প্রবাসীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬: আবেদন, যোগ্যতা ও টাকার পরিমাণ
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পরিবারের সচ্ছলতা এবং সন্তানদের সুশিক্ষিত করার লক্ষ্যেই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু প্রবাসের মাটিতে ব্যয় করেন। প্রবাসীদের এই ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাঁদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) প্রতি বছর হাজার হাজার প্রবাসী সন্তানকে ‘প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান করে থাকে। এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা কলেজ, পলিটেকনিক ডিপ্লোমা, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পুরো মেয়াদে সরকারি এই নগদ বৃত্তি লাভ করে।
এই পূর্ণাঙ্গ গাইডে আমরা জানব ২০২৬ সালের প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে কত জিপিএ (GPA) লাগে, সাধারণ প্রবাসী ও মৃত প্রবাসীর সন্তানদের জন্য শর্তের কী কী ছাড় রয়েছে, কোন শ্রেণিতে মাসে ও বছরে মোট কত টাকা পাওয়া যায়, কীভাবে portal.wewb.gov.bd ওয়েবসাইটে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করবেন, পিতা বা মাতার প্রবাসী প্রমাণের কী কী ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে এবং কীভাবে বৃত্তির রেজাল্ট চেক ও ব্যাংক একাউন্টে টাকা গ্রহণ করবেন।
🔗 প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষা সহায়তা ক্লাস্টারের সম্পর্কিত গাইড
১. প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তি কী এবং কোন কোন প্রবাসীর সন্তানরা আবেদন করতে পারবেন?
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড তহবিল থেকে ২০১২ সাল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চমাধ্যমিক, ডিপ্লোমা এবং স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাৎসরিক অফেরতযোগ্য নগদ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিচের ৩টি ক্যাটাগরির প্রবাসীর সন্তানরা এই শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করার যোগ্য:
- ক্যাটাগরি ১ — বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত বা প্রত্যাগত কর্মীর সন্তান: যেসব কর্মী জনশক্তি ব্যুরো (BMET)-এর স্মার্ট কার্ড বা ই-ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে গেছেন এবং বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত আছেন বা প্রবাস থেকে ফিরে এসেছেন।
- ক্যাটাগরি ২ — ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মেম্বারশিপ কার্ডধারী প্রবাসীর সন্তান: যেসব প্রবাসী বিএমইটি ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে গিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাস বা
member.wewb.gov.bdপোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে প্রবাসী কল্যাণ সদস্য কার্ড গ্রহণ করেছেন। - ক্যাটাগরি ৩ — প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তান (বিশেষ অগ্রাধিকার): যেসব বৈধ বা নিবন্ধিত প্রবাসী কর্মী প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় কিংবা ছুটিতে দেশে এসে মৃত্যুবরণ করেছেন, কিংবা যাঁদের পরিবার ইতিমধ্যে কল্যাণ বোর্ড থেকে মৃত্যু অনুদান পেয়েছে বা পাওয়ার যোগ্য—তাঁদের সন্তানদের জন্য জিপিএ শর্ত শিথিল রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বৃত্তি দেওয়া হয়।
২. শিক্ষাবৃত্তির ক্যাটাগরি ও ন্যূনতম জিপিএ (GPA) যোগ্যতা ২০২৬
প্রতি বছর এসএসসি/দাখিল/ভোকেশনাল এবং এইচএসসি/আলিম/ডিপ্লোমা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড দুটি মূল ক্যাটাগরিতে বৃত্তির দরখাস্ত আহ্বান করে। আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী শ্রেণিতে (একাদশ শ্রেণি, ডিপ্লোমা ১ম বর্ষ অথবা স্নাতক/সম্মান/মেডিকেল/ইঞ্জিনিয়ারিং ১ম বর্ষে) নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি থাকতে হবে।
| আবেদনের স্তর (Level) | উত্তীর্ণ বোর্ড পরীক্ষা | সাধারণ প্রবাসীর সন্তানের ন্যূনতম GPA (৫.০০ স্কেলে) | মৃত প্রবাসীর সন্তানের ন্যূনতম GPA (বিশেষ ছাড়) | বর্তমানে যেখানে ভর্তি থাকতে হবে |
|---|---|---|---|---|
| ১. এইচএসসি / সমমান ও ডিপ্লোমা ক্যাটাগরি | এসএসসি / দাখিল / এসএসসি (ভোকেশনাল) | বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা: ন্যূনতম GPA 4.80 | যেকোনো বিভাগে ন্যূনতম GPA 4.00 | একাদশ শ্রেণি (কলেজ/মাদ্রাসা) অথবা ৪ বছর মেয়াদী পলিটেকনিক ডিপ্লোমা ১ম বর্ষ |
| ২. স্নাতক (সম্মান), মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরি | এইচএসসি / আলিম / ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং | এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম GPA 4.80 (ডিপ্লোমায় ৪.০০ স্কেলে ৩.৬০+) | এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম GPA 4.00 | পাবলিক/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষ |
৩. প্রবাসীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তিতে কোন ক্লাসে কত টাকা পাওয়া যায়? (পূর্ণাঙ্গ চার্ট)
প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—একবার বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হলে এবং পরবর্তী বর্ষগুলোতে সন্তোষজনক ফলাফল বজায় রাখলে পুরো কোর্সের মেয়াদ (২ বছর থেকে ৫ বছর) জুড়ে প্রতি বছর এককালীন চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে মাসিক বৃত্তি এবং বাৎসরিক সেশন/বই কেনার ভাতা একসাথে প্রদান করা হয়।
| অধ্যয়নরত কোর্স / শ্রেণি | মাসিক বৃত্তির হার | বার্ষিক এককালীন সেশন ও বই ভাতা | প্রতি বছর প্রাপ্ত মোট টাকা | বৃত্তির মোট মেয়াদ ও সর্বমোট প্রাপ্য অর্থ |
|---|---|---|---|---|
| ১. একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (HSC / Alim) | ২,০০০ টাকা / মাস (১২ মাসে ২৪,০০০ টাকা) |
৩,৫০০ টাকা / বছর | ২৭,৫০০ টাকা / বছর | ২ বছর = মোট ৫৫,০০০ টাকা |
| ২. ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং / পলিটেকনিক | ২,০০০ টাকা / মাস (১২ মাসে ২৪,০০০ টাকা) |
৩,৫০০ টাকা / বছর | ২৭,৫০০ টাকা / বছর | ৪ বছর = মোট ১,১০,০০০ টাকা |
| ৩. স্নাতক (সম্মান) / বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং / কৃষি | ২,৫০০ টাকা / মাস (১২ মাসে ৩০,০০০ টাকা) |
৪,০০০ টাকা / বছর | ৩৪,০০০ টাকা / বছর | ৪ বছর (+১ বছর মাস্টার্স) = মোট ১,৩৬,০০০ – ১,৭০,০০০ টাকা |
| ৪. এমবিবিএস (MBBS) ও বিডিএস (ডেন্টাল) | ২,৫০০ টাকা / মাস (১২ মাসে ৩০,০০০ টাকা) |
৪,০০০ টাকা / বছর | ৩৪,০০০ টাকা / বছর | ৫ বছর (মেডিকেল কোর্স) = মোট ১,৭০,০০০ টাকা |
| ৫. প্রতিবন্ধী সন্তানদের বিশেষ ভাতা | ১,০০০ টাকা / মাস | প্রযোজ্য নয় | ১২,০০০ টাকা / বছর | ৫ বছর = মোট ৬০,০০০ টাকা |
৪. অনলাইনে প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তি আবেদনের ধাপ (portal.wewb.gov.bd গাইড)
প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তির আবেদন করতে কোনো অফিসে গিয়ে কাগুজে ফরম জমা দিতে হয় না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে নিচের ৫টি ধাপে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করা যায়:
- ধাপ ১ — অফিশিয়াল পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন: ব্রাউজার থেকে
portal.wewb.gov.bdঅথবাwewb.gov.bdওয়েবসাইটের ‘প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি আবেদন’ মেনুতে ক্লিক করুন। শিক্ষার্থীর নাম, সচল মোবাইল নম্বর এবং এসএসসি রোল নম্বর দিয়ে একটি ইউজার একাউন্ট তৈরি করুন। - ধাপ ২ — প্রবাসী পিতা বা মাতার তথ্য প্রদান: শিক্ষার্থীর প্রবাসী পিতা বা মাতার পাসপোর্ট নম্বর, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নম্বর বা কল্যাণ বোর্ড মেম্বারশিপ আইডি, কর্মরত দেশের নাম এবং প্রবাসীর বর্তমান অবস্থা (প্রবাসে কর্মরত / দেশে প্রত্যাগত / মৃত) সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
- ধাপ ৩ — শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান প্রতিষ্ঠানের তথ্য: এসএসসি এবং এইচএসসি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পরীক্ষার বোর্ড, পাশের সন, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও প্রাপ্ত জিপিএ (চতুর্থ বিষয়সহ ও ব্যতীত) পূরণ করুন এবং বর্তমানে কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিভাগে ভর্তি আছেন তা উল্লেখ করুন।
- ধাপ ৪ — শিক্ষার্থী বা মাতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য এন্ট্রি: বৃত্তির টাকা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে ইএফটি (BEFTN) মারফত পাঠানো হয়। তাই শিক্ষার্থীর নিজ নামের (অথবা মাতা/পিতার নামের) যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের একাউন্ট নম্বর, শাখার নাম ও রাউটিং নম্বর নির্ভুলভাবে লিখুন।
- ধাপ ৫ — স্ক্যান কপি আপলোড ও ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো আপলোড করে ফরমটি সাবমিট করুন এবং প্রাপ্ত Application Tracking ID সহ অ্যাপ্লিকেশন কপিটি পিডিএফ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
৫. আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রবাসীর ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
অনলাইনে আবেদন করার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো পরিষ্কারভাবে স্ক্যান বা মোবাইলে ছবি তুলে (প্রতিটি ফাইল নির্ধারিত কিলোবাইটের মধ্যে) প্রস্তুত রাখুন:
- প্রবাসী পিতা/মাতার ডকুমেন্টস: পাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি, ভিসা বা আকামার কপি এবং বিএমইটি স্মার্ট কার্ড (ই-ক্লিয়ারেন্স) / পাসপোর্টে বিএমইটি স্টিকার অথবা বিদেশে বসে করা WEWB মেম্বারশিপ কার্ডের কপি। (পিতা মৃত হলে ডেথ সার্টিফিকেট বা দূতাবাসের এনওসি কপি)।
- শিক্ষার্থীর একাডেমিক ডকুমেন্টস: এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার অনলাইন/মূল মার্কশিট (Transcript), শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদ বা এনআইডি এবং পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর।
- বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র (বাধ্যতামূলক): শিক্ষার্থী বর্তমানে যে কলেজ, পলিটেকনিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষে নিয়মিত অধ্যয়নরত আছে, সেখানকার অধ্যক্ষ (Principal) বা বিভাগীয় প্রধানের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র এবং ভর্তির রশিদ।
- ব্যাংক চেক পাতার কপি: প্রদত্ত ব্যাংক একাউন্টের এমআইসিআর (MICR) চেক পাতার পরিষ্কার ছবি বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি।
৬. শিক্ষাবৃত্তির রেজাল্ট চেক, ব্যাংক একাউন্টে টাকা প্রাপ্তি ও নবায়নের নিয়ম
আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বাছাই কমিটি জেলা ও ক্যাটাগরিভিত্তিক মেধাক্রম (Merit List) তৈরি করে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে সরাসরি SMS নোটিফিকেশন পাঠানো হয় এবং wewb.gov.bd ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ফলাফলের পিডিএফ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২য় বর্ষ, ৩য় বর্ষ বা ৪র্থ বর্ষে বৃত্তির কিস্তি চালু রাখার জন্য শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর পূর্ববর্তী বর্ষের বার্ষিক/সেমিস্টার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ফলাফল এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের নতুন প্রত্যয়নপত্র পোর্টালে আপলোড করে বৃত্তি নবায়ন (Renewal) করে নিতে হয়। পাশাপাশি প্রবাসীরা দেশে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ পাঠানোর সময় সেরা ব্যাংক রেট পেতে আজকের টাকার রেট এবং স্মার্টফোনে Taka Rate Today অ্যাপ ব্যবহার করে ২.৫% সরকারি বোনাসসহ হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রবাসী কল্যাণ ও সরকারি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:
সাধারণত একটি প্রবাসী পরিবার থেকে একই শিক্ষাবর্ষে ১ জন সন্তানকে বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয় যাতে অধিকসংখ্যক প্রবাসী পরিবার এই সুবিধা পায়। তবে মৃত প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে এবং বিশেষ মেধাক্রমে শর্তসাপেক্ষে বিবেচনা করা হতে পারে।
হ্যাঁ। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) অনুমোদিত যেকোনো পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকার অনুমোদিত সরকারি বা বেসরকারি মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়নরত প্রবাসীর সন্তানরা নির্ধারিত জিপিএ শর্ত পূরণ করলে এই বৃত্তি পাবেন।
হ্যাঁ। বৈধ বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে যাওয়া কর্মী যদি প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আসেন (প্রত্যাগত কর্মী), তবুও তাঁর মেধাবী সন্তানরা এই শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
না। প্রবাসীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বা জিপিএ-র শর্ত নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সূবর্ণ নাগরিক কার্ড বা প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র থাকলেই বছরে ১২,০০০ টাকা করে ৫ বছর ভাতা পাওয়া যায়।
আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র
আইনি সতর্কবার্তা: "প্রবাসীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬: আবেদন, যোগ্যতা ও টাকার পরিমাণ" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আর্থিক পরামর্শ নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB), প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো নীতিমালা, অনুদানের হার বা সুদের হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত আবেদনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়:
https://probashi.gov.bd - ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB):
https://wewb.gov.bd - প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (Probashi Kallyan Bank):
https://pkb.gov.bd - বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank):
https://www.bb.org.bd