আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇶🇦 কাতারি রিয়াল: ৩৩.১৫ ৳
🇧🇩 সোনার দাম (২২ ক্যারেট): ১,৩৮,০০০ ৳/ভরি (উৎস: বাজুস · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বোনাস রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা: +২.৫% ক্যাশ বোনাস
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇸🇦 সৌদি রিয়াল: ৩২.১০ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇦🇪 আমিরাত দিরহাম: ৩২.৮৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇲🇾 মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৭.৪৫ ৳
আজকের রেট (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) 🇰🇼 কুয়েতি দিনার: ৩৯২.৫০ ৳
🇧🇩 প্রবাসী কল্যাণ ও আর্থিক সুবিধা সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ জরুরি মানবিক সহায়তা গাইড

প্রবাসীর মৃত্যু হলে করণীয়: লাশ দেশে আনা ও সরকারি অনুদান পাওয়ার নিয়ম

প্রবাসীর মৃত্যু হলে করণীয় লাশ দেশে আনা ও সরকারি অনুদান পাওয়ার নিয়ম
চিত্র ১: বিদেশে প্রবাসীর মৃত্যু হলে দূতাবাসের মাধ্যমে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনা, বিমানবন্দরে ৩৫,০০০ টাকা ও পরিবারের জন্য ৩ লাখ টাকা অনুদান গাইড ২০২৬
📌 সারসংক্ষেপ ও মূল দিকনির্দেশনা (Executive Summary)

প্রবাসের মাটিতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু যেকোনো পরিবারের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি ও চরম মানবিক বিপর্যয়। এমন শোকাবহ মুহূর্তে বিদেশের হাসপাতাল ও মর্গ থেকে মরদেহ কীভাবে দেশে আনা হবে এবং অসহায় স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভবিষ্যৎ কীভাবে চলবে—তা নিয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। প্রবাসীদের এই চরম বিপদের দিনে রাষ্ট্রীয় অভিভাবক হিসেবে পাশে দাঁড়ায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং।

এই মানবিক ও প্রামাণ্য নির্দেশিকায় আমরা ধাপে ধাপে জানব বিদেশে কোনো প্রবাসীর মৃত্যু হলে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সহকর্মী ও পরিবারের করণীয় কী, কীভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনা হয়, বিমানবন্দরে লাশ রিসিভ করার সময় কীভাবে তাৎক্ষণিক ৩৫,০০০ টাকা দাফন খরচ ও ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স পাবেন এবং দাফন শেষে কীভাবে দালাল ছাড়াই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ওয়ারিশ সনদ দিয়ে ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা মৃত্যু অনুদান, ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকা প্রবাসী জীবন বীমা ও বিদেশের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বকেয়া বেতন ও রক্তমূল্য (দিয়াত) আদায় করবেন।

১. বিদেশে প্রবাসীর মৃত্যু হলে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সহকর্মী ও পরিবারের করণীয়

সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান বা মালয়েশিয়ায় কোনো বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী যদি হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র বা বাসস্থানে মৃত্যুবরণ করেন, তবে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে মরদেহ মাত্র ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

  1. স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল মর্গে রিপোর্ট এবং মেডিকেল ডেথ রিপোর্ট সংগ্রহ: প্রবাসে কর্মীর মৃত্যু হলে প্রথমেই স্থানীয় জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশকে জানাতে হবে। হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর কারণ উল্লেখপূর্বক Medical Death Notification / Report ইস্যু করা হবে এবং মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে (Mortuary) সংরক্ষণ করা হবে।
  2. নিয়োগকর্তা (কফিল/কোম্পানি) এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে অবহিতকরণ: মৃতের রুমমেট বা সহকর্মীদের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে মৃতের পাসপোর্ট কপি, আকামা/আইডি কপি এবং হাসপাতালের নামসহ সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং (Labour Welfare Wing)-এ ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে খবর দেওয়া।
  3. বাংলাদেশে পরিবার কর্তৃক ১৬১৩৫ নম্বরে বা কল্যাণ বোর্ডে আবেদন: দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা (স্ত্রী, পিতা বা ভাই) প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার ১৬১৩৫ (টোল-ফ্রি) নম্বরে কল করে অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে (প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ঢাকা কিংবা নিজ জেলার DEMO অফিসে) মৃতের পাসপোর্ট কপি ও প্রবাসে থাকা যোগাযোগকারীর মোবাইল নম্বর দিয়ে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার লিখিত আবেদন জমা দেবেন।

২. দূতাবাসের মাধ্যমে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার ধাপ (NOC ও ফ্রি টিকিট)

অনেক পরিবার দালালের খপ্পরে পড়ে প্রবাস থেকে লাশ আনতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেন। অথচ বৈধ প্রবাসী কর্মী তো বটেই, এমনকি চরম বিপদগ্রস্ত বা অনিবন্ধিত কর্মীর ক্ষেত্রেও (যদি কফিল খরচ বহন না করে) বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সম্পূর্ণ সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে।

বিদেশে প্রবাসীর মৃত্যু হলে দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া
চিত্র ২: বিদেশের হাসপাতাল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের এনওসি (NOC) সনদের মাধ্যমে সরকারি খরচে মরদেহ প্রেরণ
মরদেহ প্রেরণের ধাপ দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদিত কাজ ও ডকুমেন্টস প্রয়োজনীয় সময়
ধাপ ১: পুলিশ ও ফরেনসিক ক্লিয়ারেন্স সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাভাবিক মৃত্যু হলে দ্রুত মেডিকেল সনদ; আর সড়ক বা কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা হলে ময়নাতদন্ত (Autopsy) ও পুলিশ রিপোর্ট ১ থেকে ৩ দিন (দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৫–১০ দিন)
ধাপ ২: দূতাবাস এনওসি ও পাসপোর্ট বাতিল বাংলাদেশ দূতাবাস / হাইকমিশন মৃতের পাসপোর্ট বাতিল করে মরদেহ পরিবহন অনাপত্তিপত্র (NOC) ও দূতাবাস ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু ১ কার্যদিবস (সম্পূর্ণ ফ্রি)
ধাপ ৩: এম্বামিং (Embalming) ও কফিন বক্সিং সরকারি অনুমোদিত কার্গো ও হাসপাতাল মর্গ আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নিয়ম মেনে মরদেহে পচনরোধক প্রলেপ (Embalming) ও সিলগালা কফিন প্রস্তুত ১ দিন
ধাপ ৪: এয়ারওয়ে বিল ও ফ্লাইট বুকিং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স / সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কফিল অথবা কল্যাণ বোর্ডের অর্থে কার্গো ফ্লাইট কনফার্ম করে পরিবারের মোবাইল নম্বরে ফ্লাইটের সময় জানানো ১ থেকে ২ দিন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি পরিবার সৌদি আরব (মক্কা/মদিনা বা স্থানীয় জান্নাতুল বাকি) কিংবা সংশ্লিষ্ট মুসলিম দেশে মরদেহ দাফন করতে সম্মতি দেয়, তবে দূতাবাসে পরিবারের অনাপত্তিপত্র পাঠালে সেখানেই দাফন সম্পন্ন হয় এবং সেক্ষেত্রেও পরিবার বাংলাদেশে নির্ধারিত ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান ও ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা পুরোপুরি লাভ করবে।

৩. বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ, তাৎক্ষণিক ৩৫,০০০ টাকা দাফন খরচ ও ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স

মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর বা সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কার্গো ভিলেজের পাশে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীর লাশ রিসিভ করার নিয়ম ও ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ
চিত্র ৩: বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে মরদেহ গ্রহণ, তাৎক্ষণিক ৩৫,০০০ টাকা দাফন খরচ এবং বাড়িতে নেওয়ার ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
  • তাৎক্ষণিক ৩৫,০০০ টাকা দাফন ও পরিবহন অনুদান: বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করতে যাওয়া মৃতের নিকটাত্মীয়ের (স্ত্রী, পিতা, মাতা, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা আপন ভাই) হাতে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে দাফন-কাফন খরচের জন্য ৩৫,০০০ (পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা প্রদান করেন।
  • বিমানবন্দর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস: প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অতিরিক্ত ভাড়া থেকে পরিবারকে বাঁচাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড নিজস্ব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মরদেহ দেশের যেকোনো জেলার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
  • লাশ রিসিভ করতে বিমানবন্দরে কী কী কাগজ সাথে নিতে হবে: মরদেহ গ্রহণকারীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ২ কপি ফটোকপি, মৃত প্রবাসীর পাসপোর্টের ফটোকপি এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র (যাতে মৃতের সাথে লাশ গ্রহণকারীর সম্পর্ক উল্লেখ থাকবে)।

৪. ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান ও ১০ লাখ টাকা প্রবাসী জীবন বীমা পাওয়ার নিয়ম

দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত প্রবাসীর পরিবারের ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকার দুটি বড় অংকের এককালীন আর্থিক সুবিধা প্রদান করে—যার যোগফল সর্বোচ্চ ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে!

প্রবাসী মৃত্যু অনুদান ৩ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা পাওয়ার আবেদন নিয়ম
চিত্র ৪: জেলা জনশক্তি অফিস (DEMO) ও কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে পরিবারের ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান এবং ১০ লাখ টাকা বীমা দাবি আদায়
  1. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা মৃত্যু অনুদান: মৃত প্রবাসী যদি বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন অথবা বিদেশে বসে কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ড করে থাকেন, তবে তাঁর বৈধ ওয়ারিশগণ কল্যাণ বোর্ড তহবিল থেকে এককালীন ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা আর্থিক অনুদান পাবেন। এমনকি কর্মী যদি বৈধ ভিসা/আকামা থাকা অবস্থায় ছুটিতে দেশে এসেও মৃত্যুবরণ করেন, তবুও পরিবার এই ৩ লাখ টাকা অনুদান প্রাপ্য হবেন।
  2. বাধ্যতামূলক প্রবাসী কর্মী জীবন বীমার ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকা দাবি: ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে যাঁরা বিএমইটি ই-ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার সময় জীবন বীমা কর্পোরেশনের বাধ্যতামূলক প্রবাসী কর্মী বীমা পলিসি গ্রহণ করেছেন (যার মেয়াদ বর্তমানে ৫ বছর এবং কাভারেজ ১০ লাখ টাকা), তাঁদের পলিসির মেয়াদ চলাকালীন মৃত্যু হলে পরিবার কল্যাণ বোর্ডের ৩ লাখ টাকার অতিরিক্ত আরও ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকা বীমা দাবি সরাসরি ব্যাংক হিসাবে লাভ করবেন।

৫. বিদেশের কোম্পানি থেকে বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও রক্তমূল্য (দিয়াত) আদায়

অনেক পরিবার জানেনই না যে প্রবাসে কর্মীর মৃত্যু হলে শুধু বাংলাদেশের সরকারি অনুদানই নয়, বরং বিদেশের নিয়োগকর্তা (কফিল বা কোম্পানি) এবং সে দেশের সরকারি ইন্স্যুরেন্স (যেমন—সৌদি আরবের GOSI, কাতারের শ্রম আদালত, কুয়েতের PAM বা মালয়েশিয়ার SOCSO) থেকেও বড় অংকের ক্ষতিপূরণ পাওনা থাকে।

প্রবাসীর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ দিয়াত এবং বকেয়া বেতন আদায়ের সরকারি নিয়ম
চিত্র ৫: বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের ফ্রি আইনি সহায়তায় বিদেশের আদালত ও কোম্পানি থেকে বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও রক্তমূল্য (দিয়াত) উদ্ধার
  • বকেয়া বেতন ও এন্ড অব সার্ভিস গ্র্যাচুইটি (Gratuity): মৃত কর্মী ওই কোম্পানিতে যত বছর কাজ করেছেন, তার আনুপাতিক সার্ভিস বেনিফিট, বকেয়া বেতন ও জমাকৃত ছুটির টাকা দূতাবাস কোম্পানি থেকে আদায় করে কল্যাণ বোর্ডে পাঠায়।
  • কর্মক্ষেত্র বা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ও রক্তমূল্য (Diya / Blood Money): সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান বা আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনা বা কর্মক্ষেত্রে কারও অবহেলাজনিত দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু হলে শরিয়াহ আদালত ও ট্রাফিক ইন্স্যুরেন্স থেকে প্রায় ৩ লাখ সৌদি রিয়াল বা সমমূল্যের মুদ্রা (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮০ লাখ থেকে ৯৫ লাখ টাকা) রক্তমূল্য বা দিয়াত হিসেবে পাওয়া যায়। এই টাকা উদ্ধারের জন্য পরিবারকে কোনো প্রাইভেট উকিল ধরতে হয় না; ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে দূতাবাসের অনুকূলে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney) ও ওয়ারিশ সনদ জমা দিলেই দূতাবাস সরকারি আইনজীবী দিয়ে সম্পূর্ণ ফ্রি-তে এই টাকা আদায় করে দেশে পাঠায় এবং পরিবারের ব্যাংক একাউন্টে বৈধ রেমিট্যান্স হিসেবে জমা হয়। বিদেশের মুদ্রা দেশে আসার সময় বিনিময় হার যাচাই করতে আজকের টাকার রেট এবং স্মার্টফোনে Taka Rate Today অ্যাপ দেখা যেতে পারে।

৬. ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু অনুদান আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট

৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান, ১০ লাখ টাকা বীমা দাবি এবং বিদেশের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য মৃতের পরিবারকে নিজ জেলার জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO)-এ নিচের কাগজপত্রগুলো নির্ভুলভাবে জমা দিতে হবে:

প্রবাসী মৃত্যু অনুদান পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওয়ারিশ সনদ
চিত্র ৬: মৃত্যু অনুদান ও বীমা দাবি আবেদনের জন্য নির্ধারিত ছকের ওয়ারিশ সনদ, ডেথ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও ব্যাংক হিসাব চেকলিস্ট
ক্রমিক প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের নাম কোথা থেকে সংগ্রহ ও সত্যায়ন করবেন
১ নির্ধারিত ছকে ওয়ারিশ সনদ (Legal Heir Certificate) কল্যাণ বোর্ডের নির্ধারিত ফরমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান / পৌর মেয়র বা সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ইউএনও (UNO) কর্তৃক স্বাক্ষরিত
২ মৃত্যু সনদ (Death Certificate) ও এনওসি কপি বিদেশে মৃত্যু হলে হাসপাতাল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেথ রিপোর্ট/NOC; আর দেশে মৃত্যু হলে হাসপাতাল ও ইউনিয়ন/পৌরসভার অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ
৩ মৃত প্রবাসীর পাসপোর্ট ও বিএমইটি/সদস্য কার্ডের কপি পাসপোর্টের তথ্য পাতা, ভিসা পাতা এবং বিএমইটি স্মার্ট কার্ড বা WEWB মেম্বারশিপ সনদের ফটোকপি
৪ প্রত্যেক ওয়ারিশের এনআইডি (NID) / জন্ম সনদ ও ছবি স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং প্রত্যেকের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ সত্যায়িত ছবি
৫ ব্যাংক হিসাবের এমআইসিআর (MICR) চেক পাতার কপি প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক ওয়ারিশের নিজ নামের ব্যাংক হিসাব (বা যৌথ/অভিভাবক হিসাব)-এর চেক পাতা ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ইএফটি ট্রান্সফারের জন্য)
৬ ৪০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা / ইনডেমনিটি বন্ড কোনো ওয়ারিশের নাম গোপন করা হয়নি মর্মে নোটারি পাবলিক বা ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সম্পাদিত অঙ্গীকারনামা

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রবাসী কল্যাণ ও সরকারি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ও দালালমুক্ত উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:

হ্যাঁ। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী যদি বিদেশে অনিবন্ধিত অবস্থায় বা ভিজিট ভিসায় গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর নিয়োগকর্তা বা পরিবারের মরদেহ আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকে, তবে মানবিক বিবেচনায় পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে এবং বিমানবন্দরে ৩৫,০০০ টাকা দাফন খরচ প্রদান করে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান এবং বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) মুসলিম ফারায়েজ আইন বা সংশ্লিষ্ট ধর্মের পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী মৃতের সকল বৈধ ওয়ারিশের (স্ত্রী, সন্তান এবং জীবিত পিতা ও মাতা) মধ্যে নির্ধারিত হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন করে প্রত্যেকের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।

হ্যাঁ। বৈধ বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স বা কল্যাণ বোর্ড সদস্য কার্ডধারী কোনো প্রবাসী যদি মেয়াদযুক্ত ভিসা/আকামা নিয়ে ছুটিতে দেশে এসে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর পরিবারও কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩ লাখ টাকা মৃত্যু অনুদান এবং বীমার মেয়াদ থাকলে ১০ লাখ টাকা জীবন বীমা সুবিধা পাবেন।

না, এক টাকাও ফি দিতে হয় না। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মরদেহ হস্তান্তর, নগদ/চেক ৩৫,০০০ টাকা প্রদান এবং বাড়িতে নেওয়ার ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ করা হয়।

আইনি ডিসক্লেইমার ও সরকারি তথ্যসূত্র

আইনি সতর্কবার্তা: "প্রবাসীর মৃত্যু হলে করণীয়: লাশ দেশে আনা ও সরকারি অনুদান পাওয়ার নিয়ম" শীর্ষক এই নির্দেশিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত একটি তথ্যমূলক গবেষণাপত্র। এটি কোনো সরকারি গেজেট বা বাণিজ্যিক আর্থিক পরামর্শ নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB), প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো নীতিমালা, অনুদানের হার বা সুদের হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত আবেদনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন যাচাই করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: https://probashi.gov.bd
  • ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB): https://wewb.gov.bd
  • প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (Probashi Kallyan Bank): https://pkb.gov.bd
  • বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank): https://www.bb.org.bd