আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
🇸🇬 সিঙ্গাপুর প্রবাসী নির্দেশিকা সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ বেতন ও ওভারটাইম গাইড

সিঙ্গাপুরে বেতন কত ২০২৬: কাজভিত্তিক বেতন, ওভারটাইম ও খরচের হিসাব

সিঙ্গাপুরে বেতন কত ২০২৬ কাজভিত্তিক বেতন ওভারটাইম ও খরচের হিসাব
চিত্র ১: ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরে কনস্ট্রাকশন, শিপইয়ার্ড ও সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের মাসিক বেতন, ওভারটাইম ও সঞ্চয়ের হিসাব
📌 সারসংক্ষেপ ও মূল দিকনির্দেশনা (Executive Summary)

সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসায় যাওয়ার আগে প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মনে প্রথম যে প্রশ্নটি জাগে তা হলো—সিঙ্গাপুরে বেতন কত এবং মাস শেষে থাকা-খাওয়ার খরচ বাদ দিয়ে দেশে কত টাকা পাঠানো সম্ভব? ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুর ডলারের শক্তিশালী বিনিময় হারের কারণে সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে দালালরা অনেক সময় নতুন কর্মীদের কাছে বেসিক বেতন ও ওভারটাইম মিলিয়ে অবাস্তব অঙ্কের প্রলোভন দেখায়, যা সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর বাস্তবতার সাথে মেলে না।

এই বাস্তবভিত্তিক নির্দেশিকায় আমরা কনস্ট্রাকশন, মেরিন শিপইয়ার্ড, পেট্রোকেমিক্যাল প্রসেস, ক্লিনিং এবং হোটেল খাতের নতুন (R2) ও দক্ষ (R1 / CoreTrade) কর্মীদের প্রকৃত মাসিক বেসিক বেতন, ১.৫ গুণ ওভারটাইমসহ মোট আয়, ডরমিটরি ও খাবারের খরচ এবং বাংলাদেশি টাকায় নিট মাসিক সঞ্চয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব তুলে ধরেছি।

সিঙ্গাপুরে সর্বনিম্ন বেতন কত এবং বেতন কাঠামো কীভাবে নির্ধারিত হয়?

প্রথমেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি তথ্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন—সিঙ্গাপুরে বিদেশি ওয়ার্ক পারমিটধারী কর্মীদের জন্য সরকার নির্ধারিত কোনো একক সার্বজনীন সর্বনিম্ন মজুরি (National Minimum Wage) নেই। তবে এস-পাস (S Pass) ক্যাটাগরির জন্য ন্যূনতম ফিক্সড বেতন ৩,১৫০ সিঙ্গাপুর ডলার এবং এমপ্লয়মেন্ট পাসের (EP) জন্য ৫,৬০০ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণ ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit) কর্মীদের বেতন নির্ধারিত হয় বাজারের চাহিদা, কর্মীর কারিগরি দক্ষতা (R1 নাকি R2) এবং নিয়োগকারী কোম্পানির সাথে স্বাক্ষরিত সিঙ্গাপুর আইপিএ লেটার ও চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী। সিঙ্গাপুরের শ্রম আইন ও বেতনের অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের সিঙ্গাপুর শ্রম আইন ও MOM অভিযোগ গাইডটি দেখুন।

একজন ওয়ার্ক পারমিট কর্মীর মোট মাসিক আয় মূলত তিনটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়: প্রথমত, Basic Monthly Salary (মূল বেসিক বেতন) যা সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা নিয়মিত কাজের জন্য নির্ধারিত; দ্বিতীয়ত, Overtime Pay (ওভারটাইম ভাতা) যা অতিরিক্ত ঘণ্টার জন্য ১.৫ গুণ হারে প্রদেয়; এবং তৃতীয়ত, Fixed Allowances (যাতায়াত বা খাবার ভাতা)। নতুন কর্মীরা যখন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার সিঙ্গাপুরে যান, তখন প্রথম ১-২ বছর তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে ওভারটাইম ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা।

কাজভিত্তিক মাসিক বেতন চার্ট ২০২৬ (কনস্ট্রাকশন, শিপইয়ার্ড, হোটেল ও ক্লিনিং)

সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বাস্তব পে-স্লিপ এবং আইপিএ ডেটার আলোকে ২০২৬ সালে বিভিন্ন খাতে মাসিক বেসিক বেতন এবং ওভারটাইমসহ মোট আয়ের (Gross Salary) তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

সিঙ্গাপুর কনস্ট্রাকশন ক্লিনার ও হোটেল ভিসার কাজভিত্তিক বেতন তালিকা
চিত্র ২: সিঙ্গাপুরে কনস্ট্রাকশন, শিপইয়ার্ড, প্রসেস ও সার্ভিস খাতে কাজভিত্তিক মাসিক বেতন কাঠামো ২০২৬
কাজের খাত ও পদবি মাসিক বেসিক বেতন (SGD) ওভারটাইমসহ মোট মাসিক আয় (SGD) বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক মূল্যমান
কনস্ট্রাকশন — নতুন কর্মী (R2 General Worker) ৭০০ – ৯০০ ডলার ১,১০০ – ১,৪৫০ ডলার প্রায় ১,০০,০০০ ৳ – ১,৩২,০০০ ৳
কনস্ট্রাকশন — দক্ষ কর্মী (R1 / CoreTrade টেকনিশিয়ান) ১,১০০ – ১,৬০০ ডলার ১,৬৫০ – ২,৩০০ ডলার প্রায় ১,৫০,০০০ ৳ – ২,১০,০০০ ৳
মেরিন শিপইয়ার্ড (Welder, Pipefitter, Rigger) ৭৫০ – ১,২০০ ডলার ১,২০০ – ১,৮৫০ ডলার প্রায় ১,১০,০০০ ৳ – ১,৬৮,০০০ ৳
পেট্রোকেমিক্যাল প্রসেস খাত (Jurong Island / Tuas) ৮৫০ – ১,৪০০ ডলার ১,৩৫০ – ২,১০০ ডলার প্রায় ১,২৩,০০০ ৳ – ১,৯১,০০০ ৳
হোটেল হাউজকিপিং, কুক ও ক্লিনিং (অনুমোদিত NTS কোটা) ৯০০ – ১,৩৫০ ডলার ১,৩০০ – ১,৮০০ ডলার প্রায় ১,১৮,০০০ ৳ – ১,৬৪,০০০ ৳
সাইট সুপারভাইজার / ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার (S Pass) ৩,১৫০ – ৪,২০০ ডলার ৩,২০০ – ৪,৫০০ ডলার প্রায় ২,৯০,০০০ ৳ – ৪,১০,০০০ ৳

সাধারণ কর্মী (R2) বনাম দক্ষ কর্মী (R1 / CoreTrade) বেতনের পার্থক্য

বাংলাদেশে সিঙ্গাপুর স্কিল টেস্ট দিয়ে যাঁরা প্রথমবার যান, তাঁরা সবাই R2 (Basic Skilled) হিসেবে কাজ শুরু করেন। R2 কর্মীদের জন্য মালিককে সরকারকে প্রতি মাসে ৭০০ থেকে ৯০০ ডলার লেভি দিতে হয়, তাই শুরুতে মালিকরা বেসিক বেতন ৭০০ থেকে ৯০০ ডলারের মধ্যে রাখেন। কিন্তু কর্মী যখন সিঙ্গাপুরে ৪ বছর কাজ করার পর বিসিএ একাডেমি থেকে CoreTrade বা Multi-Skilling কোর্স পাস করে R1 (Higher Skilled)-এ উন্নীত হন, তখন মালিকের মাসিক লেভি খরচ কমে ৩০০-৩৫০ ডলারে নেমে আসে। ফলে মালিকরা দক্ষ R1 কর্মীদের ধরে রাখার জন্য মাসিক বেসিক বেতন বাড়িয়ে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ ডলার করে দেন এবং ওভারটাইম রেটও আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়।

সিঙ্গাপুরে R2 সাধারণ কর্মী থেকে R1 দক্ষ কর্মীতে উন্নীত হলে বেতন বৃদ্ধি
চিত্র ৩: সিঙ্গাপুরে R2 সাধারণ কর্মী থেকে R1 (CoreTrade) দক্ষ কর্মীতে উন্নীত হলে লেভি হ্রাস ও বেতন বৃদ্ধির তুলনা

ওভারটাইম (১.৫ গুণ) ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের অতিরিক্ত আয়ের হিসাব

সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের সঞ্চয়ের মূল চাবিকাঠি হলো ওভারটাইম। এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টার পর অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টার জন্য ১.৫ গুণ এবং রবিবার বা সরকারি ছুটির দিনে কাজ করলে ২ গুণ হারে বেতন পাওয়া যায়। একজন কর্মী মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৭২ ঘণ্টা ওভারটাইম করলে শুধুমাত্র ওভারটাইম থেকেই প্রতি মাসে ৩৫০ থেকে ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকা) অতিরিক্ত আয় করতে পারেন, যা দিয়ে তাঁর নিজের পুরো মাসের খাবার ও হাতখরচ চলে যাওয়ার পরও উদ্বৃত্ত থাকে।

সিঙ্গাপুরে ওভারটাইম ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বেতন হিসাব করার নিয়ম
চিত্র ৪: মাসে ৭২ ঘণ্টা ওভারটাইম এবং সাপ্তাহিক বিশ্রাম দিবসে কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডলার আয়ের হিসাব

সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের মাসিক থাকা-খাওয়ার খরচ ও নিট সঞ্চয় বাজেট

ওয়ার্ক পারমিট কর্মীদের ডরমিটরি আবাসন খরচ সাধারণত কোম্পানি বহন করে (অথবা আইপিএ শর্ত অনুযায়ী সামান্য অংশ সমন্বয় করে)। তবে নিজের খাবার, মোবাইল বিল এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য মাসে কত ডলার লাগে তার একটি বাস্তব হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের মাসিক খাবার যাতায়াত খরচ ও নিট সঞ্চয়ের হিসাব
চিত্র ৫: ডরমিটরিতে থাকা প্রবাসী কর্মীদের মাসিক খাবার, মোবাইল ডেটা ও যাতায়াত খরচ বাদে নিট সঞ্চয়ের বাজেট
  • মাসিক খাবার খরচ (Food / Catering): ডরমিটরিতে নিজে রান্না করে খেলে মাসে প্রায় ১৪০ থেকে ১৮০ ডলার এবং বাংলাদেশি ক্যাটারিং সার্ভিসে তিন বেলা খাবার নিলে মাসে ১৬০ থেকে ২২০ সিঙ্গাপুর ডলার খরচ হয়।
  • মোবাইল সিম ও ইন্টারনেট বিল: ১০০ জিবি ডেটা ও আইডিডি কলসহ মাসিক সিঙ্গাপুর সিম কার্ড খরচ মাত্র ১০ থেকে ১৫ ডলার।
  • এমআরটি যাতায়াত ও হাতখরচ: ছুটির দিনে বাইরে ঘোরাফেরা ও প্রসাধন সামগ্রী বাবদ মাসে ৫০ থেকে ৮০ ডলার।
  • সর্বমোট মাসিক ব্যক্তিগত খরচ: একজন মিতব্যয়ী প্রবাসীর মাসে মোট খরচ হয় মাত্র ২২০ থেকে ৩২০ সিঙ্গাপুর ডলার। ফলে মাসে ১,৩০০ ডলার আয় করলে তিনি সহজেই ৯৫০ থেকে ১,০৫০ সিঙ্গাপুর ডলার নিট সঞ্চয় করে দেশে পাঠাতে পারেন।

সিঙ্গাপুর ডলারে আয় ও ২.৫% প্রণোদনাসহ বাংলাদেশি টাকায় মূল্যমান

বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ডলার বাংলাদেশে পাঠালে বাংলাদেশ সরকার প্রেরিত অর্থের ওপর অতিরিক্ত ২.৫% নগদ প্রণোদনা প্রদান করে। নিচে মাসিক সঞ্চয়ের বিপরীতে দেশে পরিবার কত টাকা পাবে তার একটি হিসাব দেওয়া হলো (বিস্তারিত রেট জানতে আমাদের আজকের সিঙ্গাপুর ডলার রেট বাংলাদেশ গাইড এবং গুগল প্লে স্টোরের Taka Rate Today অ্যাপ — আজকের টাকার রেট দেখুন):

সিঙ্গাপুরে মাসিক আয়ের বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর ও রেমিট্যান্স হিসাব
চিত্র ৬: সিঙ্গাপুর ডলারে অর্জিত মাসিক সঞ্চয় ২.৫% সরকারি প্রণোদনাসহ বাংলাদেশে পাঠানোর পর টাকার হিসাব

যদি একজন কর্মী প্রতি মাসে ১,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার দেশে পাঠান, তবে ব্যাংকিং রেট ও ২.৫ শতাংশ সরকারি ক্যাশ বোনাস মিলে তাঁর পরিবার বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্রায় ৯২,০০০ থেকে ৯৫,০০০ টাকা হাতে পাবে। আর দক্ষ R1 কর্মী মাসে ১,৫০০ ডলার পাঠালে পরিবার পাবে প্রায় ১,৩৮,০০০ থেকে ১,৪২,০০০ টাকা। তাই দালালের প্রলোভনে অতিরিক্ত খরচে ভিসা না কিনে নির্ধারিত খরচে দক্ষ হয়ে সিঙ্গাপুরে গেলে প্রথম ১ বছরের মধ্যেই ভিসার সম্পূর্ণ খরচ তুলে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

বার্ষিক বোনাস (AWS / 13th Month Bonus) ও পে-স্লিপ সংরক্ষণের গুরুত্ব

সিঙ্গাপুরের অনেক প্রথম সারির কনস্ট্রাকশন, মেরিন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বছর শেষে কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন ও কোম্পানির মুনাফার ওপর ভিত্তি করে Annual Wage Supplement (AWS) বা ১৩তম মাসের বোনাস এবং পারফরম্যান্স বোনাস প্রদান করে। এ ছাড়া চাকরির চুক্তিপত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির (Annual Increment) সুযোগ থাকলে প্রতি বছর পারমিট নবায়নের সময় মূল বেসিক বেতন ৫০ থেকে ১৫০ ডলার করে বৃদ্ধি পায়। নিজের প্রাপ্য বেতন ও ওভারটাইম শতভাগ বুঝে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কর্মীকে প্রতিদিন কাজের শেষে নিজের টাইমকার্ডের ছবি তুলে রাখা এবং মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে আইটেমাইজড পে-স্লিপ মিলিয়ে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো মাসে ওভারটাইমের ঘণ্টা কম লেখা হলে সাথে সাথে সুপারভাইজার ও এইচআর বিভাগে অবহিত করে পরের মাসের বেতনের সাথে তা সমন্বয় করে নিতে হবে।

পাশাপাশি মনে রাখবেন, সিঙ্গাপুরে কোনো কর্মী অসুস্থ হয়ে অনুমোদিত পিসিপি ক্লিনিক বা সরকারি হাসপাতাল থেকে মেডিকেল লিভ (MC) নিলে এবং চাকরির মেয়াদ ৩ মাস পূর্ণ হলে ওই অসুস্থতার দিনগুলোর জন্যও তিনি পূর্ণ বেসিক বেতন পাওনা হন। তাই শ্রম আইন সম্পর্কে সচেতন থাকলে এবং নিজের কারিগরি দক্ষতা (CoreTrade / Multi-Skilling) ক্রমাগত উন্নত করলে সিঙ্গাপুরে একজন বাংলাদেশি কর্মী প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধভাবে উপার্জন করতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

সিঙ্গাপুর প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসাপ্রত্যাশী ভাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:

নতুন (R2) কনস্ট্রাকশন শ্রমিকের প্রারম্ভিক মাসিক বেসিক বেতন সাধারণত ৭০০ থেকে ৯০০ সিঙ্গাপুর ডলার হয়। তবে নিয়মিত ওভারটাইমসহ মাস শেষে মোট আয় ১,১০০ থেকে ১,৪৫০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা) হয়ে থাকে।

অনুমোদিত এনটিএস (NTS) কোটায় হোটেল হাউজকিপিং, কুক বা কমার্শিয়াল ক্লিনিং পেশায় মাসিক বেসিক বেতন ৯০০ থেকে ১,৩৫০ ডলার এবং ওভারটাইমসহ মোট আয় ১,৩০০ থেকে ১,৮০০ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত হয়।

ওয়ার্ক পারমিট কর্মীদের ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা কোম্পানি করে থাকে (আইপিএ লেটারে উল্লেখ সাপেক্ষে)। তবে প্রতি মাসের তিন বেলা খাবারের খরচ (প্রায় ১৫০–২০০ ডলার) সাধারণত কর্মীকে নিজের বেতন থেকে বহন করতে হয়।

সাধারণত প্রতি ২ বছর পর পারমিট নবায়নের সময় কোম্পানি অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি করে। তাছাড়া ৪ বছর কাজ করার পর বিসিএ কোর ট্রেড (CoreTrade) পাস করে R1 দক্ষ কর্মীতে উন্নীত হলে বেসিক বেতন এক লাফে ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার বেড়ে যায়।

সিঙ্গাপুরের শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মীদের বেতন নগদে দেওয়া নিষিদ্ধ। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে (যেমন POSB বা DBS ব্যাংকে) সরাসরি বেতন ও পে-স্লিপ প্রদান করা বাধ্যতামূলক।

আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কবার্তা: "সিঙ্গাপুরে বেতন কত ২০২৬: কাজভিত্তিক বেতন, ওভারটাইম ও খরচের হিসাব" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আইনি পরামর্শ নয়। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM), ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA), বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অথরিটি (BCA) এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের যেকোনো নীতিমালা বা ফি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower - MOM): https://www.mom.gov.sg
  • ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA Singapore): https://www.ica.gov.sg
  • ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (TADM): https://www.tal.sg/tadm
  • বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর (Bangladesh High Commission): https://singapore.mofa.gov.bd