আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
🇧🇩 প্রবাসী কল্যাণ ও আর্থিক সুবিধা সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ বিশেষায়িত গাইড (কল্যাণ বোর্ড সেবা)

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড: সদস্য কার্ড চেক, ডাউনলোড ও সেবাসমূহ

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সদস্য কার্ড চেক ডাউনলোড ও সেবাসমূহ
চিত্র ১: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB)-এর ডিজিটাল সদস্যপদ যাচাই, অনলাইন কার্ড ডাউনলোড এবং প্রবাসী পরিবারের ১৩টি সরকারি কল্যাণমূলক সেবা ২০২৬
📌 সারসংক্ষেপ ও মূল দিকনির্দেশনা (Executive Summary)

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের ও তাঁদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা, জরুরি মানবিক উদ্ধার এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবচেয়ে শক্তিশালী সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners' Welfare Board - WEWB)। আপনি যদি বৈধ বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন অথবা ভিজিট/স্টুডেন্ট/ওমরাহ ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে বিদেশের বৈধ আকামা বা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করেন, তবে এই কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ বা প্রবাসী কল্যাণ কার্ড থাকা মানেই আপনার ও আপনার পরিবারের মাথার ওপর সরকারের সরাসরি ছায়া থাকা।

এই পূর্ণাঙ্গ সাব-গাইডে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করেছি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৮ অনুযায়ী প্রবাসীরা কী কী আইনি অধিকার পান, কীভাবে বিদেশে বসেই member.wewb.gov.bd পোর্টালে নিবন্ধন করে সদস্য কার্ড তৈরি করবেন, পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে সদস্য কার্ডের স্ট্যাটাস চেক ও কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল কার্ড পিডিএফ ডাউনলোড করবেন এবং কীভাবে দালাল ছাড়াই ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মৃত্যু অনুদান, মেধাবী সন্তানদের প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তি, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা অনুদান ও রাইজ (RAISE) প্রকল্পের ১৩,৫০০ টাকা পুনর্বাসন ভাতা গ্রহণ করবেন।

১. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) কী এবং আইন ২০১৮ অনুযায়ী এর ১৩টি কাজ

১৯৯০ সালে প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে গঠিত ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল’কে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮’ (২০১৮ সনের ৩৭ নং আইন) পাস করে। এই আইনের অধীনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি বোর্ড হিসেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners' Welfare Board - WEWB) পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার ৭১-৭২ ইস্কাটন গার্ডেন রোডের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কি এবং প্রবাসীদের জন্য এর প্রধান কাজ
চিত্র ২: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৮-এর ধারা ৯ অনুযায়ী প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য নির্ধারিত ১৩টি সংবিধিবদ্ধ সেবা

অনেকেই মনে করেন কল্যাণ বোর্ডের কাজ বোধহয় শুধু প্রবাসে কেউ মারা গেলে লাশ দেশে আনা। কিন্তু ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮-এর ৯ ধারা অনুযায়ী এই বোর্ডের ওপর প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ১৩টি সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। নিচে এই বোর্ডের তহবিলের উৎস এবং প্রধান সেবাসমূহ তুলে ধরা হলো:

সেবার খাত ও ক্যাটাগরি কল্যাণ বোর্ডের সুনির্দিষ্ট সেবা ও আর্থিক সহায়তা কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য আবেদনের মাধ্যম
১. মৃত্যুজনিত আর্থিক অনুদান ও মরদেহ পরিবহন সরকারি খরচে লাশ দেশে আনা, বিমানবন্দরে নগদ ৩৫,০০০ টাকা দাফন খরচ এবং পরিবারের ব্যাংক হিসাবে ৩,০০,০০০ টাকা এককালীন অনুদান কল্যাণ বোর্ডের নিবন্ধিত সদস্য বা বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সধারী মৃত প্রবাসীর বৈধ ওয়ারিশগণ বিমানবন্দর ডেস্ক ও জেলা জনশক্তি অফিস (DEMO)
২. মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী ভাতা এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ সন্তানদের বার্ষিক ২৭,৫০০ থেকে ৩৪,০০০+ টাকা বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের বছরে ১২,০০০ টাকা ভাতা (৫ বছর) বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত, ছুটিতে থাকা বা মৃত নিবন্ধিত প্রবাসীর সন্তান portal.wewb.gov.bd (অনলাইন আবেদন)
৩. আহত ও অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা জটিল রোগে আক্রান্ত প্রবাসীদের সর্বোচ্চ ১,৫০,০০০ টাকা এককালীন চিকিৎসা অনুদান এবং ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বিদেশ থেকে অসুস্থ বা আহত অবস্থায় দেশে ফেরত আসা বৈধ প্রবাসী কর্মী প্রবাসী কল্যাণ ভবন / DEMO অফিস
৪. বিপদগ্রস্ত ও নারী কর্মীদের সেফ হোম ও উদ্ধার বিদেশে নির্যাতিত নারী ও পুরুষ কর্মীদের দূতাবাসের শেল্টার হোমে আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা এবং ফ্রি বিমান টিকিটে দেশে প্রত্যাবাসন প্রবাসে বিপদগ্রস্ত যেকোনো বাংলাদেশি কর্মী দূতাবাস শ্রম উইং ও ১৬১৩৫ কল সেন্টার
৫. বিদেশে আইনি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ আদায় বিদেশের শ্রম আদালতে ফ্রি আইনজীবী নিয়োগ এবং মৃত বা আহত কর্মীদের বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও রক্তমূল্য (দিয়াত) আদায় প্রবাসে আটক, প্রতারিত বা নিহত প্রবাসী ও তাঁদের পরিবার দূতাবাস লিগ্যাল সেল ও WEWB সদর দপ্তর
৬. প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসন (RAISE প্রকল্প) বিদেশ ফেরত কর্মীদের নগদ ১৩,৫০০ টাকা প্রণোদনা ভাতা, মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, আরপিএল সনদ ও পুনর্বাসন ঋণ রেফারেল ২০১৫ সালের পর বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে ফেরত আসা কর্মী ৩২টি জেলার ওয়েলফেয়ার সেন্টার

২. কারা কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে পারবেন? (বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স বনাম প্রবাসে নিবন্ধন)

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন অনুযায়ী একজন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ায় কল্যাণ বোর্ডের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ বা প্রবাসী কল্যাণ কার্ড (WEWB Membership) লাভ করতে পারেন। আপনি কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছেন তা নিচের বিশ্লেষণ থেকে মিলিয়ে নিন:

বিদেশে বসে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ড করার নিয়ম
চিত্র ৩: বিএমইটি স্মার্ট কার্ডধারী কর্মীদের স্বয়ংক্রিয় সদস্যপদ এবং বিদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত প্রবাসীদের অনলাইন সদস্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া

ক্যাটাগরি ক: বিএমইটি (BMET) ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশগামী কর্মী (স্বয়ংক্রিয় সদস্য)

যাঁরা বাংলাদেশ থেকে বৈধ ওয়ার্ক ভিসায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা বিশ্বের যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) অথবা আমি প্রবাসী (Ami Probashi) অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত সরকারি কল্যাণ ফি (৩,৫০০ টাকা কল্যাণ ও বীমা ফি) জমা দিয়ে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড (BMET Emigration Clearance Card) সংগ্রহ করেছেন, তাঁরা প্রথম দিন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিবন্ধিত সদস্য। তাঁদের নতুন করে বিদেশে বসে কোনো ফি দিতে হয় না বা আলাদা মেম্বারশিপ কার্ড করতে হয় না। বিএমইটি ডাটাবেজে থাকা তাঁদের ক্লিয়ারেন্স নম্বরটিই কল্যাণ বোর্ডের আজীবন সদস্যপদ হিসেবে কাজ করে।

ক্যাটাগরি খ: বিএমইটি ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে যাওয়া প্রবাসী (দূতাবাস ও অনলাইন নিবন্ধন)

বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী প্রথমে ভিজিট ভিসা, ট্যুরিস্ট ভিসা, ওমরাহ ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, ফ্যামিলি ভিসা অথবা ভারতের রুট হয়ে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই বিদেশে যান এবং পরবর্তীতে সেখানে বৈধ কাজের আকামা (Iqama), কাতার আইডি (QID), কুয়েত সিভিল আইডি বা ওয়ার্ক পারমিট লাগিয়ে বৈধভাবে কাজ বা ব্যবসা শুরু করেন। আগে এই বিশাল অংশটি বিএমইটি কার্ড না থাকার কারণে কোনো সরকারি অনুদান পেতেন না। কিন্তু সরকার তাঁদের জন্য বিদেশে বসে অনলাইনে কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ গ্রহণের (WEWB Overseas Membership Registration) সুযোগ চালু করেছে। একবার এই সদস্যপদ গ্রহণ করলে তাঁরাও বিএমইটি কার্ডধারী কর্মীদের মতোই ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মৃত্যু অনুদান, সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ও চিকিৎসা সহায়তাসহ সকল সুবিধা প্রাপ্য হন।

৩. বিদেশে বসে প্রবাসী কল্যাণ সদস্য কার্ড করার নিয়ম ও নির্ধারিত সরকারি ফি

আপনি যদি বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ছাড়া বিদেশে গিয়ে থাকেন এবং বর্তমানে সেখানে বৈধ ভিসা, আকামা বা রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে কর্মরত থাকেন (বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে), তবে নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়ে নিচের ৬টি ধাপে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন:

  1. ধাপ ১ — অফিশিয়াল মেম্বারশিপ পোর্টালে প্রবেশ: আপনার ব্রাউজার থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য নিবন্ধন পোর্টাল member.wewb.gov.bd অথবা wewb.gov.bd ওয়েবসাইটের ‘প্রবাসী কর্মীদের মেম্বারশিপ রেজিস্ট্রেশন’ লিংকে প্রবেশ করুন।
  2. ধাপ ২ — পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য এন্ট্রি: আপনার বর্তমান সচল বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, পিতা-মাতার নাম, বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য দেশে থাকা নমিনি বা পরিবারের সদস্যের নাম ও মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  3. ধাপ ৩ — প্রবাসের ভিসা ও কর্মসংস্থানের তথ্য প্রদান: আপনি বর্তমানে কোন দেশে কর্মরত আছেন, আপনার বিদেশের আইডি নম্বর (যেমন—সৌদি আকামা নম্বর, কাতার QID, কুয়েত Civil ID বা রেসিডেন্স পারমিট নম্বর), পেশা, নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির নাম এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের নাম নির্বাচন করুন।
  4. ধাপ ৪ — ডকুমেন্ট স্ক্যান কপি আপলোড: আপনার পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি, পাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি এবং বর্তমান বৈধ ভিসা বা আকামা/রেসিডেন্স কার্ডের পরিষ্কার স্ক্যান বা ছবি আপলোড করুন।
  5. ধাপ ৫ — নির্ধারিত সরকারি নিবন্ধন ফি পরিশোধ: সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে এককালীন কল্যাণ ফি ও নিবন্ধন চার্জ বাবদ দেশভেদে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের স্থানীয় মুদ্রা (যেমন—সৌদি আরবে প্রায় ১০০–১১০ রিয়াল, কাতারে ১০০ রিয়াল, কুয়েতে ৮–১০ দিনার, আরব আমিরাতে ১০০ দিরহাম বা মালয়েশিয়ায় ১২০ রিংগিত) এবং পেশাজীবী/ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের ব্যাংক হিসাব/কাউন্টারে জমা দিয়ে রশিদ নম্বরটি পোর্টালে যুক্ত করুন।
  6. ধাপ ৬ — দূতাবাস ভেরিফিকেশন ও ডিজিটাল কার্ড ইস্যু: আপনার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং অনলাইনে যাচাই করে অনুমোদন (Approve) করলেই আপনার মোবাইল ও ইমেইলে কনফার্মেশন মেসেজ চলে আসবে এবং আপনার নামে কিউআর কোডযুক্ত WEWB Membership Card জেনারেট হয়ে যাবে।

৪. পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনলাইনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কার্ড চেক করার ধাপ

আপনি পূর্বে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে গেছেন কিংবা দূতাবাসের মাধ্যমে কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হওয়ার আবেদন করেছেন—আপনার সদস্যপদটি সরকারি ডাটাবেজে সচল (Active) আছে কি না, তা পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে মাত্র ২ মিনিটে অনলাইনে যাচাই করে নিতে পারেন।

পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কার্ড অনলাইনে চেক
চিত্র ৪: পাসপোর্ট নম্বর ও জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অনলাইনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড মেম্বারশিপ ও বিএমইটি ডাটাবেজ স্ট্যাটাস যাচাই

পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে কল্যাণ বোর্ড সদস্য কার্ড যাচাইয়ের ৩টি পদ্ধতি:

যাচাইয়ের মাধ্যম কাদের জন্য প্রযোজ্য অনলাইনে চেক করার ধাপ ফলাফলে যা দেখা যাবে
১. WEWB মেম্বার পোর্টাল
(member.wewb.gov.bd)
যাঁরা বিদেশে বসে বা দূতাবাসের মাধ্যমে কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ডের আবেদন করেছেন পোর্টালে গিয়ে ‘Check Status’ বা ‘Member Login’ অপশনে পাসপোর্ট নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর/পাসওয়ার্ড দিন সদস্যপদের বর্তমান অবস্থা (Approved / Pending at Mission), মেম্বারশিপ আইডি ও কার্ড ডাউনলোড অপশন
২. Ami Probashi / BMET পোর্টাল
(amiprobashi.com)
যাঁরা বাংলাদেশ থেকে বৈধ বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে গেছেন ‘Clearance Card’ বা ‘Verify Smart Card’ অপশনে গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে সার্চ করুন বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নম্বর, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি পরিশোধের তথ্য ও কিউআর কোডযুক্ত স্মার্ট কার্ড
৩. প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার
(হটলাইন: 16135)
যাঁদের পুরনো ম্যানুয়াল পাসপোর্ট ছিল বা অনলাইনে তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না দেশ থেকে ১৬১৩৫ নম্বরে (টোল-ফ্রি) কল করে কর্মীর পাসপোর্ট নম্বর ও পিতার নাম বলুন অপারেটর সরাসরি বিএমইটি ও কল্যাণ বোর্ড সার্ভার চেক করে সদস্যপদের তথ্য জানিয়ে দেবেন

৫. প্রবাসী কল্যাণ মেম্বারশিপ কার্ড পিডিএফ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার নিয়ম

দূতাবাস বা কল্যাণ বোর্ড থেকে আপনার সদস্যপদ অনুমোদিত হওয়ার পর কার্ডটি সংগ্রহের জন্য আপনাকে কোথাও সশরীরে যেতে হবে না। আপনি ঘরে বসেই কিউআর কোডযুক্ত অফিশিয়াল ডিজিটাল কার্ডটি পিডিএফ (PDF) আকারে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সদস্য কার্ড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার নিয়ম
চিত্র ৫: সদস্য পোর্টালে লগইন করে কিউআর কোডসম্বলিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ডিজিটাল মেম্বারশিপ কার্ড ডাউনলোড ও প্রিন্ট
  • ডাউনলোড প্রক্রিয়া: member.wewb.gov.bd পোর্টালে আপনার ইউজার আইডি (পাসপোর্ট নম্বর/ইমেইল) ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ড্যাশবোর্ডে আপনার স্ট্যাটাস ‘Approved’ দেখালে ডান পাশের ‘Download Membership Card (PDF)’ বাটনে ক্লিক করুন।
  • কার্ডে কী কী তথ্য থাকে: ডাউনলোডকৃত কার্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মনোগ্রাম, আপনার ছবি, পূর্ণ নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ইউনিক মেম্বারশিপ আইডি নম্বর, কর্মরত দেশের নাম এবং একটি ভেরিফিকেশন কিউআর কোড (QR Code) মুদ্রিত থাকে।
  • পরিবারের কাছে সংরক্ষণ: কার্ডটির অন্তত ২ কপি রঙিন প্রিন্ট বা লেমিনেটিং করে ১ কপি নিজের কাছে প্রবাসে রাখুন এবং অপর কপিটি (পিডিএফ ফাইলসহ) বাংলাদেশে আপনার স্ত্রী বা পিতা-মাতার কাছে পাঠিয়ে দিন। ভবিষ্যতে সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি বা যেকোনো সরকারি সুবিধার আবেদনে এই কার্ডের কপি ও মেম্বারশিপ নম্বরটি সরাসরি কাজে লাগবে।

৬. মৃত প্রবাসীর মরদেহ পরিবহন, বিমানবন্দরে ৩৫ হাজার ও ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সবচেয়ে মানবিক এবং বৃহত্তম সেবা খাত হলো প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আর্থিক ঢাল হয়ে দাঁড়ানো। এ বিষয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও বিস্তারিত চেকলিস্ট আমাদের প্রবাসীর মৃত্যু হলে করণীয়: লাশ দেশে আনা ও সরকারি অনুদান পাওয়ার নিয়ম গাইডে দেওয়া আছে। নিচে কল্যাণ বোর্ড প্রদত্ত মৃত্যুজনিত ৪টি প্রধান সুবিধার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে মৃত প্রবাসীর মৃত্যু অনুদান ও ক্ষতিপূরণ
চিত্র ৬: বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক ৩৫,০০০ টাকা দাফন খরচ, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স এবং পরিবারের ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান বিতরণ
  1. বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক ৩৫,০০০ টাকা দাফন ও পরিবহন খরচ: প্রবাস থেকে কোনো কর্মীর মরদেহ ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সাথে সাথে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে মরদেহ গ্রহণকারী নিকটাত্মীয়কে (স্ত্রী, পিতা, মাতা, ভাই বা সন্তান) তাৎক্ষণিক দাফন-কাফন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য নগদ বা চেক মারফত ৩৫,০০০ টাকা প্রদান করা হয়।
  2. মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস: বিমানবন্দর থেকে দেশের যেকোনো জেলা বা প্রত্যন্ত গ্রামে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব ফ্রিজিং/শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
  3. পরিবারের জন্য এককালীন ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা আর্থিক অনুদান: নিবন্ধিত প্রবাসী কর্মী প্রবাসে মৃত্যুবরণ করলে কিংবা ছুটিতে দেশে আসার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে তাঁর বৈধ ওয়ারিশদের (মুসলিম ফারায়েজ বা পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী) ব্যাংক একাউন্টে ইএফটি (EFT) মাধ্যমে এককালীন ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা অফেরতযোগ্য মৃত্যু অনুদান প্রদান করা হয়।
  4. ১০ লাখ টাকার বাধ্যতামূলক জীবন বীমা ও বিদেশের ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) আদায়: ২০১৯ সালের পর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে কল্যাণ বোর্ডের ৩.৩৫ লাখ টাকার বাইরেও জীবন বীমা কর্পোরেশন থেকে অতিরিক্ত ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকা বীমা দাবি এবং বিদেশের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বকেয়া বেতন ও দুর্ঘটনাজনিত রক্তমূল্য (Diya) আদায় করে পরিবারকে প্রদান করা হয়।

৭. প্রবাসীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তি, ডিপ্লোমা/মেডিকেল গ্র্যান্ট ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা

প্রবাসী কর্মীদের সন্তানরা যাতে অর্থাভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত হয়, সেজন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ২০১২ সাল থেকে প্রবাসীর মেধাবী সন্তানদের জন্য প্রবাসী শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা পরিচালনা করছে। আবেদনের যোগ্যতা ও জিপিএ শর্তাবলী বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রবাসীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬: আবেদন, যোগ্যতা ও টাকার পরিমাণ আর্টিকেলটি দেখুন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা
চিত্র ৭: প্রবাসীর মেধাবী সন্তানদের এইচএসসি, ডিপ্লোমা, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের মাসিক ভাতা
  • একাদশ-দ্বাদশ ও ডিপ্লোমা পর্যায়ে বৃত্তি: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮০ (মৃত প্রবাসীর সন্তানের ক্ষেত্রে জিপিএ ৪.০০) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে কলেজ বা পলিটেকনিক ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হলে মাসিক ২,০০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ৩,৫০০ টাকা বই/সেশন ভাতা—অর্থাৎ বছরে মোট ২৭,৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়।
  • বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে বৃত্তি: এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮০ (মৃত প্রবাসীর ক্ষেত্রে ৪.০০) পেয়ে পাবলিক/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হলে মাসিক ২,৫০০ টাকা এবং বার্ষিক ৪,০০০ টাকা সেশন ভাতা—অর্থাৎ বছরে মোট ৩৪,০০০ টাকা করে ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রদান করা হয়।
  • প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য বছরে ১২,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা: প্রবাসীর কোনো সন্তান যদি অটিজম, শ্রবণ/দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বা শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সূবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকে, তবে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছাড়াই মাসিক ১,০০০ টাকা হারে বছরে ১২,০০০ টাকা করে টানা ৫ বছর (মোট ৬০,০০০ টাকা) ভাতা প্রদান করা হয়।

৮. আহত ও অসুস্থ প্রবাসীদের ১.৫ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা ও ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

বিদেশে নির্মাণ কাজ, কারখানা বা সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে কিংবা স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে যেসব প্রবাসী কর্মী কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে দেশে ফিরে আসেন, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সরাসরি আর্থিক অনুদান প্রদান করে।

অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা সহায়তা এবং বিমানবন্দর থেকে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
চিত্র ৮: গুরুতর আহত ও অসুস্থ প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দর থেকে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা অনুদান
চিকিৎসা সেবার ধরন সরকারি সুবিধার পরিমাণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনের স্থান ও সময়সীমা
১. জরুরি বিমানবন্দর অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার যেকোনো হাসপাতাল বা দেশের যেকোনো জেলার বাড়িতে ১০০% ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স পরিবহন অসুস্থ কর্মীর পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস ও মেডিকেল পেপারস ফ্লাইট নামার আগে বা পরে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে সরাসরি যোগাযোগ
২. জটিল রোগ ও দুর্ঘটনা চিকিৎসা অনুদান রোগের তীব্রতা ও খরচের ভিত্তিতে ৫০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১,৫০,০০০ (দেড় লাখ) টাকা এককালীন অনুদান পাসপোর্ট (অ্যারাইভাল সিলসহ), বিএমইটি/সদস্য কার্ড, বিদেশের ও দেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র ও ব্যাংক চেক কপি দেশে ফেরার পর ৬–১২ মাসের মধ্যে কল্যাণ বোর্ড বা জেলা DEMO অফিসে আবেদন

৯. বিপদগ্রস্ত নারী ও পুরুষ কর্মীদের উদ্ধার, সেফ হোম ও ফ্রি আইনি সহায়তা

সৌদি আরব, জর্ডান, ওমান, লেবানন, কুয়েত বা কাতারে কর্মরত নারী গৃহকর্মী কিংবা পুরুষ শ্রমিকরা যখন নিয়োগকর্তার নির্যাতন, বেতন না পাওয়া বা কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রাস্তায় আটকে পড়েন, তখন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

বিদেশে বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের উদ্ধার এবং ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের আইনি সেবা
চিত্র ৯: প্রবাসে বিপদগ্রস্ত নারী ও পুরুষ কর্মীদের দূতাবাসের সেফ হোমে আশ্রয়, আইনি সহায়তা এবং সরকারি টিকিটে দেশে প্রত্যাবাসন
  • দূতাবাসের সেফ হোমে (Safe Home) নিরাপদ আশ্রয় ও খাবার: রিয়াদ, জেদ্দা, মাস্কাট, আম্মান ও দুবাইসহ প্রধান মিশনগুলোতে কল্যাণ বোর্ডের খরচে পরিচালিত সেফ হোমে নির্যাতিত নারী কর্মীদের উদ্ধার করে রাখা হয় এবং ফ্রি খাবার, পোশাক ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
  • ডিপোর্টেশন সেন্টার বা সফর জেল থেকে মুক্তকরণ ও ফ্রি বিমান টিকিট: যেসব অসহায় কর্মীর কাছে দেশে ফেরার বিমান ভাড়া নেই, কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে তাঁদের ফ্রি আউটপাস (Travel Permit) এবং ফ্রি বিমান টিকিট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
  • বিদেশের আদালতে ফ্রি আইনজীবী নিয়োগ: মিথ্যা মামলায় আটক বা কফিলের কাছে লাখ লাখ টাকা বেতন পাওনা থাকা কর্মীদের পক্ষে স্থানীয় শ্রম আদালতে মামলা লড়ার জন্য কল্যাণ বোর্ড ফ্রি প্যানেল আইনজীবী ও দোভাষী সরবরাহ করে।

১০. বিদেশ ফেরতদের রাইজ (RAISE) প্রকল্প, প্রবাসী কল্যাণ ভবন ও ৪২টি জেলা অফিস

বিদেশ থেকে কাজ হারিয়ে বা স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সারাদেশে ৩০টি জেলা ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে রাইজ (RAISE - Recovery and Advancement of Informal Sector Employment) প্রকল্প পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পে নিবন্ধিত বিদেশ ফেরত কর্মীরা ওরিয়েন্টেশন শেষে নগদ ১৩,৫০০ টাকা পুনর্বাসন প্রণোদনা, কারিগরি দক্ষতা সনদ (RPL) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ব্যবসা ঋণের সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর সময় কোন ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি রেট চলছে তা দেখতে আজকের টাকার রেট গাইড এবং স্মার্টফোনে Taka Rate Today অ্যাপ ব্যবহার করে ২.৫% সরকারি প্রণোদনাসহ সঠিক হিসাব জেনে নিতে পারেন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ঠিকানা ফোন নম্বর ও জেলা অফিসের তালিকা
চিত্র ১০: ঢাকার ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ভবন সদর দপ্তর, ৩টি বিমানবন্দর কল্যাণ ডেস্ক এবং জেলা জনশক্তি অফিস (DEMO) যোগাযোগ নেটওয়ার্ক
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের রাইজ প্রজেক্ট ও বিদেশ ফেরতদের অনুদান
চিত্র ১১: বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের রাইজ (RAISE) প্রকল্পে ১৩,৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সেবা

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ও জরুরি যোগাযোগ ডিরেক্টরি:

দপ্তরের নাম অবস্থান ও ঠিকানা হটলাইন ও ফোন নম্বর প্রধান সেবাসমূহ
১. WEWB প্রধান কার্যালয় প্রবাসী কল্যাণ ভবন (৯ম–১০ম তলা), ৭১-৭২ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, ঢাকা-১০০০ টোল-ফ্রি: ১৬১৩৫
আন্তর্জাতিক: +৮৮০ ৯৬১০ ১০২০৩০
কেন্দ্রীয় অনুদান অনুমোদন, বীমা দাবি, আইনি সহায়তা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন
২. শাহজালাল বিমানবন্দর কল্যাণ ডেস্ক ও প্রবাসী লাউঞ্জ টার্মিনাল ১, ২ এবং মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন (২য় তলা), কুর্মিটোলা, ঢাকা +৮৮০ ২ ৮৯০১৫৮৯ / ১৬১৩৫ (২৪ ঘণ্টা খোলা) মরদেহের ৩৫,০০০ টাকা প্রদান, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স, অসুস্থ কর্মী রিসিভ ও প্রবাসী লাউঞ্জ
৩. চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর কল্যাণ ডেস্ক শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (চট্টগ্রাম) এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিলেট) ১৬১৩৫ (সার্বক্ষণিক ডেস্ক) চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মৃত প্রবাসীর ৩৫,০০০ টাকা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা
৪. ৪২টি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO) দেশের ৪২টি জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি জনশক্তি কার্যালয় ও ৩২টি ওয়েলফেয়ার সেন্টার wewb.gov.bd ডিরেক্টরি ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান আবেদন, শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা অনুদান ও রাইজ (RAISE) ভাতা

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অনুদান ও সেবা আবেদনে সচরাচর যেসব ভুল হয় এবং তা এড়ানোর কৌশল:

প্রতি বছর হাজার হাজার প্রবাসী পরিবার মৃত্যু অনুদান (৩ লাখ টাকা), চিকিৎসা সহায়তা (১ লাখ ৫০ হাজার টাকা), জীবন বীমা দাবি (১০ লাখ টাকা) কিংবা সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন করার পর ছোটখাটো দাপ্তরিক ভুল বা নামের বানানের অমিলের কারণে ফাইল আটকে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নিচে সবচেয়ে সাধারণ ৭টি ভুল এবং সেগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান তুলে ধরা হলো, যাতে আপনার ফাইলটি প্রথমবারেই অনুমোদন লাভ করে:

  1. পাসপোর্টের নামের সাথে ওয়ারিশ সনদ ও এনআইডির নামের বানান অমিল: প্রবাসীর পাসপোর্টে নাম যদি থাকে ‘MD ABDUL KARIM’ কিন্তু স্ত্রীর বা পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) অথবা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দেওয়া ওয়ারিশ সনদে লেখা থাকে ‘মোঃ করিম মিয়া’, তবে কল্যাণ বোর্ডের অডিট শাখা টাকা ছাড় করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শুরুতেই নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মাধ্যমে একটি ‘একই ব্যক্তি প্রত্যয়ন হলফনামা’ (Affidavit of Same Person) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/পৌর মেয়রের কাছ থেকে সংশোধিত প্রত্যয়নপত্র ফাইলের সাথে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।
  2. একাধিক ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও যৌথ ব্যাংক হিসাব বা অনাপত্তিপত্র (NOC) না দেওয়া: মুসলিম ফারায়েজ বা পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী মৃত প্রবাসীর স্ত্রী, সন্তান এবং জীবিত পিতা-মাতা প্রত্যেকেই ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান ও দিয়াতের টাকার নির্দিষ্ট অংশের অংশীদার। যদি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশের নামে আলাদা ব্যাংক একাউন্ট (রাউটিং নম্বর ও এমআইসিআর চেক পাতাসহ) না থাকে, কিংবা নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে মায়ের অভিভাবকত্বে ব্যাংক হিসাব খোলা না হয়, তবে ইএফটি (EFT) ট্রান্সফার বাউন্স করে। তাই আবেদনের আগেই জেলা জনশক্তি অফিসের (DEMO) পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যাংক হিসাবের চেক পাতার ফটোকপি জমা দিন।
  3. বিদেশে বসে সদস্য কার্ড করার পর দূতাবাসে ফি পরিশোধের রশিদ আপলোড না করা: অনেক প্রবাসী member.wewb.gov.bd পোর্টালে অনলাইনে ফরম পূরণ করেই মনে করেন তাঁর সদস্য কার্ড হয়ে গেছে। অথচ ফরম পূরণের পর সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস নির্ধারিত কল্যাণ ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদনটি ‘Pending for Payment/Verification’ অবস্থায় পড়ে থাকে। তাই অনলাইনে আবেদনের পর অবশ্যই দূতাবাসের শ্রম উইং বা নির্ধারিত ব্যাংক কাউন্টারে ফি পরিশোধ করে পেমেন্ট ভাউচার নম্বরটি পোর্টালে হালনাগাদ করতে হবে।
  4. অসুস্থ প্রবাসীর চিকিৎসা অনুদানের ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্লিনিকের কাঁচা রশিদ জমা দেওয়া: ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি চিকিৎসা অনুদান পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র হাতের লেখা ওষুধের স্লিপ দিলে কাজ হবে না। কর্মীকে অবশ্যই বিদেশের হাসপাতাল থেকে প্রদত্ত ডিসচার্জ সামারি (Discharge Summary) এবং বাংলাদেশে ফেরার পর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিলমোহরযুক্ত ব্যবস্থাপত্র, ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট ও বিলের মূল কপি দাখিল করতে হবে।
  5. শিক্ষাবৃত্তির আবেদনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সিল ও সচল মোবাইল নম্বর না থাকা: প্রবাসীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তির অনলাইন আবেদনের সময় বর্তমানে অধ্যয়নরত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ/বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল সিলযুক্ত প্রত্যয়নপত্র আপলোড করতে হয়। কল্যাণ বোর্ড থেকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফোন করে ভেরিফিকেশন করা হয়; তাই প্রত্যয়নপত্রে প্রতিষ্ঠানের সঠিক ল্যান্ডফোন বা অধ্যক্ষের দাপ্তরিক মোবাইল নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি।
  6. ছুটিতে দেশে এসে মৃত্যুবরণ করলে আবেদনের সময়সীমা অতিক্রম করা: কোনো বৈধ প্রবাসী যদি রি-এন্ট্রি বা ছুটির ভিসায় বাংলাদেশে এসে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর পরিবারও ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান ও ১০ লাখ টাকার জীবন বীমা দাবি পাওয়ার যোগ্য—শর্ত হলো তাঁর পাসপোর্টে থাকা ভিসা/আকামার মেয়াদ সচল থাকতে হবে এবং মৃত্যুর পর নির্ধারিত সময়সীমার (সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে) মধ্যে ডেথ সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হবে।
  7. মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হাতে মূল পাসপোর্ট ও চেক বই তুলে দেওয়া: জেলা অফিস বা প্রবাসী কল্যাণ ভবনের আশেপাশে কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত অনুদানের চেক বের করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই বা ফাঁকা চেক পাতা রেখে দেয়। মনে রাখবেন, কল্যাণ বোর্ডের সকল অনুদান এখন বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (BEFTN)-এর মাধ্যমে সরাসরি ওয়ারিশ বা শিক্ষার্থীর ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়—এখানে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ করার সুযোগই নেই।

বিদেশের প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং (Labour Welfare Wing) ও সেবা পরিধি:

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সকল বৈদেশিক কার্যক্রম বাস্তবে পরিচালিত হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং (Labour Welfare Wing)-এর মাধ্যমে। প্রবাসে থাকাকালীন আপনি যেকোনো বিপদে পড়লে বা সদস্য কার্ড করতে চাইলে নিচের শ্রম উইংগুলোতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন:

দেশের নাম ও মিশন শ্রম কল্যাণ উইংয়ের প্রধান সেবা জরুরি মরদেহ ও আইনি সহায়তা প্রক্রিয়া সম্পর্কিত দেশভিত্তিক গাইড
১. সৌদি আরব
(রিয়াদ দূতাবাস ও জেদ্দা কনস্যুলেট)
WEWB সদস্য নিবন্ধন, নারী কর্মীদের সেফ হোম, সফর জেল পরিদর্শন ও আউটপাস ইস্যু মরদেহ দেশে পাঠানোর এনওসি (NOC), কফিলের কাছ থেকে বকেয়া বেতন ও শরিয়াহ আদালতে দিয়াত (রক্তমূল্য) মামলা পরিচালনা সৌদি আরব প্রবাসী গাইড
২. কাতার
(বাংলাদেশ দূতাবাস, দোহা)
প্রবাসী কল্যাণ কার্ড ভেরিফিকেশন, শ্রম আদালত (LDRC) সহায়তা ও কোম্পানি পরিবর্তন পরামর্শ হামাদ হাসপাতাল মর্গ থেকে ফ্রি মরদেহ পরিবহন, কাতার শ্রম আইনে গ্র্যাচুইটি ও ইন্স্যুরেন্স দাবি আদায় দোহা বাংলাদেশ দূতাবাস গাইড
৩. কুয়েত
(বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত সিটি)
শুনানিয়া (PAM) ও শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি, আকামা/সিভিল আইডি জটিলতায় আইনি সহায়তা সরকারি খরচে মরদেহ প্রেরণ, কুয়েতের আদালত থেকে সার্ভিস বেনিফিট ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ চেক সংগ্রহ কুয়েত বাংলাদেশ দূতাবাস গাইড
৪. সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান
(আবুধাবি, দুবাই ও মাস্কাট মিশন)
প্রবাসী সদস্যপদ নবায়ন, আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধার, সেফ হোম ও ফ্রি বিমান টিকিট প্রদান মোহরে (MOHRE) ও স্থানীয় পুলিশের সাথে সমন্বয় করে কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা বীমা ও বকেয়া পাওনা উদ্ধার বিদেশ গমন ও নিরাপত্তা গাইড
৫. মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর
(কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর হাইকমিশন)
ওয়ার্ক পারমিট ও লেভি সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ, কল্যাণ বোর্ড মেম্বারশিপ ও হাসপাতাল পরিদর্শন মালয়েশিয়ার SOCSO বীমা দাবি এবং সিঙ্গাপুরের WICA (Work Injury Compensation) ক্ষতিপূরণ আদায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশন গাইড

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ডিজিটাল সেবা গ্রহণের ধাপে ধাপে ডকুমেন্ট চেকলিস্ট:

আপনি বা আপনার পরিবারের সদস্যরা যখনই কল্যাণ বোর্ডের কোনো সেবার জন্য অনলাইনে (wewb.gov.bd) অথবা জেলা জনশক্তি অফিসে (DEMO) আবেদন করবেন, তখন ফাইল জমা দেওয়ার আগে নিচের ডকুমেন্ট চেকলিস্টটি মিলিয়ে নিন। সব কাগজ একসাথে গুছিয়ে জমা দিলে আবেদনের প্রসেসিং সময় অর্ধেকে নেমে আসে:

  • সদস্যপদ ও পরিচয়ের প্রমাণপত্র: প্রবাসীর পাসপোর্টের তথ্য পাতার স্পষ্ট ফটোকপি, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড (ই-ক্লিয়ারেন্স) অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ডিজিটাল মেম্বারশিপ কার্ডের প্রিন্ট কপি এবং প্রবাসের ভিসা/আকামার কপি।
  • আবেদনকারী বা নমিনির পরিচয়পত্র: আবেদনকারী নিজে প্রবাসী হলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), আর পরিবারের সদস্য (স্ত্রী, পিতা-মাতা বা সন্তান) আবেদন করলে তাঁদের এনআইডি বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পাসপোর্ট সাইজ সত্যায়িত রঙিন ছবি।
  • ব্যাংক হিসাবের নির্ভুল প্রমাণ (BEFTN উপযোগী): যে ব্যাংক একাউন্টে অনুদান বা শিক্ষাবৃত্তির টাকা গ্রহণ করতে চান, সেই একাউন্টের ১৩ থেকে ১৭ ডিজিটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নম্বর, ব্যাংকের শাখা ও রাউটিং নম্বর (Routing Number) উল্লেখ থাকা এমআইসিআর (MICR) চেক পাতার ফটোকপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট। মোবাইল ব্যাংকিং বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ কেওয়াইসি (Full KYC) সম্পন্ন সচল হিসাব হতে হবে।
  • সেভাভিত্তিক বিশেষ সনদপত্র: মৃত্যু অনুদানের ক্ষেত্রে বিদেশের হাসপাতাল ও দূতাবাসের ডেথ সার্টিফিকেট এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান/পৌর মেয়রের প্রদত্ত নির্ধারিত ছকের ওয়ারিশ সনদ; শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে বোর্ড পরীক্ষার মার্কশিট ও অধ্যক্ষের প্রত্যয়নপত্র; এবং চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও ডিসচার্জ সনদ।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বনাম বেসরকারি এজেন্সি বা দালাল: কেন সরাসরি সরকারি পোর্টালে সেবা নেবেন?

গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় প্রবাসীর পরিবারগুলো সরকারি অফিসের নিয়মকানুন সম্পর্কে ভীতি থাকার কারণে স্থানীয় কম্পিউটার দোকানদার, ইউপি সদস্যের সহকারী বা তথাকথিত ফাইল প্রসেসিং দালালের শরণাপন্ন হন। অথচ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বর্তমান ডিজিটাল সেবাপ্রাপ্তি প্রক্রিয়া এতটাই সহজবোধ্য করা হয়েছে যে পরিবারের যেকোনো শিক্ষিত সদস্য বা শিক্ষার্থী নিজেই স্মার্টফোন দিয়ে পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। নিচে সরাসরি সরকারি চ্যানেলে আবেদন করার সাথে দালালের মাধ্যমে যাওয়ার পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

বিবেচ্য বিষয় সরাসরি সরকারি পোর্টাল / DEMO অফিসে আবেদন মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে আবেদন কল্যাণ বোর্ডের অফিশিয়াল নির্দেশনা
১. আবেদনের সরকারি ফি বা চার্জ মৃত্যু অনুদান, চিকিৎসা সহায়তা ও রাইজ (RAISE) ভাতার আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (০ টাকা) দালালরা ফাইল খরচ বা ঘুষের কথা বলে ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে অনুদান পেতে কাউকে এক টাকাও দেবেন না; কেউ টাকা চাইলে ১৬১৩৫ নম্বরে জানান
২. অনুদানের টাকা জমার মাধ্যম সরাসরি ওয়ারিশ বা শিক্ষার্থীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে ইএফটি (BEFTN) মারফত শতভাগ টাকা জমা হয় অনেক সময় দালালরা কৌশলে যৌথ একাউন্ট খুলে বা চেক ভাঙানোর সময় কমিশন কেটে রাখে সর্বদা আবেদনকারীর নিজ নামের একক ব্যাংক হিসাব নম্বর ও রাউটিং নম্বর ব্যবহার করুন
৩. ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা (Tracking) আবেদনকারীর নিজের মোবাইল নম্বরে সরাসরি সরকারি এসএমএস (SMS) ও ট্র্যাকিং আপডেট আসে দালাল নিজের মোবাইল নম্বর দেওয়ায় পরিবার জানতেও পারে না কবে টাকা পাস হয়েছে আবেদন ফরমে অবশ্যই পরিবারের সচল নিজস্ব মোবাইল নম্বর প্রদান করুন
৪. কাগজপত্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সরকারি সার্ভারে প্রবাসীর পাসপোর্ট, এনআইডি ও ব্যাংক তথ্য শতভাগ সুরক্ষিত থাকে পাসপোর্ট ও এনআইডি কপি অপব্যবহার করে ভুয়া লোন বা সিম তোলার ঝুঁকি থাকে নিজ জেলার DEMO অফিসের হেল্পডেস্ক ছাড়া অন্য কারও হাতে মূল কাগজ দেবেন না

পরিশেষে, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মনে রাখতে হবে যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল কোনো দয়া বা করুণার দান নয়—এটি প্রবাসীদের নিজস্ব ঘামের টাকায় প্রদত্ত কল্যাণ ফি, রিক্রুটিং এজেন্সির জামানতের লভ্যাংশ এবং সরকারের বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে গঠিত প্রবাসীদের নিজস্ব হক ও আইনগত অধিকার। তাই প্রবাসে থাকাকালীন নিজের সদস্যপদ সচল রাখুন এবং পরিবারের সদস্যদের এই সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তুলুন। পাশাপাশি আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয় নিরাপদে বাড়াতে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড এবং প্রবাসী এনআরবি ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়মাবলী জেনে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রবাসী কল্যাণ ও সরকারি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:

না। যাঁরা বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে বিএমইটি (BMET) ই-ক্লিয়ারেন্স বা স্মার্ট কার্ড নিয়ে বিদেশে গেছেন, তাঁরা ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার সময়ই নির্ধারিত কল্যাণ ফি পরিশোধ করেছেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিবন্ধিত সদস্য হয়ে গেছেন। তাঁদের বিএমইটি স্মার্ট কার্ডটিই কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ড হিসেবে গণ্য হয়।

হ্যাঁ, অবশ্যই। যাঁরা বিএমইটি ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে গেছেন কিন্তু বর্তমানে সেখানে বৈধ ভিসা, আকামা বা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা বিদেশে বসেই member.wewb.gov.bd পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসে নির্ধারিত এককালীন ফি জমা দিয়ে কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ড পেতে পারেন।

মৃত প্রবাসীর পরিবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা জনশক্তি অফিসে (DEMO) আবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্ত ও যাচাই শেষে সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি প্রত্যেক বৈধ ওয়ারিশের নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে ইএফটি (EFT) বা চেকের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। বিমানবন্দরের ৩৫,০০০ টাকা লাশ রিসিভ করার দিনই নগদ/চেক দেওয়া হয়।

যেকোনো তথ্য বা আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য দেশ থেকে টোল-ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ (16135)-এ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১০ ১০২০৩০ নম্বরে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে (+৮৮০ ১৭৮৪ ৩৩৩৩৩৩) ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ করা যায়।

বিদেশ থেকে কোনো গুরুতর অসুস্থ বা আহত প্রবাসী দেশে ফেরার ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত হলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ফ্লাইট অবতরণের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার (১৬১৩৫) অথবা বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে পাসপোর্ট ও ফ্লাইটের কপি দেখিয়ে আবেদন করলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কবার্তা: "ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড: সদস্য কার্ড চেক, ডাউনলোড ও সেবাসমূহ" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আর্থিক পরামর্শ নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB), প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো নীতিমালা, অনুদানের হার বা সুদের হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত আবেদনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: https://probashi.gov.bd
  • ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB): https://wewb.gov.bd
  • প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (Probashi Kallyan Bank): https://pkb.gov.bd
  • বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank): https://www.bb.org.bd