আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
🇸🇬 সিঙ্গাপুর প্রবাসী নির্দেশিকা সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ আইপিএ ভেরিফিকেশন গাইড

সিঙ্গাপুর আইপিএ চেক: IPA কি ও অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখার নিয়ম

সিঙ্গাপুর আইপিএ চেক ও ইন প্রিন্সিপাল অ্যাপ্রুভাল লেটার অনলাইনে যাচাই
চিত্র ১: পাসপোর্ট নম্বর ও SGWorkPass অ্যাপের কিউআর স্ক্যানারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর আইপিএ (IPA) লেটার যাচাই ২০২৬
📌 সারসংক্ষেপ ও মূল দিকনির্দেশনা (Executive Summary)

বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান সরকারি অনুমোদনপত্র হলো In-Principle Approval (IPA) বা সংক্ষেপে আইপিএ লেটার। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower - MOM) যখন কোনো নিয়োগকারী কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট বা এস-পাস আবেদন অনুমোদন করে, তখন এই বারকোড ও কিউআর কোডযুক্ত আইপিএ লেটারটি ইস্যু করে। পাসপোর্টে আলাদা কোনো স্টিকার ভিসা না লাগিয়ে শুধুমাত্র এই আইপিএ কপি ও বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়েই কর্মীরা ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের ফ্লাইটে উঠতে পারেন।

কিন্তু একশ্রেণির অসাধু দালাল চক্র কম্পিউটারে ভুয়া আইপিএ লেটার বানিয়ে নিরীহ কর্মীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই নির্দেশিকায় আমরা জানব সিঙ্গাপুর আইপিএ আসলে কী, পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে MOM পোর্টালে ও SGWorkPass অ্যাপে আইপিএ চেক করার ধাপ, আইপিএ পেতে কত দিন সময় লাগে এবং লেটারের ভেতরে থাকা বেতন ও ডিডাকশন ছক কীভাবে মিলিয়ে দেখবেন।

সিঙ্গাপুর আইপিএ (IPA) কি এবং এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

IPA-এর পূর্ণরূপ হলো In-Principle Approval। সহজ বাংলায় বললে, এটি হলো সিঙ্গাপুর সরকারের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM) কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ার্ক পারমিট বা এস-পাসের প্রাথমিক অনুমোদনপত্র এবং সিঙ্গাপুরে প্রবেশের একক ভ্রমণ ভিসা (Single-Entry Visa)। আপনি যখন বাংলাদেশে বিসিএ স্কিল টেস্ট পাস করেন অথবা কোনো কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়ে নির্বাচিত হন, তখন সিঙ্গাপুরের নিয়োগকর্তা আপনার পাসপোর্ট ও সনদপত্র দিয়ে MOM-এর অনলাইন সিস্টেমে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করেন। সব কাগজপত্র ও কোম্পানির কোটা সঠিক থাকলে MOM এই আইপিএ লেটার ইস্যু করে। সামগ্রিক পারমিট প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট চেক গাইডটি দেখতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেমন পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা বা ই-ভিসা স্ট্যাম্পিং করতে হয়, সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে কর্মীদের পাসপোর্টে কোনো স্টিকার লাগানো হয় না। আইপিএ লেটারের ভেতরেই উল্লেখ থাকে যে কর্মী নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করার অনুমতি পেয়েছেন। তাছাড়া এই লেটারের একটি অংশ ফ্লাইটের পূর্বে কর্মীর নিজের মাতৃভাষায় (বাংলায়) মুদ্রিত থাকে, যেখানে তাঁর মাসিক মূল বেতন, ওভারটাইম হার এবং আবাসন খরচ স্পষ্টভাবে লেখা থাকে, যাতে কোনো দালাল বেতন নিয়ে মিথ্যাচার করতে না পারে।

আইপিএ লেটারের ভেতরে কী কী তথ্য ও বেতনের শর্ত লেখা থাকে?

একটি আসল সিঙ্গাপুর আইপিএ লেটার সাধারণত একাধিক পৃষ্ঠার পিডিএফ ডকুমেন্ট হয়, যার একটি কপি নিয়োগকর্তার জন্য এবং অপর কপিটি (Worker's Copy) সরাসরি কর্মীর জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রস্তুত করা থাকে। টাকা পরিশোধ বা ফ্লাইটের আগে আইপিএ লেটারের নিচের ৬টি তথ্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়া আবশ্যক:

সিঙ্গাপুর আইপিএ লেটারের ভেতরের বেতন ও আবাসন শর্তাবলী বিশ্লেষণ
চিত্র ২: সিঙ্গাপুর আইপিএ লেটারের বাংলা কপিতে উল্লেখিত বেসিক বেতন, ভাতা, ডিডাকশন এবং নিয়োগকর্তার ইউইএন নম্বর
  • ১. ফরেন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (FIN) ও অ্যাপ্লিকেশন নম্বর: লেটারের একেবারে ওপরে কর্মীর পূর্ণ নাম, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ এবং সিঙ্গাপুর সরকারের বরাদ্দকৃত ইউনিক FIN নম্বর (যেমন: G বা M দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর) ও বারকোড থাকে।
  • ২. নিয়োগকারী কোম্পানির নাম ও পেশা (Employer & Occupation): আপনি কোন কোম্পানিতে (UEN নম্বরসহ) এবং কোন নির্দিষ্ট পদে (যেমন: Construction Worker, Marine Welder, Electrical Fitter) কাজ করবেন তা সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকে।
  • ৩. মাসিক বেসিক বেতন (Basic Monthly Salary): ওভারটাইম এবং বোনাস ছাড়া আপনার প্রতি মাসের মূল বেতন কত সিঙ্গাপুর ডলার হবে, তা অংকে লেখা থাকে। এই বেসিক বেতনের ওপর ভিত্তি করেই আপনার ১.৫ গুণ ওভারটাইম হিসাব করা হবে।
  • ৪. মাসিক ফিক্সড ভাতা ও বৈধ কর্তন (Allowances & Deductions): কোম্পানি আপনাকে আবাসন বা খাবারের জন্য কোনো ভাতা দেবে কি না এবং ডরমিটরি বা খাবার বাবদ বেতন থেকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ কত ডলার কাটবে তা ছকে উল্লেখ থাকে। আইপিএ লেটারে যে বেতন লেখা থাকে, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর মালিক কোনোভাবেই আপনার লিখিত সম্মতি ও MOM-কে জানানো ছাড়া সেই বেতন কমাতে পারবেন না।

পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে সিঙ্গাপুর আইপিএ চেক করার নিয়ম

আপনার এজেন্সি বা দালাল যখন বলবে আপনার আইপিএ বের হয়েছে, তখন নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে নিজের মোবাইল ব্রাউজার থেকেই সরাসরি সিঙ্গাপুর সরকারের ডাটাবেজে আইপিএ স্ট্যাটাস চেক করে নিন:

অনলাইনে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সিঙ্গাপুর আইপিএ স্ট্যাটাস দেখার নিয়ম
চিত্র ৩: পাসপোর্ট নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে MOM অফিশিয়াল ই-সার্ভিস পোর্টালে আইপিএ অনুমোদন যাচাই
  • ধাপ ১: ব্রাউজারে সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল সাইট https://www.mom.gov.sg ওপেন করে ই-সার্ভিস মেনু থেকে Check work pass and application status পেজে প্রবেশ করুন।
  • ধাপ ২: সার্চ অপশনে আপনার আইপিএ কপিতে থাকা FIN Number অথবা সরাসরি আপনার বাংলাদেশি Passport Number এবং পাসপোর্ট অনুযায়ী জন্মতারিখ ও পূর্ণ নাম ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে লিখুন।
  • ধাপ ৩: সার্চ বাটনে ক্লিক করার পর যদি স্ট্যাটাস Approved দেখায় এবং স্ক্রিনে প্রদর্শিত কোম্পানির নাম ও আইপিএ মেয়াদের তারিখ আপনার হাতে থাকা কাগজের সাথে হুবহু মিলে যায়, তবে বুঝবেন আপনার আইপিএ শতভাগ আসল।

SGWorkPass অ্যাপে কিউআর কোড স্ক্যান করে আসল-নকল আইপিএ যাচাই

বর্তমানে প্রতিটি আসল সিঙ্গাপুর আইপিএ লেটারের ওপরের ডান পাশে একটি অফিশিয়াল কিউআর কোড মুদ্রিত থাকে। গুগল প্লে স্টোর থেকে সিঙ্গাপুর সরকারের অফিশিয়াল SGWorkPass অ্যাপটি ফোনে নামিয়ে 'Scan QR Code' অপশন দিয়ে আইপিএ লেটারের কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন। আসল আইপিএ হলে সাথে সাথে অ্যাপের ভেতর সবুজ রঙের টিক চিহ্নসহ কর্মীর নাম, ফিন নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর এবং আইপিএ মেয়াদের তারিখ ভেসে উঠবে। দালালরা যদি পুরনো কারো আইপিএ ফটোশপ করে আপনার নাম বসিয়ে দেয়, তবে কিউআর স্ক্যান করলেই অন্য ব্যক্তির নাম চলে আসবে অথবা লাল রঙে 'Invalid QR Code' দেখাবে।

সিঙ্গাপুরের আসল ও নকল আইপিএ লেটার চেনার সহজ উপায় ও কিউআর স্ক্যান
চিত্র ৪: SGWorkPass অ্যাপে কিউআর কোড স্ক্যান করে আসল ও ফটোশপকৃত নকল আইপিএ লেটার শনাক্তকরণ

সিঙ্গাপুর আইপিএ পেতে কত দিন লাগে এবং এর মেয়াদ কত দিন থাকে?

অনেক প্রবাসী ভাই জানতে চান স্কিল টেস্ট পাস করার পর বা কোম্পানিতে কাগজ জমা দেওয়ার পর আইপিএ বের হতে কত দিন সময় লাগে। বাস্তবে কোম্পানির যদি ফরেন ওয়ার্কার কোটা (Quota / Man-Year Entitlement) এবং লেভি ক্লিয়ার থাকে, তবে অনলাইনে আবেদন করার পর আশ্চর্যজনকভাবে খুবই কম সময়ে আইপিএ অনুমোদিত হয়।

সিঙ্গাপুর আইপিএ পেতে কত দিন লাগে এবং আইপিএ লেটারের মেয়াদ কত দিন থাকে
চিত্র ৫: সিঙ্গাপুর আইপিএ আবেদনের প্রসেসিং সময়সীমা এবং অনুমোদনের পর ফ্লাইটের নির্ধারিত মেয়াদকাল
পাসের ধরন ও আবেদনের পর্যায় MOM প্রসেসিং সময় (স্বাভাবিক) আইপিএ লেটারের মেয়াদ (Validity) মেয়াদ বাড়ানোর (Extension) নিয়ম
ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit) আইপিএ আবেদনের পর ১ থেকে ৭ কার্যদিবস ইস্যুর তারিখ থেকে সাধারণত ৬০ দিন (২ মাস) থেকে ৯০ দিন ফ্লাইটে দেরি হলে মালিক অনলাইনে ১ মাস মেয়াদ বাড়াতে পারেন
এস-পাস (S Pass) আইপিএ আবেদনের পর ৭ থেকে ২১ কার্যদিবস ইস্যুর তারিখ থেকে ৬০ দিন (২ মাস) যুক্তিসঙ্গত কারণে সর্বোচ্চ ১ বার মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ থাকে
এমপ্লয়মেন্ট পাস (EP) আইপিএ আবেদনের পর ১০ থেকে ২১ কার্যদিবস ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত প্রয়োজনে EP eService থেকে সময় বর্ধিত করা যায়

দালাল যদি আপনাকে বলে "৬ মাস আগে ফাইল জমা দিয়েছি, এখনো MOM থেকে আইপিএ দিচ্ছে না", তবে বুঝবেন কোম্পানি এখনো আপনার আবেদনই করেনি অথবা কোম্পানির কোটা নেই। কারণ MOM-এ ফাইল জমা পড়লে ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল (Approved বা Rejected) চলে আসে।

আইপিএ হাতে পাওয়ার পর ফ্লাইট, বিএমইটি ও ইমিগ্রেশন প্রস্তুতি

অনলাইনে আইপিএ যাচাই করে সবকিছু সঠিক পাওয়ার পর সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য আপনাকে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই নিচের ৫টি কাজ সম্পন্ন করতে হবে:

সিঙ্গাপুর আইপিএ ভেরিফিকেশন শেষে ঢাকা বিমানবন্দর ও চাঙ্গি ইমিগ্রেশন প্রস্তুতি
চিত্র ৬: আইপিএ যাচাইয়ের পর বিএমইটি স্মার্ট কার্ড, বিমানের টিকিট এবং SG Arrival Card পূরণের চূড়ান্ত চেকলিস্ট
  • ১. আইপিএ লেটারের উভয় কপি প্রিন্ট ও স্বাক্ষর: আইপিএ লেটারের ইংরেজি ও বাংলা উভয় কপি পরিষ্কার এ-ফোর কাগজে প্রিন্ট করে নিচের ডিক্লারেশন অংশে নিজের স্বাক্ষর করে হ্যান্ড ব্যাগে রাখুন।
  • ২. প্রাক-বহির্গমন মেডিকেল ও পিডিও ট্রেনিং: অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিটিসি থেকে ৩ দিনের পিডিও ট্রেনিং সম্পন্ন করে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড বা ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করুন।
  • ৩. বিমানের টিকিট ও SG Arrival Card: আপনার ঢাকা টু সিঙ্গাপুর বিমান ভাড়া ও ফ্লাইট চূড়ান্ত হওয়ার পর ফ্লাইটের ঠিক ৩ দিনের মধ্যে সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশনের (ICA) ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে SG Arrival Card (SGAC) অনলাইনে পূরণ করুন।
  • ৪. মূল পাসপোর্ট, বিসিএ সনদ ও ব্যাংক রসিদ সংরক্ষণ: চাঙ্গি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্ক অতিক্রম করার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আপনার মূল পাসপোর্ট, প্রিন্ট করা আইপিএ লেটারের সব কটি পৃষ্ঠা এবং অনবোর্ডিং সেন্টারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ দেখতে চাইতে পারেন। তাই এই কাগজগুলো কখনোই লাগেজ বা বড় ব্যাগে ভরে বুকিংয়ে দেবেন না; সব সময় নিজের হাতের ফাইল ফোল্ডারে বহন করবেন।
  • ৫. প্রাক-যাত্রা মুদ্রা বিনিময় ও জরুরি যোগাযোগ: দেশ থেকে রওনা হওয়ার সময় হাতখরচের জন্য অন্তত ১০০ থেকে ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার বৈধ মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ভাঙিয়ে সাথে রাখুন এবং আপনার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার বা এইচআর অফিসারের মোবাইল নম্বর ও ডরমিটরির ঠিকানা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। প্রতিদিনের ডলারের রেট জানতে প্লে স্টোর থেকে Taka Rate Today অ্যাপ (আজকের টাকার রেট) ফোনে ইনস্টল করে রাখতে পারেন।

আইপিএ লেটার বাতিল হওয়ার কারণ ও প্রবাসীদের সতর্কতা

অনেক সময় দেখা যায় কর্মীর নামে বৈধ আইপিএ ইস্যু হওয়ার পরও ফ্লাইটের আগে হঠাৎ সেটি অনলাইনে 'Cancelled' বা বাতিল দেখায়। এর প্রধান কারণ হলো নির্ধারিত ৬০ বা ৯০ দিনের মেয়াদের মধ্যে কর্মী যদি সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন কিংবা নিয়োগকারী কোম্পানির যদি হঠাৎ সরকারি লেভি বকেয়া পড়ে যায়, তবে MOM স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইপিএ বাতিল করে দেয়। এ ছাড়া প্রাক-বহির্গমন মেডিকেল পরীক্ষায় কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লে কোম্পানি নিজেই আইপিএ প্রত্যাহার করে নেয়। তাই এজেন্সির কাছে ভিসার চূড়ান্ত টাকা পরিশোধ করার দিন এবং বিমানের টিকিট কাটার ঠিক আগের দিন অবশ্যই দ্বিতীয়বার MOM পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে চেক করে নিশ্চিত হবেন যে আপনার আইপিএ স্ট্যাটাস এখনো সচল ও 'Approved' রয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

সিঙ্গাপুর প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসাপ্রত্যাশী ভাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:

আইপিএ (In-Principle Approval) হলো সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM) প্রদত্ত অফিশিয়াল প্রাথমিক ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং সিঙ্গাপুরে প্রবেশের বৈধ সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর বায়োমেট্রিক ও মেডিকেল শেষ করলে মূল ওয়ার্ক পারমিট কার্ড দেওয়া হয়।

হ্যাঁ, যেকোনো মোবাইল থেকে mom.gov.sg এর Check Work Pass Status পোর্টালে গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও নাম দিয়ে অথবা SGWorkPass অ্যাপে আইপিএ-র কিউআর কোড স্ক্যান করে তাৎক্ষণিক সত্যতা যাচাই করা যায়।

নিয়োগকারী কোম্পানির কোটা ও কাগজপত্র ঠিক থাকলে অনলাইনে আবেদন করার পর মাত্র ১ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট আইপিএ এবং ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে এস-পাস আইপিএ বের হয়ে যায়।

সাধারণত ওয়ার্ক পারমিট আইপিএ লেটারের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ৬০ দিন (২ মাস) থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকে। এই নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যেই কর্মীকে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করতে হয়।

না, সিঙ্গাপুরের EFMA আইন অনুযায়ী আইপিএ লেটারের বাংলা কপিতে যে বেসিক বেতন ও ভাতা উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মী সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর মালিক একতরফাভাবে তা কমাতে পারেন না। কমালে MOM-এ অভিযোগ করে পুরো বকেয়া আদায় করা যায়।

আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কবার্তা: "সিঙ্গাপুর আইপিএ চেক: IPA কি ও অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখার নিয়ম" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আইনি পরামর্শ নয়। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM), ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA), বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অথরিটি (BCA) এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের যেকোনো নীতিমালা বা ফি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower - MOM): https://www.mom.gov.sg
  • ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA Singapore): https://www.ica.gov.sg
  • ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (TADM): https://www.tal.sg/tadm
  • বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর (Bangladesh High Commission): https://singapore.mofa.gov.bd