সিঙ্গাপুর শ্রম আইন: মালিকের বিরুদ্ধে MOM-এ অভিযোগ করার নিয়ম
সিঙ্গাপুর এশিয়ার অন্যতম কঠোর আইনের শাসনের দেশ, যেখানে স্থানীয় নাগরিক এবং বিদেশি অভিবাসী শ্রমিক—উভয়ের শ্রম অধিকার রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত। সিঙ্গাপুরের শ্রম ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হলো Employment Act (Chapter 91) এবং Employment of Foreign Manpower Act (EFMA)। এই দুটি শক্তিশালী আইনের অধীনে কর্মীদের সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ৪৪ ঘণ্টা নিয়মিত কাজ, অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টার জন্য ন্যূনতম ১.৫ গুণ ওভারটাইম ভাতা, মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ব্যাংক একাউন্টে বেতন ও আইটেমাইজড পে-স্লিপ প্রদান এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ ডলার ফ্রি চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ (WICA) শতভাগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তারপরও কখনো কখনো কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা বা সাব-কন্ট্রাক্টর প্রবাসী কর্মীদের বেতন আটকে রাখে, অবৈধভাবে লেভির টাকা কাটে, মূল পাসপোর্ট জব্দ করে রাখে কিংবা ভিসা নবায়নের নামে কিকব্যাক বা ঘুষ দাবি করে। এই পূর্ণাঙ্গ আইনি নির্দেশিকায় আমরা জানব সিঙ্গাপুরে মালিকের বিরুদ্ধে জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM) এবং ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (TADM)-এ গোপনে বা সরাসরি অভিযোগ করার ধাপ, স্পেশাল পাস সুরক্ষা এবং মালিকের অনুমতি ছাড়াই কোম্পানি পরিবর্তনের (Transfer without Consent) সরকারি নিয়মাবলি।
সিঙ্গাপুর শ্রম আইনের মূল কাঠামো: এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট ও EFMA
সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর জানা উচিত যে তিনি কোন কোন আইনের আওতায় সুরক্ষিত। সিঙ্গাপুরে বিদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় প্রধানত চারটি আইন একযোগে কাজ করে: প্রথমত, Employment Act (Chapter 91) যা কাজের ঘণ্টা, ছুটি, ওভারটাইম এবং বেতন প্রদানের নিয়ম নির্ধারণ করে; দ্বিতীয়ত, Employment of Foreign Manpower Act (EFMA) যা বিদেশি কর্মীদের বাসস্থান, চিকিৎসা বীমা, নিরাপত্তা বন্ড এবং নিয়োগকর্তার বিশেষ দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ করে; তৃতীয়ত, Work Injury Compensation Act (WICA) যা কর্মক্ষেত্রে আহত বা নিহত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে; এবং চতুর্থত, Workplace Safety and Health Act (WSHA) যা কাজের সাইটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সিঙ্গাপুরের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আমাদের সিঙ্গাপুর প্রবাসী পূর্ণাঙ্গ গাইড পড়তে পারেন।
এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্টের চতুর্থ অংশ বা Part IV of the Employment Act সকল ম্যানুয়াল ওয়ার্কার বা শারীরিক শ্রমনির্ভর কর্মী (ওয়ার্ক পারমিটধারী কনস্ট্রাকশন, শিপইয়ার্ড, প্রসেস ও ক্লিনিং শ্রমিক)—যাঁদের মাসিক বেসিক বেতন ৪,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত—এবং নন-ওয়ার্কম্যান কর্মী যাঁদের বেসিক বেতন ২,৬০০ ডলার পর্যন্ত, তাঁদের সবার জন্য প্রযোজ্য। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে যাওয়া শতভাগ প্রবাসী ভাই সরাসরি পার্ট-৪ এর আইনি সুরক্ষার অধীনে থাকেন। কোনো মালিক যদি কর্মীর কাছ থেকে সাদা কাগজে বা আলাদা কোনো চুক্তিতে সই নিয়ে বলেন যে "তোমাকে ওভারটাইম দেওয়া হবে না বা সাপ্তাহিক ছুটি পাবে না", তবে সিঙ্গাপুরের আদালতের দৃষ্টিতে সেই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল (Null and Void) বলে গণ্য হবে। কারণ সরকারি শ্রম আইনের চেয়ে কম সুবিধা দিয়ে কোনো ব্যক্তিগত চুক্তি করা সিঙ্গাপুরে আইনত নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিটি কোম্পানিকে কর্মীর হাতে লিখিত Key Employment Terms (KET) প্রদান করতে হয়। এই কেইটি নথিতে এবং আপনার সিঙ্গাপুর আইপিএ লেটার-এ আপনার পদের নাম, দৈনিক কাজের ঘণ্টা, মূল বেসিক বেতন, ফিক্সড ভাতা, ওভারটাইম রেট, বেতন প্রদানের তারিখ এবং বার্ষিক ও চিকিৎসা ছুটির সংখ্যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক।
কাজের সময়, সাপ্তাহিক ছুটি ও ১.৫ গুণ ওভারটাইম হিসাবের ফর্মুলা
সিঙ্গাপুরে প্রবাসী কর্মীদের সাথে মালিকদের সবচেয়ে বেশি বিরোধ তৈরি হয় কাজের সময় এবং ওভারটাইম (OT) ভাতার হিসাব নিয়ে। অনেক কর্মী সঠিক সরকারি ফর্মুলা না জানার কারণে সুপারভাইজার যা ধরিয়ে দেয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন। অথচ এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্টে প্রতি মিনিটের কাজের সুনির্দিষ্ট হিসাব বেঁধে দেওয়া আছে।
কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইমের ৫টি অলঙ্ঘনীয় সরকারি নিয়ম
- ১. নিয়মিত কর্মঘণ্টা (Contractual Hours): একজন কর্মীর নিয়মিত কাজের সময় দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা (যদি সপ্তাহে ৫ দিনের বেশি কাজ হয়) অথবা দিনে সর্বোচ্চ ৯ ঘণ্টা (যদি সপ্তাহে ৫ দিন বা তার কম কাজ হয়), তবে কোনো অবস্থাতেই সপ্তাহে মোট ৪৪ ঘণ্টার বেশি নিয়মিত কাজ করানো যাবে না। টানা ৬ ঘণ্টা কাজের পর অন্তত ৪৫ মিনিটের খাবারের বা বিশ্রামের বিরতি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ২. ওভারটাইম রেট (১.৫ গুণ): দৈনিক ৮ ঘণ্টা বা সাপ্তাহিক ৪৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য কর্মীকে তাঁর ঘণ্টাপ্রতি মূল বেসিক বেতনের ন্যূনতম ১.৫ গুণ (1.5x) হারে ওভারটাইম মজুরি দিতে হবে। ঘণ্টাপ্রতি বেসিক রেট বের করার সরকারি সূত্র হলো:
(১২ × মাসিক বেসিক বেতন) ÷ (৫২ × ৪৪)। উদাহরণস্বরূপ, কারো মাসিক বেসিক বেতন যদি ৯০০ ডলার হয়, তবে তাঁর প্রতি ঘণ্টার বেসিক রেট হবে(12 × 900) ÷ 2288 = $4.72এবং প্রতি ঘণ্টা ওভারটাইম রেট হবে$4.72 × 1.5 = $7.08সিঙ্গাপুর ডলার। কাজভিত্তিক বেতনের বিস্তারিত চার্ট দেখতে আমাদের সিঙ্গাপুরে বেতন কত ২০২৬ আর্টিকেলটি দেখুন। - ৩. সর্বোচ্চ ওভারটাইম সীমা: একজন কর্মীকে দিনে বিরতিসহ সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা এবং এক মাসে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা ওভারটাইম করানো যায়।
- ৪. সাপ্তাহিক বিশ্রাম দিবসে (Rest Day / Sunday) কাজের বেতন: প্রতি সপ্তাহে কর্মী ১ দিন পূর্ণ ছুটি পাবেন। যদি মালিকের অনুরোধে কর্মী ছুটির দিনে কাজ করেন, তবে অর্ধদিবস পর্যন্ত কাজের জন্য ১ দিনের পূর্ণ বেতন এবং অর্ধদিবসের বেশি কাজের জন্য ২ দিনের (দ্বিগুণ / 2x) বেসিক বেতন পাবেন। আর কর্মী নিজে অনুরোধ করে ছুটির দিনে কাজ করলে স্বাভাবিক ১ দিনের বেতন পাবেন।
- ৫. পাবলিক হলিডে ও বার্ষিক ছুটি (Annual Leave & Sick Leave): সিঙ্গাপুরে বছরে ১১টি সরকারি ছুটির দিনে সবেতন ছুটি থাকে; ওই দিন কাজ করলে অতিরিক্ত ১ দিনের বেতন দিতে হয়। এ ছাড়া টানা ৩ মাস চাকরি পূর্ণ হলে বছরে ৭ দিন থেকে ১৪ দিন সবেতন বার্ষিক ছুটি, ১৪ দিন সাধারণ অসুস্থতাজনিত ছুটি (Outpatient Sick Leave) এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকলে বছরে ৬০ দিন সবেতন হসপিটালাইজেশন ছুটি পাওনা থাকে।
বাস্তব উদাহরণসহ ওভারটাইম ও ছুটির দিনের বেতন হিসাবের ছক
অনেক প্রবাসী কর্মী মাসের শেষে পে-স্লিপ হাতে পেয়ে বুঝতে পারেন না যে তাঁর ওভারটাইমের টাকা সঠিক দেওয়া হয়েছে কি না। নিচে বিভিন্ন মূল বেসিক বেতনের (Basic Salary) ওপর ভিত্তি করে সরকারি সূত্র অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টা ওভারটাইম রেট এবং রবিবার বা বিশ্রাম দিবসে কাজ করার মজুরির একটি রেডি-রেফারেন্স চার্ট দেওয়া হলো:
| মাসিক বেসিক বেতন (SGD) | প্রতি ঘণ্টার বেসিক রেট | প্রতি ঘণ্টা ওভারটাইম রেট (১.৫ গুণ) | ৫০ ঘণ্টা ওভারটাইমে অতিরিক্ত আয় | রবিবার পূর্ণ দিবস কাজের ভাতা (২ গুণ) |
|---|---|---|---|---|
| ৭০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৩.৬৭ ডলার / ঘণ্টা | ৫.৫১ ডলার / ঘণ্টা | ২৭৫.৫০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৫৩.৮৫ ডলার / দিন |
| ৮০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৪.২০ ডলার / ঘণ্টা | ৬.২৯ ডলার / ঘণ্টা | ৩১৪.৫০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৬১.৫৪ ডলার / দিন |
| ৯০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৪.৭২ ডলার / ঘণ্টা | ৭.০৮ ডলার / ঘণ্টা | ৩৫৪.০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৬৯.২৩ ডলার / দিন |
| ১,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৫.২৪ ডলার / ঘণ্টা | ৭.৮৭ ডলার / ঘণ্টা | ৩৯৩.৫০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৭৬.৯২ ডলার / দিন |
| ১,২০০ সিঙ্গাপুর ডলার (দক্ষ R1) | ৬.২৯ ডলার / ঘণ্টা | ৯.৪৪ ডলার / ঘণ্টা | ৪৭২.০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ৯২.৩১ ডলার / দিন |
| ১,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার (সিনিয়র টেকনিশিয়ান) | ৭.৮৭ ডলার / ঘণ্টা | ১১.৮০ ডলার / ঘণ্টা | ৫৯০.০০ সিঙ্গাপুর ডলার | ১১৫.৩৮ ডলার / দিন |
এই হিসাবটি আপনার ফোনে সেভ করে রাখুন। পে-স্লিপে যদি দেখেন কোম্পানি আপনার আইপিএ লেটারে উল্লিখিত বেসিক বেতনের চেয়ে কম রেট ধরে ওভারটাইম হিসাব করেছে অথবা ওভারটাইম ঘণ্টা কমিয়ে দেখিয়েছে, তবে সাথে সাথে টাইমকার্ডের ছবিসহ এইচআর বিভাগে জানান এবং সমাধান না হলে TADM-এ ক্লেইম করুন।
বেতন পরিশোধের সময়সীমা, আইটেমাইজড পে-স্লিপ ও অবৈধ কর্তন রোধ
সিঙ্গাপুরের শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মীর ঘাম শুকানোর আগেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ করা মালিকের আইনি বাধ্যবাধকতা। বেতন প্রদানের সময়সীমা এবং বেতন থেকে টাকা কাটার বিষয়ে নিচের নিয়মগুলো কঠোরভাবে কার্যকর:
| বেতনের খাত ও নথি | আইনগত নির্ধারিত সময়সীমা | পদ্ধতি ও বাধ্যবাধকতা |
|---|---|---|
| মাসিক মূল বেতন (Basic Salary) | মাস শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে (যেমন: জানুয়ারির বেতন ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে) | সরাসরি কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে (Electronic Bank Transfer) জমা দিতে হবে |
| ওভারটাইম ভাতা (Overtime Pay) | বেতন মাস শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে | কত ঘণ্টা ওভারটাইম হয়েছে তা পে-স্লিপে আলাদাভাবে উল্লেখ থাকতে হবে |
| চাকরি শেষে চূড়ান্ত পাওনা (Final Settlement) | চাকরির শেষ কর্মদিবসে অথবা পারমিট বাতিলের পর দেশে ফেরার পূর্বেই | বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটির টাকা (Encashment) একসাথে দিতে হবে |
| আইটেমাইজড পে-স্লিপ (Itemised Payslip) | বেতন প্রদানের দিন অথবা তার পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে | কাগজে বা ডিজিটাল কপিতে মূল বেতন, ভাতা, ওভারটাইম ও কর্তনের পূর্ণ হিসাব দিতে হবে |
অবৈধ বেতন কর্তন (Illegal Salary Deductions): কোনো মালিক কর্মীর বেতন থেকে কখনোই সরকারি লেভি (Foreign Worker Levy), সিকিউরিটি বন্ডের টাকা, ওয়ার্ক পারমিট আবেদন বা নবায়ন ফি, প্রাইমারি কেয়ার প্ল্যান (PCP) বা মেডিকেল বীমার টাকা এবং সেফটি সরঞ্জামের (PPE) টাকা কাটতে পারবেন না। শুধুমাত্র আইপিএ লেটারে অনুমোদিত আবাসন/খাবার চার্জ অথবা কর্মীর নেওয়া অগ্রিম ঋণের কিস্তি (মোট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি নয়) বৈধভাবে কর্তন করা যায়।
পাসপোর্ট আটকে রাখা ও পারমিট রিনিউ ঘুষ (Kickback) বিরোধী আইন
অনেক প্রবাসী ভাই অভিযোগ করেন যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর কোম্পানির বস বা ফোরম্যান তাঁদের আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং ওয়ার্ক পারমিট কার্ড নিজের লকারে জমা রেখে দিয়েছেন। জেনে রাখুন, সিঙ্গাপুরের Passports Act এবং EFMA আইন অনুযায়ী কর্মীর পাসপোর্ট এবং ওয়ার্ক পারমিট কার্ড একান্তই কর্মীর নিজস্ব হেফাজতে থাকবে। "পাসপোর্ট হারিয়ে যাবে" বা "কর্মী পালিয়ে যাবে"—এই অজুহাতে মালিক এমনকি কর্মীর লিখিত সম্মতি নিয়েও মূল পাসপোর্ট নিজের কাছে আটকে রাখতে পারেন না। কোনো কোম্পানি পাসপোর্ট জব্দ করে রাখলে MOM ও সিঙ্গাপুর পুলিশ তাঁকে ১০,০০০ ডলার জরিমানা এবং কারাদণ্ড প্রদান করে।
একইভাবে মেয়াদ শেষে ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন (Renewal) করার সময় কিংবা নতুন চাকরি দেওয়ার শর্ত হিসেবে মালিক, ম্যানেজার বা সুপারভাইজার যদি কর্মীর কাছ থেকে ১,০০০ থেকে ৪,০০০ ডলার নগদ টাকা দাবি করে (যাকে সিঙ্গাপুরের আইনে Kickbacks বলা হয়), তবে তা EFMA ধারা ২২ অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৩০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা অথবা ২ বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড। কেউ এমন টাকা দাবি করলে নগদে টাকা না দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ভয়েস রেকর্ড বা ব্যাংক স্লিপের প্রমাণ রেখে সরাসরি MOM-এ রিপোর্ট করুন।
মালিকের বিরুদ্ধে MOM-এ অনলাইনে ও ফোনে অভিযোগ করার নিয়ম
আপনার মালিক যদি শ্রম আইন লঙ্ঘন করেন, বেতন আটকে রাখেন, পাসপোর্ট ফেরত না দেন বা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করেন, তবে ভয় না পেয়ে সরাসরি জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM)-এ অভিযোগ জানান। MOM অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন (Confidential) রাখে এবং অভিযোগ করার কারণে মালিক যাতে আপনাকে জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দিতে (Repatriate) না পারেন, সেজন্য তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সুরক্ষা প্রদান করে।
MOM-এ অভিযোগ করার ৪টি অফিশিয়াল মাধ্যম ও ধাপ
- মাধ্যম ১ — MOM অনলাইন ই-সার্ভিস ফর্ম (Report an Infringement): আপনার ফোনের ব্রাউজার থেকে সরাসরি
https://www.mom.gov.sg/eservices/services/report-an-employment-act-violationঅথবাReport an EFMA infringementপেজে যান। সেখানে আপনার FIN নম্বর (চাইলে গোপন বা Anonymous হিসেবেও জমা দেওয়া যায়), কোম্পানির নাম, সমস্যার বিবরণ লিখে এবং পে-স্লিপ, টাইমকার্ড বা মেসেজের স্ক্রিনশট আপলোড করে সাবমিট করুন। - মাধ্যম ২ — MOM জরুরি টেলিফোন হটলাইন: অফিস চলাকালীন (সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮:৩০ থেকে বিকেল ৫:৩০) সরাসরি MOM কন্টাক্ট সেন্টার নম্বর
6438 5122-এ কল করুন। আর যদি মালিক আপনাকে জোরপূর্বক আটকে রাখে বা গুন্ডা (Repatriation Company) দিয়ে বিমানবন্দরে পাঠানোর চেষ্টা করে, তবে ২৪ ঘণ্টা সচল জরুরি হেল্পলাইন6213 8008অথবা পুলিশ হটলাইন999-এ কল করুন। - মাধ্যম ৩ — FWMOMCare মোবাইল অ্যাপ: ডরমিটরির আবাসন সমস্যা, খাবার বা স্যানিটেশন সংক্রান্ত অভিযোগের ছবি তুলে FWMOMCare অ্যাপের ভেতর 'Report Issue' অপশন থেকে এক ক্লিকে সরাসরি MOM আবাসন পরিদর্শকদের কাছে পাঠিয়ে দিন।
- মাধ্যম ৪ — সশরীরে MOM সার্ভিস সেন্টার ভিজিট: বেন্ডামির রোডে অবস্থিত MOM Services Centre (1500 Bendemeer Road, Singapore 339946 — Boon Keng MRT-এর পাশে)-এ গিয়ে বাংলা দোভাষীর সহায়তায় সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারেন।
অভিযোগ করার আগে যে ৬টি প্রমাণ (Evidence) নিজের ফোনে সংরক্ষণ করবেন
তদন্ত কর্মকর্তা বা মধ্যস্থতাকারীর সামনে নিজের দাবি দ্রুত প্রমাণ করার জন্য অভিযোগ করার আগেই নিচের ডকুমেন্টগুলোর ছবি তুলে নিজের গুগল ড্রাইভ বা ইমেইলে ব্যাকআপ রাখুন:
- আপনার প্রাথমিক আইপিএ লেটার, চাকরির চুক্তিপত্র (KET) এবং ওয়ার্ক পারমিট কার্ডের উভয় পাশের ছবি।
- প্রতিদিনের কাজের হাজিরা কার্ড (Timecard / Punch Card), বায়োমেট্রিক উপস্থিতির ছবি বা সুপারভাইজারের সই করা ওভারটাইম খাতার পাতা।
- গত কয়েক মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (POSB/DBS passbook) এবং কোম্পানির দেওয়া পে-স্লিপ।
- সুপারভাইজার বা বসের সাথে বেতন বা ছুটি নিয়ে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভয়েস মেসেজের স্ক্রিনশট।
অন্যায্য চাকরিচ্যুতি (Wrongful Dismissal) ও নোটিশ পিরিয়ড আইন
সিঙ্গাপুরের এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো মালিক উপযুক্ত কারণ বা চুক্তি মোতাবেক নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে বের করে দিতে পারেন না। চাকরির চুক্তিপত্রে (KET) যত দিনের নোটিশ পিরিয়ড লেখা আছে, চাকরি ছাড়তে বা ছাঁটাই করতে হলে উভয় পক্ষকে ঠিক তত দিনের আগাম লিখিত নোটিশ দিতে হয়। চুক্তিপত্রে যদি নোটিশ পিরিয়ডের উল্লেখ না থাকে, তবে সরকারি আইন অনুযায়ী নিচের সময়সীমা প্রযোজ্য হবে:
- চাকরির বয়স ২৬ সপ্তাহের (৬ মাসের) কম হলে: ন্যূনতম ১ দিনের আগাম নোটিশ।
- চাকরির বয়স ২৬ সপ্তাহ থেকে ২ বছরের কম হলে: ন্যূনতম ১ সপ্তাহের আগাম নোটিশ।
- চাকরির বয়স ২ বছর থেকে ৫ বছরের কম হলে: ন্যূনতম ২ সপ্তাহের আগাম নোটিশ।
- চাকরির বয়স ৫ বছর বা তার বেশি হলে: ন্যূনতম ৪ সপ্তাহের (১ মাসের) আগাম নোটিশ।
মালিক যদি নোটিশ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি সমাপ্ত করতে চান, তবে নোটিশ পিরিয়ডের সমপরিমাণ দিনের পূর্ণ বেতন বা Salary in-lieu of Notice নগদে পরিশোধ করতে হবে এবং দেশে ফেরার বিমানের টিকিট দিতে হবে। আর যদি মালিক কোনো প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অসদাচরণের অপবাদ দিয়ে বিনা নোটিশে কিংবা কর্মী অসুস্থতাজনিত ছুটিতে (Medical Leave) থাকাকালীন চাকরিচ্যুত করেন, তবে কর্মী চাকরি হারানোর ১ মাসের মধ্যে TADM-এ Wrongful Dismissal Claim দায়ের করে ক্ষতিপূরণ ও চাকরিতে পুনর্বহাল বা ট্রান্সফারের আদেশ পেতে পারেন।
বেতন না দিলে TADM মধ্যস্থতা ও এমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল (ECT)
মালিক যদি আপনার মাসিক বেতন, ওভারটাইম ভাতা বা ছুটির টাকা না দেন, তবে সেই বকেয়া অর্থ দ্রুত আদায় করার জন্য সিঙ্গাপুর সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে Tripartite Alliance for Dispute Management (TADM)। এখানে উকিল ছাড়াই অত্যন্ত কম খরচে এবং বাংলা দোভাষীর সহায়তায় কর্মীদের বকেয়া টাকা আদায় করে দেওয়া হয়।
TADM ও ECT-এর বিচারিক ধাপসমূহ: আপনি অনলাইনে (tal.sg/tadm) অথবা ডেভনশায়ার রোড বা বেন্ডামির TADM অফিসে গিয়ে বেতন দাবির আবেদন (Salary Claim) রেজিস্ট্রেশন করবেন। দাবির পরিমাণ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত হলে রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ১০ সিঙ্গাপুর ডলার এবং ১০,০০০ ডলারের বেশি হলে মাত্র ২০ ডলার (সর্বোচ্চ ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত দাবি করা যায়)। আবেদন করার পর TADM অফিসার মালিক ও কর্মীকে ডেকে মধ্যস্থতা বা সালিশি (Mediation) বৈঠক করেন। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এই সালিশিতে মালিক বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে বাধ্য হন। আর মালিক যদি সালিশিতে টাকা না দেন, তবে TADM সাথে সাথে মামলাটি রাষ্ট্রীয় আদালত Employment Claims Tribunals (ECT)-এ পাঠিয়ে দেয়। ট্রাইব্যুনালের ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে মালিকের ব্যাংক একাউন্ট বা সম্পত্তি ক্রোক করে কর্মীর টাকা আদায়ের চূড়ান্ত আদেশ (Court Order) প্রদান করেন এবং বেতন না দেওয়ার অপরাধে ওই কোম্পানির সকল ভিসা কোটা স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, মেডিকেল লিভ ও WICA ক্ষতিপূরণ দাবি
কনস্ট্রাকশন সাইটে বা শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় যদি কোনো কর্মী দুর্ঘটনায় আহত হন (হাত-পা ভেঙে যাওয়া, আঙুল কেটে যাওয়া, উপর থেকে পড়ে যাওয়া বা আগুনে দগ্ধ হওয়া), তবে তিনি Work Injury Compensation Act (WICA) আইনের অধীনে শতভাগ রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাবেন—এমনকি দুর্ঘটনাটি যদি অসাবধানতাবশত ঘটে থাকে তবুও।
- ১. তাৎক্ষণিক হাসপাতাল চিকিৎসা ও রিপোর্ট: আহত হলে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিন এবং ডাক্তারকে স্পষ্টভাবে বলুন যে এটি Workplace Accident বা কাজের সাইটে ঘটেছে। মালিককে ১০ দিনের মধ্যে MOM-এ ইনসিডেন্ট রিপোর্ট (iReport) করতে হয়। মালিক যদি ঘটনা লুকানোর চেষ্টা করে আপনাকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে বলে "বলবে রুমে পড়ে ব্যথা পেয়েছ", তবে কখনোই রাজি হবেন না; নিজে সরাসরি MOM-এ দুর্ঘটনার রিপোর্ট করুন।
- ২. সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ ডলার ফ্রি চিকিৎসা খরচ: দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ১ বছর পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত হাসপাতালের অপারেশন, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির সম্পূর্ণ বিল মালিক ও বীমা কোম্পানি পরিশোধ করতে বাধ্য।
- ৩. মেডিকেল লিভ চলাকালীন বেতন (MC Wages): ডাক্তার যত দিনের মেডিকেল লিভ (MC) বা লাইট ডিউটি দেবেন, তার প্রথম ১৪ দিন (হাসপাতালে ভর্তি থাকলে ৬০ দিন) পূর্ণ গড় মাসিক আয় (Average Monthly Earnings - ওভারটাইমসহ গড় আয়) এবং পরবর্তী ১ বছর পর্যন্ত দুই-তৃতীয়াংশ বেতন কর্মী ঘরে বসেই পাবেন।
- ৪. স্থায়ী অঙ্গহানি বা মৃত্যুজনিত এককালীন ক্ষতিপূরণ (Lump Sum Compensation): দুর্ঘটনায় শরীরের কোনো অংশের স্থায়ী ক্ষতি হলে ডাক্তার কত শতাংশ অক্ষমতা (% Permanent Incapacity) হয়েছে তা নির্ধারণ করেন এবং সেই অনুপাতে কর্মী এককালীন বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ (সর্বোচ্চ ২,৮৯,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত) পান।
ডব্লিউআইসিএ (WICA) ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তির ধাপ ও সতর্কতা
দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলে এবং কর্মীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্মীর স্থায়ী অক্ষমতার শতকরা হার নির্ধারণ করে MOM-এ একটি Assessment of Permanent Incapacity (PI) রিপোর্ট পাঠান। এরপর MOM একটি অফিশিয়াল Notice of Assessment (NOA) ইস্যু করে, যেখানে কর্মী কত সিঙ্গাপুর ডলার ক্ষতিপূরণ পাবেন তা সুনির্দিষ্টভাবে লেখা থাকে। এই নোটিশ ইস্যু হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে যদি মালিক বা কর্মী কেউ আপত্তি না জানান, তবে বীমা কোম্পানিকে পরবর্তী ২১ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
প্রবাসী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি সতর্কতা: অনেক সময় কিছু বাইরের অ্যাম্বুলেন্স চেজার উকিল বা দালাল হাসপাতালে আহত কর্মীর কাছে গিয়ে বলে, "তুমি সরকারি WICA দাবি প্রত্যাহার করে আমাদের মাধ্যমে কমন ল (Common Law) বা সিভিল কোর্টে মামলা করো, অনেক বেশি টাকা পাবে।" বাস্তবে কমন ল মামলা নিষ্পত্তি হতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে, সেখানে মালিকের গাফিলতি প্রমাণ করা কঠিন এবং শেষে উকিলরা ক্ষতিপূরণের টাকার বড় একটি অংশ ফি হিসেবে কেটে রেখে দেয়। অথচ সরকারি WICA প্রক্রিয়ায় কোনো উকিলের প্রয়োজন হয় না, মালিকের দোষ প্রমাণ করতে হয় না এবং শতভাগ টাকা সরাসরি কর্মীর হাতে বা ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়। তাই যেকোনো কাগজে সই করার আগে অবশ্যই MOM অফিসার অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের পরামর্শ নিন।
| অভিযোগের ধরন ও বিষয়বস্তু | সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর | অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা | প্রত্যাশিত সমাধান ও ফলাফল |
|---|---|---|---|
| বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও ছুটির টাকা | TADM ও Employment Claims Tribunals (ECT) | চাকরিতে থাকাকালীন বা চাকরি ছাড়ার ৬ মাসের মধ্যে | সালিশি বা আদালতের আদেশে শতভাগ বকেয়া আদায় ও স্পেশাল পাস |
| পাসপোর্ট জব্দ, লেভি কর্তন ও রিনিউ ঘুষ (Kickback) | MOM (Foreign Manpower Management Division) | ঘটনা ঘটার সাথে সাথে (যেকোনো সময়) | তাৎক্ষণিক পাসপোর্ট উদ্ধার, মালিকের জরিমানা ও বিশেষ ট্রান্সফার |
| কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও হাসপাতালের বিল | MOM Work Injury Compensation (WICA) Branch | দুর্ঘটনার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে | সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ ডলার চিকিৎসা, MC বেতন ও অঙ্গহানি ক্ষতিপূরণ |
| ডরমিটরির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি | MOM Housing Enforcement ও WSH Inspectorate | FWMOMCare বা SnapSAFE অ্যাপে তাৎক্ষণিক | গোপন পরিদর্শন, স্টপ-ওয়ার্ক অর্ডার ও ডরমিটরি উন্নয়ন |
সিঙ্গাপুরে কোম্পানি পরিবর্তন ও মালিকের সম্মতি ছাড়া ট্রান্সফার নিয়ম
সিঙ্গাপুরে কর্মরত অবস্থায় বর্তমান কোম্পানির কাজ ভালো না লাগলে বা বেতন কম হলে দেশে ফিরে না গিয়েই সিঙ্গাপুরের অন্য কোম্পানিতে বদলি বা Change of Employer (Transfer) হওয়ার বৈধ সুযোগ রয়েছে। কনস্ট্রাকশন, মেরিন শিপইয়ার্ড এবং প্রসেস সেক্টরের বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্রান্সফারের দুটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:
| ট্রান্সফারের ধরন | আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা | বর্তমান মালিকের অনুমতি (Consent) | প্রযোজ্য শর্তাবলী |
|---|---|---|---|
| সম্মতি ছাড়া ট্রান্সফার (Without Employer's Consent) | ওয়ার্ক পারমিট মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪০ দিন থেকে ২১ দিন পূর্বে | মালিকের কোনো অনুমতি বা রিলিজ লেটার লাগে না | নতুন কোম্পানি সরাসরি WPOL পোর্টালে ট্রান্সফার আইপিএ আবেদন করতে পারে |
| মালিকের সম্মতিসহ ট্রান্সফার (With Consent) | চাকরি চলাকালীন যেকোনো সময় (মেয়াদের ২১ দিনের কম থাকলেও) | বর্তমান মালিকের লিখিত সম্মতি (Release Consent) প্রয়োজন | উভয় কোম্পানির পারস্পরিক সমঝোতায় তাৎক্ষণিক বদলি সম্ভব |
| MOM/TADM বিশেষ ট্রান্সফার (Special Transfer Scheme) | মালিকের বিরুদ্ধে বেতন বকেয়া বা নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে | মালিকের সম্মতি লাগে না; MOM সরাসরি অনুমতি দেয় | স্পেশাল পাসধারী ভুক্তভোগী কর্মীরা নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান |
সুতরাং আপনি যদি বর্তমান কোম্পানি বদলাতে চান, তবে আপনার সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট চেক করে মেয়াদের তারিখটি আগেভাগেই ডায়েরিতে লিখে রাখুন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক ৪০ দিন বাকি থাকতে নতুন কোম্পানিকে অনলাইনে আবেদন করতে বলুন।
ডরমিটরি আবাসন মান (FEDA) ও FWMOMCare অ্যাপে অভিযোগ
Foreign Employee Dormitories Act (FEDA) এবং EFMA আইন অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীকে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিষ্কার এবং নিরাপদ বাসস্থান প্রদান করা নিয়োগকর্তার আইনি দায়িত্ব। ডরমিটরির কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, ফ্যান বা এয়ারকন, বিশুদ্ধ খাবার পানি, লকার সুবিধা এবং পরিষ্কার টয়লেট থাকতে হবে। কোনো মালিক যদি কর্মীদের অনুমোদনহীন কনটেইনার, গোডাউন, নির্মাণাধীন ভবনের মেঝে বা অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত রুমে রাখেন, তবে কর্মী নিজের ফোনের FWMOMCare অ্যাপ দিয়ে ছবি তুলে রিপোর্ট করার সাথে সাথে MOM-এর হাউজিং ইনস্পেক্টররা সশরীরে অভিযান চালিয়ে মালিককে জরিমানা করেন এবং কর্মীদের উন্নত ডরমিটরিতে স্থানান্তর করেন।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আইন (WSHA), হিট স্ট্রেস ও বিপজ্জনক কাজ প্রত্যাখ্যানের অধিকার
সিঙ্গাপুরের Workplace Safety and Health Act (WSHA) অনুযায়ী প্রতিটি কর্মীর নিরাপদে কাজ করার এবং সুস্থ শরীরে ডরমিটরিতে ফিরে আসার আইনি অধিকার রয়েছে। উঁচু ভবনের স্ক্যাফোল্ডিং, ক্রেন অপারেশন, গভীর টানেল বা জাহাজের বদ্ধ ট্যাংকের (Confined Space) ভেতরে কাজ করার সময় কোম্পানিকে অবশ্যই অনুমোদিত সেফটি হারনেস, অক্সিজেন ডিটেক্টর, হেলমেট ও সেফটি বুট সরবরাহ করতে হবে। কোনো সুপারভাইজার যদি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই আপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতায় বা ত্রুটিপূর্ণ মেশিনে কাজ করতে বাধ্য করেন, তবে আপনার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে কাজটি সাময়িক বন্ধ রেখে সাইট সেফটি অফিসারকে (WSH Officer) জানানোর অথবা MOM-এর SnapSAFE ফর্ম বা FWMOMCare অ্যাপে গোপনে ছবি তুলে পাঠানোর।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের সংশোধিত Heat Stress Management (তাপদাহ সুরক্ষা) বিধিমালা অনুযায়ী, খোলা রোদে কনস্ট্রাকশন বা শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় তাপমাত্রা (WBGT) নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলে কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম (Water & Shade Break) এবং পর্যাপ্ত ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করা কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম অমান্যকারী কোম্পানিকে MOM তাৎক্ষণিক Stop-Work Order (SWO) এবং ভারী জরিমানা প্রদান করে।
মামলা চলাকালীন স্পেশাল পাস সুরক্ষা ও জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন রোধ
অনেক প্রবাসী কর্মী মালিকের বিরুদ্ধে MOM বা TADM-এ অভিযোগ করতে ভয় পান এই ভেবে যে, অভিযোগ করলেই মালিক ওয়ার্ক পারমিট কেটে দিয়ে কালই জোর করে বাংলাদেশের বিমানে তুলে দেবে। বাস্তবে সিঙ্গাপুরের আইন আপনাকে এই পরিস্থিতিতে শতভাগ সুরক্ষা দেয়। আপনি যখনই বকেয়া বেতন বা দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ চেয়ে MOM বা TADM-এ অভিযোগ নিবন্ধন করবেন, তখন সরকার আপনার নামে একটি MOM Special Pass ইস্যু করবে।
এই স্পেশাল পাস থাকা অবস্থায় আপনার সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা বা বীমার টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো শক্তি বা এজেন্ট আপনাকে জোর করে দেশে পাঠাতে পারবে না। এমনকি মামলা চলাকালীন এই সময়েও আপনার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা পুরনো মালিকের দায়িত্ব এবং তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে MOM স্পেশাল পাসধারী কর্মীকে সাময়িকভাবে অন্য কোম্পানিতে কাজ করে উপার্জন করার অনুমতি (Temporary Job Scheme - TJS) প্রদান করে।
টেম্পোরারি জব স্কিম (TJS): মামলা চলাকালীন বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ
যখন কোনো মালিকের বিরুদ্ধে বেতন না দেওয়া বা শ্রম আইন লঙ্ঘনের ফৌজদারি তদন্ত কিংবা আদালতের মামলা কয়েক মাস ধরে চলে, তখন কর্মী যেন বেকার বসে থেকে আর্থিক কষ্টে না পড়েন, সেজন্য MOM Temporary Job Scheme (TJS) চালু রেখেছে। আপনার স্পেশাল পাস ইস্যু হওয়ার পর আপনার কেস অফিসার (Investigation Officer) যদি প্রত্যয়ন করেন যে মামলার স্বার্থে আপনার আরও কিছুদিন সিঙ্গাপুরে থাকা প্রয়োজন, তবে আপনি MOM অনুমোদিত কর্মসংস্থান এজেন্সির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে অন্য যেকোনো কোম্পানিতে সম্পূর্ণ বৈধভাবে কাজ করতে পারবেন। এতে আপনার প্রতি মাসের খরচ চালানোর পাশাপাশি দেশে পরিবারের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠানোও অব্যাহত থাকবে।
জোরপূর্বক দেশে পাঠানো (Forced Repatriation) প্রতিরোধে জরুরি কৌশল
কিছু অসাধু কোম্পানি যখন দেখে কর্মী বকেয়া বেতন চাচ্ছে, তখন তারা হঠাৎ রাতে প্রাইভেট সিকিউরিটি বা রিপ্যাট্রিয়েশন এজেন্ট পাঠিয়ে কর্মীকে ভয় দেখিয়ে ডরমিটরি থেকে সরাসরি চাঙ্গি বিমানবন্দরে নিয়ে বিমানে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এমন পরিস্থিতির শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের ৩টি কাজ করবেন:
- ১. ডরমিটরি বা ভ্যানে থাকতে পুলিশে কল: কেউ জোর করে গাড়িতে তুলতে চাইলে সাথে সাথে সিঙ্গাপুর পুলিশের জরুরি নম্বর
999অথবা MOM-এর ২৪ ঘণ্টা হটলাইন6213 8008-এ কল করে নিজের অবস্থান জানান। - ২. চাঙ্গি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে মৌখিক অভিযোগ: যদি আপনাকে জোর করে বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়েও যাওয়া হয়, তবে বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় বা ইমিগ্রেশন গেটের ভেতরে থাকা সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশন (ICA) অফিসার বা বিমানবন্দর পুলিশকে পরিষ্কারভাবে বলুন: "My boss did not pay my salary. I am being forced to go home. I want to report to MOM."
- ৩. বিমানবন্দর থেকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার: চাঙ্গি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। কোনো কর্মী বকেয়া বেতনের কথা বললেই ইমিগ্রেশন পুলিশ সাথে সাথে তাঁর ফ্লাইট বাতিল করে তাঁকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কক্ষে নিয়ে যায় এবং পরদিন সকালে MOM সার্ভিস সেন্টারে পাঠিয়ে স্পেশাল পাস ও বকেয়া বেতন আদায়ের ব্যবস্থা করে দেয়।
প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তাকারী শীর্ষ সংস্থা ও জরুরি ফোন নম্বর
- Ministry of Manpower (MOM) হেল্পলাইন:
6438 5122(সাধারণ অভিযোগ) /6213 8008(২৪ ঘণ্টা জরুরি ও জোরপূর্বক দেশে পাঠানো রোধ হটলাইন)। - Tripartite Alliance for Dispute Management (TADM): ওয়েবসাইট
https://www.tal.sg/tadm(বেতন ও চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি)। - Migrant Workers' Centre (MWC) ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন:
6536 2692(বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা)। - Transient Workers Count Too (TWC2) হেল্পলাইন:
6247 7001এবং হোয়াটসঅ্যাপ+65 6297 7564(দুর্ঘটনা ও বেতন দাবির বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও ফ্রি খাবার কর্মসূচি)। - Humanitarian Organization for Migration Economics (HOME): হেল্পলাইন
1800 797 7977/+65 9787 3122। - সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন (শ্রম কল্যাণ উইং):
+65 6255 0075। বিস্তারিত জানতে আমাদের সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন গাইডটি দেখুন। আর আপনার অর্জিত বেতনের টাকা বৈধ পথে দেশে পাঠানোর আগে প্রতিদিনের রেট জানতে আজকের সিঙ্গাপুর ডলার রেট বাংলাদেশ পেজ এবং গুগল প্লে স্টোরের Taka Rate Today অ্যাপ (আজকের টাকার রেট) ব্যবহার করুন।
🔗 সিঙ্গাপুর শ্রম আইন ও ক্যারিয়ার ক্লাস্টারের সম্পর্কিত গাইডসমূহ
- 🇸🇬 সিঙ্গাপুর প্রবাসী পূর্ণাঙ্গ গাইড (মূল হাব)
- 💰 সিঙ্গাপুরে বেতন কত ২০২৬: কাজভিত্তিক বেতন ও ওভারটাইম
- 🚢 সিঙ্গাপুর শিপইয়ার্ড ভিসা খরচ, বয়স ও কাজের বিবরণ
- 🔍 সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট চেক করার নিয়ম
- 📄 সিঙ্গাপুর আইপিএ (IPA) চেক ও বেতন শর্ত যাচাই
- 🏛️ সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও লেবার উইং
- 💱 আজকের সিঙ্গাপুর ডলার রেট ও রেমিট্যান্স
- 📱 সিঙ্গাপুর সিম কার্ড ও ইন্টারনেট প্ল্যান ২০২৬
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
সিঙ্গাপুর প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসাপ্রত্যাশী ভাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:
সিঙ্গাপুরের এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট (Part IV) অনুযায়ী একজন কর্মীর নিয়মিত কাজের সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৪ ঘণ্টা (দিনে ৮ বা ৯ ঘণ্টা)। এর অতিরিক্ত যেকোনো কাজের জন্য মূল বেসিক বেতনের ন্যূনতম ১.৫ গুণ হারে ওভারটাইম ভাতা প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
বেতন বকেয়া হলে এক মাসও অপেক্ষা না করে দ্রুত MOM হেল্পলাইনে (6438 5122) কল করুন অথবা TADM পোর্টালে (tal.sg/tadm) অনলাইনে স্যালারি ক্লেইম রেজিস্ট্রেশন করুন। বেন্ডামির রোডের MOM সার্ভিস সেন্টারে সশরীরে গিয়েও বাংলা দোভাষীর সহায়তায় অভিযোগ করা যায়।
না। আপনি MOM বা TADM-এ অভিযোগ দায়ের করার সাথে সাথে সরকার আপনাকে একটি স্পেশাল পাস (Special Pass) প্রদান করবে। আপনার বকেয়া বেতন বা ক্ষতিপূরণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মালিক আপনাকে জোর করে দেশে পাঠাতে পারবেন না; জোর করলে তাৎক্ষণিক পুলিশে (999) বা MOM জরুরি নম্বরে (6213 8008) কল করুন।
সিঙ্গাপুরের WICA আইন অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে আহত হলে সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ ডলার পর্যন্ত সম্পূর্ণ হাসপাতালের বিল এবং ডাক্তারের দেওয়া মেডিকেল লিভের (MC) সময়ের বেতন নিয়োগকারী কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠান বহন করতে বাধ্য।
হ্যাঁ, কনস্ট্রাকশন, মেরিন শিপইয়ার্ড ও প্রসেস সেক্টরের কর্মীরা তাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪০ দিন থেকে ২১ দিন পূর্বে বর্তমান মালিকের কোনো অনুমতি ছাড়াই নতুন যেকোনো কোম্পানিতে ট্রান্সফার হতে পারেন।
একেবারেই না। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ও ওয়ার্ক পারমিট কার্ড সব সময় কর্মীর নিজের কাছে থাকবে। মালিক পাসপোর্ট আটকে রাখলে তা ফৌজদারি অপরাধ এবং MOM-এ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পাসপোর্ট উদ্ধার করে দেওয়া হয়।
পারমিট নবায়ন বা চাকরি টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে কর্মীর কাছ থেকে টাকা চাওয়াকে 'কিকব্যাক' (Kickback) বলে, যার শাস্তি ৩০,০০০ ডলার জরিমানা ও ২ বছরের জেল। টাকা না দিয়ে মেসেজ বা কল রেকর্ডের প্রমাণসহ সরাসরি MOM-এ রিপোর্ট করুন।
EFMA আইন অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট বাতিল বা চাকরির মেয়াদ শেষে কর্মীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিমানের টিকিটের (Repatriation Air Ticket) সম্পূর্ণ খরচ নিয়োগকারী কোম্পানিকেই বহন করতে হয়।
না। কর্মীর চাকরির মেয়াদ ৩ মাস পূর্ণ হলে তিনি বছরে ১৪ দিন সবেতন আউটপেশেন্ট মেডিকেল লিভ এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকলে ৬০ দিন সবেতন হসপিটালাইজেশন লিভ পাওয়ার অধিকারী। অনুমোদিত ডাক্তারের এমসি (MC) জমা দিলে ওই দিনের বেতন কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি।
কখনোই না। EFMA আইন অনুযায়ী কর্মী কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও যদি বৃষ্টি, কাঁচামালের অভাব বা কোম্পানির প্রজেক্ট না থাকার কারণে মালিক কাজ দিতে না পারেন, তবুও কর্মীকে আইপিএ লেটারে উল্লিখিত পূর্ণ মাসিক বেসিক বেতন ও আবাসন সুবিধা প্রদান করতে হবে।
হ্যাঁ, ডরমিটরির খারাপ পরিবেশ, সাইটে সেফটি সরঞ্জাম না দেওয়া বা সামগ্রিক শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে আপনি FWMOMCare অ্যাপ বা MOM ওয়েবসাইটে নিজের নাম গোপন রেখেও রিপোর্ট করতে পারেন। MOM ইনস্পেক্টররা আকস্মিক পরিদর্শনের (Surprise Inspection) মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করেন যাতে কোনো নির্দিষ্ট কর্মীর নাম প্রকাশ না পায়।
আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র
আইনি সতর্কবার্তা: "সিঙ্গাপুর শ্রম আইন: মালিকের বিরুদ্ধে MOM-এ অভিযোগ করার নিয়ম" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আইনি পরামর্শ নয়। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM), ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA), বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অথরিটি (BCA) এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের যেকোনো নীতিমালা বা ফি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
- সিঙ্গাপুর জনশক্তি মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower - MOM):
https://www.mom.gov.sg - ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (ICA Singapore):
https://www.ica.gov.sg - ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (TADM):
https://www.tal.sg/tadm - বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর (Bangladesh High Commission):
https://singapore.mofa.gov.bd