কফিল ছাড়া ফাইনাল এক্সিট চেক ও তারহিল ডিপোর্টেশন আইন ২০২৬
চিত্র: কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বিঘ্নে বোর্ডিং পাস ও এক্সিট ক্লিয়ারেন্স।
সৌদি আরবে বহু বছর ধরে কাজ করার পর অনেক প্রবাসী ভাই নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফিরে যেতে চান। কিন্তু অনেক সময় অসৎ কফিল বা কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে ছুটি বা ফাইনাল এক্সিট (খুরুজ নেহাই - Khurooj Nihai) আটকে রাখে কিংবা অনৈতিক অর্থ দাবি করে। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (HRSD) নতুন শ্রম সংস্কার ব্যবস্থার আওতায় শ্রমিকদের এই দাসত্বমূলক বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে কফিলের অনুমতি বা নো অবজেকশন ছাড়াই শ্রমিক সরাসরি সরকারি প্ল্যাটফর্ম **ক্বিওয়া (Qiwa)** থেকে ফাইনাল এক্সিট আবেদন করতে পারেন। একই সাথে হুরুবপ্রাপ্ত বা ওভারস্টে কর্মীদের তারহিল (Tarheel) ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে ফেরত যাওয়ার নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো।
১. কফিলের অনুমতি ছাড়া ক্বিওয়ায় ফাইনাল এক্সিট পাওয়ার আইনি শর্তাবলী
সৌদি শ্রম সংস্কার উদ্যোগ (Labor Reform Initiative - LRI) অনুযায়ী একজন কর্মী নিচের যে কোনো একটি আইনি পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কফিলের সম্মতি ছাড়াই এক্সিট ভিসা আবেদন করতে পারেন:
- চুক্তির স্বাভাবিক মেয়াদপূর্তি: ক্বিওয়া প্ল্যাটফর্মে স্বাক্ষরিত কর্মচুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মী নবায়ন না করে ৩০ থেকে ৬০ দিন পূর্বে নোটিশ দিয়ে এক্সিট আবেদন করতে পারেন।
- টানা ৩ মাস বেতন বকেয়া: যদি নিয়োগকর্তা টানা তিন মাস কর্মীর মূল বেতন প্রদান না করেন।
- আকামা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা: আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কফিল যদি ৩০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন না করে।
- কোম্পানি রেড ক্যাটাগরিতে থাকা: কফিলের প্রতিষ্ঠান বা মোয়াসসাসা যদি নাতাকাত (Nitaqat) ব্যবস্থায় লাল তালিকায় অবস্থান করে।
- কফিল বা মালিক অনুপস্থিত থাকা: কফিল মারা গেলে বা দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকলে কর্মীর বৈধ অধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সরাসরি এক্সিট অনুমোদন দেয়।
কফিল ছাড়া অন্য কোম্পানিতে কাফালা ট্রান্সফারের শর্তাবলী জানতে পড়তে পারেন আমাদের কফিল ছাড়া কাফালা পরিবর্তনের ৫টি নিয়ম গাইড।
চিত্র ২: ক্বিওয়া পোর্টালে কফিলের সম্মতি ব্যতীত সরাসরি খুরুজ নেহাই আবেদনের ইন্টারফেস।
২. ক্বিওয়া অ্যাপে ধাপে ধাপে ফাইনাল এক্সিট আবেদন প্রক্রিয়া
শর্ত পূরণকারী প্রবাসীরা ঘরে বসেই নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে নিচের ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন:
- ক্বিওয়া ইনডিভিজুয়াল পোর্টালে লগইন: ক্বিওয়ার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে (Qiwa Individual Portal) নাফাত অ্যাপের বায়োমেট্রিক ওটিপির মাধ্যমে প্রবেশ করুন।
- ই-সার্ভিস মেনু নির্বাচন: ড্যাশবোর্ড থেকে 'Employee Transfer & Exit Services' অপশনে ক্লিক করে 'Final Exit Request' নির্বাচন করুন।
- নোটিশ পিরিয়ড কাউন্টডাউন: আবেদন দাখিল করার পর সিস্টেমে ৩০ দিনের একটি স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন কফিলের ড্যাশবোর্ডে যাবে। কফিল কোনো আইনি আপত্তি বা ক্রিমিনাল কেস প্রমাণ করতে না পারলে ৩০ দিন পর মন্ত্রণালয় সরাসরি আবশিরে ফাইনাল এক্সিট ইস্যু করে দেবে।
ক্বিওয়া চুক্তির ক্লজ যাচাই করতে দেখুন আমাদের ক্বিওয়া চুক্তি সত্যায়ন ও শ্রম আইন গাইড।
চিত্র ৩: তারহিল ডিপোর্টেশন সেন্টারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও স্বেচ্ছায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রশাসনিক কক্ষ।
৩. তারহিল (Tarheel) ডিপোর্টেশন সেন্টার ও হুরুবপ্রাপ্তদের নিয়মাবলী
যেসব শ্রমিকের মাথায় হুরুব (পলাতক মামলা) রয়েছে অথবা যাদের আকামা বহু বছর ধরে বন্ধ এবং ক্বিওয়ায় আবেদন করার কোনো সুযোগ নেই, তাদের জন্য একমাত্র রাস্তা হলো তারহিল ডিপোর্টেশন সেন্টার:
- স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ: রিয়াদ বা জেদ্দার তারহিল সেন্টারে গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে তারা আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক গ্রহণ করে দেশে ফেরার ফাইল ওপেন করে।
- আউটপাস (Travel Permit): পাসপোর্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস গ্রহণ করতে হয়।
- বিমান টিকিট ও প্রস্থান: সাধারণ শ্রমিককে নিজ খরচে ওয়ান-ওয়ে বিমান টিকিট ক্রয় করতে হয়। পুলিশি পাহারায় সরাসরি এয়ারপোর্টে নিয়ে বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
- ব্যান বা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি: তারহিলের মাধ্যমে গেলে সাধারণত ৫ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সৌদি আরবে নতুন কাজের ভিসায় আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে হজ বা উমরাহর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন প্রযোজ্য।
হুরুব কাটার আইনি পদ্ধতি জানতে দেখুন আমাদের সৌদি হুরুব চেক ও বাতিল করার সরকারি নিয়ম গাইড।
চিত্র ৪: আবশির অ্যাকাউন্টে ফাইনাল এক্সিট ভিসার ৬০ দিনের মেয়াদ ও স্ট্যাটাস যাচাই।
৪. আবশিরে ফাইনাল এক্সিট স্ট্যাটাস চেক ও ৬০ দিনের সতর্কতা
ফাইনাল এক্সিট লেগেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে আবশির (Absher) অ্যাপে লগইন করে 'Dashboard' -> 'Visa Services' এ যান। সেখানে ভিসার ধরন 'Final Exit' এবং মেয়াদ '60 Days' দেখতে পাবেন। এই ৬০ দিন সময়ের মধ্যে আপনাকে অবশ্যই সৌদি আরব ত্যাগ করতে হবে। যদি ৬০ দিন পার হয়ে যায় এবং আপনি সৌদি আরবে অবস্থান করেন, তবে প্রথমবার ১,০০০ রিয়াল এবং পরবর্তীতে আকামা বাতিল ও ডিপোর্টেশন ফেস করতে হতে পারে।
পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা স্ট্যাটাস চেক করার সহজ নিয়ম রয়েছে আমাদের মুকিম পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা চেক গাইড-এ।
চিত্র ৫: পাসপোর্টবিহীন কর্মীদের জন্য কনস্যুলার আউটপাস ও ওয়ান-ওয়ে ট্রাভেল পারমিট।
৫. দেশত্যাগের পূর্বে জরুরি আর্থিক ও আইনি চেকপোস্ট
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে যাতে কোনো পুলিশি জটিলতা না হয়, সেজন্য দেশত্যাগের পূর্বে নিশ্চিত করুন:
- ট্রাফিক জরিমানা শূন্য করা: আপনার আকামায় কোনো ট্রাফিক জরিমানা থাকলে তা সাদাদের মাধ্যমে আগেই পরিশোধ করুন।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ড ক্লোজ: আপনার সমস্ত সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শূন্য করে অ্যাকাউন্ট ক্লোজার স্লিপ নিন। কোনো লোন বা ক্রেডিট কার্ডের দেনা থাকলে ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়া হবে।
- গাড়ির মালিকানা বা তাফউইদ বাতিল: নিজের নামে কোনো যানবাহন থাকলে তা বিক্রি বা স্ক্র্যাপ করুন।
৬. শেষ কর্মদিবসের গ্র্যাচুইটি ও বকেয়া বেতন আদায়ের নিয়ম
সৌদি শ্রম আইনের অনুচ্ছেদ ৮৪ ও ৮৫ অনুযায়ী, ফাইনাল এক্সিটে যাওয়ার পূর্বে কর্মী তার কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে শেষ সেবা পুরস্কার বা এন্ড অব সার্ভিস বেনিফিট (End of Service Gratuity) পাওয়ার অধিকারী। প্রথম ৫ বছরের প্রতি বছরের জন্য অর্ধ মাসের মূল বেতন এবং পরবর্তী প্রতি বছরের জন্য এক মাসের পূর্ণ বেতন হারে এই অর্থ হিসাব করা হয়। যদি কোম্পানি পাওনা অর্থ পরিশোধে টালবাহানা করে, তবে ক্বিওয়া এবং ওদি (Waddi) প্ল্যাটফর্মে শ্রম আদালতে অনলাইন মামলা দাখিল করে ন্যায্য অধিকার আদায় করে দেশ ত্যাগ করুন।
৭. বৈধ ফাইনাল এক্সিটে গিয়ে পুনরায় নতুন ভিসায় সৌদি আরব আসার নিয়ম
অনেকের মনে ভুল ধারণা থাকে যে ফাইনাল এক্সিটে গেলে আর কোনোদিন সৌদি আরবে ফেরা যায় না। বাস্তব সত্য হলো, আপনি যদি কোনো অপরাধ বা হুরুব ছাড়া সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে ক্বিওয়া বা কফিলের মাধ্যমে ফাইনাল এক্সিট ভিসা নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন, তবে আপনার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বা ব্যান থাকবে না। আপনি দেশে ফিরে পরদিনই নতুন বৈধ কাজের ভিসা, বিজনেস ভিসা কিংবা উমরাহ ভিসায় আইনগতভাবে পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন।
ট্রাফিক ফাইন ডিসকাউন্টে পরিশোধের নিয়ম জানতে পড়ুন আমাদের ইফালেকা ট্রাফিক জরিমানা চেক ও ৫০% ছাড় গাইড।
৭. ক্বিওয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্মে কফিলের অনুমতি ছাড়া ফাইনাল এক্সিট আবেদনের নিয়ম
সৌদি শ্রম সংস্কারের আওতায় একজন কর্মী তার চাকরির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি আর কাজ চালিয়ে যেতে না চান এবং কফিল যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইনাল এক্সিট ভিসা দিতে অস্বীকার করে, তবে কর্মী নিজেই ক্বিওয়া পোর্টালের মাধ্যমে ফাইনাল এক্সিটের আইনি আবেদন দাখিল করতে পারেন।
ক্বিওয়া সেলফ-ফাইনাল এক্সিটের পূর্বশর্তসমূহ:
- ক্বিওয়াতে নিবন্ধিত চাকরির চুক্তিটির সময়সীমা সফলভাবে সম্পন্ন হতে হবে এবং চুক্তির শর্তানুসারে নির্দিষ্ট নোটিশ পিরিয়ড (৬০ বা ৯০ দিন) আগে থেকে সিস্টেমের মাধ্যমে কোম্পানিকে অবহিত করতে হবে।
- কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্রিমিনাল কেস, ট্রাফিক জরিমানা কিংবা আর্থিক ঋণ বকেয়া থাকা চলবে না।
- আবেদন অনুমোদিত হলে জাওয়াযাত সিস্টেমে ৩০ দিনের একটি গ্রেস পিরিয়ডযুক্ত ইলেকট্রনিক ফাইনাল এক্সিট ভিসা জারি হয়, যার মধ্যে কর্মীকে নিজ দায়িত্বে বিমান টিকিট ক্রয় করে সৌদি আরব ত্যাগ করতে হয়।
৮. শ্রম আদালতে মামলা চলাকালীন বিশেষ মানবিক ফাইনাল এক্সিট পারমিট
অনেক সময় কফিলের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে দীর্ঘস্থায়ী মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কর্মী শারীরিকভাবে অসুস্থ বা পারিবারিক চরম সংকটের কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আকুল হয়ে পড়েন। এমন মানবিক পরিস্থিতিতে আদালতের জজের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি 'মানবিক এক্সিট আদেশ' জারি করা হয়।
এই আদেশের আওতায় কর্মী তার পক্ষে মামলার সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর অথবা কোনো বিশ্বস্ত বন্ধুকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (আমেল তাফউইদ) প্রদান করে নিজেই নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে পারেন। পরবর্তীতে মামলার নিষ্পত্তি হলে পাওনা অর্থ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে মরহুম বা কর্মীর একাউন্টে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়।
৯. তারহিল ডিপোর্টেশন সেন্টারে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রটোকল
যেসকল প্রবাসী ভাই কোনো বৈধ কাগজ ছাড়া বছরের পর বছর কাটিয়েছেন এবং কফিল খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, তারা সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় ডিপোর্টেশন সেন্টার বা 'তারহিল' (الترحيل) এ সরাসরি উপস্থিত হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দেশে ফেরার আবেদন করতে পারেন। তারহিলে উপস্থিত হলে পুলিশ কর্মকর্তা কর্মীর বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যান সম্পন্ন করেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আউটপাস সংগ্রহ সাপেক্ষে সরাসরি চার্টার্ড বা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
১০. ফাইনাল এক্সিট লাগানোর পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্লোজার ও সিম কার্ড বাতিল
সৌদি আরবের মাটি চিরতরে ত্যাগের পূর্বে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টগুলো যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা অপরিহার্য:
- ব্যাংক ব্যালেন্স উত্তোলন: আল রাজি, এসএনবি বা অন্যান্য ব্যাংকে থাকা সমস্ত টাকা ইউরপে বা এসটিসি পে-র মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে দিন এবং ব্যাংকের শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট ক্লোজার রিকোয়েস্ট দিন।
- সিম কার্ড বাতিল বা হস্তান্তর: আপনার আকামায় নিবন্ধিত অতিরিক্ত সিম কার্ডগুলো টেলিকম শোরুমে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসকানেক্ট করুন, যাতে আপনার প্রস্থানের পর কেউ এই সিম অপব্যবহার করতে না পারে।
- রুমে ভাড়ার চুক্তি নিষ্পত্তি: বাড়িওয়ালার সাথে 'ইজার' (Ejar) চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করে সিকিউরিটি ডিপোজিট বুঝে নিন। এই পরিষ্কার প্রস্তুতি আপনাকে যেকোনো আইনি ঝামেলামুক্তভাবে দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করবে।
ফাইনাল এক্সিটে দেশে ফেরার পর ভবিষ্যতে নতুন ভিসায় ফিরে আসার আইনি নিয়ম
সৌদি আরবের সংশোধিত ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মী যদি বৈধ উপায়ে চাকরির চুক্তি সম্পন্ন করে ফাইনাল এক্সিটে দেশে ফিরে যান, তবে তিনি যেকোনো সময় নতুন কোম্পানির বৈধ ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারেন। এতে কোনো সময়সীমা বা ব্ল্যাকলিস্ট নিষেধাজ্ঞা থাকে না।
তবে কেউ যদি হুরুব বা তারহিলের মাধ্যমে ডিপোর্টেশন জেল হয়ে দেশে যান, তবে তার ক্ষেত্রে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর অথবা ক্ষেত্রবিশেষে আজীবন সৌদি আরবসহ অন্যান্য জিসিসি দেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। তাই সর্বদা বৈধ চ্যানেলে আইনি এক্সিট নিশ্চিত করা প্রবাসীর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অপরিহার্য।