিএমইটি স্মার্ট কার্ড নেওয়া বাধ্যতামূলক।

'Used' দেখালে বুঝবেন ভিসাটি দিয়ে ইতিমধ্যে অন্য কেউ কুয়েতে প্রবেশ করেছে (অর্থাৎ দালাল অন্যের ভিসায় আপনার নাম এডিট করেছে)। আর 'Expired' দেখালে বুঝবেন ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং এই ভিসায় আর ভ্রমণ করা যাবে না।

ঢাকায় কুয়েত দূতাবাসে ভিসা স্ট্যাম্পিং করার সময় আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১ বছর (অথবা ন্যূনতম ৬ মাসের বেশি) থাকতে হবে। তবে কুয়েতে গিয়ে ২ বছরের আকামা লাগানোর সুবিধার্থে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বছর মেয়াদ থাকা সবচেয়ে ভালো।

আরবি ‘আমেল’ শব্দের অর্থ সাধারণ কর্মী বা জেনারেল লেবার (General Worker)। কোম্পানি ভিসায় (আর্টিকেল ১৮) আমেল লেখা থাকলে ক্লিনিং, লোডিং-আনলোডিং, ফ্যাক্টরি বা সুপারমার্কেট হেল্পার হিসেবে কাজ করতে হয়। আর খাদাম ভিসায় (আর্টিকেল ২০) আমেল মঞ্জিলি লেখা থাকলে বাসাবাড়ির কাজ বোঝায়।

আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কবার্তা: "কুয়েত ভিসা চেক ২০২৬: পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে আসল-নকল যাচাই" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি কুয়েতগামী ও কুয়েতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আইনি পরামর্শ নয়। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOI Kuwait), পাবলিক অথরিটি ফর সিভিল ইনফরমেশন (PACI), পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (PAM) এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের যেকোনো নীতিমালা বা ফি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Interior - MOI Kuwait): https://www.moi.gov.kw
  • পাবলিক অথরিটি ফর সিভিল ইনফরমেশন (PACI Civil ID): https://www.paci.gov.kw
  • পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (PAM Ashal Portal): https://www.manpower.gov.kw
  • বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত (Embassy of Bangladesh, Kuwait): https://kuwait.mofa.gov.bd