সৌদি হুরুব চেক ও হুরুব কাটার নতুন আইন ২০২৬
সংক্ষেপে জরুরি তথ্য
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (HRSD) অধীনে কোনো কর্মীকে কফিল বা নিয়োগকর্তা অনুপস্থিত ঘোষণা করলে তাকে "হুরুব" বলা হয়। ২০২৬ সালের আধুনিক শ্রম নীতিমালায় কোনো প্রবাসী কর্মীর উপর হুরুব জারি হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কোনো বৈধ নিয়োগকর্তা ক্বিওয়া (Qiwa) পোর্টালের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ট্রান্সফার রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে হুরুব বাতিল ও আইনি কাফালা সম্পন্ন করতে পারেন।
সৌদি হুরুব কী এবং এর আইনি প্রভাব
সৌদি আরবের প্রচলিত অভিবাসন ও শ্রম আইনে একজন প্রবাসী কর্মী যখন কোনো প্রকার পূর্ব বিজ্ঞপ্তি বা আইনি ছুটি ব্যতিরেকে কর্মস্থল ত্যাগ করেন, তখন নিয়োগকর্তা আইনত পাসপোর্ট অধিদপ্তরে (জাওয়াজাত) অনুপস্থিতির প্রতিবেদন দাখিল করেন। আরবিতে এই আইনি পরিভাষাকে বলা হয় হুরুব (Huroob) বা অননুমোদিত অনুপস্থিতি। হুরুব নথিভুক্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্মীর ইকামা স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যায়।
ইকামা স্থগিত হলে কর্মী ব্যাংকিং লেনদেন, স্বাস্থ্যবীমা এবং যেকোনো বৈধ সরকারি নাগরিক সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পূর্বে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত একপেশে থাকলেও বর্তমানে সৌদি আরবের উন্নত মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (HRSD) শ্রম সংস্কার ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের আইনি অধিকার ও সুবিচারের ব্যাপক পথ উন্মোচন করেছে। কর্মীরা তাদের বর্তমান অবস্থা সৌদি আবশের ও ইকামা নির্দেশিকা অনুসরণ করে অনলাইনে সরাসরি যাচাই করতে পারেন।
অনলাইনে হুরুব স্ট্যাটাস অনুসন্ধানের সঠিক পদ্ধতি
কোনো প্রকার জটিলতা বা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ছাড়াই যে কেউ মাত্র দুই মিনিটে নিজের বা পরিচিত প্রবাসীর কাজের বৈধ অবস্থা পরীক্ষা করতে পারেন। এর জন্য নিচের ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে:
১. এইচআরএসডি শ্রম মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে প্রবেশ
সর্বপ্রথম ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ই-সার্ভিসেস পেজে প্রবেশ করুন। সেখানে অনুসন্ধান তালিকা থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে 'প্রবাসী শ্রমিকের কাজের অবস্থা যাচাই' অপশনটি বেছে নিন।
২. ইকামা অথবা পাসপোর্ট নম্বর ইনপুট
নির্দিষ্ট বক্সে আপনার ১০ ডিজিটের আবাসিক ইকামা নম্বর লিখুন। যদি নতুন কর্মী হন এবং ইকামা এখনো তৈরি না হয়ে থাকে, তবে পাসপোর্টে থাকা বর্ডার বা সীমান্ত নম্বর নির্বাচন করে বসিয়ে দিন। জাতীয়তা হিসেবে 'বাংলাদেশ' বাছাই করুন এবং প্রদত্ত সিকিউরিটি ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে পূরণ করে অনুসন্ধান বাটনে চাপ দিন।
৩. ফলাফল বিশ্লেষণ ও স্ট্যাটাস যাচাই
পর্দায় প্রবাসীর নাম, বর্তমান প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজের স্ট্যাটাস (Work Status) ভেসে উঠবে। যদি সেখানে সবুজ হরফে 'অন ডিউটি' (On The Job) লেখা থাকে, তবে বুঝবেন কোনো হুরুব নেই। অপরদিকে যদি 'অ্যাবসেন্ট ফ্রম ওয়ার্ক' (Absent from Work) প্রদর্শিত হয়, তবে বুঝতে হবে কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে হুরুব তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও ভ্রমণের পূর্বে আপনার ছুটির সঠিক মেয়াদ দেখতে মুইকিম ভিসা ভ্যালিডিটি নির্দেশিকা দেখে নিতে পারেন।
২০২৬ সালের নতুন শ্রম আইনে হুরুব কাটার ৪টি কার্যকর উপায়
সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বাস্তবায়িত নতুন শ্রম নীতিমালায় হুরুবগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য বৈধ হওয়ার একাধিক সময়োপযোগী দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। অতীতে দালাল চক্রের হাতে লক্ষাধিক রিয়াল হারানোর যে ঝুঁকি ছিল, ডিজিটাল ক্বিওয়া এবং মন্ত্রণালয় চালুর ফলে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়েছে।
১. ২০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রত্যাহার
কফিল যদি ভুলবশত বা রাগের মাথায় হুরুব নথিভুক্ত করে থাকেন, তবে আইনত তিনি ২০ দিনের ভেতর নিজের বাণিজ্যিক আবশের একাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উক্ত হুরুব ক্যানসেল করতে পারেন। এর জন্য প্রবাসীকে দ্রুত নিয়োগকর্তার সাথে আলাপ করে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
২. ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডে ক্বিওয়ায় নতুন কাফালা স্থানান্তর
সবচেয়ে যুগান্তকারী সুযোগ হলো ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড। হুরুব নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত কর্মীর ফাইল কেন্দ্রীয় সিস্টেমে ট্রান্সফারের জন্য খোলা থাকে। এই সময়ের মধ্যে কোনো নতুন স্পন্সর বা কোম্পানি যদি উক্ত কর্মীকে গ্রহণ করতে চায়, তবে তারা সরাসরি ক্বিওয়া পোর্টালে কাজের অফার লেটার পাঠাতে পারবে। কর্মী আবেদন গ্রহণ করলে পূর্বের কফিলের কোনো অনুমোদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাফালা সম্পন্ন হয়।
৩. লেবার কোর্টে হয়রানিমূলক হুরুবের বিরুদ্ধে অভিযোগ
যদি কোনো কফিল বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে বা কোনো বৈধ কারণ ছাড়া প্রতিহিংসামূলকভাবে হুরুব নথিভুক্ত করে, তবে কর্মী মন্ত্রণালয়ের কমপ্লেইন্ট পোর্টাল কিংবা শ্রম আদালতের ডিজিটাল পোর্টালে প্রমাণসহ মামলা দায়ের করতে পারেন। আদালত তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে হুরুব বাতিল করে কর্মীকে ক্ষতিপূরণসহ মুক্ত কাফালার আদেশ দেয়। প্রয়োজন হলে আবশের সেবা নিশ্চিতে আবশের রেজিস্ট্রেশন ও কিওস্ক ফিঙ্গারপ্রিন্ট গাইড পড়ে প্রস্তুতি নিন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, সময়সীমা ও সরকারি ফি
হুরুব সমাধান ও বৈধভাবে নতুন স্পন্সরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে সকল নথিপত্র এবং সরকারি আর্থিক বিষয়াদি জড়িত থাকে, তা নিচে স্পষ্ট ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সেবার বিষয় | প্রয়োজনীয় নথিপত্র | আইনি সময়সীমা | সরকারি ফি / খরচ |
|---|---|---|---|
| কফিল কর্তৃক প্রত্যাহার | ইকামা কপি, আবশের বিজনেস ভেরিফিকেশন | সর্বোচ্চ ২০ দিন | সম্পূর্ণ ফ্রি (সরকারি চার্জ নেই) |
| ক্বিওয়া ট্রান্সফার | পাসপোর্ট, নতুন কোম্পানির ডিজিটাল চুক্তি | ৬০ দিনের মধ্যে | স্থানান্তর ফি নতুন কোম্পানি বহন করে |
| লেবার কোর্ট ক্লেইম | বেতন স্লিপ, উপস্থিতির প্রমাণপত্র | শুনানি অনুযায়ী ১৫-৪৫ দিন | ফ্রি জুডিশিয়াল সার্ভিস |
| তর্হিল এক্সিট পেপার | মূল পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট আউটপাস | ৩ থেকে ৭ কার্যদিবস | বিমান টিকিট ও জাওয়াযাত প্রক্রিয়া ফি |
সাধারণ ভুলত্রুটি ও প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতা
হুরুব সম্পর্কিত জটিলতায় প্রবাসীরা প্রায়শই আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চললে নিজেকে বিপদমুক্ত রাখা সহজ হবে:
- দালালদের অবাস্তব প্রলোভন এড়িয়ে চলুন: সামাজিক মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি যদি দাবি করে যে সে মন্ত্রণালয় বা জাওয়াজাতে গোপনে প্রবেশ করে অবৈধভাবে হুরুব মুছে দেবে, তবে তা শতভাগ প্রতারণা। শুধুমাত্র সরকারি ডিজিটাল চ্যানেল ছাড়া কোনো সিস্টেম হ্যাক করা সম্ভব নয়।
- ৬০ দিনের সময়সীমা মিস করবেন না: হুরুব হওয়ার পর ৬০ দিন পার হয়ে গেলে ফাইল মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্তভাবে জাওয়াজাত ব্ল্যাকলিস্টে চলে যায়। এরপর আর ক্বিওয়ায় কাফালা সম্ভব হয় না।
- কাজের চুক্তি ডিজিটাল রাখুন: যেকোনো নিয়োগকর্তার সাথে মৌখিক চুক্তি না করে ক্বিওয়া পোর্টালে সরকার স্বীকৃত কন্ট্রাক্ট সম্পন্ন করুন। এটিই আপনার সবচেয়ে বড় আইনি রক্ষাকবচ।
৭. অসৎ বা প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা হুরুবের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আপিলের নিয়ম
অনেক সময় দেখা যায়, একজন প্রবাসী কর্মী তার ন্যায্য বকেয়া বেতন দাবি করলে, কাজের অতিরিক্ত সময় পারিশ্রমিক চাইলে কিংবা বৈধভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাফালা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে অসাধু কফিল প্রতিহিংসামূলকভাবে কর্মীর বিরুদ্ধে ভুয়া 'কাজে অনুপস্থিত' বা হুরুব রিপোর্ট দাখিল করে দেয়। এটি সৌদি শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইনত একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (HRSD) এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে কর্মীদের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে:
- শ্রম মন্ত্রণালয়ের আমেল পোর্টালে (Amel Portal) মামলা: হুরুব জারি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কর্মীকে অফিশিয়াল শ্রম প্ল্যাটফর্মে গিয়ে 'মিথ্যা পলাতক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন' (طلب إلغاء بلاغ تغيب كيدي) দাখিল করতে হবে।
- কাজে উপস্থিতির প্রমাণপত্র উপস্থাপন: কর্মী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে হুরুব দেওয়ার তারিখে তিনি কর্মস্থলে ছিলেন, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অথবা কোম্পানি তাকে কাজে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে (যেমন সিসিটিভি ফুটেজ, সহকর্মীদের সাক্ষ্য, ব্যাংক স্যালারি স্টেটমেন্ট বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ), তবে শ্রম আদালত অভিযোগটিকে 'কায়েদি' বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে ঘোষণা করে।
- ক্ষতিপূরণ ও কফিলকে জরিমানা: অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীর মাথা থেকে হুরুব প্রত্যাহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কফিলের বিরুদ্ধে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা ধার্য করে। পাশাপাশি কর্মীকে কোনো কফিলের অনুমতি ছাড়াই উন্মুক্ত কাফালা হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়।
৮. হুরুব অবস্থায় গ্রেফতার এড়িয়ে ডিপোর্টেশন সেন্টার ছাড়া বৈধ হওয়ার সুযোগ
সৌদি আরবে হুরুব প্রাপ্ত কর্মীদের প্রতিনিয়ত পুলিশি অভিযানের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। তবে কিছু আইনি সুযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে কর্মী গ্রেফতার বা তারহিল জেল ছাড়াই পুনরায় বৈধ স্ট্যাটাসে ফিরতে পারেন:
- কফিলের সাথে সমঝোতা ও ফি পরিশোধ: হুরুব জারি হওয়ার প্রথম ২০ দিনের মধ্যে কফিল চাইলে নিজেই আবশির বিজনেস পোর্টাল থেকে কোনো জরিমানা ছাড়াই হুরুব ক্যানসেল করতে পারেন। ২০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ক্যানসেল করতে হলে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ফি পরিশোধ করতে হয়।
- কোম্পানি রেড ক্যাটাগরিতে চলে যাওয়া: যে প্রতিষ্ঠান কর্মীর ওপর হুরুব জারি করেছে, সেই কোম্পানি যদি পরবর্তীতে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের নাতাকাত সিস্টেমে লাল তালিকায় (Red Zone) পতিত হয়, তবে হুরুবপ্রাপ্ত কর্মী বিশেষ সরকারি আদেশে কোনো আপত্তি ছাড়াই নতুন গ্রিন ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে কাফালা ট্রান্সফার হতে পারেন।
- সাধারণ ক্ষমা (তওবা/আম্নেস্টি): সৌদি রাজকীয় সরকার যখন বিশেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে, তখন হুরুবপ্রাপ্ত প্রবাসীরা কোনো জেল-জরিমানা ছাড়াই সরাসরি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন অথবা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে পারেন।
৯. বাস্তব কেইস স্টাডি: রিয়াদে এক বাংলাদেশি ভাইয়ের মিথ্যা হুরুব বাতিলের অভিজ্ঞতা
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রিয়াদের একটি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মী মো. রফিকুল ইসলাম তিন মাসের বকেয়া বেতনের জন্য কফিলকে আইনি নোটিশ দেন। কফিল ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে হুরুব এন্ট্রি করে দেয়। রফিকুল ভাই আতঙ্কিত না হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের সহায়তায় সৌদি শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তির প্রাথমিক পোর্টালে অভিযোগ দাখিল করেন।
শুনানিতে কফিল দাবি করেন যে কর্মী কোনো তথ্য ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। কিন্তু রফিকুল ভাই ব্যাংকের ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেমের (WPS) স্যালারি হিস্ট্রি এবং কোম্পানির ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিনের দৈনিক হাজিরা রেকর্ড আদালতে পেশ করেন। বিচারক সুস্পষ্ট প্রমাণ পান যে কর্মী কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কফিল হয়রানিমূলকভাবে হুরুব দিয়েছেন। আদালত মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে রফিকুল ভাইয়ের হুরুব বাতিল করে দেয় এবং তাকে রিয়াদের একটি শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক কোম্পানিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রান্সফার নেওয়ার সরকারি আদেশ জারি করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সঠিক কাগজপত্র ও আইনি পথ জানা থাকলে সৌদি আরবে কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে হয় না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
হ্যাঁ, নতুন শ্রম সংস্কার আইন অনুসারে হুরুব রিপোর্ট হওয়ার পর নির্দিষ্ট ৬০ দিনের মধ্যে যোগ্য কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান যদি ক্বিওয়া প্ল্যাটফর্মে কর্মসংস্থান রিকোয়েস্ট পাঠায়, তবে পূর্ববর্তী কফিলের সম্মতি ছাড়াই স্থানান্তর সম্ভব।
হুরুব থাকলে সাধারণ বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাই করা সম্ভব নয়। তর্হিল বা ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে ফাইনাল এক্সিট ভিসা সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরতে হয়।
হ্যাঁ, হুরুব দাখিল করার ২০ দিনের মধ্যে কফিল তার আবশের বিজনেস পোর্টাল থেকে কোনো জরিমানা ছাড়াই সরাসরি হুরুব ক্যানসেল করতে পারেন।
শ্রমিক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন বা কফিল অন্যায়ভাবে প্রতিশোধমূলক হুরুব দিয়েছেন, তবে তিনি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বা লেবার কোর্টে আনুষ্ঠানিক ক্লেইম দায়ের করতে পারেন।