আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
🇸🇬 সিঙ্গাপুর প্রবাসী নির্দেশিকা সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা ভেরিফিকেশন গাইড

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট চেক ২০২৬: পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে চেক করার নিয়ম

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট চেক ২০২৬ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে MOM পোর্টালে অনলাইনে যাচাই
চিত্র ১: সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM) পোর্টাল এবং SGWorkPass অ্যাপের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও FIN নম্বর দিয়ে ওয়ার্ক পারমিট যাচাই প্রক্রিয়া ২০২৬
📌 সারসংক্ষেপ ও মূল দিকনির্দেশনা (Executive Summary)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি সিঙ্গাপুরে নির্মাণ (Construction), মেরিন শিপইয়ার্ড (Marine Shipyard) এবং প্রসেস (Process) খাতে কর্মরত কিংবা নতুন ভিসায় যেতে ইচ্ছুক প্রতিটি বাংলাদেশি কর্মীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি হলো তাঁর ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit)। ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় বা Ministry of Manpower (MOM) সম্পূর্ণ পেপারলেস ও কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মুখের কথায় বিশ্বাস না করে যেকোনো কর্মী ঘরে বসেই নিজের পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ অথবা ফরেন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (FIN) ব্যবহার করে মাত্র দুই মিনিটে ভিসার আসল স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারেন।

এই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকায় আমরা MOM-এর অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল (WPOL / Check Work Pass Status), স্মার্টফোনের SGWorkPass অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যানিং, ইন-প্রিন্সিপাল অ্যাপ্রুভাল (IPA) লেটারের সত্যতা যাচাই, অনবোর্ডিং সেন্টারের বায়োমেট্রিক ফিংগারপ্রিন্ট, সিক্স-মান্থলি মেডিকেল ক্লিয়ারেন্স, কোম্পানি লেভি বকেয়া জনিত পারমিট বাতিল রোধ এবং বিএমইটি স্মার্ট কার্ড প্রসেসিংয়ের প্রতিটি ধাপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেছি।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ইকোসিস্টেম ও MOM-এর ডিজিটাল রূপান্তর

সিঙ্গাপুরে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ, অবস্থান এবং শ্রম অধিকার নিয়ন্ত্রিত হয় Employment of Foreign Manpower Act (EFMA - Chapter 91A) আইনের অধীনে। এই আইনের সরাসরি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হলো সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় বা Ministry of Manpower (MOM)। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী কনস্ট্রাকশন, মেরিন শিপইয়ার্ড এবং পেট্রোকেমিক্যাল প্রসেস সেক্টরে কাজের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নিরীহ যুবক অসাধু দালাল চক্রের তৈরি করা ফটোশপকৃত ভুয়া ভিসা বা জাল অ্যাপ্রুভাল পেপার দেখে লাখ লাখ টাকা ও জমিজমা বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হন। অথচ সিঙ্গাপুর সরকারের ভিসা ও ওয়ার্ক পাস ডাটাবেজ শতভাগ উন্মুক্ত এবং অনলাইনে তাৎক্ষণিক যাচাইযোগ্য। আপনি আমাদের মূল সিঙ্গাপুর প্রবাসী পূর্ণাঙ্গ গাইড থেকে সে দেশের সামগ্রিক অভিবাসন কাঠামো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারেন।

একজন কর্মী যখন বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরের কোনো কোম্পানিতে নির্বাচিত হন, তখন তাঁকে প্রথমেই সরাসরি প্লাস্টিকের ওয়ার্ক পারমিট কার্ড দেওয়া হয় না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে কোম্পানি MOM-এর অনলাইন পোর্টালে কর্মীর পাসপোর্ট, কারিগরি সনদ বা বিসিএ স্কিল টেস্টের রেজাল্ট জমা দিয়ে আবেদন করে। আবেদন অনুমোদিত হলে MOM একটি In-Principle Approval (IPA) লেটার ইস্যু করে। এই আইপিএ লেটারটিই হলো কর্মীর প্রাথমিক এন্ট্রি ভিসা। কর্মী সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর অনবোর্ডিং সেন্টার, মেডিকেল পরীক্ষা এবং বায়োমেট্রিক ফিংগারপ্রিন্ট সম্পন্ন করলে তবেই চূড়ান্ত ওয়ার্ক পারমিট কার্ড ইস্যু করা হয়। তাই বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের আগে আইপিএ যাচাই এবং সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট কার্ড যাচাই—উভয় প্রক্রিয়াই প্রত্যেক প্রবাসীর নখদর্পণে থাকা অপরিহার্য।

২০২৬ সালের হালনাগাদ প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের সকল ওয়ার্ক পারমিট কার্ডে একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন পরিবর্তনশীল কিউআর কোড (Dynamic QR Code) যুক্ত থাকে। আগে কার্ডের গায়ে মেয়াদের তারিখ বা এক্সপায়ারি ডেট ছাপানো থাকলেও এখন কার্ডের স্থায়িত্ব ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের জন্য কার্ডে কোনো স্থায়ী মেয়াদের তারিখ মুদ্রিত থাকে না। যদি কোনো মালিক আজ সকালে কর্মীর পারমিট বাতিল করেন অথবা মাসিক লেভি পরিশোধ না করার কারণে MOM পারমিট স্থগিত করে দেয়, তবে সাথে সাথেই সরকারি সার্ভারে স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই কারণেই অনলাইনে পাসপোর্ট ও ফিন (FIN) নম্বর দিয়ে নিয়মিত নিজের ওয়ার্ক পারমিট চেক করা সিঙ্গাপুরে নিরাপদ প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

প্রবাসী ভাইদের প্রতি জরুরি পরামর্শ: দালাল বা সাব-এজেন্ট হাতে কোনো কাগজ ধরিয়ে দিয়ে "ভিসা বের হয়ে গেছে, আজই ৫ লাখ টাকা দিন" বললে এক টাকাও লেনদেন করবেন না। প্রথমে নিজের মোবাইল থেকে MOM-এর অফিশিয়াল পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন। অনলাইনে রেকর্ড না থাকলে সেই কাগজ শতভাগ জাল।

ওয়ার্ক পারমিট বনাম এস-পাস বনাম এমপ্লয়মেন্ট পাস: খাত ও কোটা

সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা মূলত তিন ধরনের ওয়ার্ক পাসের আওতায় কাজ করে থাকেন। ভিসা চেক করার পূর্বে আপনার পাসটি কোন ক্যাটাগরির এবং সেই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের কী কী আইনি শর্ত রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা দরকার। কারণ অনেক সময় দালালরা সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটকে "এস-পাস" বা "হাই স্যালারি অফিসার ভিসা" বলে মিথ্যা প্রচারণা চালায়।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ও এস পাস ক্যাটাগরি এবং খাতভিত্তিক যোগ্যতা
চিত্র ২: সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পারমিট (WP), এস-পাস (S Pass) এবং এমপ্লয়মেন্ট পাসের (EP) খাতভিত্তিক যোগ্যতা ও আইনি শর্তাবলীর তুলনা

বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে Non-Traditional Source (NTS) বা অ-প্রথাগত উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এনটিএস ভুক্ত দেশের নাগরিকরা সিঙ্গাপুরের সব খাতে সাধারণ ওয়ার্ক পারমিট পান না। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অনুমোদিত খাত এবং পাসের পার্থক্য নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো:

  • ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit for Migrant Worker): এটি আধা-দক্ষ (R2) এবং দক্ষ (R1) কারিগরি শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশি কর্মীরা প্রধানত তিনটি খাতে এই পারমিট পান—নির্মাণ খাত (Construction), জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত খাত (Marine Shipyard) এবং পেট্রোকেমিক্যাল ও অয়েল রিফাইনারি প্রসেস খাত (Process Sector)। এছাড়া নতুন এনটিএস অকুপেশন লিস্ট (NTS Occupation List) অনুযায়ী হোটেল হাউজকিপিং, রেস্তোরাঁর কুক বা রাঁধুনি এবং এভিয়েশন ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের মতো সীমিত কিছু পদে কঠোর কোটার অধীনে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়। এতে কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বেতনসীমা আইনত বেঁধে দেওয়া না থাকলেও বাজারদর ও দক্ষতার স্তর (R1/R2) অনুযায়ী বেতন নির্ধারিত হয়।
  • এস-পাস (S Pass): এটি মধ্যম স্তরের দক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, সাইট সুপারভাইজার, টেকনিশিয়ান ও ফোরম্যানদের জন্য। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী এস-পাস পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম মাসিক ফিক্সড বেতন ৩,১৫০ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে ৩,৩০০ সিঙ্গাপুর ডলার (বয়স ও অভিজ্ঞতা ভেদে আরও বেশি) হতে হয়। এস-পাসধারীরা নির্দিষ্ট বেতন সীমা অতিক্রম করলে পরিবার বা ডিপেন্ডেন্ট পাস স্পনসর করার সুযোগ পান।
  • এমপ্লয়মেন্ট পাস (Employment Pass - EP): এটি উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং বিশেষজ্ঞদের জন্য। এতে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৫,৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার এবং COMPASS পয়েন্ট সিস্টেমে ন্যূনতম ৪০ পয়েন্ট অর্জন করা বাধ্যতামূলক।
পাসের ধরন ও ক্যাটাগরি বাংলাদেশিদের অনুমোদিত খাত বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনলাইন চেকিং পোর্টাল
ওয়ার্ক পারমিট (WP - R1/R2) কনস্ট্রাকশন, মেরিন শিপইয়ার্ড, প্রসেস ও অনুমোদিত NTS পেশা আবেদনের সময় ১৮ থেকে ৫০ বছর; বিসিএ বা ট্রেড স্কিল টেস্ট সনদ WPOL / Check Work Pass Status ও SGWorkPass অ্যাপ
এস-পাস (S Pass) সকল শিল্প, প্রকৌশল, আইটি, হসপিটালিটি ও সেবা খাত ডিপ্লোমা বা কারিগরি ডিগ্রি ও প্রাসঙ্গিক কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা EP eService পোর্টাল ও SGWorkPass মোবাইল অ্যাপ
এমপ্লয়মেন্ট পাস (EP) করপোরেট ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্স, প্রকৌশল ও উচ্চপ্রযুক্তি খাত স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি ও COMPASS ৪০ পয়েন্ট EP eService পোর্টাল ও MyMOM Portal

উপরের টেবিল থেকে এটি স্পষ্ট যে, কোনো দালাল যদি আপনাকে বলে যে আপনাকে সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটে সিঙ্গাপুরের কোনো শপিং মলের সেলসম্যান বা সাধারণ দোকানদার হিসেবে পাঠাবে, তবে বুঝবেন সেটি সম্পূর্ণ প্রতারণা। কারণ সিঙ্গাপুরের খুচরা বিপণন বা রিটেইল শপে বাংলাদেশিদের জন্য সাধারণ ওয়ার্ক পারমিট কোটা অনুমোদিত নয়। ভিসার ক্যাটাগরি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের ভিসা চেক ও ভেরিফিকেশন হাবটি দেখতে পারেন।

পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে MOM পোর্টালে ওয়ার্ক পারমিট চেক করার নিয়ম

আপনার হাতে যদি পাসপোর্ট নম্বর এবং সিঙ্গাপুরের নিয়োগকারী কোম্পানি বা এজেন্সির দেওয়া প্রাথমিক তথ্য থাকে, তবে যেকোনো স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ওয়ার্ক পারমিট বা আইপিএ আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এজন্য কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা বা Singpass লগইন করার প্রয়োজন হয় না; সাধারণ ভিজিটর ও বিদেশগামী কর্মীদের জন্য MOM একটি পাবলিক ইনকোয়ারি পোর্টাল চালু রেখেছে।

MOM WPOL পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সিঙ্গাপুর ভিসা চেক করার ধাপ
চিত্র ৩: সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের (MOM) অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে ওয়ার্ক পারমিট যাচাইয়ের ধাপসমূহ

অনলাইনে ধাপে ধাপে পাসপোর্ট ও FIN দিয়ে চেক করার পদ্ধতি

  • ধাপ ১ (অফিশিয়াল পোর্টালে প্রবেশ): আপনার ফোনের ক্রোম (Chrome) বা সাফারি ব্রাউজার খুলে সরাসরি সিঙ্গাপুর সরকারের অফিশিয়াল ওয়েব ঠিকানা https://www.mom.gov.sg-এ যান। সেখান থেকে 'eServices' মেনুতে ক্লিক করে 'Check work pass and application status' অপশনটি নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, সিঙ্গাপুরের সকল সরকারি ওয়েবসাইটের শেষে অবশ্যই .gov.sg ডোমেইন থাকবে।
  • ধাপ ২ (ভাষা ও সম্মতি নির্বাচন): পোর্টালের শুরুতে ইংরেজি ছাড়াও বাংলা (Bengali), তামিল ও চীনা ভাষায় নির্দেশিকা পড়ার সুযোগ থাকে। আপনার সুবিধার্থে ভাষা নির্বাচন করে ক্যাপচা বা সিকিউরিটি চেকবক্সে টিক দিয়ে পরবর্তী স্ক্রিনে যান।
  • ধাপ ৩ (FIN অথবা পাসপোর্ট নম্বর প্রদান): এবার অনুসন্ধানের জন্য দুটি বিকল্প দেখানো হবে। আপনার কাছে যদি আইপিএ লেটার বা পুরনো কার্ডের ফরেন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (FIN - যা সাধারণত G, F বা M অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং ৭টি সংখ্যা ও শেষে একটি ইংরেজি অক্ষর থাকে, যেমন: G1234567X) জানা থাকে, তবে সেটি দিন। আর নতুন আবেদনকারী হলে Travel Document / Passport Number অপশন সিলেক্ট করে আপনার বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট বা এমআরপি পাসপোর্টের নম্বরটি হুবহু টাইপ করুন।
  • ধাপ (নাম ও জন্মতারিখ এন্ট্রি): পাসপোর্টের তথ্য পাতায় আপনার নাম যেভাবে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে (Block Letters) লেখা আছে, ঠিক সেভাবেই লিখুন এবং পাসপোর্ট অনুযায়ী জন্মতারিখ (Date of Birth - DD/MM/YYYY) নির্বাচন করুন।
  • ধাপ ৫ (ফলাফল ও স্ট্যাটাস বিশ্লেষণ): 'Search' বা 'Submit' বাটনে চাপ দেওয়ার সাথে সাথে স্ক্রিনে আপনার ওয়ার্ক পারমিটের বিস্তারিত তথ্য ভেসে উঠবে। এতে কর্মীর নাম, ফিন (FIN) নম্বর, নিয়োগকারী কোম্পানির নাম (Employer Name), পেশা (Occupation), পাসের ধরন এবং বর্তমান স্ট্যাটাস (Approved / Valid / Pending / Invalid) স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হবে।
অনলাইন স্ট্যাটাস মেসেজ প্রকৃত অর্থ ও ব্যাখ্যা কর্মীর করণীয় পদক্ষেপ
Approved (In-Principle Approval) আপনার নতুন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন MOM কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং আইপিএ লেটার ইস্যু হয়েছে। আইপিএ লেটার প্রিন্ট করে বেতন ও শর্ত মিলিয়ে দেখুন এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের প্রস্তুতি নিন।
Valid / Issued (Pass Active) আপনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন এবং আপনার ওয়ার্ক পারমিট কার্ড বর্তমানে সম্পূর্ণ সক্রিয় ও বৈধ। নিয়মিত মেয়াদের তারিখ ও কোম্পানির লেভি পরিশোধের ধারাবাহিকতা খেয়াল রাখুন।
Pending / Under Review কোম্পানি আবেদন জমা দিয়েছে কিন্তু MOM এখনো যাচাই-বাছাই শেষ করেনি বা অতিরিক্ত কাগজ চেয়েছে। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এজেন্সিকে কোনো চূড়ান্ত টাকা পরিশোধ করবেন না।
Rejected / Unsuccessful কোম্পানির কোটা না থাকা, স্কিল সনদ জাল হওয়া বা অন্য কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মূল পাসপোর্ট ফেরত নিন; বাতিল আবেদনের বিপরীতে ফ্লাইট অসম্ভব।
Cancelled / Revoked / Expired ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে অথবা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সিঙ্গাপুরে থাকলে স্পেশাল পাসের মেয়াদের মধ্যে দেশ ত্যাগ বা বৈধ ট্রান্সফার নিশ্চিত করুন।

নতুন কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুমোদন বা আইপিএ লেটার যাচাইয়ের খুঁটিনাটি নিয়ম ও শর্তাবলী আরও ভালোভাবে বুঝতে আমাদের বিশেষায়িত সিঙ্গাপুর আইপিএ চেক ও স্ট্যাটাস দেখার নিয়ম গাইডটি অবশ্যই পড়ে নিন।

SGWorkPass মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান ও লাইভ যাচাই

ওয়েব ব্রাউজারে তথ্য টাইপ করে চেক করার চেয়েও দ্রুত এবং শতভাগ নির্ভুল পদ্ধতি হলো সিঙ্গাপুর সরকারের অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন SGWorkPass ব্যবহার করা। MOM এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড (Google Play Store) এবং আইফোন (Apple App Store)—উভয় প্ল্যাটফর্মে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রেখেছে। সিঙ্গাপুরের পুলিশ, ইমিগ্রেশন অফিসার, হাসপাতালের রিসেপশন এবং কনস্ট্রাকশন সাইটের সিকিউরিটি গার্ডরা কর্মীদের কার্ড যাচাই করার জন্য প্রতিদিন এই অ্যাপটিই ব্যবহার করেন।

SGWorkPass অ্যাপ দিয়ে সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট কার্ডের কিউআর কোড যাচাই
চিত্র ৪: স্মার্টফোনে SGWorkPass অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করে ওয়ার্ক পারমিট কার্ড ও আইপিএ লেটারের কিউআর কোড স্ক্যানিং

SGWorkPass অ্যাপের ২টি প্রধান ফিচার ও ব্যবহারবিধি

  • ১. কিউআর কোড স্ক্যানার (Scan QR Code - লগইন ছাড়াই ব্যবহারযোগ্য): আপনি বাংলাদেশে থাকুন বা সিঙ্গাপুরে, অ্যাপটি ওপেন করলেই হোম স্ক্রিনে 'Check Work Pass Status' বা 'Scan QR Code' বাটন দেখতে পাবেন। আপনার হাতে থাকা প্রিন্টেড আইপিএ লেটারের ওপরের ডান কোণায় অথবা সবুজ রঙের প্লাস্টিক ওয়ার্ক পারমিট কার্ডের পেছনে যে বর্গাকার কিউআর কোডটি আছে, ফোনের ক্যামেরা তার ওপর ধরুন। মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে অ্যাপটি সরাসরি MOM সার্ভার থেকে ডেটা এনে সবুজ রঙে 'Valid' অথবা লাল রঙে 'Invalid / Cancelled' স্ট্যাটাস দেখিয়ে দেবে।
  • ২. ডিজিটাল ওয়ার্ক পাস প্রোফাইল (My Work Pass - FIN ও Singpass যুক্ত): সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসীরা নিজেদের FIN নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে অ্যাপে লগইন করলে তাঁদের ফোনেই একটি ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট কার্ড সংরক্ষিত হয়ে যায়। এতে কর্মীর ছবি, নিয়োগকারী কোম্পানির নাম, অনুমোদিত সেক্টর, পারমিট ইস্যুর তারিখ এবং পারমিটের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ (Pass Expiry Date) সব সময় লাইভ দেখা যায়।

অনেক সময় অসাধু কোম্পানি বা সুপারভাইজাররা কর্মীকে না জানিয়েই ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেয় অথবা মাসিক সরকারি লেভি (Foreign Worker Levy) বকেয়া ফেলে রাখে। তখন ফিজিক্যাল কার্ডটি দেখতে চকচকে মনে হলেও SGWorkPass অ্যাপে স্ক্যান করার সাথে সাথে দেখা যায় পারমিটটি 'Revoked' বা বাতিল হয়ে গেছে। তাই প্রবাসী ভাইদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার নিজের কার্ডটি অ্যাপে স্ক্যান করে দেখে নেওয়া যে আপনার বৈধ অবস্থান অক্ষুণ্ণ রয়েছে কি না।

FWMOMCare অ্যাপের সাথে ওয়ার্ক পারমিট ও আবাসিক তথ্যের সমন্বয়

SGWorkPass অ্যাপের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রত্যেক ওয়ার্ক পারমিট ও এস-পাসধারী কর্মীর ফোনে FWMOMCare অ্যাপটি ইনস্টল রাখা বাধ্যতামূলক। এই অ্যাপটির মাধ্যমে কর্মী নিজের বর্তমান আবাসিক ঠিকানা (Dormitory বা HDB রুমের ঠিকানা) এবং সিঙ্গাপুরের সচল মোবাইল নম্বর সরাসরি MOM-এর ডাটাবেজে হালনাগাদ রাখেন। আইন অনুযায়ী আপনার বাসস্থান বা মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হলে ৫ দিনের মধ্যে FWMOMCare অ্যাপে তা আপডেট করতে হয়। অন্যথায় নিয়োগকারী কোম্পানি বা কর্মী নিজে নতুন ওয়ার্ক পারমিট কার্ড ইস্যু কিংবা মেয়াদ নবায়ন (Renewal) করতে গেলে WPOL সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন আটকে দেয়। এছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে কর্মীরা বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন ডাক্তার দেখানো, ডরমিটরির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ছবি তুলে সরাসরি MOM-এ পাঠানো এবং জরুরি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে পারেন।

মোবাইল অ্যাপ বা পোর্টালের নাম প্রধান কাজ ও সুবিধা কখন ব্যবহার করবেন
SGWorkPass (অফিশিয়াল অ্যাপ) কিউআর কোড স্ক্যান, লাইভ পাস ভ্যালিডিটি, মেয়াদের তারিখ ও বেতন তথ্য যাচাই। দেশে বসে আইপিএ চেক করতে এবং সিঙ্গাপুরে সাপ্তাহিক পাস স্ট্যাটাস দেখতে।
FWMOMCare (অফিশিয়াল অ্যাপ) আবাসিক ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর আপডেট, টেলিমেডিসিন ও ডরমিটরি অভিযোগ। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর প্রথম দিন থেকেই এবং ঠিকানা বা সিম বদলালে।
Check Work Pass Status (ওয়েব পোর্টাল) পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও FIN দিয়ে ওয়েব ব্রাউজারে আবেদন ট্র্যাকিং। নতুন ভিসা আবেদনের অগ্রগতি (Pending / Approved) ঘরে বসে যাচাই করতে।
ACRA BizFile+ (কোম্পানি যাচাই) নিয়োগকারী কোম্পানির UEN নম্বর দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও বৈধতা পরীক্ষা। এজেন্সির হাতে টাকা বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পূর্বে কোম্পানি যাচাই করতে।

আসল বনাম ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও আইপিএ লেটার চেনার ৭টি উপায়

বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের ভিসার চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র নকল আইপিএ লেটার এবং ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা আসল কোনো কর্মীর পুরনো আইপিএ লেটার স্ক্যান করে কম্পিউটারে নাম, পাসপোর্ট নম্বর ও ছবি পরিবর্তন করে প্রিন্ট দেয়। কিন্তু নিচের ৭টি ফরেনসিক পরীক্ষা চালালে যেকোনো ভুয়া কাগজ ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে ধরা পড়বে।

আসল বনাম নকল সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ও আইপিএ কপি শনাক্ত করার উপায়
চিত্র ৫: দালাল চক্রের তৈরি ভুয়া সিঙ্গাপুর ভিসা ও আইপিএ লেটার শনাক্তকরণের ৭-দফা ডিজিটাল অডিট
  • পরীক্ষা ১ — কিউআর কোড ও পাসপোর্ট ক্রস-ম্যাচ: ফটোশপ দিয়ে কাগজের ওপর নাম ও পাসপোর্ট নম্বর বদলানো গেলেও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোডের ভেতরের সার্ভার ডেটা দালালরা কখনোই বদলাতে পারে না। SGWorkPass অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করলে যদি অন্য কোনো ব্যক্তির নাম আসে অথবা 'Invalid QR Code' দেখায়, তবে নিশ্চিত হবেন কাগজটি জাল।
  • পরীক্ষা ২ — ভুয়া ওয়েবসাইট লিংক (Phishing URL) শনাক্তকরণ: প্রতারকরা অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপে mom-sg-workpass.com বা singapore-epass-check.net জাতীয় ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক পাঠায়। মনে রাখবেন, সিঙ্গাপুর সরকারের একমাত্র আসল ডোমেইন হলো mom.gov.sg। শেষে .gov.sg না থাকলে সেই সাইটটি ১০০% ভুয়া।
  • পরীক্ষা ৩ — কোম্পানির ইউইএন (UEN) নম্বর যাচাই: প্রতিটি আসল ওয়ার্ক পারমিট ও আইপিএ লেটারে নিয়োগকারী কোম্পানির একটি Unique Entity Number (UEN) থাকে। আপনি সিঙ্গাপুরের কোম্পানি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ ACRA-এর bizfile.gov.sg পোর্টালে গিয়ে ওই UEN নম্বরটি সার্চ করলেই দেখতে পাবেন কোম্পানিটি আদৌ সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত এবং সচল কি না।
  • পরীক্ষা ৪ — বিসিএ স্কিল টেস্ট ছাড়া কনস্ট্রাকশন ভিসার দাবি: সিঙ্গাপুরের কনস্ট্রাকশন খাতে যেতে হলে বাংলাদেশে অনুমোদিত ওভারসিজ টেস্টিং সেন্টার (OTC) থেকে স্কিল টেস্ট পাস করা বাধ্যতামূলক। কেউ যদি বলে "পরীক্ষা ছাড়াই কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ক পারমিট বের করে দিয়েছি", তবে বুঝবেন এটি নিরেট প্রতারণা। স্কিল টেস্টের নিয়ম জানতে আমাদের সিঙ্গাপুর স্কিল টেস্ট গাইড পড়ুন।
  • পরীক্ষা ৫ — অবাস্তব বেতন ও পদের প্রলোভন: নতুন সাধারণ কর্মীদের (R2) প্রাথমিক বেসিক বেতন সাধারণত ৭০০ থেকে ১,১০০ সিঙ্গাপুর ডলারের মধ্যে থাকে (ওভারটাইম বাদে)। যদি কোনো আইপিএ কপিতে সাধারণ ক্লিনার বা লেবার পদে বেসিক বেতন ৩,০০০ ডলার লেখা থাকে, তবে সেটি ফটোশপ এডিট করা নকল কাগজ।
  • পরীক্ষা ৬ — ওয়ার্ক পারমিট আবেদনের জন্য অগ্রিম লাখ টাকা দাবি: MOM-এ ওয়ার্ক পারমিট আবেদনের সরকারি ফি মাত্র ৩৫ সিঙ্গাপুর ডলার এবং পারমিট ইস্যু ফি আরও ৩৫ ডলার (মোট ৭০ ডলার বা প্রায় ৬,৫০০ টাকা)। তাই অনলাইনে ভিসা চেক করে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে লাখ টাকা অগ্রিম দেবেন না।
  • পরীক্ষা ৭ — ফিন (FIN) নম্বরের গাণিতিক চেকসাম: সিঙ্গাপুরের প্রতিটি ফিন নম্বর (যেমন G1234567X) একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি অ্যালগরিদম মেনে তৈরি হয়। মনগড়া সংখ্যা বসিয়ে তৈরি করা ফিন নম্বর MOM পোর্টালে দিলেই সাথে সাথে 'Invalid FIN format' ত্রুটি দেখাবে।

সিঙ্গাপুর পৌঁছানোর পর অনবোর্ডিং সেন্টার (MOC) ও কার্ড ইস্যু

বাংলাদেশ থেকে বৈধ আইপিএ লেটার এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর আপনার ওয়ার্ক পারমিট সক্রিয়করণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী কনস্ট্রাকশন, মেরিন শিপইয়ার্ড এবং প্রসেস সেক্টরের নতুন কর্মীদের বিমানবন্দর থেকে সরাসরি MOM Onboarding Centre (MOC)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পেনজুরু (Penjuru), পুঙ্গল (Punggol) বা চওয়া চু কাং (Choa Chu Kang) অনবোর্ডিং সেন্টারে কর্মীদের আবাসিক ব্যবস্থায় রেখে তিন থেকে চারটি আবশ্যিক ধাপ সম্পন্ন করা হয়।

সিঙ্গাপুর MOM অনবোর্ডিং সেন্টারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ওয়ার্ক পারমিট কার্ড ইস্যু
চিত্র ৬: সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর MOM অনবোর্ডিং সেন্টারে নতুন প্রবাসী কর্মীদের বায়োমেট্রিক ফিংগারপ্রিন্ট নিবন্ধন ও ওরিয়েন্টেশন

অনবোর্ডিং থেকে চূড়ান্ত ওয়ার্ক পারমিট কার্ড হাতে পাওয়ার ৪টি ধাপ

  • ১. সেটলিং-ইন প্রোগ্রাম (Settling-in Programme - SIP): নতুন কর্মীদের জন্য এটি ১ দিনের বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন ক্লাস, যা মাতৃভাষা বাংলায় পরিচালিত হয়। এখানে সিঙ্গাপুরের শ্রম আইন, বেতন পাওয়ার নিয়ম, নিরাপত্তা বিধি এবং জরুরি হেল্পলাইন সম্পর্কে শেখানো হয়।
  • ২. অনবোর্ডিং মেডিকেল পরীক্ষা: সেন্টারের ভেতরেই অনুমোদিত ক্লিনিকে কর্মীর বুকের এক্স-রে (Chest X-Ray) এবং রক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
  • ৩. অনলাইনে পারমিট ইস্যু রিকোয়েস্ট (Work Permit Issuance): কর্মী সিঙ্গাপুরে প্রবেশের ১৪ দিনের মধ্যে নিয়োগকারী কোম্পানিকে WPOL পোর্টালে লগইন করে কর্মীর আবাসিক ঠিকানা (Dormitory Address) নিবন্ধন করে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর আবেদন করতে হয়।
  • ৪. বায়োমেট্রিক ফিংগারপ্রিন্ট ও কার্ড ডেলিভারি: দশ আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল ছবি নিবন্ধনের ৪ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে MOM-এর অনুমোদিত কুরিয়ার সার্ভিস সরাসরি কর্মীর ডরমিটরি বা কোম্পানির ঠিকানায় সবুজ রঙের ফিজিক্যাল ওয়ার্ক পারমিট স্মার্ট কার্ডটি পৌঁছে দেয়।

নতুন কর্মীদের বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও নোটিফিকেশন লেটারের নিয়ম

কোম্পানি যখন অনলাইনে আপনার ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু রিকোয়েস্ট সাবমিট করে, তখন সাথে সাথে পিডিএফ ফরম্যাটে একটি এক পাতার Notification Letter জেনারেট হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার হাতে প্লাস্টিকের ওয়ার্ক পারমিট স্মার্ট কার্ডটি না পৌঁছাচ্ছে (সাধারণত প্রথম ২ থেকে ৪ সপ্তাহ), ততক্ষণ এই নোটিফিকেশন লেটারটিই আপনার সাময়িক ওয়ার্ক পারমিট হিসেবে কাজ করে। এই কাগজের ওপরও একটি কিউআর কোড থাকে যা পুলিশ বা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা স্ক্যান করে আপনার বৈধতা দেখতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রথমবার সিঙ্গাপুরে আসা কর্মীদের জন্য নোটিফিকেশন লেটার ইস্যু হওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে পেনজুরু বা বেন্ডামির (Bendemeer) MOM সার্ভিস সেন্টারে উপস্থিত হয়ে ফিংগারপ্রিন্ট ও ছবি তোলা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না করলে MOM স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক পারমিট বাতিল করে দেয়।

মেডিকেল ফিটনেস, সিকিউরিটি বন্ড ও প্রাইমারি কেয়ার প্ল্যান (PCP)

সিঙ্গাপুরে একটি ওয়ার্ক পারমিট সক্রিয় হওয়ার এবং সচল থাকার পেছনে তিনটি কঠোর আইনি পূর্বশর্ত কাজ করে—মেডিকেল ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স, ৫,০০০ ডলারের সিকিউরিটি বন্ড এবং বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা। এর যেকোনো একটি অসম্পূর্ণ থাকলে অনলাইনে আপনার ওয়ার্ক পারমিট স্ট্যাটাস 'Pending Issuance' বা 'Suspended' দেখাবে।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট সক্রিয় করতে বাধ্যতামূলক মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা
চিত্র ৭: সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট সক্রিয়করণের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পিসিপি (PCP) স্বাস্থ্যবীমা নিবন্ধন

প্রথমত, বাংলাদেশে ফ্লাইটের আগে প্রাক-মেডিকেল করলেও সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর ১৪ দিনের মধ্যে পুনরায় সিঙ্গাপুরের রেজিস্টার্ড ডাক্তার দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। এই পরীক্ষায় যক্ষ্মা (TB), এইচআইভি (HIV), সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়া স্ক্রিনিং করা হয়। ফুসফুসে পুরনো যক্ষ্মার দাগ বা সক্রিয় সংক্রমণ ধরা পড়লে MOM ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে না। তাই দেশ থেকে রওনা হওয়ার আগেই নিজের বুকের ডিজিটাল এক্স-রে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক বাংলাদেশি কর্মীর জন্য নিয়োগকারী কোম্পানিকে সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে ৫,০০০ সিঙ্গাপুর ডলারের সিকিউরিটি বন্ড (Security Bond) ব্যাংক বা ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টি হিসেবে জমা দিতে হয়। আইন অনুযায়ী এই বন্ডের খরচ শতভাগ মালিকের; কোনো মালিক যদি বন্ডের কথা বলে কর্মীর কাছ থেকে জামানত রাখেন, তবে তা গুরুতর অপরাধ। তৃতীয়ত, ডরমিটরিতে বসবাসকারী প্রতিটি কর্মীর জন্য কোম্পানিকে Primary Care Plan (PCP) এবং বার্ষিক ন্যূনতম ৬০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলারের হাসপাতাল চিকিৎসা বীমা (Medical Insurance) ক্রয় করতে হয়। এই বীমা এবং পিসিপি প্ল্যান সক্রিয় না করা পর্যন্ত WPOL সিস্টেম ওয়ার্ক পারমিট কার্ড প্রিন্ট করার অনুমতি দেয় না।

ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, মাসিক লেভি ও ক্যান্সেলেশন স্ট্যাটাস

সিঙ্গাপুরে সাধারণত ১ বা ২ বছর মেয়াদে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয় এবং কর্মীর দক্ষতা ও বয়সের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা বারবার নবায়ন (Renewal) করা যায়। একজন সাধারণ R2 কর্মী সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং একজন দক্ষ R1 (CoreTrade) কর্মী সর্বোচ্চ ২৬ বছর পর্যন্ত (৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত) কাজ করতে পারেন। তবে পারমিট সচল রাখার জন্য নিয়োগকর্তাকে প্রতি মাসে সরকারকে নির্ধারিত হারে Foreign Worker Levy (FWL) পরিশোধ করতে হয়।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এবং লেভি বকেয়া জনিত পাস স্থগিতাদেশ যাচাই
চিত্র ৮: ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সময়সীমা, মাসিক লেভি পেমেন্ট এবং পারমিট ক্যান্সেলেশন স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং
খাত ও কর্মীর দক্ষতার স্তর মাসিক সরকারি লেভি হার (আনুমানিক) সর্বোচ্চ চাকরির মেয়াদ (Maximum Period) নবায়ন আবেদনের সময়সীমা
কনস্ট্রাকশন — দক্ষ কর্মী (R1 / CoreTrade) মাসিক ৩০০ – ৩৫০ সিঙ্গাপুর ডলার (মালিক প্রদেয়) সর্বোচ্চ ২৬ বছর (বয়স ৫৮ বছর পর্যন্ত) মেয়াদ শেষের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পূর্বে
কনস্ট্রাকশন — সাধারণ কর্মী (R2 / Basic Tier) মাসিক ৭০০ – ৯০০ সিঙ্গাপুর ডলার (মালিক প্রদেয়) সর্বোচ্চ ১৪ বছর মেয়াদ শেষের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পূর্বে
মেরিন শিপইয়ার্ড খাত (R1 / R2) মাসিক ৩০০ – ৪০০ সিঙ্গাপুর ডলার (মালিক প্রদেয়) R1: ২৬ বছর, R2: ১৪ বছর মেয়াদ শেষের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পূর্বে
প্রসেস ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত (R1 / R2) মাসিক ৩০০ – ৭৫০ সিঙ্গাপুর ডলার (মালিক প্রদেয়) R1: ২৬ বছর, R2: ১৪ বছর মেয়াদ শেষের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পূর্বে

মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন, উপরে উল্লিখিত মাসিক লেভির টাকা সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকারী কোম্পানির বহন করার কথা। কোনো কোম্পানি যদি কর্মীর মাসিক বেতন থেকে লেভির টাকা কেটে রাখে অথবা রিনিউ করার বিনিময়ে কর্মীর কাছে ২,০০০ থেকে ৪,০০০ ডলার ঘুষ বা 'কিকব্যাক' (Kickback) দাবি করে, তবে তা সিঙ্গাপুরের আইনে জামিন-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ (সর্বোচ্চ ৩০,০০০ ডলার জরিমানা বা ২ বছরের কারাদণ্ড)। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে অভিযোগ করবেন তা জানতে আমাদের সিঙ্গাপুর শ্রম আইন ও MOM অভিযোগ গাইড অনুসরণ করুন।

বাংলাদেশে বিএমইটি (BMET) স্মার্ট কার্ড ও ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স

আপনি যখন বাংলাদেশে বসে অনলাইনে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে চেক করে দেখলেন যে আপনার সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পারমিট বা আইপিএ লেটারটি শতভাগ আসল এবং 'Approved' স্ট্যাটাসে আছে, তখন আপনার পরবর্তী কাজ হলো বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করা। বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ কোনো কর্মীকে ওয়ার্ক ভিসায় বিমানে উঠতে দেয় না।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট যাচাই শেষে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড প্রসেসিং ধাপ
চিত্র ৯: সিঙ্গাপুর আইপিএ ও ওয়ার্ক পারমিট অনলাইনে যাচাইয়ের পর বাংলাদেশে বিএমইটি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড গ্রহণ প্রক্রিয়া
  • বিএমইটি ডাটাবেজ রেজিস্ট্রেশন ও ফিংগারপ্রিন্ট: 'আমি প্রবাসী' (Ami Probashi) অ্যাপ বা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO)-তে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক ফিংগারপ্রিন্ট সম্পন্ন করতে হয়।
  • ৩ দিনের বাধ্যতামূলক পিডিও (PDO) ট্রেনিং: কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) থেকে সিঙ্গাপুরগামী কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ৩ দিনের প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল সনদ নিতে হয়।
  • চুক্তিপত্র, আইপিএ ও কল্যাণ বোর্ড ফি জমা: বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আপনার যাচাইকৃত আইপিএ কপি, চাকরির চুক্তিপত্র এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নির্ধারিত ফি ও বীমা প্রিমিয়াম জমা দিলে বিএমইটি কিউআর কোডযুক্ত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স স্মার্ট কার্ড ইস্যু করে। বিস্তারিত জানতে আমাদের বিএমইটি ও স্মার্ট কার্ড সেবা পেজটি দেখুন।

ওয়ার্ক পারমিট কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে করণীয় (Card Replacement)

সিঙ্গাপুরে কর্মরত অবস্থায় আপনার সবুজ রঙের ওয়ার্ক পারমিট কার্ডটি যদি চুরি হয়ে যায়, হারিয়ে যায় অথবা ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়, তবে বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। আইন অনুযায়ী কার্ড হারানোর বা নষ্ট হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে নতুন রিপ্লেসমেন্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা বাধ্যতামূলক। যদি কার্ডটি চুরি হয়ে থাকে বা বাইরে কোথাও হারিয়ে যায়, তবে সবার আগে নিকটস্থ সিঙ্গাপুর পুলিশ স্টেশনে (Neighborhood Police Centre) গিয়ে অথবা অনলাইনে একটি পুলিশ রিপোর্ট (Police Report) করতে হবে। এরপর সেই পুলিশ রিপোর্টের কপি আপনার কোম্পানির এইচআর বা মালিককে দিলে তাঁরা WPOL পোর্টালে লগইন করে কার্ড রিপ্লেসমেন্টের আবেদন করবেন।

ওয়ার্ক পারমিট কার্ড প্রথমবার হারানোর জন্য সরকারি রিপ্লেসমেন্ট ফি হলো ১০০ সিঙ্গাপুর ডলার এবং দ্বিতীয়বার বা তারপরে হারালে ফি হয় ৩০০ সিঙ্গাপুর ডলার। আর কার্ডটি যদি পুরনো হয়ে ভেঙে যায় বা চিপ নষ্ট হয় (Damaged Card), তবে পুরনো কার্ড জমা দেওয়া সাপেক্ষে মাত্র ৬০ সিঙ্গাপুর ডলার ফিতে নতুন কার্ড পাওয়া যায়। রিপ্লেসমেন্ট অনুমোদনের পর ৪ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কার্ড ডেলিভারি দেওয়া হয় এবং এই মধ্যবর্তী সময়ে আপনি SGWorkPass অ্যাপের ডিজিটাল কার্ড ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবেন।

অনলাইন ওয়ার্ক পারমিট চেকিংয়ে সচরাচর দেখা দেওয়া সমস্যার সমাধান

অনেক সময় প্রবাসী ভাইয়েরা MOM পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সার্চ করার সময় কিছু কারিগরি ত্রুটি বা বিভ্রান্তির সম্মুখীন হন। নিচে সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হলো:

  • নামের বানান ও ক্রম না মেলা: বাংলাদেশি পাসপোর্টে অনেকের নামের আগে MD বা MOHAMMAD থাকে। MOM পোর্টালে সার্চ করার সময় পাসপোর্টের নিচের মেশিন রিডেবল জোনের (MRZ) ক্রম এবং আইপিএ কপিতে যেভাবে নাম লেখা আছে, ঠিক সেই বানানে সার্চ করুন।
  • পুরনো বনাম নতুন ই-পাসপোর্ট নম্বর: আপনি যদি সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ই-পাসপোর্ট নবায়ন করে থাকেন, তবে আপনার পুরনো পাসপোর্ট নম্বরটির বদলে নতুন ই-পাসপোর্ট নম্বরটি কোম্পানির মাধ্যমে MOM সিস্টেমে আপডেট (Update Passport Details in WPOL) করিয়ে নিতে হবে। তা না হলে নতুন পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সার্চ করলে তথ্য দেখাবে না।
  • সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ সময় (System Maintenance): প্রতি রবিবার রাত এবং সরকারি ছুটির নির্দিষ্ট কিছু সময়ে MOM-এর WPOL ও EP eService পোর্টালে কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ চলে। ওই সময় পোর্টাল সাময়িক বন্ধ থাকলে কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় চেষ্টা করুন অথবা SGWorkPass অ্যাপ ব্যবহার করুন।

পারমিট বাতিল বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে স্পেশাল পাস ও আইনি করণীয়

সিঙ্গাপুরে কর্মরত অবস্থায় কখনো যদি SGWorkPass অ্যাপে চেক করে দেখেন যে আপনার ওয়ার্ক পারমিট হঠাৎ 'Cancelled' বা 'Expired' দেখাচ্ছে, তবে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করবেন না। সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA)-এর আইন অনুযায়ী বৈধ পাস ছাড়া এক দিনও অতিরিক্ত অবস্থান (Overstay) করা গুরুতর অপরাধ। ৯০ দিনের বেশি ওভারস্টে করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পাশাপাশি বেত্রাঘাত (Caning)-এর মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ হলে স্পেশাল পাস ও আইনি সুরক্ষা
চিত্র ১০: ওয়ার্ক পারমিট বাতিল বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ওভারস্টে জরিমানা এড়াতে MOM স্পেশাল পাস সংগ্রহের আইনি প্রক্রিয়া

সাধারণত কোম্পানি ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করলে কর্মীকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ৭ থেকে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী Special Pass ইস্যু করা হয় এবং দেশে ফেরার বিমানের টিকিট (Repatriation Air Ticket) কোম্পানিকেই কিনে দিতে হয়। কিন্তু কোম্পানি যদি আপনার বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই পারমিট বাতিল করে জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দিতে চায়, তবে কখনোই বিমানবন্দরে গিয়ে নীরবে ফ্লাইটে উঠবেন না। তাৎক্ষণিকভাবে MOM হেল্পলাইনে (6438 5122) অথবা TADM অফিসে উপস্থিত হয়ে বেতন বকেয়ার অভিযোগ দায়ের করুন। আপনি অভিযোগ দায়ের করার সাথে সাথে MOM আপনাকে একটি সাদা রঙের অফিশিয়াল MOM Special Pass Card প্রদান করবে, যার মাধ্যমে আপনি বেতনের দাবি বা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে সম্পূর্ণ বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট সমস্যায় MOM ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের জরুরি সহায়তা
চিত্র ১১: ওয়ার্ক পারমিট জটিলতা ও পাসপোর্ট সমস্যায় সিঙ্গাপুর MOM সার্ভিস সেন্টার ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ সহায়তা ডেস্ক

পাশাপাশি আপনার পাসপোর্ট যদি মালিক আটকে রাখেন বা মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে দ্রুত জালান বেসুতে অবস্থিত সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন-এর শ্রম কল্যাণ উইংয়ে যোগাযোগ করুন। বৈধ উপায়ে অর্জিত সিঙ্গাপুর ডলার দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বদা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিনের বিনিময় হার জানতে আমাদের আজকের সিঙ্গাপুর ডলার রেট বাংলাদেশ নির্দেশিকা ও গুগল প্লে স্টোরের Taka Rate Today অ্যাপ (আজকের টাকার রেট) ব্যবহার করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

সিঙ্গাপুর প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসাপ্রত্যাশী ভাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:

হ্যাঁ, সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের (MOM) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট mom.gov.sg এর 'Check work pass and application status' ই-সার্ভিস পোর্টালে গিয়ে আপনার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর, পূর্ণ নাম এবং জন্মতারিখ প্রদান করে সরাসরি ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের স্ট্যাটাস চেক করা যায়।

না, শুধুমাত্র কার্ড বা আইপিএ লেটারের কিউআর কোড স্ক্যান করে বৈধতা যাচাই করার জন্য কোনো লগইন বা Singpass আইডির প্রয়োজন হয় না। অ্যাপের হোম স্ক্রিনের 'Scan QR Code' ফিচারটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

আধুনিক নিরাপত্তা ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের কারণে MOM এখন প্লাস্টিক কার্ডে মেয়াদের তারিখ মুদ্রণ করে না, যাতে পারমিট নবায়ন করলে বারবার নতুন কার্ড ছাপাতে না হয়। কার্ডের কিউআর কোড SGWorkPass অ্যাপে স্ক্যান করলেই লাইভ এক্সপায়ারি ডেট দেখা যায়।

এর অর্থ হলো আপনার পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ে কোনো বৈধ আবেদন জমা পড়েনি অথবা দালাল আপনাকে সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজ দিয়েছে। কখনোই এমন ভিসার জন্য টাকা লেনদেন করবেন না।

নিয়োগকারী কোম্পানি পরপর মাসিক সরকারি লেভি (Foreign Worker Levy) বকেয়া ফেললে MOM স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল (Revoke) করে দিতে পারে। তাই নিয়মিত অ্যাপে নিজের পাসের স্ট্যাটাস চেক করা জরুরি।

একেবারেই না। সিঙ্গাপুরের EFMA আইন অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করার জন্য কর্মীর কাছ থেকে যেকোনো অর্থ বা 'কিকব্যাক' দাবি করা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। কেউ টাকা চাইলে প্রমাণসহ MOM হেল্পলাইনে (6438 5122) অভিযোগ করুন।

পারমিট বাতিলের পর সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের একটি স্পেশাল পাস দেওয়া হয় যার মধ্যে কোম্পানির খরচে দেশে ফিরতে হয়। তবে বেতন বকেয়া বা দুর্ঘটনার মামলা থাকলে MOM-এর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্পেশাল পাস নিয়ে বৈধভাবে থাকা যায়।

নতুন ওয়ার্ক পারমিট আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি (NTS) কর্মীদের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হয়। তবে সিঙ্গাপুরে কর্মরত অবস্থায় পারমিট নবায়ন করে সর্বোচ্চ ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত (নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ সাপেক্ষে) কাজ করা যায়।

আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কবার্তা: "সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট চেক ২০২৬: পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে চেক করার নিয়ম" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আইনি পরামর্শ নয়। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM), ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA), বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অথরিটি (BCA) এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের যেকোনো নীতিমালা বা ফি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower - MOM): https://www.mom.gov.sg
  • ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA Singapore): https://www.ica.gov.sg
  • ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (TADM): https://www.tal.sg/tadm
  • বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর (Bangladesh High Commission): https://singapore.mofa.gov.bd